দ্বীন ইসলাম উনার জন্য সবচাইতে ক্ষতিকর ৩ ধরণের লোক
.!
১) অত্যাচারী শাসক
২) বাকপটু মুনাফিক,
৩) ধর্মব্যবসায়ী পবিত্র আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ‘পবিত্রতম-হক্ব’ সম্পর্কে যে ব্যক্তি জানে না, সে মুনাফিক অথবা সে অবৈধ সন্তান অথবা তার মা তাকে অপবিত্র অবস্থায় ধারণ করেছে। নাঊযুবিল্লাহ!
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে,
عَنْ حضرة عَلِيٍّ كرم الله وجهه عليه السلام، قَالَ سَـمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ "مَنْ لَـمْ يَعْرِفْ حَقَّ عِتْرَتِـي، وَالْأَنْصَارِ، وَالْعَرَبِ فَهُوَ لِأَحَدِ ثَلَاثٍ إِمَّا مُنَافِقًا، وَإِمَّا لِزَنيةٍ، وَإِمَّا لِغَيْرٍ، وَإِمَّا لِغَيْرٍ أي حَـمَلَتْهُ أُمُّهُ عَلَى غَيْرِ طُهُورٍ" و فى رواية وإما حـملته أمه على غير طهر.
অর্থ : হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ইরশাদ মুবারক করতে শুনেছি যে, যে ব্যক্তি আমার আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম তথা আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদের এবং হযরত আনছার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ও সম্মানিত আরব সম্প্রদায় উনাদের হক্ব সম্পর্কে তথা মুহব্বত, মা’রিফাত, তা’যীম-তাকরীম, ইযযত-সম্মান ও খিদমত মুবারক সম্পর্কে জানেনা; মূলত উক্ত ব্যক্তির তিনটি অবস্থার যে কোন একটি অবস্থা অবশ্যই হতে হবে। তাহলো-
(১) হয়তোবা সে ব্যক্তি মুনাফিক
(২) হয়তোবা সে ব্যক্তি কোন ব্যভিচারিণীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত
(৩) হয়তোবা সে ব্যক্তি অন্য কোন বড় ধরনের দোষে দোষী অর্থাৎ হয়তোবা তার মা তাকে অপবিত্র অবস্থায় গর্ভে ধারণ করেছিল তথা হয়তোবা সে অবৈধ সন্তান অথবা নিষিদ্ধ অবস্থায় মায়ের গর্ভে এসেছিল। নাঊযুবিল্লাহ!
(বায়হাকী: শুয়াবুল ঈমান, জামিউল আহাদীছ, জামউল জাওয়ামি, কানযুল উম্মাল, জামিউল কবীর, দায়লামী শরীফ, যখীরাতুল হুফ্ফায)
পবিত্র আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীই পাপাচার-দুরাচার-বদকার, অবৈধ সন্তান। নাঊযুবিল্লাহ!
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত হয়েছে-
عن حضرة جعفر الصادق عليه السلام لا يُـحِبُّنا أهْلَ البيت الـمُذَعْذَعُ قالوا وما الـمُذَعْذَع؟ قال ولَدُ الزّنا
অর্থ : ইমামুস সাদিস হযরত জা’ফর ছাদিক্ব আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার পবিত্র আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে ঐ সমস্ত ব্যক্তিরা মুহব্বত করবেনা- যারা المُذَعْذَعُ (অবৈধ্য সন্তান)।
জিজ্ঞাসা করা হলো, المُذَعْذَعُ কী? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জবাবে ইরশাদ মুবারক করেন- المُذَعْذَعُ হচ্ছে অবৈধ সন্তান। (আন নিহায়াতু ফী গরীবিল আছার)
হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মত পবিত্রতম অভিভাবক কায়িনাতের মাঝে আর কে হতে পারে? উনাদের পবিত্রতম ফয়েয, বরকত ও পবিত্রতম পরশ মুবারক উনার উসীলায় পৃথিবীতে মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দাগণ পবিত্রতম বিলায়েত উনার পবিত্র নূর মুবারক হাছিল করে ওলী ও আওলিয়া কিরামে পরিণত হয়েছেন, হচ্ছেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত হবেন। সুবহানাল্লাহ!
হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যারা হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করে তারা মু’মিন, খোদাভীরু, মুত্তাকীন আর যারা হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করে না, তারা পাপাচার, দুরাচার, হতভাগা, দুর্ভাগা, পাপিষ্ঠ, কাফির, মুনাফিক। (মুল্লা আলী কারী রহমতুল্লাহি আলাইহি)
যারা মুমিন-মুত্তাক্বী শুধুমাত্র তারাই পবিত্র আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করে। আর যারা মুনাফিক, দূরাচার, পাপাচার শুধুমাত্র তারাই পবিত্র আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিরোধিতা ও বিদ্বেষপোষণ করে থাকেএ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত হয়েছে-
عن حضرة جابر ابن عبد الله رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يـحبنا أهل البيت إلا مؤمن تقي ولا يبغضنا إلا منافق شقـي
অর্থ : হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমাদের হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে যারা মু’মিন-মুত্তাকী উনারাই শুধুমাত্র মুহব্বত করে থাকেন। পক্ষান্তরে মুনাফিক, পাপী-দুরাচার বদকার তারাই শুধু আমাদের আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে বিদ্বেষ পোষণ করে। নাঊযুবিল্লাহ! (কানযুল উম্মাল, জামউল জাওয়ামি’)
যারা পবিত্র আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষপোষণ করে মূলতঃ তারাই জাহান্নামী। নাঊযুবিল্লাহ!
এ প্রসঙ্গে অকাট্য দলীলএ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত হয়েছে-
عن حضرة أبـي سعيد الـخدرى رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلّى الله عليه وسلّم والذي نفسي بيده لا يبغضنا أهل البيت رجل إلا أدخله الله تعالى النار
অর্থ : হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ওই পবিত্র সত্ত্বা উনার কসম! উনার কুদরতী হাত মুবারক উনার মধ্যে আমার পবিত্র প্রাণ মুবারক। যে ব্যক্তি আমার পবিত্র আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে মহান আল্লাহ পাক তিনি অবশ্যই তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ বা প্রবেশ করবেন। নাউযুবিল্লাহ! (রুহুল মায়ানী)
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرة ابـى سعيد الـخدرى رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم والذى نفسى بيده لا يبغضنا اهل البيت احد الا ادخله الله النار
অর্থ : হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ওই পবিত্র সত্ত্বা উনার কসম! উনার কুদরতী হাত মুবারক উনার মধ্যে আমার পবিত্র জান মুবারক, আমার পবিত্র আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে কেউ অপছন্দ করলে অবশ্যই মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। নাউযুবিল্লাহ! (আল হাকিম, ছহীহ ইবনু হিব্বান, জামিউল আহাদীছ, জামউল জাওয়ামি’ লিস সুয়ূতী, কানযুল উম্মাল)
পবিত্র আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীরা যদিও সম্মানিত রুকনে ইয়ামিন ও পবিত্র মাক্বামে ইবরাহীমে আরোহণ করে পবিত্রতম নামায পড়ে এবং পবিত্রতম রোযা রাখে তবুও তারা জাহান্নামী। নাঊযুবিল্লাহ!
এদের সম্পর্কে বর্ণিত রয়েছে-
لو ان رجلا صعد بين الركن و الـمقام فصلى و صام ثـم مات وهو مغبض لاهل بيت مـحمد صلى الله عليه وسلم دخل النار
অর্থ: যদি কোনো ব্যক্তি সম্মানিত রুকনে ইয়ামিন ও পবিত্র মাক্বামে ইবরাহীমে আরোহণ করে অতঃপর সে পবিত্রতম নামায পড়ে এবং পবিত্রতম রোযা রাখে কিন্তু সে সম্মানিত পবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ব্যাপারে বিদ্বেষ পোষণ করে, চু-চেরা ক্বীল-ক্বাল করে তবে সে নিশ্চিত জাহান্নামে প্রবেশ করবে। নাউযুবিল্লাহ! (তাফসীরে রূহুল বয়ান)
al-ihsan.net
