Tuesday, March 23, 2021

পবিত্র লাইলাতুল বরাত শরীফ সম্পর্কে বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত একটি হাদীছ শরীফ; যা ছহীহ হওয়ার ব্যাপারে সকলেই একমত


 পবিত্র লাইলাতুল বরাত শরীফ সম্পর্কে বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত একটি হাদীছ শরীফ; যা ছহীহ হওয়ার ব্যাপারে সকলেই একমত


পবিত্র লাইলাতুল বরাত শরীফ প্রসঙ্গে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ বর্ণিত আছে। এত ব্যাপক সংখ্যক বর্ণনার ফলে লা’মাযহাবীদের গুরুরাও পবিত্র হাদীছ শরীফগুলোকে ছহীহ মেনে নিয়েছে। তারপরও কিছু কুয়োর ব্যাঙ সালাফী, লা’মাযহাবীরা হাদীছ শরীফ উনার উছূল সম্পর্কে অজ্ঞ হওয়ার কারণে ছহীহ হাদীছ শরীফসমূহের বিরোধিতা করে থাকে। পবিত্র লাইলাতুল বরাত শরীফ সম্পর্কে একটি হাদীছ শরীফ উনার বিরোধিতার দাঁতভাঙ্গা জবাব উল্লেখ করা হলো-


পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে,


عن حضرت ابى موسى الاشعرى رضى الله تعالى عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ان الله تعالى ليطلع فى ليلة النصف من شعبان فيغفر لجميع خلقه الا لمشرك او مشاحن رواه ابن ماجه ورواه احمد. عن عبد الله بن عمرو بن العاص رضى الله تعالى عنه وفى رواية الا اثنين مشاحن وقاتل نفس.


অর্থ: “হযরত আবু মুসা আশয়ারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, অর্ধ শা’বান উনার রাত্রি তথা লাইলাতুল বরাতে মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বয়ং নাযিল হন (কুদরত মুবারক প্রকাশ করেন) এবং উনার সকল সৃষ্টিকে ক্ষমা করে দেন; তবে মুশরিক এবং বিদ্বেষভাবাপন্ন ব্যক্তিদেরকে ক্ষমা করেন না। আর হযরত ইমাম আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এটাকে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আছ রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেছেন। আর উনার অপর এক রেওওয়ায়েত রয়েছে, দু’ব্যক্তি ব্যতীত। যথা- বিদ্বেষভাবাপন্ন ব্যক্তি এবং মানুষ হত্যাকারী ব্যতীত সকলকেই ক্ষমা করা হয়।” (ইবনে মাজাহ পৃষ্ঠা ১০১: হাদীছ ১৩৯০, বায়হাকী শুয়াইবুল ঈমান ৩/৩৮২: হাদীছ ৩৮৩৫, মিসবাহুল জুজাহ ১/৪৪২: হাদীছ ৪৮৭, মিশকাতুল মাছাবীহ ১১৫ পৃষ্ঠা: হাদীছ ১৩০৬, আত তাগরীব ওয়াত তারহীব ৪/২৪০, কানযুল উম্মাল ১২/৩১৫: হাদীছ ৩৫১৮২, মাযমাউয যাওয়াইদ ৮/৬৫: হাদীছ ১২৯৬০, জামেউস সগীর : হাদীছ ২৭০০, ফাযায়েলে ওয়াক্ত লি বায়হাকী ১/১৩২: হাদীছ ২৯, জামিউল মাসানিদ ওয়াল সুনান লি ইবনে কাছীর : হাদীছ ১৩০৭৬)


উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার সনদ নিম্নরূপ:


১) হযরত আবু মুসা আশয়ারী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু- তিনি ছিলেন বিখ্যাত ফক্বীহ ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু। 

