Tuesday, February 1, 2022

ফযীলতপূর্ণ রাতগুলো সৃষ্টি হয়েছে ‘পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ’ উনার মুবারক উসীলায়।

 ফযীলতপূর্ণ রাতগুলো সৃষ্টি হয়েছে ‘পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ’ উনার মুবারক উসীলায়।



সম্মানিত হাম্বলী মাযহাব উনার ইমাম হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ফতওয়া দিলেন, “পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ’’ উনার ফযীলত হচ্ছে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর, পবিত্র লাইলাতুল বরাত এবং অন্যান্য ফযীলতপূর্ণ রাত্রি অপেক্ষা অনেক বেশি।” সুবহানাল্লাহ!


তখন সমসাময়িক হযরত ইমাম ও ফক্বীহ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা উনার নিকট জানতে চাইলেন, “হে হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি! আপনি কিসের ভিত্তিতে এ ফতওয়া দিলেন যে, ‘পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ’ উনার ফযীলত পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর, পবিত্র লাইলাতুল বরাত এবং অন্যান্য ফযীলতপূর্ণ রাত্রি অপেক্ষা অনেক বেশি?” অথচ ‘পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ’ উনার ফযীলত সম্পর্কে আমরা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের কোথাও পাইনি।

তখন হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি জবাবে বলেন, ‘পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর’ ও ‘পবিত্র লাইলাতুল বরাত’ উনাদের ফযীলত পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে বর্ণিত হয়েছে সত্যিই; কিন্তু পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর ও পবিত্র লাইলাতুল বরাত এবং অন্যান্য ফযীলতপূর্ণ রাত্রিগুলো সৃষ্টি হয়েছে ‘পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ’ উনার উসীলায়। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ ‘পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ’ না হলে ‘পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর, পবিত্র লাইলাতুল বরাতসহ’ ফযীলতপূর্ণ কোনো রাত্রিই সৃষ্টি হতো না। এ কারণেই এ রাত্রি উনার ফযীলত সমস্ত ফযীলতপূর্ণ রাত্রি উনাদের চেয়ে বেশি। সুবহানাল্লাহ! কারণ ওই পবিত্র রাত্রি মুবারক উনার সম্পর্ক সরাসরি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে। সুবহানাল্লাহ!

অতএব, ‘পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ’ উনার সম্মানার্থে প্রতিটি মুসলিম সরকারেরই উচিত দেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা এবং এর মর্যাদা-মর্তবা ফুটিয়ে তোলা।

পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ’-এ মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম

 ‘পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ’-এ মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম



পবিত্র ইসলাম উনার সূচনাকাল থেকেই হযরত ছাহাবা আজমাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এবং পরবর্তীতে সকল আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত ব্যয় করেছেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নতসমূহ জীবনে প্রতিষ্ঠিত করতে। কিন্তু এই সুন্নতসমূহ পালনের মধ্যে কিছু সুন্নত পালন নিজস্ব ইচ্ছাধীন কিন্তু কিছু সুন্নত মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন উনার খাছ অনুগ্রহ ছাড়া পালন করা সম্ভব নয়।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সম্মানিত আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র খিদমত মুবারকে পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ মাস উনার প্রথম ইয়াওমুল খমীস বা বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত্রিতে তাশরীফ মুবারক নেন। সুবহানাল্লাহ! 

আর যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি উনার সম্মানিতা আম্মা আলাইহাস সালাম উনার খিদমত মুবারকে তাশরীফ মুবারক নিয়েছিলেন পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ মাস উনার ২৬ তারিখ দিবাগত রাত্রিতে অর্থাৎ পবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার মুবারক রাত্রিতে। সুবহানাল্লাহ! 

