Saturday, September 26, 2020

তারিখ নির্দিষ্ট করে ইসলামী দিবস পালন করা সম্মানিত শরীয়ত সম্মত একটি আমল।

 তারিখ নির্দিষ্ট করে ইসলামী দিবস পালন করা সম্মানিত শরীয়ত সম্মত একটি আমল।


=================================================

অনেকে বলেন হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমনের তারিখ সংশ্লিষ্ট করে আজকেও সে তারিখে কেন পালন করতে হবে? তারিখ পালনের কোন ভিত্তি কি শরীয়তে আছে?


আমার উত্তর, অবশ্যই আছে। কিন্তু বুঝতে গেলে প্রশ্নকারীদের অন্তরে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি মুহব্বত থাকতে হবে। বুখারী শরীফে একটা হাদীছ শরীফ আছে। বুখারী শরীফের “কিতাবুল জানায়েয” অধ্যায়ে একটা পরিচ্ছেদ আছে ‘বাবু মাওতা ইয়াওমাল ইছনাইন’। এখনে একটা হাদীছ শরীফ আছে,


عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ دَخَلْتُ عَلَى أَبِي بَكْرٍ ـ رضى الله عنه ـ فَقَالَ فِي كَمْ كَفَّنْتُمُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ فِي ثَلاَثَةِ أَثْوَابٍ بِيضٍ سَحُولِيَّةٍ، لَيْسَ فِيهَا قَمِيصٌ وَلاَ عِمَامَةٌ‏.‏ وَقَالَ لَهَا فِي أَىِّ يَوْمٍ تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ يَوْمَ الاِثْنَيْنِ‏.‏ قَالَ فَأَىُّ يَوْمٍ هَذَا قَالَتْ يَوْمُ الاِثْنَيْنِ‏.‏ قَالَ أَرْجُو فِيمَا بَيْنِي وَبَيْنَ اللَّيْلِ‏.‏ فَنَظَرَ إِلَى ثَوْبٍ عَلَيْهِ كَانَ يُمَرَّضُ فِيهِ، بِهِ رَدْعٌ مِنْ زَعْفَرَانٍ فَقَالَ اغْسِلُوا ثَوْبِي هَذَا، وَزِيدُوا عَلَيْهِ ثَوْبَيْنِ فَكَفِّنُونِي فِيهَا‏.‏ قُلْتُ إِنَّ هَذَا خَلَقٌ‏.‏ قَالَ إِنَّ الْحَىَّ أَحَقُّ بِالْجَدِيدِ مِنَ الْمَيِّتِ، إِنَّمَا هُوَ لِلْمُهْلَةِ‏.‏ فَلَمْ يُتَوَفَّ حَتَّى أَمْسَى مِنْ لَيْلَةِ الثُّلاَثَاءِ وَدُفِنَ قَبْلَ أَنْ يُصْبِحَ‏


অর্থ: হযরত আয়িশা সিদ্দীকা আলাইহাস সালাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হযরত আবূ বকর সিদ্দীক আলাইহিস সালাম এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কয় খণ্ড কাপড়ে আপনারা হযরত নাবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে কাফন দিয়েছিলেন? হযরত আয়িশা সিদ্দিক আলাইহাস সালাম বললেন, তিন খণ্ড সাদা সাহুলী কাপড়ে, এগুলোতে (সেলাইকৃত) জামা ও পাগড়ী ছিল না। তিনি আবার জিজ্ঞাসা করলেন, কোন দিন হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিছাল শরীফ প্রকাশ করেন? হযরত আয়িশা সিদ্দিক আলাইহাস সালাম বললেন, সোমবার। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আজ কি বার? হযরত আয়িশা সিদ্দীকা আলাইহাস সালাম বললেন, আজ সোমবার। তিনি [হযরত আবূ বকর সিদ্দীক আলাইহিস সালাম ] বললেন, আমিও সেটাই আশা রাখি যে, আজ সন্ধ্যার মধ্যে যেন এই ইহকাল ত্যাগ করতে পারি। এরপর অসুস্থকালীন আপন পরিধেয় কাপড়ের প্রতি লক্ষ্য করে তাতে জাফরানী রং এর চিহ্ন দেখতে পেয়ে বললেন, আমার এ কাপড়টি ধুয়ে তার সাথে আরো দু’খণ্ড কাপড় বৃদ্ধি করে আমার কাফন দিবেন। হযরত আয়িশা সিদ্দীকা আলাইহাস সালাম বললেন, এটা (পরিধেয় কাপড়টি) পুরাতন। তিনি বললেন, ইন্তেকাল প্রাপ্ত ব্যাক্তির চেয়ে জীবিতদের নতুন কাপড়ের প্রয়োজন অধিক। আর কাফন হল বিগলিত শবদেহের জন্য। তিনি মঙ্গলবার রাতের সন্ধ্যায় ইন্তেকাল করেন, প্রভাতের পূর্বেই উনাকে দাফন করা হয়। (বুখারী শরীফ: কিতাবুল জানায়েয : হাদীছ নং ১৩০৪)