২) হযরত দ্বাহাক বিন আব্দুর রহমান ইবনে আয়যব রহমতুল্লাহি আলাইহি- হযরত ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি তিনি বলেন, তিনি ছিলেন তৃতীয় তবকার ছেকাহ রাবী। এছাড়া তিনি একজন তাবেয়ীও ছিলেন। (তাহযীবুত তাহযীব ৪/৩৯২, মিযানুল ইতিদাল ২/৩২৪)

৩) হযরত দ্বাহাক বিন আয়মন রহমতুল্লাহি আলাইহি- হযরত ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি তিনি বলেন, তিনি অপরিচিত। (তাহযীবুত তাহযীব ৪/৪৮৯)

৪) হযরত ওলীদ বিন মুসলিম আল কুরাশী রহমতুল্লাহি আলাইহি- হযরত ইবনে সা’দ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার সম্পর্কে বলেন, তিনি হচ্ছেন নির্ভরযোগ্য এবং অধিক হাদীছ শরীফ বর্ণনাকারী। (তাহযীবুত তাহযীব ১১/১৩৪)

৫) হযরত রাশেদ ইবনু সায়ীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি- উনার সম্পর্কে হযরত ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি তিনি বলেন, তিনি ছিলেন দশম তবকার ছিকাহ রাবী।” (তাহযীবুত তাহযীব ৩/১৯৬)


সালাফীরা উক্ত সনদের তৃতীয় বর্ণনাকারী হযরত দ্বাহাক বিন আয়মান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কারণে হাদীছ শরীফখানা অস্বীকার করতে চায়। এখানে ফিকিরের বিষয় হচ্ছে উক্ত রাবী তিনি হযরত ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি উনার কাছে অপরিচিত হলেও ছিহাহ সিত্তার ইমাম হযরত ইবনে মাজাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে অপরিচিত ছিলেন না। ইবনে মাজাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিলাদত ২০৯ হিজরীতে আর হযরত ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি উনার বিলাদত ৮৫২ হিজরীতে। সুতরাং (৮৫২-২০৯)= ৬৪৩ বছর আগের ইমাম হযরত ইবনে মাজাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে উক্ত রাবীর খবর ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি থেকে ভালো থাকার কথা। সুতরাং উক্ত রাবীকে ঢালাওভাবে মাজহুল বা অপরিচিত বলা মোটেও ঠিক হবে না। 


উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ সম্পর্কে লা’মাযহাবীদের মুরুব্বী আব্দুর রহমান মোবারকপুরী উল্লেখ করেছে, 


رواه ابن ماجه من حديث ابي موسي الاشعري باسناد لا بأس به

অর্থ: “ইমাম হযরত মুনযির রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা ইমাম হযরত ইবনে মাজাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত আবু মুসা আশয়ারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণনা করেন। উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফের সনদটির মধ্যে কোনো অসুবিধা নেই।” (তুহফাতুল আহওয়াজী ৩/৪৪১)

তাছাড়া উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ কমপক্ষে ১০টা সনদে বর্ণিত হয়েছে। যা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাকে শাহেদ হাদীছ শরীফ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এছাড়া মুতাবে সনদেও পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত আছে।


সালাফী, লা’মাযহাবীদের অন্যতম পূজনীয় নাসির উদ্দীন আলবানী উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ সম্পর্কে বলেছে,


ورواه ابن ماجه بلفظه من حديث أبي موسي الاشعري : صحيح لغيره 


অর্থ: হযরত ইবনে মাজাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি কর্তৃক বর্ণিত হযরত আবু মুসা আশয়ারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সূত্রে বর্ণিত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা ছহীহ লি গাইরিহী। (দলীল: ছহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব ৩ খন্ড: হাদীছ নং ২৭৬৮)


ছহীহ লিগাইরিহীর অর্থ: এটা হাসান লিযাতিহী হাদীছ শরীফ উনার অনুরূপ। ছহীহ হাদীছ শরীফ উনার কোনো রাবীর মধ্যে স্মরণ শক্তি কিছুটা কম থাকে। তবে অন্যান্য উপায়ে এবং অধিক রিওয়ায়েত দ্বারা পূরণ হয়ে যায়। মোট কথা, উহার সমর্থনে বহু রিওয়ায়েত বর্ণিত থাকায় তা ত্রুটি মুক্ত হিসেবেই গণ্য। এরূপ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাকে ছহীহ লিগাইরিহী বলে। (তাদরীবুর রাবী, মিজানুল আখবার)