এখানে প্রথমত পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ মাসে তাশরীফ নেয়াতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরিপূর্ণ সুন্নত আদায় হয়েছে। এখন প্রশ্ন হতে পারে, মুজাদ্দিদে যামান মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি তো আর পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ মাস উনার প্রথম ইয়াওমুল খমীস বা বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তথা ১ম জুমুয়াহ শরীফ রাত্রিতে তাশরীফ নেননি, বরং তিনি তাশরীফ নিয়েছেন পবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার রাতে- এর জবাব কি? উনার অসংখ্য অগণিত জবাব রয়েছে। একটি জবাব হচ্ছে- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র রজবুল হারাম মাস উনার প্রথম ইয়াওমুল খমীস বা বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত্রিতে অর্থাৎ ১ম জুমুয়াহ শরীফ রাতে তাশরীফ মুবারক নেন। আবার যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদে যামান মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র লাইলাতুল মি’রাজ শরীফ-এ তাশরীফ নিলেও বারটি ছিল জুমুয়াবার। সুবহানাল্লাহ। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রেও একটি নিগূঢ় সুন্নত আদায় হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যমীনে তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন পবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ। বর্তমান যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনিও পবিত্র ১২ই শরীফ রবীউল আউওয়াল শরীফ-এ যমীনে তাশরীফ নিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!


এখানেও যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ মুজাদ্দিদে আ’যম, মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার একই মাস অর্থাৎ পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ এবং একই তারিখ অর্থাৎ ১২ই তারিখে যমীনে আসার সূক্ষ্ম সুন্নত আদায় হয়েছে। যা মহান রব্বুল আলামীন উনার খাছ অনুগ্রহ ছাড়া সম্ভব নয়। সুবহানাল্লাহ!

প্রসঙ্গত, একটি বিষয় এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন তা হচ্ছে, আমরা একটি ঘটনা জানি সাইয়্যিদুল আউলিয়া বড়পীর হযরত আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যখন যমীনে তাশরীফ মুবারক নেন, সেদিন সবার মনে সংশয় ছিল পবিত্র রমাদ্বান মাস শুরু হওয়া নিয়ে। যখন জানা গেল তিনি সুবহে সাদিকের পর থেকে দুধ মুবারক পান করেননি, তখন সবাই নিশ্চিত হন যে- পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস শুরু হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! একইভাবে ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ-এ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন কিনা- এ নিয়ে কেউ কেউ মতভেদ করে। এর মূল কারণ তখন ‘নাসী’ করা হতো। অর্থাৎ মাস আগ-পিছ হতো। কিন্তু যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ তারিখে তাশরীফ মুবারক নেয়াতে এটা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ তারিখেই তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন; অন্য কোনো দিন নয়। সুবহানাল্লাহ!

এবার আসা যাক, পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ মাস উনার তারিখের এই পার্থক্যের কি কারণ? আসলে ব্যাখ্যা অসংখ্য অগণিত; যা মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা ভালো জানেন। তবে এখানে পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ মাস উনার প্রথম ইয়াওমুল খমীস বা বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত্রি থেকে পবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ উনার যে দিনের পার্থক্য এবং পবিত্র শবে মি’রাজ শরীফ থেকে পবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ উনার দিনের পার্থক্য কম। এখানে দিনের সংখ্যা কম দিয়ে মূলত রিসালত এবং বিলায়েতের একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য রচিত হয়েছে। 

আরো একটি বিষয় লক্ষণীয়; তা হচ্ছে- আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নতের অনুসরণে ৬৩ বছর বয়স মুবারকেই বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। কিন্তু বারটি ছিল ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)। কেননা অন্যান্য বারগুলো ফযীলত প্রাপ্তির আশায় মহান আল্লাহ রব্বুল আ’লামীন উনার কাছে আরজি পেশ করেছিলেন, তাই অন্যান্য দিনগুলোর মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) দিবসে মুবারক দীদারে মিলিত হবার তওফীক দান করেন। একইভাবে পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ মাস উনার প্রথম ইয়ামুল খমীস (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাত্রিতে হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র রেহেম শরীফ-এ তাশরীফ মুবারক নেয়াতে, অন্যান্য তারিখগুলোর মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য মুজাদ্দিদে যামান, মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম ২৬শে রজবুল হারাম দিবাগত রাত্রিতে পবিত্র রেহেম শরীফ-এ তাশরীফ নেন। এখানে উল্লেখযোগ্য, অনেকে হয়তো বলবেন ২৬শে রজবুল হারাম শরীফ দিবাগত রাত্রি অর্থাৎ পবিত্র শবে মি’রাজ উনার তো আলাদা গুরুত্ব রয়েছে তারপরও এই রাত্রিতে যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ মুজাদ্দিদে যামান মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি তাশরীফ নেয়ার পেছনে আর কি কারণ রয়েছে? আসলে এখানে রয়েছে একটি ঈমানী পরীক্ষা। বিষয়টি বুঝিয়ে বলা প্রয়োজন। 

