Sunday, August 15, 2021

হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার সাথে ইয়াযিদের বেয়াদবির সাক্ষ্য দিয়েছেন ঐ মজলিসে উপস্থিত একজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু।

 হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার সাথে ইয়াযিদের বেয়াদবির সাক্ষ্য দিয়েছেন ঐ মজলিসে উপস্থিত একজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু। 


যখন হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত মাথা মুবারক ইয়াযিদে সামনে রাখা হলো তখন সে তার ছড়ি দিয়ে উনার ঠোঁট মুবারকে আঘাত করতে লাগলো। নাউযুবিল্লাহ।

فقال رجل من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم يقال له: أبو برزة الأسلمي: أتنكت بقضيبك في ثغر الحسين؟ أما لقد أخذ قضيبك من ثغره مأخذاً كريماً، رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يرشفه، أما إنك، يا يزيد، تجيء يوم القيامة وابن زياد شفيعك، ويجيء هذا يوم القيامة ومحمد صلى الله عليه وسلم شفيعه، ثم قام فولى.

“তখন হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একজন ছাহাবী হযরত আবু বারাযাহ আসলামী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনি বললেন, তুমি কি তোমার ছড়ি হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার ঠোঁট মুবারকে আঘাত করছো? তোমার ছড়ি ঐ স্থানে আঘাত করছে যে স্থানে স্বায়ং হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চুম্বন করতেন। হে ইয়াযিদ ! কিয়ামতের দিন ইবনে যিয়াদ তোমার সুপারিশকারী হবে। আর হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার শায়াতকারী।” 

(জুমালুম মিন আনসাবিল আশরাফ ৩য় খন্ড ৪১৬ পৃষ্ঠা, লেখক: ইমাম আহমদ ইবনে ইয়াহিয়া ইবনে যাবির রহমতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত: ২৭৯ হিজরী) , প্রকাশনা: দারুল ফিকর, বাইরুত- লেবানন)

উপরোক্ত ঘটনা তারিখে মাদীনাতু দিমাষ্ক ৬২ তম খন্ড ৮৫ পৃষ্ঠা, ইমাম তাবারীর ইশতিহাদু হুসাইন ১৫৬ পৃষ্ঠা, কামিল ফিত তারিখ ৩য় খন্ড ৪৩৮ পৃষ্ঠা ৬১ হিজরীর আলোচনা অধ্যায়ে, উসদুল গাবা ফি মারিফাতিস সাহাবা লি ইবনুল আছির ৫ম খন্ড ৩০৬ পৃষ্ঠা, তারিখে উমাম ওয়াল মুলক ৩/৩৪১: ৬১ হিজরী, নাহাইয়াতুল আরব ফি ফুনুল আদব ২০ খন্ড ২৯৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে। 

এ ঘটনা থেকে যা প্রমাণ হয়,

১) ইয়াযিদের এমন নিকৃষ্ট কাজের সাক্ষী হচ্ছেন একজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু।

২) হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার কর্তিত মাথা মুবারকের ঠোঁট মুবারকে ইয়াযিদ আঘাত করছিলো। নাউযুবিল্লাহ।

৩) এ আঘাত করা থেকে প্রমাণ হয় ইয়াযিদের আদেশেই ইমাম আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করা হয়েছে।

৪) ইয়াযিদের অন্তরে আহলে বাইত শরীফ উনারদের প্রতি বিদ্বেষে পরিপূর্ণ ছিলো।

৫) বিদ্বেষ বশত শহীদ করেই সে ক্ষান্ত হয়নি বরং তার বিদ্বেষ প্রকাশ করতে সে ঠোঁট মুবারকে আঘাত করছিলো। নাউযুবিল্লাহ।

উপরোক্ত ঘটনা সমূহ থেকে প্রমাণ হয়, ইয়াযিদ ছিলো হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বিদ্বেষ পোষনকারী, উনার আহলে বাইত উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষনকারী। আর এ বিদ্বেষ থাকার কারনে তার অন্তরে কোন ঈমান থাকার চিন্তাও হাস্যকর। সে কাফির! সে কাফির! সে কাফির। অনন্তকাল ধরে ইয়াযিদ ও তার সমর্থকদের প্রতি লা’নত।