লা’মাযহাবীদের মুরুব্বীরাই উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাকে ছহীহ বলে উল্লেখ করেছে এবং বলেছে সনদে কোনো অসুবিধা নেই তাহলে এখন কুয়ার ব্যাঙ লা’মাযহাবীরা কোন সাহসে এই হাদীছ শরীফ উনার বিরোধিতা করে?


Rajarbag Shareef Official

#rajarbagofficial

#shabebarat

#islam

#Shabebarat

#Laylat_Al_Nisf_Min_Shaban

পবিত্র লাইলাতুল বরাতে রোযা রাখার ফযীলত

 পবিত্র লাইলাতুল বরাতে রোযা রাখার ফযীলত

===================================



সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, আমীরুল মু’মিনীন হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বর্ণনা করেন, 


মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যখন অর্ধ শা’বানের রাত তথা পবিত্র লাইলাতুল বরাত শরীফ উপস্থিত হবে, তখন তোমরা উক্ত রাতে সজাগ থেকে ইবাদত-বন্দেগী করবে এবং দিনের বেলা রোযা রাখবে। 


নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি উক্ত রাতে সূর্যাস্তের সময় পৃথিবীর আকাশে রহমতে খাছ নাযিল করেন। অতঃপর ঘোষণা করতে থাকেন, কোনো ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছো কি?


 আমি তাকে ক্ষমা করে দিব। কোনো রিযিক প্রার্থনাকারী আছো কি? আমি তাকে রিযিক দান করবো। কোনো মুছিবতগ্রস্ত ব্যক্তি আছো কি? আমি তার মুছিবত দূর করে দিবো। এভাবে ছুবহে ছাদিক পর্যন্ত ঘোষণা করতে থাকেন। সুবহানাল্লাহ! (ইবনে মাযাহ শরীফ, মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ)


আমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য হবে, উক্ত পবিত্র রাতে ইবাদত-বন্দেগী করা, তওবা-ইস্তিগফার করা, দিনে রোযা রাখা। প্রতি মাসে কমপক্ষে তিনটি রোযা রাখা খাছ সুন্নত। সে হিসেবে শবে বরাতের রোযার সাথে মিলিয়ে ১৩, ১৪, ১৫ তারিখ রোযা রাখা উত্তম।


সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তি পবিত্র শা’বান শরীফ মাসে তিনটি রোযা রাখবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে জান্নাতী উটনিতে করে পুলছিরাত পর করাবেন।” (ইবনু নুবাতা)


সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “যে ব্যক্তি পবিত্র শা’বান শরীফ মাসে তিনটি রোযা রাখবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তার গুনাহখাতা ক্ষমা করে দিবেন।” সুবহানাল্লাহ!


যদি তিনটি রোযা রাখা সম্ভব না হয়, তবে অন্ততপক্ষে পবিত্র শবে বরাতের দিন অর্থাৎ ১৫ই শা’বান শরীফ দিনে রোযা রাখতে হবে।


 কেননা সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “যে ব্যক্তি শা’বান মাসের ১৫ তারিখ অর্থাৎ বরাতের রোযা রাখবে, তাকে কখনো জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না।” সুবহানাল্লাহ!


‘নুযহাতুল মাজালিস’ নামক বিশ্ববিখ্যাত কিতাবে উল্লেখ আছে, নিশ্চয়ই জিন, পশু-পাখি এবং এমন কি সমুদ্রের মাছও অর্ধ শা’বানের তথা ১৫ শা’বানের দিন রোযা রাখে।” সুবহানাল্লাহ!