আমরা জানি, সমগ্র পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে মুসলমানগণের জন্য পরীক্ষা। একইভাবে পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ-পবিত্র ক্বিয়াস এক কথায় সম্মানিত ইসলাম উনার অসংখ্য বিষয়ের মধ্যে রয়েছে মু’মিনের জন্য পরীক্ষা। এখন পবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার গুরুত্ব এবং তাৎপর্য মানুষের উপলব্ধির বাইরে। তারপরেও পবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার ব্যাপারে বর্ণিত রয়েছে অসংখ্য পবিত্র হাদীছ শরীফ এবং সে অনুযায়ী আমরা এই মহান রাত্রির ফযীলত, বুযূর্গী বোঝার চেষ্টা করি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে পবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার বিষয়টি অনুধাবন করা এখানেই কঠিন যেহেতু এখানে রয়েছে মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন উনার সঙ্গে যিনি সৃষ্টির মূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক দীদার উনার বিষয়। এই বিষয়ে আলোচনা করা যাবে, লিখা যাবে, কিন্তু উপলব্ধি করা অত্যন্ত কঠিন। এই বিষয়টি উপলব্ধির গভীরতায় পৌঁছবে তখনই, যখন মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সঙ্গে থাকবে গভীর নিসবত। আর বর্তমান শতকের যিনি মুজাদ্দিদ, যিনি সকল যুগের, সকল মুজাদ্দিদগণের মুজাদ্দিদ উনার সঙ্গে মহান রব্বুল আ’লামীন উনার এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সঙ্গে রয়েছে নিবিড় সংযোগ। ফলে মুজাদ্দিদে যামান মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি যেভাবে পবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার গুরুত্ব অনুধাবন করেছেন আর কারোও পক্ষে তা সম্ভব নয়। সুবহানাল্লাহ!


আর সালিকের আল্লাহপ্রাপ্তির প্রথম অধ্যায় হচ্ছে ফানা ফিশ শায়েখ। অতঃপর ফানা ফির-রসূল এবং অবশেষে ফানা ফিল্লাহ। সুতরাং ফানা ফিশ শায়েখ উনার মাধ্যমেই উপলব্ধি করতে হবে পবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার গুরুত্ব। আর যেহেতু সেই মহান মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে যামান তিনি তাশরীফ নিয়েছেন পবিত্র মিরাজ শরীফ উনার রাতে। ফলে সেই রাতটি উনার শান মান আলোচনা, বর্ণনা, পবিত্র মি’রাজ শরীফ উপলব্ধির প্রথম সোপান। অর্থাৎ উনার মুবারক আলোচনা এবং পবিত্র মি’রাজ শরীফ সংক্রান্ত উনার মুবারক বর্ণনার মাধ্যমেই বুঝতে হবে পবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার গুরুত্ব। আর সে কারণেই অনেক কারণের মধ্যে এটিও একটি কারণ। মহান ‘পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফে’ মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম হচ্ছেন ২৬শে রজব দিবাগত রাত। 

পবিত্র ২৬শে রজবুল হারাম শরীফ দিবাগত রাত্রি লাইলাতুর রগায়িবে মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম হওয়ার আরো একটি সূক্ষ্ম কারণ হচ্ছে- পবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার পরেই মুসলমানগণের মধ্যে নামাযসহ বিভিন্ন হুকুম আহকাম চালু হয়। অর্থাৎ সম্মানিত ইসলাম নতুন জীবন লাভ করে। সুতরাং মুজাদ্দিদে যামান মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি ২৬শে রজব দিবাগত রাত্রিতে উনার সম্মানিতা আম্মা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র খিদমত মুবারকে তাশরীফ নেয়ার অর্থ হচ্ছে তিনি সম্মানিত ইসলাম উনাকে নতুন জীবন দান করবেন। সুবহানাল্লাহ!