এখন ফিকিরের বিষয় হলো, ইন্তেকালের সময়ও তিনি হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কথা ভুলেন নাই। তিনি বিছাল শরীফের তারিখ কি সেটা খোঁজ করেছেন, নিজেও বরকত ও সুন্নতের খেয়ালে সেই বারে বিছাল প্রকাশের আকাঙ্খা করেছেন।


এ থেকে কি এটা প্রমান হয় না যে, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সব কিছু সেটা তারিখ / বার/ মাস/ সময় সবই মর্যাদাপূর্ণ ও সেটা পালন করার চেষ্টা করা উম্মতের দায়িত্ব? যদি তাই না হতো তবে সিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম জীবনের শেষ সময় এসে কেন সেই বারে ইন্তেকাল প্রকাশের আগ্রহ করলেন?

যিনি জীবনের কঠিনতম সময়ে সেই বারে ইন্তেকাল প্রকাশের আরজি করতে পারেন তিনি কি নবীজীর বিলাদত বা জন্ম তারিখে বা বারে খুশি প্রকাশ করতে ভুলে গিয়েছিলেন? নাউযুবিল্লাহ।


ভুলেন নাই বলেই সর্বশ্রেষ্ট সাহাবী ও ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দিক আলাইহিস সালাম বলেন-

مَنْ اَنْفَقَ دِرْهَمًا عَلَى قِرا ةَ مَوْ لِدِ النَّبىُ صلي اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَان رفيقي فىِ الجَنّةِ

অর্থাৎ- “যে ব্যক্তি মীলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষ্যে এক দিরহাম খরচ করবে সে জান্নাতে আমার সঙ্গী হবে”। (দলীল- আন নেয়মাতুল কুবরা আলাল আলাম, পৃষ্ঠা নং-৭, মাদারেজ আস সউদ ১৫ পৃষ্ঠা, নাফহাতুল আম্বরিয়া” ৮ পৃষ্ঠা, ই’য়ানাতুত ত্বলেবীন)

খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার পথে দান ছদকা করলে তা বহু গুনে বৃদ্ধি পায়।

 খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার পথে দান ছদকা করলে তা বহু গুনে বৃদ্ধি পায়।



খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের রিযামন্দি সন্তুষ্টি মুবারক লাভের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় দান ছদকা করা। ইবাদতসমূহ উনার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে দান ছদকা করা। পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাতে দান ছদকার ফযীলত ও গুরুত্ব অপরিসীম। যেমন খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

مَنْ ذَا الَّذِي يُقْرِضُ اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا فَيُضَاعِفَهُ لَهُ أَضْعَافًا كَثِيرَةً وَاللَّهُ يَقْبِضُ وَيَبْسُطُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ 

অর্থ: “তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে, যে খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে উত্তম ঋণ দিবে। খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার পথে দান ছদকা করবে। অতঃপর খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে তা বহু বহু গুণে বাড়িয়ে দিবেন। বস্তত: খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি কাউকে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ও অস্বচ্ছল করেন এবং উনার দিকেই তোমাদেরকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।” (পবিত্র সূরা আল বাক্বারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ- ২৪৫)

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আরও ইরশাদ মুবারক করেন-

مَثَلُ الَّذِينَ يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ أَنْبَتَتْ سَبْعَ سَنَابِلَ فِي كُلِّ سُنْبُلَةٍ مِائَةُ حَبَّةٍ وَاللَّهُ يُضَاعِفُ لِمَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ . الَّذِينَ يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ثُمَّ لَا يُتْبِعُونَ مَا أَنْفَقُوا مَنًّا وَلَا أَذًى لَهُمْ أَجْرُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ

অর্থ: “যাঁরা খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার পথে নিজেদের ধন-সম্পদগুলো ব্যয় করে তাদের উপমা যেমন একটি শস্য বীজ। যা থেকে উৎপন্ন হয়েছে সাতটি শীষ। প্রত্যেক শীষে রয়েছে একশটি শস্য। আর খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি যার জন্য ইচ্ছে করবেন তাকে আরো বাড়িয়ে দিবেন। বস্তুত খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি হচ্ছেন মহান দাতা ও মহাজ্ঞানী। যাঁরা মহান আল্লাহ পাক উনার পথে নিজেদের ধন-সম্পদগুলো ব্যয় করেন এবং সে জন্য কাউকে খোঁটা দেন না, কষ্টও দেন না। তাঁদের জন্য রয়েছে তাঁদের মহান রব উনার পক্ষ থেকে বিশেষ পুরস্কার। মূলত তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা কখনো চিন্তাগ্রস্তও হবেন না”। (পবিত্র সূরা আল-বাকারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ- ২৬১-২৬২)

খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আরও ইরশাদ মুবারক করেন-

إِنْ تُقْرِضُوا اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا يُضَاعِفْهُ لَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللَّهُ شَكُورٌ حَلِيمٌ

অর্থ: “তোমরা যদি মহান আল্লাহ পাক উনাকে উত্তম ঋণ দাও তথা উনার পথে দান- ছদক্বা করো, খয়রাত করো তা হলে তিনি তোমাদেরকে তা বহু গুণে বাড়িয়ে দিবেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। সুবহানাল্লাহ! মূলত খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি মহা গুণগ্রাহী ও অত্যন্ত সহনশীল”। (পবিত্র সূরা আত-তাগাবুন শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ- ১৭)

অতএব প্রত্যেক মুমিন মুসলমান যাঁরা খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের রিযামন্দি সন্তুষ্টি মুবারক লাভের প্রত্যাশী তাঁদের উচিত খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় বেশী বেশী করে দান ছদকা করা। খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে সেই তাওফীক দান করুন।

সম্মানিত মুজাদ্দিদগণ প্রসঙ্গে- ২

 সম্মানিত মুজাদ্দিদগণ প্রসঙ্গে- ২



প্রথম শতকের মুজাদ্দিদ ছিলেন ইমামে আযম হযরত আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি । উনি ছিলেন তাবেয়ী অর্থাৎ তিনি সরাসরি হযরত সাহাবা আজমাইনগণের সোহবত পেয়েছিলেন। হযরত সাহাবা আজমাইনগণের ক্ষেত্রে হাদিস শরীফ এসেছে “উনারা আকাশের তারকা সদৃশ। এবং উনাদের যে কোন একজনকে অনুসরণ করলেই উনারা জান্নাত পর্যন্ত পৌছে দেবেন”। অর্থাৎ উনারা প্রত্যকেই একেকজন একেকটি মাযহাব। উনাদের সময় কোন মাযহাব সৃস্টি হয়নি এবং উনাদের তা অনুসরণেরও প্রয়োজন হয়নি। কিন্তু পরবর্তীতে সাধারণ মানুষের ইলম ও আকলের ঘাটতি হওয়ায় মাযহাব সৃস্টির প্রয়োজন দেখা দেয়। ইমামে আযম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বলে হয় ফিকাহ শাস্ত্রের জনক। অর্থাৎ তিনি প্রথম মুজাদ্দিদ হিসেবে এই ফিকাহ শাস্ত্রের প্রচলন ঘটিয়ে মানুষকে সম্মানিত শরীয়ত মানার পথ সহজ করে দেন । কয়েকটি বৈশিষ্ট্য সকল মুজাদ্দিদগণের মাঝে দেখা যায় এবং উনার মাঝেও ছিল। 

১। সকল মুজাদ্দিদগণ ফিকাহ এবং তাসাউফ সমানভাবে অর্জন করেছেন। তিনি উনার সম্মানিত শায়খ বা মুর্শিদ প্রসঙ্গে বলেনঃ “(আমার জীবনে) যদি দু’টি বছর না আসতো, তবে আমি নু’মান ধ্বংস হয়ে যেতাম।“ (সাইফুল মুক্বাল্লিদীন, ফতওয়ায়ে ছিদ্দীক্বিয়া) অর্থাৎ তিনি যদি তাঁর শায়খদ্বয় (প্রথমে হযরত ইমাম বাকের আলাহিস সালাম, পরে হযরত ইমাম জাফর সাদিক আলাইহিস সালাম )-উনাদের নিকট বাইয়াত না হতেন, তবে তিনি ধ্বংস বা বিভ্রান্ত হয়ে যেতেন।

২। তিনি বিপুল অর্থ সম্পদের মালিক ছিলেন এবং গবেষণায়রত সকল ছাত্রদের ভরণ পোষণ তিনি নিজে করতেন। কোন প্রকার সরকারি সাহায্য বা অনুদান নিতেন না । মাহফিল করে টাকা নেয়ার প্রবনতা উনার ছিলনা। অন্য মুজাদ্দিদগণও অনুরূপ ছিলেন। 

