Sunday, August 9, 2020

সবার রিযিকের মালিক মহান আল্লাহ পাক তিনি; যা কুদরতী বিষয়।

 সবার রিযিকের মালিক মহান আল্লাহ পাক তিনি; যা কুদরতী বিষয়।

======================================


ومامن دابة فى الارض الاعلى الله رزقها

অর্থ: “যমীনে যত প্রাণী আছে সবার রিযিকের মালিক মহান আল্লাহ পাক তিনি।” (পবিত্র সূরা হুদ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ-৬ )

হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম তিনি একবার বললেন, মহান আল্লাহ পাক আমি সমস্ত মাখলুককে এক বছর খাওয়াতে চাই। মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, সেটা সম্ভব নয়। তিনি বললেন, তাহলে ৬ মাস।। মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, সেটাও সম্ভব নয়। তিনি বললেন, তাহলে ১ মাস। মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, সেটাও সম্ভব নয়। তিনি বললেন, তাহলে পনের দিন। মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, সেটাও সম্ভব নয়। তিনি বললেন, তাহলে ৭ দিন। মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, না, সেটাও সম্ভব নয়। তিনি বললেন, তাহলে ১ দিন। মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, চেষ্টা করে দেখুন।

হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম তিনি তখন খাবার যোগাড় করতে লাগলেন। এভাবে ১ বছর ধরে খাবার যোগাড় করলেন। খাদ্যের পাহাড় করে ফেললেন। কুল-মাখলুকাতের সবাইকে খাওয়ার দাওয়াত দেয়া হয়েছে। খাওয়ার সময় হলো, তখন সবাই আসলো। সমুদ্র থেকে একটা বড় মাছ এসে বললো, খাবার কোথায়? হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, ঐ যে খাদ্যের পাহাড় জমা আছে, সেখান থেকে খাও। সে মাছ এক লোকমায় সব খেয়ে ফেললো আর বললো- আমি এরকম ৩ লোকমা খাই। ১ লোকমা খেয়েছি; আরো ২ লোকমা কোথায়? তখন হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম তিনি সিজদায় পড়ে গেলেন। এবং বললেন, আয় মহান আল্লাহ পাক! একটা মাছে তো ১ লোকমায় সব খেয়ে ফেললো। এবং সে আরো ২ লোকমা চায়। আর অন্যরাইবা কি খাবে? মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, আপনি চিন্তা করবেন না। আমি কুদরতীভাবে সবার পেট ভরিয়ে দিবো। ঠিক তাই করা হলো। তারা সবাই পেট ভরে বিদায় নিলো। সুবহানাল্লাহ!

দোয়া-মুনাজাতের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে।

 দোয়া-মুনাজাতের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে।

====================================


পবিত্র দোয়া শব্দটি আরবি। একজন বান্দার ইহকাল এবং পরকালের জিন্দেগীতে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট যেইসব নেক চাহিদা রয়েছে সেই সমস্ত নেক চাহিদাগুলি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট বিনীতভাবে চাওয়াকেই দোয়া বলে।

পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “তোমরা আমার (মহান আল্লাহপাক) কাছে দোয়া কর। আমি (মহান আল্লাহ পাক) তোমাদের দোয়া কবুল করব।” (পবিত্র সূরা মু’মিনীন: আয়াত শরীফ ৬০)

নূরে মুজাসসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমাদের মধ্যে থেকে মহান আল্লাহ পাক তিনি যাকে দোয়ার করার তাওফীক দান করেছেন। তার জন্য মহান আল্লাহ পাক স্বীয় রহমতের দরজা খুলে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে অধিক পছন্দনীয় দোয়া হলো, দুনিয়া ও আখিরাতের নিরাপত্তার দোয়া। (তিরমিজি শরীফ)

হাদীছ শরীফ উনার মাঝে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, দোয়া আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী স্থানে ঝুলন্ত থাকে যেই পর্যন্ত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে পবিত্র দুরূদ শরীফ আদায় করা না হয় সেই পর্যন্ত দোয়া আসমানে পৌঁছায় না। (মিশকাত শরীফ) 

মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ লক্ষ্যস্থল এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাছ আহলে বাইত শরীফ উনার অন্তর্ভুক্ত, সম্মানিত সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন মইউস সুন্নাহ তিনি বর্তমান উম্মাহকে শিক্ষা দিয়েছেন দোয়ার শুরুতে, মধ্যে এবং শেষে পবিত্র দুরূদ শরীফ পড়ার সুমহান সুন্নত মুবারক। 

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একটি সুমহান সুন্নত মুবারক হচ্ছেন দুআর বাক্য একাধিকবার করে উচ্চারণ মুবারক করা। মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ লক্ষ্যস্থল এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাছ আহলে বাইত শরীফ উনার অন্তর্ভুক্ত, সম্মানিত সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন মুইহউস সুন্নাহ তিনি উনার মুকবুল মুনাজাত শরীফ উনার মধ্যে দিয়ে বর্তমান উম্মাহকে শিক্ষা দিয়েছেন দোয়া একাধিকবার করে বলা সুন্নত মুবারক। 

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি নেক বান্দার মর্যাদা জান্নাতে বুলন্দ করবেন, তখন সে বলবে, হে মহান আল্লাহ পাক আমার জন্য এই মর্যাদা কিভাবে হল? তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি বলবেন, তোমার জন্য তোমার সন্তানের দোয়ার কারনে তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। (আহমদ শরীফ)

আরও ইরশাদ মুবারক হয়েছে, ‘দোয়া ব্যতীত কোনো জিনিস তাকদিরের ফয়সালাকে পরিবর্তন করতে পারে না এবং নেক আমল ব্যতীত কোনো জিনিস হায়াত বাড়াতে পারে না।’

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন: যেই ব্যক্তি চায়,বিপদ-মুসীবতের সময় মহান আল্লাহ পাক তার দোয়া কবুল করুন সে যেন সুখের সময় মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে বেশি দোয়া করে। (তিরমিজী শরীফ) 

হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন: তোমাদের প্রত্যেকেই যেন মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে নিজ প্রয়োজন পূরণের জন্য দোয়া করে। এমনকি জুতার ফিতা ছিঁড়ে গেলেও মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে দোয়া করবে। (তিরমিযি শরীফ) 

হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্নিত, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন: যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে দোয়া করে না, মহান আল্লাহ পাক সেই ব্যক্তির উপর অসন্তষ্ট হন। (তিরমিযি শরীফ)

মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকেই সদা-সবর্দা উনার নিকট দোয়ারত অবস্থায় থাকার তওফীক দান করুন। আমীন!

ওলীআল্লাহগণ উনাদের অঢেল অর্থ-সম্পদ ব্যয়ের দৃষ্টান্ত এবং সেই অর্থের প্রতি কাফেরদের লোলুপ দৃষ্টি।

 ওলীআল্লাহগণ উনাদের অঢেল অর্থ-সম্পদ ব্যয়ের দৃষ্টান্ত এবং সেই অর্থের প্রতি কাফেরদের লোলুপ দৃষ্টি।

==================================


চিশতীয়া তরীক্বা উনার একজন প্রধান ওলীআল্লাহ হযরত নিযামউদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি। দিল্লীতে ছিল উনার খানকা শরীফ। ইতিহাসে লেখা রয়েছে, খানকা শরীফ ও লঙ্গরখানার খরচ বহনের জন্য তিনি উনার খাদিমকে নির্দেশ মুবারক দিয়ে রেখেছিলেন, যদি কখনো অর্থের দরকার হয় অমুক তাকের মধ্যে হাত দিতে। প্রয়োজনীয় অর্থ সেখানেই কুদরতীভাবে পাওয়া যেতো।

শুধু হযরত নিযামউদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নন, বরং গোটা ইতিহাসেই ওলীআল্লাহগণ উনাদের অঢেল অর্থ খরচের ইতিহাস পাওয়া যায়। চিশতীয়া তরীক্বা উনার অন্যতম আরো একজন ওলীআল্লাহ হলেন হযরত আলাউল হক রহমতুল্লাহি আলাইহি। উনার খানকা শরীফ ছিল তৎকালীন বাংলার রাজধানী পান্ডুয়ায়। তিনি উনার খানকা শরীফে এতো অর্থ খরচ করতেন যে, তৎকালীন বাংলার বাদশাহ সিকান্দার শাহও তার রাজকোষ থেকে এতো অর্থ খরচ করতে পারতেন না।