সুতরাং বিশ্বের সকল মুসলমানগণের উচিত- এই বিশেষ রাত উনার গুরুত্ব, ফযীলত উপলব্ধি করা। অবশ্য এটা সত্য মহান আল্লাহ পাক তিনি যাকে যতটুকু তাওফীক দান করবেন তিনি ততটুকুই উপলব্ধি করতে পারবেন। মহান মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি আমাদের সবাইকে কবুল করুন। (আমীন)


লেখক: Abm Ruhul Hassan ভাইজান

সম্মানিত ‘মাহে রজব’ উনার মর্যাদা মর্তবার অন্যতম একটি কারণ ‘পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ’

 সম্মানিত ‘মাহে রজব’ উনার মর্যাদা মর্তবার অন্যতম একটি কারণ ‘পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ’



পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ মাস উনার মর্যাদা-মর্তবা বলার অপেক্ষা রাখে না। বছরের যে পাঁচটি রাতে বিশেষভাবে দোয়া কবুল হয়, পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ মাস উনার পহেলা রাত্রটি তার মধ্যে সর্বপ্রথম। অতঃপর এ বরকতময় মাসের প্রথম জুমুয়াহ শরীফ রাত্রটি হচ্ছে ‘পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ’। আর ‘সাতাশ তারিখ রাত্রটি পবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার রাত্রি।’ এসব কারণেই এই সম্মানিত মাস উনার মর্যাদা-মর্তবা বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে। এ সম্মানিত মাসেই পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার জন্য আমলের প্রস্তুতি গ্রহণ করা শুরু হয়। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ মাস উনার চাঁদ দেখে দোয়া মুবারক করতেন, “আয় মহান আল্লাহ পাক! পবিত্র রজব মাস ও পবিত্র শা’বান মাস উনাদের মধ্যে বরকত দান করুন এবং পবিত্র রমাদ্বান শরীফ পর্যন্ত আমাদেরকে পৌঁছার তাওফীক দান করুন।”

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ মাস হচ্ছে বীজ বপনের মাস, শা’বান শরীফ মাস হচ্ছে পানি সেচ করার মাস এবং পবিত্র রমাদ্বান শরীফ হচ্ছে ফসল কাটার মাস। যে ব্যক্তি পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ মাসে ইবাদত-বন্দেগীর বীজ বপন করবে না এবং পবিত্র শা’বান মাসে চোখের পানি দ্বারা তাতে পানি সেচ করবে না; সে কী করে পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার রহমতের ফসল কাটার আশা করতে পারে?” অর্থাৎ সে ব্যক্তির জন্য রহমত, বরকত, মাগফিরাত, নাজাত কিছুই হাছিল করা সম্ভব হবে না। 

তাই সকল মু’মিন মুসলমানদের উচিত- এ বরকতময় মাস আসা মাত্রই নিজেদের বদ-আমল ও বদ-আক্বীদা সব ছেড়ে দিয়ে খালিছ তওবা করে বেশি বেশি মহান আল্লাহ পাক উনাকে ডাকা অর্থাৎ উনার ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল থাকা। (আমীন)

পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব উপলক্ষে মুসলমান উনাদের করণীয় কি?

 পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব উপলক্ষে মুসলমান উনাদের করণীয় কি?