পবিত্র আশুরা শরীফ আমাদেরকে যা শিক্ষা দেয়

 পবিত্র আশুরা শরীফ আমাদেরকে যা শিক্ষা দেয়



মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ইমাম, সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার উপর ইস্তিক্বামাত থেকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শাহাদতী শান মুবারক গ্রহণ করে শাহাদাতী শান মুবারককে বুলন্দ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! কিন্তু ফাসিক-ফুজ্জার সরকার ইয়াযিদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কাট্টা কাফিরটার কাছে বাইয়াত হননি। অনুরুপ বর্তমান সময়েও কোন ফাসিক-ফুজ্জার সরকারের আদেশ-নিষেধ পালন করা যাবে না এবং বিদায়াতী, বাতিলদের কাছে বাইয়াত হওয়া যাবে না। এই দৃষ্টান্ত মুবারক পরবর্তী উম¥তের কামিয়াবী হাছিলের জন্য এক মহান শিক্ষা। 


 এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দিনটি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শাহাদতী শান মুবারক গ্রহণ করার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের প্রতি মুহব্বত মুবারক করার উৎসাহ, উদ্দীপনা ও অনুপ্রেরণা জাগিয়ে তোলে। 


জলীলুল ক্বদর ছাহাবী হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে দোষারোপ না করে উনার প্রতি সুধারণা পোষণ করা। 

এ দিন হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার বিজয় সুনিশ্চিত হয় এবং কাট্টা কাফির চির জাহান্নামী ফেরাউন ও তার দল-বলসহ ধ্বংস হয়।

হক্বের উপর ইস্তেক্বামাত থাকলে বিজয় নিশ্চিত হয় আর বাতিল-বিধর্মীদের ধ্বংস অনিবার্য। এ আক্বীদা মুবারক শিক্ষা দেয়। 


পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দুটি রোজা রাখলে পুর্ববর্তী এক বছরের গোনাহ মাফ করে দেন এবং ষাট বৎসর রাতে ইবাদত বন্দেগী ও দিনে রোজা রাখার ফযীলত দান করেন।


 এ দিনে একজন রোযাদারকে ইফতার করালে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূও পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সকল উম্মতকে ইফতার করানোর ছাওয়াব পাওয়া যায়। 


  এ দিনে কোন মুসলমান যদি কোন ইয়াতীমের মাথায় হাত স্পর্শ করে, কোন ক্ষুধার্তকে খাদ্য খাওয়ায় এবং কোন পিপাসার্তকে পানি পান করায় তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে জান্নাতী দস্তরখানায় খাদ্য খাওয়াবেন এবং ‘সালসাবীল’ ঝর্ণা থেকে পানীয় (শরবত) পান করাবেন।”

আশুরা মিনাল মুহররম শরীফ উনাকে তাযীম-তাকরীম মুবারক করলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জান্নাত দ্বারা সম্মানিত করবেন। সুবহানাল্লাহ!


এ দিনে ভালো খাবার খেলে, পরিবারের জন্য খরচ করলে সারা বছর সচ্ছলতা পাওয়া যায়। 

এ দিনে গোসল করলে এক বছর মৃত্যু রোগ ব্যতীত সকল রোগ থেকে শিফা পাওয়া যায় এবং অলসতা, দুঃখ কষ্ট থেকে নিরাপদ থাকা যায়।  

এ দিনে চোখে সুরমা দিলে এক বছর চোখের কঠিন রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। 

এ দিনে ক্বিয়ামত সংঘটিত হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নেক আমল করার উৎসাহ জাগিয়ে তোলে।


এ দিনে মহান আল্লাহ পাক তিনি অনেক হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিশেষ বিশেষ শান মুবারক যাহির করেছেন। 

মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুদ দারাজাত মুবারকে এসে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আশুরা মিনাল মুহাররম উনার পরিপূর্ণ হিচ্ছা মুবারক দান করুন। আমীন!

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...