সিকান্দার শাহ যদিও কোনো বদকার রাজা ছিলেন না, কিন্তু হযরত আলাউল হক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে সিকান্দার শাহ পান্ডুয়া থেকে সোনারগাঁয়ে পাঠিয়ে দেন। সোনারগাঁয়ে গিয়ে হযরত আলাউল হক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পূর্বের তুলনায় আরো দ্বিগুণ খরচ করা শুরু করেন। কিন্তু কেউ বলতে পারতো না, তিনি এতো অর্থসম্পদ কোথা থেকে পান। 

সিকান্দার শাহের পর বাংলার রাজা হন ত্র পুত্র হযরত গিয়াসউদ্দীন আযমশাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি। সাথে সাথে হযরত আলাউল হক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার স্থানে গদীনশীন হন উনার আওলাদ হযরত নূর কুতুবে আলম রহমতুল্লাহি আলাইহি। হযরত গিয়াসউদ্দীন আযমশাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সময়ে গণেশ নামক এক বিশ্বাসঘাতক হিন্দুর উত্থান ঘটে, যার ষড়যন্ত্রে তিনি শহীদ হন।

এই বিশ্বাসঘাতক গণেশ বাংলার শাসনক্ষমতা দখল করে ওলীআল্লাহগণ উনাদের শহীদ করা শুরু করে। তখন হযরত নূর কুতুবে আলম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উত্তরপ্রদেশের শাসক ইবরাহীম শর্কীকে নির্দেশ দেন গণেশকে আক্রমণ করে উৎখাত করতে।

গণেশ তখন হযরত নূর কুতুবে আলম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ক্বদম মুবারকে পড়ে ক্ষমা চায় এবং নিজের ছেলে যদু’কে ধর্মান্তরিত করে জালালউদ্দীন নাম দিয়ে বাংলার সিংহাসনে বসায়। তখন হযরত নূর কুতুবে আলম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইবরাহীম শর্কীকে নির্দেশ দেন সৈন্য নিয়ে ফিরে যেতে।

ইবরাহীম শর্কী ফিরে যাওয়ার সাথে সাথেই গণেশ ফের তার পূর্বের রূপে আবির্ভূত হয়। গণেশ জালালউদ্দীনকে সিংহাসন থেকে সরিয়ে ফের নিজে ক্ষমতা দখল করে এবং জালালউদ্দীনকে ফের হিন্দুধর্মে ফিরিয়ে আনার অপচেষ্টা চালায়। শুধু তাই নয়, যেই হযরত নূর কুতুবে আলম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দয়ার কারণে গণেশ প্রাণভিক্ষা পেয়েছিল, সেই হযরত নূর কুতুবে আলম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আওলাদ হযরত আনোয়ার রহমতুল্লাহি আলাইহি ও নাতি হযরত জাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদেরকে গণেশ আটক করে সোনারগাঁয়ে নিয়ে আসে। গণেশের উদ্দেশ্য ছিল, উনাদেরকে সে নির্যাতন করে সে উনাদের পূর্বপুরুষ হযরত আলাউল হক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ধনসম্পদের খোঁজ বের করবে। গণেশের নির্যাতনে হযরত আনোয়ার রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি শহীদ হন। নাউযুবিল্লাহ!

ইতিহাসের এই দিকটি সম্পর্কে অনেকেই জানে না। মুসলমান ওলীআল্লাহ ও ছূফী-দরবেশগণ সব সময়েই অঢেল অর্থসম্পদের অধিকারী ছিলেন, বিপরীতে মুশরিকরা সবসময় উনাদের ধনসম্পদ কেড়ে নিতে তৎপর থাকতো। গণেশ তার উদ্দেশ্যে সফল হতে পারেনি, কারণ হযরত আনোয়ার রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার শাহাদাতী শান মুবারক গ্রহণের পরই গণেশ মৃত্যুমুখে পতিত হয় এবং জালালউদ্দীন বাংলার সিংহাসনে আরোহন করে বাংলায় ফের মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত করেন।