رغائب (রগায়িব) শব্দটি رغيب এর বহুবচন। যার অর্থرغائب কাঙ্খিত বিষয়, প্রচুর দান। (মিছবাহুল লুগাত-২৯৮) 

পারিভাষিক বা ব্যবহারিক অর্থে আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাাল্লাম তিনি যে রাত্রিতে উনার সম্মানিত আম্মা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ কুদরতীভাবে তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন সেই রাতকে লাইলাতুর রগায়িব বলা হয়।


মুহইস সুন্নাহ ওয়াশ শরীয়াহ, মাহিউল বিদয়াত ওয়াদ দলালাহ, কাশিফুল আসরার খফী ওয়াল জলী হযরত মাওলানা শাহ কারামত আলী জৌনপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব, “বারাহীনুল ক্বতইয়াহ ফী মাওলিদী খাইরিল বারীয়াহ”-এর ৭৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ উনাকে পবিত্র লাইলাতুল বরাত ও পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর উনাদের চেয়ে অধিক শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাসম্পন্ন বলে ফতওয়া দিয়েছেন। 


সুতরাং এ মহান দিনের ফযীলত, বুজুর্গী, সম্মান, মর্যাদা বলার অপেক্ষাই রাখে না। কেননা, যাঁকে সৃষ্টি না করলে মহান আল্লাহ পাক তিনি আসমান যমীন, কুল-কায়িনাত কিছুই সৃষ্টি করতেন না, তিনি যেদিন উনার সম্মানিত মাতা আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র ও মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক-এ কুদরতীভাবে তাশরীফ মুবারক আনেন সেইদিন কুল-কায়িনাতের সকলের জন্য মর্যাদাসম্পন্ন শ্রেষ্ঠ ঈদের দিন। তাই আমাদের সকলের দায়িত্ব কর্তব্য হচ্ছে এই মুবারক সম্মানিত ফযীলতপূর্ণ দিনটিকে গুরুত্ব দিয়ে এবং সর্বোচ্চ আদব প্রদান করে বেশি বেশি খুশি প্রকাশ করা, মীলাদ শরীফ পাঠ করা, দুরূদ শরীফ পাঠ করা, এবং নিজের ইখলাছের জন্য নিজের কামিয়াবীর জন্য এবং কাফির-মুশরিরকদের উপর বিজয় অর্জন করার জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে বেশি বেশি ইস্তেগফার, তওবা ও দোয়া করা।

স্পর্শধন্য মাটির মর্যাদা যদি আরশে আযীম উনার চেয়ে বেশি হয়, তবে পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ উনার মর্যাদা কিরূপ!

 স্পর্শধন্য মাটির মর্যাদা যদি আরশে আযীম উনার চেয়ে বেশি হয়, তবে পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ উনার মর্যাদা কিরূপ!



মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার কালাম পাক উনার পবিত্র ‘সূরা কাওছার শরীফ’ উনার ১ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই আমি আপনাকে পবিত্র কাওছার হাদিয়া করেছি।” সুবহানাল্লাহ! ‘কাওছার’ উনার ব্যাখ্যায় একাধিক অর্থ উল্লেখ করা হয়Ñ প্রথমত: ‘কাওছার’ বলা হয়েছে, হাউজে কাওছার উনাকে। যা খাছভাবে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হাদিয়া মুবারক করেছেন এবং উনার পানি মুবারক পান করলে পবিত্র জান্নাতে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত পানির পিপাসা লাগবে না। সুবহানাল্লাহ! দ্বিতীয়ত: কাওছার উনার আরেকটি অর্থ হলো, খইরে কাছীর। অর্থ- যা অতি উত্তম, অনেক ভালো। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যা কিছু হাদিয়া মুবারক দিয়েছেন তা সর্বকালের জন্য, সর্বদিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম। শুধু তাই নয়, এমনকি যা কিছু মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্পর্শ মুবারক-এ এসেছে সেটাও সবচেয়ে মহান ও সর্বশ্রেষ্ঠ হয়ে গেছে। যেমন- সমস্ত ইমাম-মুজতাহিদ ও হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা একমত হয়েছেন অর্থাৎ ইজমা হয়েছে যে, যে মাটি উনার পা মুবারক বা শরীর মুবারক স্পর্শ করেছে; সে মাটি মুবারক উনার মর্যাদা আরশে আযীম উনার চেয়েও লক্ষ-কোটিগুণ বেশি হয়ে গেছে। সুবহানাল্লাহ!