৩। রাজা-বাদশা অর্থাৎ শাসক শ্রেণীকে এড়িয়ে চলতেন। যেমন আব্বাসীয় বংশের তথাকথিত খলীফা আল-মনসুর হযরত ইমামে আযম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে রাজ্যের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাব দিলে তিনি স্বাধীনভাবে থাকার জন্য প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন। তার পরিবর্তে উনার ছাত্র হযরত আবু ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রস্তাব প্রত্যাখানের ব্যাপারে আল মনসুরকে ব্যাখা দেয়া হয় এভাবে যে তিনি নিজেকে এই পদের জন্য উপযুক্ত মনে করছেন না। আল-মনসুরের এই পদ প্রস্তাব দেওয়ার পেছেনে তার নিজস্ব কারণ ছিল, হযরত ইমামে আযম রহমতুল্লাহি আলাইহি প্রস্তাব প্রত্যাখান করার পর মনসুর উনাকে মিথ্যাবাদী হিসেবে অভিযুক্ত করে। এই অভিযোগের ব্যাখ্যায় হযরত ইমামে আযম রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “আমি যদি মিথ্যাবাদী হই তাহলে প্রস্তাব প্রত্যাখান করার ব্যাপারে আমার মতামত সঠিক, কারণ কিভাবে আপনি প্রধান বিচারপতির পদে একজন মিথ্যাবাদিকে বসাবেন।” এই ব্যাখার উত্তরে আল-মনসুর ইমামে আযম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে গ্রেফতার করে ও নির্যাতন করে কারাগারে বন্দি করে রাখে। এমনকি বিচারকরা সিদ্ধান্ত নিতো কে উনার সাথে দেখা করতে পারবে। পরবর্তীতে কারাগারেই তিনি ইন্তিকাল করেন। তাহলে দেখা গেল সম্মানিত মুজাদ্দিদ হযরত ইমামে আযম রহমতুল্লাহি আলাইহি কখনোই শাসকদের সাথে কমপ্রোমাইজ করেন নি। (চলবে)


Writer_ Abm Ruhul Hassan

সম্মানিত মুজাদ্দিদগণ প্রসঙ্গে- ১

 সম্মানিত মুজাদ্দিদগণ প্রসঙ্গে- ১



নবী রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা যখন এসেছেন উনাদের বিশেষ মুজেজা শরীফ প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু দেখা গেছে যে সময় যে বিষয়ের বেশী প্রচলন ছিল সেই সময়ে সে সকল বিষয় মুকাবিলার জন্য উনাদের বিশেষ মুজিজা শরীফ প্রকাশিত হয়েছে। একটু খুলে বলা যাক। হযরত কালীমুল্লা আলাইহিস সালাম উনার সময় যাদু বিদ্যার বেশ প্রচলন ছিল আর তাই উনাকে এমন মুজিজা শরীফ দেয়া হয়েছিল যে উনার সম্মানিত লাঠির কারণে সকল যাদু বিদ্যা নস্ট হয়ে যেত।

আবার হযরত ঈসা রুহুল্লা আলাইহিস সালাম উনার সময় চিকিৎসা বিদ্যা উন্নত ছিল কিন্তু কুষ্ঠ রোগ ভাল করা যেত না। উনি কুষ্ঠ রোগীতো ভাল করেছেন এমনকি মৃত মানুষকেও জীবিত করে দেখিয়েছেন।

হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম উনার সময় সঙ্গীতের বেশ প্রচলন ছিল অথচ আল্লাহ পাক উনাকে এত সুন্দর কন্ঠ মুবারক দান করেছিলেন যে নদীর মাছ এসেও উনার তিলওয়াত শুনতেন।

আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার সময় আরবী সাহিত্য যথেস্ট সমৃদ্ধ হয়েছিল । ইম্রুল কায়িসের মত কবি জন্ম নিয়েছিল। সে সময় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার প্রতি নাযিল করা হল পবিত্র কুরয়ান শরীফ আর সকল সাহিত্য পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার ভাষা গুনের কাছে নিস্প্রভ হয়ে গেলো। সুবহানাআল্লাহ।  

একইভাবে দেখা গেছে যখন কোন শতাব্দীতে মুজাদ্দিদ এসেছেন সেই সময়ে যে বিষয়ের মধ্যে মত পার্থক্য হয়েছে উনাকে সেই বিষয়ের সমাধানের সব যোগ্যতা আল্লাহ পাক উনাদের দান করেছিলেন। 

এ বিষয়টি বুঝতে হলে কয়েকজন মুজাদ্দিদ উনাদের সময়কালীন প্রেক্ষাপট আলোচনা করলেই আরও স্পষ্ট বোঝা যাবে। তবে এক্ষেত্রে কিছু পরিভাষা আমাদের জানতে হবে সেটি আমি সময়মত ব্যাখ্যা করে নিব ইনশাআল্লাহ। আপনাদের পড়ার আমন্ত্রণ রইলো। (চলবে )


Writer_ Abm Ruhul Hassan

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...