গণেশ মারা গিয়েছিল, কিন্তু গণেশের উত্তরসূরিদের উপর থেকে মুসলমান শাসক, ব্যবসায়ী ও জমিদারেরা তাদের আস্থা ও বিশ্বাস ত্যাগ করেনি। নাউযুবিল্লাহ! যার অবশ্যম্ভাবী ফল পাওয়া গিয়েছিল ব্রিটিশ আমলে, যখন গণেশের মতোই মুসলমানদের অধীনস্থ হিন্দুরা বিশ্বাসঘাতকতা করে মুসলমানদের জমিদারী ও অর্থসম্পদ দখল করেছিল। ব্রিটিশ আমলে গণেশের উত্তরসূরিরা আর ছোবল দিতে ব্যর্থ হয়নি, চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন করে ব্রিটিশ আমলে হিন্দু আর ব্রিটিশরা মিলে ছূফী দরবেশ ও ওলীআল্লাহগণ উনাদের থেকে সমস্ত লাখেরাজ সম্পত্তি কেড়ে নিয়েছিল। এর ফলশ্রুতিতে বাংলায় ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার ধারা অস্তমিত হয়ে বাংলায় মুসলমানদের প্রভাব প্রতিপত্তি সম্পূর্ণরূপে শেষ হয়ে গিয়েছিল, যার জের বাঙালি মুসলমান আজও বহন করে চলেছে। নাউযুবিল্লাহ!

সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত বদর জিহাদ উনার গনীমতের মাল বণ্টন।

 সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত বদর জিহাদ উনার গনীমতের মাল বণ্টন।

====================================


সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার কারণে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত বদর জিহাদ মুবারক-এ না যেয়েও সম্মানিত বদর জিহাদ মুবারক-এ উপস্থিত থেকে জিহাদ করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক হাছিল করেছেন। সুবহানাল্লাহ! স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত বদর জিহাদ উনার ফযীলত মুবারক উনার মধ্যে সমান অংশীদার হবেন। সুবহানাল্লাহ! এবং স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত বদর জিহাদ উনার সম্মানিত গনীমত মুবারক উনার মাল মুবারকও বণ্টন করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! এরূপ দৃষ্টান্ত কায়িনাতের বুকে দ্বিতীয় আর নেই। সুবহানাল্লাহ! এ সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে,

اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَسَمَ يَوْمَ بَدْرٍ لِّعُثْمَانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَهْمَهٗ

অর্থ: “নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত বদর জিহাদ শেষে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার জন্য সম্মানিত গণীমতের মাল মুবারক বণ্টন করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুস্তাদরকে হাকিম ৪/৫৩, যখায়েরুল উক্ববা)

সুতরাং এখান থেকেই বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে যায় যে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার ফযীলত কতো বেমেছাল। সুবহানাল্লাহ! যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কত বেমেছাল, সেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীর চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ! আর উনারই মহাসম্মানিত জাওযুম মুকাররাম হচ্ছেন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! তাহলে উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কতো বেমেছাল সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীর চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। তা কস্মিনকালেও ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার বেমেছাল ফযীলত মুবারক।

 সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার বেমেছাল ফযীলত মুবারক।

============================


মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, 

عَنْ اُمِّ الْـمُؤْمِنِيْنَ حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ اَوْحٰـى اِلَـىَّ اَنْ اُزَوِّجَ كَرِيـْمَتَـىَّ مِنْ حَضْرَتْ عُثْمَانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ حَضْرَتْ رُقَيَّةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ وَحَضْرَتْ اُمَّ كُلْثُوْمٍ عَلَيْهَا السَّلَامُ 

অর্থ: “উম্মুল মু’মিন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমার নিকট সম্মানিত ওহী মুবারক প্রেরণ করেছেন, আমি যেন আমার মহাসম্মানিতা দুইজন আওলাদ আলাইহিমাস সালাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার ও সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সাথে সুসম্পন্ন করি।” সুবহানাল্লাহ! (মা’রিফাতুছ ছাহাবা লিআবী নাঈম ২২/২২৪)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, 

عَنْ حَضْرَتْ اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَيْرُ الشَّفِيْعِ لِـحَضْرَتْ عُثْمَانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ مَا اَنَا اُزَوِّجُ بَنَاتِىْ وَلَكِنَّ اللهَ تَعَالـٰى يُـزَوِّجُـهُـنَّ.

অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার জন্য সর্বোত্তম সুপারিশকারী রয়েছেন। আমি আমার মহাসম্মানিতা আওলাদ আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ সুসম্পন্ন করিনি; বরং মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বয়ং নিজেই সেটা সুসম্পন্ন করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুস্তাদরকে হাকিম) 

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, 

عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالى عَنْهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقِىَ حَضْرَتْ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَهُوَ مَغْمُوْمٌ فَقَالَ مَا شَأْنُكَ يَا حَضْرَتْ عُثْمَانُ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ بِاَبِـىْ اَنْتَ يَا رَسُوْلَ اللهِ وَاُمِّـىْ هَلْ دَخَلَ عَلـٰى اَحَدٍ مِّـنَ النَّاسِ مَا دَخَلَ عَلَىَّ تُوُفِّيَتْ بِنْتُ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَحِمَهَا اللهُ وَانْقَطَعَ الصِّهْرُ فِيْمَا بَيْنِـىْ وَبَيْنَكَ اِلـٰى اٰخِرِ الْاَبَدِ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَتَقُوْلُ ذٰلِكَ يَا حَضْرَتْ عُثْمَانُ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَهٰذَا حَضْرَتْ جِبْرِيْلُ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ يَأْمُرُنِـىْ عَنْ اَمْرِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ اَنْ اُزَوِّجَكَ اُخْتَهَا حَضْرَتْ اُمَّ كُلْثُوْمٍ عَلَيْهَا السَّلَامُ عَلـٰى مِثْلِ صَدَاقِهَا وَعَلـٰى مِثْلِ عِدَّتِـهَا فَزَوَّجَهٗ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِيَّاهَا.

অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেন, একদা) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে চিন্তিত অবস্থায় দেখলেন। তারপর তিনি উনাকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করলেন, হে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম আপনার কী অবস্থা? (আপনাকে এরূপ চিন্তিত দেখা যাচ্ছে কেন?) তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা কুরবান হোক! আমার উপর যে মুছীবত এসেছে, সেটা কী অন্য কারো উপর অর্পিত হয়েছে? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা আওলাদ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার উপর রহম করুন! আর আমার এবং আপনার মাঝে যে, আত্মীয়তার সম্পর্ক মুবারক ছিলো, সেটা চিরতরে শেষ হয়ে গেছে। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনি এই কথা বলছেন? এইতো ইনি হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম, তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে আমার নিকট এই সম্মানিত সংবাদ মুবারাক নিয়ে এসেছেন যে, আমি যেন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিতা বোন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনাকে সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার অনুরূপ এবং সমপরিমাণ মোহরানা মুবারকসহ আপনার সাথে সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ সুসম্পন্ন করি। অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনাকে সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার অনুরূপ সম্মানিত মোহরানা মুবারক অনুযায়ী সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সাথে সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ দেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুস্তাদরকে হাকিম শরীফ, ৪/৫৪)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

عَن حَضْرَتْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ سَـمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَا زَوَّجْتُ حَضْرَتْ عُثْمَانَ عليه السلام حَضْرَتْ أُمَّ كُلْثُومٍ عليها السلام إِلَّا بِوَحْي مِنَ السَّمَاءِ.

অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনেছি, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, আমি সম্মানিত ওহী মুবারক উনার মাধ্যমেই সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ সুসম্পন্ন করেছি।” সুবহানাল্লাহ! (আশ শরী‘য়াহ ৪/১৯৩৯, আল মু’জামুল আওসাত্ব ৫/২৬৪, আল মু’জামুল কাবীর ২৫/৯২ ইত্যাদি)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে,

عَنْ عِصْمَةَ بْنِ مَالِكٍ الْـخَطْمِىِّ رَضِىَ اللهُ تَعَالى عَنْهُ قَالَ لَمَّا مَاتَتْ بِنْتُ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الَّتِـىْ تَـحْتَ عُثْمَانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَوِّجُوْا عُثْمَانَ لَو كَانَ لِـىْ ثَالِثَةً لَزَوَّجْتُهُ وَمَا زَوَّجْتُهٗ اِلَّا بِالْوَحْىِ مِنَ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ.