প্রকৃতপক্ষে মাটির কোনো ক্বদর বা মূল্য ছিল না। কিন্তু শুধুমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্পর্শ মুবারক উনার কারণে মাটি মুবারক আরশে আযীম উনার চেয়ে মূল্যবান, ফযীলতপ্রাপ্ত ও সম্মানিত হয়েছে। ঠিক একইভাবে ‘লাইলাতুর রগায়িব’ উনার ফযীলত বা শ্রেষ্ঠত্ব পবিত্র শবে ক্বদর, পবিত্র শবে বরাত ও অন্যান্য ফযীলতপূর্ণ পবিত্র রাত্র থেকেও বেশি হওয়ার কারণ হলো, পবিত্র ‘লাইলাতুর রগায়িব’ উনার সম্পর্ক সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে। সুবহানাল্লাহ!

অনেক নামধারী মাওলানারাই জানে না ‘পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ’ কি? তাহলে সাধারণ জনগণ জানবে কি করে?

 অনেক নামধারী মাওলানারাই জানে না ‘পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ’ কি? তাহলে সাধারণ জনগণ জানবে কি করে?



ইহুদী-নাছারাদের সূক্ষ্ম চক্রান্তে সামান্য সিলেবাসভিত্তিক পড়ালেখার মাধ্যমে পরিচালিত বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার ধর্মীয় অঙ্গনের নাম হচ্ছে মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা। এই মাদরাসার সর্বোচ্চ সার্টিফিকেট অর্জনকারীদেরকে বলা হয় ‘মাওলানা’। শতকরা ১০০ ভাগ কথিত ‘মাওলানা’রাই জানে না ‘পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ’ কি? (প্রকৃতপক্ষে এরা মাওলানা নয়; এরা হলো মালানা)। তারা জানে না- ওই পবিত্র রাত্রি উনার ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী কি?

তাহলে যারা পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ জীবনে স্পর্শ করেনি, এমন সাধারণ জনগণ কিভাবে জানবে ‘পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ’ উনার পরিচয়? কুল-কায়িনাতের সৃষ্টির উসীলা, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ মাস উনার প্রথম জুমুয়াহ শরীফ রাতে উনার সম্মানিতা আম্মা আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র ও মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক এ তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন। মুবারক তাশরীফ নেয়ার এই রাত্রিটিই হচ্ছে- সুমহান ‘পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ’। এই রাত্রি উনার ফাযায়িল-ফযীলত, সম্মান, বুযূর্গী পবিত্র লাইলাতুল বরাত ও পবিত্র লাইলাতুল ক্বদরের চেয়ে ও অধিক।

তাই কুল-কায়িনাতের সকল জিন-ইনসানের জন্য ফরয হচ্ছে- যথাযথভাবে এই রাতটি ইবাদত-বন্দেগী ও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত করে কাটিয়ে দেয়া।

মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে সেই তাওফীক দান করুন। আমীন!

ফযীলতপূর্ণ রাতগুলো সৃষ্টি হয়েছে ‘পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ’ উনার মুবারক উসীলায়।

 ফযীলতপূর্ণ রাতগুলো সৃষ্টি হয়েছে ‘পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ’ উনার মুবারক উসীলায়।



সম্মানিত হাম্বলী মাযহাব উনার ইমাম হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ফতওয়া দিলেন, “পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ’’ উনার ফযীলত হচ্ছে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর, পবিত্র লাইলাতুল বরাত এবং অন্যান্য ফযীলতপূর্ণ রাত্রি অপেক্ষা অনেক বেশি।” সুবহানাল্লাহ!