অর্থ: “হযরত ‘ইছমাহ ইবনে মালিক খত্বমিইয়্যী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আপনারা সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার নিকট সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ দিন। যদি আমার তৃতীয় (অবিবাহিত) বানাত (মেয়ে) থাকতেন, আমি উনাকে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার নিকট সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ দিতাম। আমি মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে ওহী মুবারক উনার মাধ্যমেই সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার নিকট আমার মহাসম্মানিতা বানাত আলাইহিমাস সালাম উনাদের সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ দিয়েছি।” সুবহানাল্লাহ! (ত্ববারনী, মাজমাউয যাওয়ায়িদ)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে এসেছে,

وَرَوَى أَبُو هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَفَ عَلَى قَبْرِ ابْنَتِهِ الثَّانِيَةِ الَّتِي كَانَتْ عِنْدَ حَضْرَتْ عُثْمَانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَقَالَ أَلَا أَبُو أَيِّمٍ أَلَا أَخُو أَيِّمٍ يُزَوِّجُهَا حَضْرَتْ عُثْمَانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَلَوْ كَانَ لِي عَشْرٌ لَزَوَّجْتُهُنَّ حَضْرَتْ عُثْمَانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَمَا زَوَّجْتُهُ إِلَّا بِوَحْيٍ مِنَ السَّمَاءِ 

 অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত রওযা শরীফ উনার নিকট অবস্থান মুবারক করছিলেন। অতঃপর তিনি বললেন, কোন পিতা রয়েছেন যে, যিনি উনার মেয়ে এবং কোন ভাই রয়েছেন যে, যিনি উনার বোনকে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার নিকট সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ দিবেন? আমার যদি দশ জন বানাত (মেয়ে) আলাইহিন্নাস সালাম থাকতেন, তাহলে আমি একজন উনার পর আরেকজন এইভাবে ১০ জনই সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার নিকট সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ দিতাম। আমি সম্মানিত ওহী মুবারক উনার মাধ্যমেই সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সাথে আমার মহাসম্মানিতা বানাত (মেয়ে) আলাইহিমাস সালাম উনাদেরকে সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ দিয়েছি।” সুবহানাল্লাহ! (আশ শরী‘য়াহ ৩/৩২৭) 

অপর বর্ণনায় এসেছে,

وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ أَنَّ عِنْدِي مِائَةَ بِنْتٍ يَمُتْنَ وَاحِدَةً بَعْدَ وَاحِدَةٍ زَوَّجْتُكَ أُخْرَى 

অর্থ: “যেই মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত কুদরতী হাত মুবারক-এ আমার সম্মানিত প্রাণ মুবারক উনার কসম, যদি আমার একশত জন বানাত (মেয়ে) আলাইহিন্নাস সালাম উনারা থাকতেন এবং একজন উনার পর অপরজন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করতেন, তাহলে আমি একজন উনার পর আরেকজন এইভাবে আমার একশত বানাত (মেয়ে) আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে আপনার নিকট সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ দিতাম।” সুবহানাল্লাহ! (শরহে মুসনাদে আবী হানীফা ১/৪১৪, মিরক্বাত শরীফ ৯/৩৯২৬, জামি‘উল আহাদীছ শরীফ ১৬/২২, যাখায়েরুল ‘উক্ববাহ ১/১৬৬, তারীখুল খমীস ১/২৭৬, মাওয়াহিবুল লাদুননিয়্যাহ ১/৪৮১, সিমতুন নুজূম ১/৫১০, আর রিয়াদুন নাদ্বরাহ ১/২০২)

তাহলে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কত বেমেছাল তা জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীর চিন্তা ও কল্পনার বাইরে। সুবহানাল্লাহ!

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...