তখন সমসাময়িক হযরত ইমাম ও ফক্বীহ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা উনার নিকট জানতে চাইলেন, “হে হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি! আপনি কিসের ভিত্তিতে এ ফতওয়া দিলেন যে, ‘পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ’ উনার ফযীলত পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর, পবিত্র লাইলাতুল বরাত এবং অন্যান্য ফযীলতপূর্ণ রাত্রি অপেক্ষা অনেক বেশি?” অথচ ‘পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ’ উনার ফযীলত সম্পর্কে আমরা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের কোথাও পাইনি।

তখন হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি জবাবে বলেন, ‘পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর’ ও ‘পবিত্র লাইলাতুল বরাত’ উনাদের ফযীলত পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে বর্ণিত হয়েছে সত্যিই; কিন্তু পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর ও পবিত্র লাইলাতুল বরাত এবং অন্যান্য ফযীলতপূর্ণ রাত্রিগুলো সৃষ্টি হয়েছে ‘পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ’ উনার উসীলায়। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ ‘পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ’ না হলে ‘পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর, পবিত্র লাইলাতুল বরাতসহ’ ফযীলতপূর্ণ কোনো রাত্রিই সৃষ্টি হতো না। এ কারণেই এ রাত্রি উনার ফযীলত সমস্ত ফযীলতপূর্ণ রাত্রি উনাদের চেয়ে বেশি। সুবহানাল্লাহ! কারণ ওই পবিত্র রাত্রি মুবারক উনার সম্পর্ক সরাসরি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে। সুবহানাল্লাহ!

অতএব, ‘পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ’ উনার সম্মানার্থে প্রতিটি মুসলিম সরকারেরই উচিত দেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা এবং এর মর্যাদা-মর্তবা ফুটিয়ে তোলা।

পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব-এর মর্যাদা শবে বরাত ও শবে ক্বদরের চেয়েও অনেক বেশি।

 পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব-এর মর্যাদা শবে বরাত ও শবে

ক্বদরের চেয়েও অনেক বেশি।



হাম্বলী মাযহাবের ইমাম, হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ফতওয়া দেন যে, পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব-এর মর্যাদা পবিত্র শবে বরাত ও শবে কদরের চেয়েও অনেক বেশি।” সুবহানাল্লাহ!

তিনি যখন এ ফতওয়া দেন তখন সমসাময়িক উলামায়ে কিরামগণ উনারা এসে বলেন যে, হে হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি! শবে বরাত, শবে ক্বদরের কথা কুরআন শরীফ হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে। লাইলাতুল রগায়িব-এর কথা কুরআন শরীফ হাদীছ শরীফ-এর কোথাও রয়েছে কি?” অর্থাৎ লাইলাতুর রগায়িব-এর পক্ষে কোন দলীল আছে কি? জবাবে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, অবশ্যই দলীল রয়েছে, আমি বিনা দলীলে কোন কথা বলিনা, আপনারা কি জানেন লাইলাতুর রগায়িব কোন রাত্রকে বলা হয়?

লাইলাতুর রগায়িব হচ্ছে- ওই মুবারক ও পবিত্র রাত্র; যে রাত্রিতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার আম্মা উনার পবিত্র রেহেম শরীফ-এ কুদরতীভাবে তাশরীফ আনেন, আর সে রাত্রটি ছিল রজব মাসের পহেলা জুমুয়ার রাত্র। মহান আল্লাহ পাক তিনি অসংখ্য হাদীছে কুদসী শরীফ-এ ইরশাদ করেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যদি না আসতেন তাহলে কিছুই সৃষ্টি হতো না। অর্থাৎ শবে বরাত, শবে ক্বদরসহ সকল বরকতপূর্ণ রাত্রগুলো উনার উসীলাতেই আমরা পেয়েছি। তখন সমস্ত উলামায়ে কিরাম বললেন, হুযূর! আমরা বুঝতে পেরেছি। অর্থাৎ লাইলাতুর রগায়িব-এর সম্পর্ক যেহেতু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে, তাই এ রাত্রির মর্যাদা শবে বরাত শবে ক্বদরের চেয়েও অনেক বেশি। সুবহানাল্লাহ!

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...