‘তাফসীরে রুহুল মায়ানী’তে উল্লেখ আছে, “যে ব্যক্তি পবিত্র লাইলাতুল বরাতের রাতে ইবাদত-বন্দেগী করবে এবং দিনে রোযা রাখবে মহান আল্লাহ পাক তিনি ২০টি কবুল হজ্জের ছওয়াব এবং ২০ বছর রোযা রাখার ছওয়াব তার আমলনামায় লিখে দিবেন। সুবহানাল্লাহ!


‘নুযহাতুল মাজালিস’ কিতাবে রোযার ফযীলত সম্পর্কে আরো উল্লেখ আছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তি পবিত্র শা’বান মাসে অর্থাৎ পবিত্র শবে বরাতে মাত্র একটি রোযা রাখবে, তার দেহের জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি দোযখের আগুনের জন্য হারাম করে দিবেন এবং বেহেশতের মাঝে সে ব্যক্তি হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম উনার সঙ্গী হিসেবে থাকবেন এবং তার সঙ্গে হযরত আইয়ুব আলাইহিস সালাম উনার ও হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম উনার ন্যায় ছওয়াব দান করবেন। 


সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “পবিত্র শা’বান শরীফ মাসের ১৫ তারিখ যারা রোযা রাখবে, তারা ইফতারীর সময় ৩বার দুরূদ শরীফ পাঠ করবে। তাহলে তার পূর্বের গুনাহখাতা ক্ষমা করা হবে এবং রিযিকে বরকত দেয়া হবে।” সুবহানাল্লাহ!


সম্মানিত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার এবং উনার সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানার্থে মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত মুসলমান উনাদেরকে এই সম্মানিত রাতে ইবাদত বন্দেগী করার এবং রোযা রাখার তাওফীক দান করুন। আমীন!

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আলোচনা মুবারক শুনতে যাদের বিরক্ত লাগে, তারা কাট্টা কাফির এবং চিরজাহান্নামী

 নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আলোচনা মুবারক শুনতে যাদের বিরক্ত লাগে, তারা কাট্টা কাফির এবং চিরজাহান্নামী



মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,


وَأَمَّا بِنِعْمَةِ رَبِّكَ فَحَدِّثْ

 

অর্থ: “আর আপনি আপনার রব তা‘য়ালা মহান আল্লাহ পাক উনার নিয়ামত মুবারকসমুহ আলোচনা করুন, বর্ণনা করুন, প্রকাশ করুন।”সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা দ্বুহা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১১) 


এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মূলত উম্মতদেরকে আদেশ করা হয়েছে, তাদের নিয়ামত মুবারকসমূহ বেশি বেশি আলোচনা করার জন্য, বর্ণনা করার জন্য, প্রকাশ করার জন্য। আর কুল কায়িনাতবাসী সকলের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত মুবারক হচ্ছেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! যে কারণে সমস্ত কায়িনাতবাসী সকলের জন্য ফরয হচ্ছে- দায়িমীভাবে উনার আলোচনা মুবারক করা, উনার ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করা, প্রকাশ করা। সুবহানাল্লাহ!


এখন যাদের কাছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আলোচনা মুবারক শুনতে বিরক্ত লাগবে, তারা কাট্টা কাফির এবং চিরজাহান্নামী হবে। না‘ঊযুবিল্লাহ! 


সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি গত ২৭শে রজবুল হারাম শরীফ পবিত্র মি’রাজ শরীফ রাতে ছোহবত মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন, “যাদের কাছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আলোচনা মুবারক ভালো লাগেনা তারা কাট্টা কাফির এবং চিরজাহান্নামী হবে।” তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, “কেউ যদি উনার আলোচনা মুবারক না বুঝে, তাহলে তাকে জোর করে বুঝাতে হবে, কেন বুঝবে না।” 

ঠিক একইভাবে কারো কাছে যদি তার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার আলোচনা মুবারক, উনার শান-মান মুবারক, ফাযাইল-ফযীলত মুবারক শুনতে ভালো না লাগে, তাদেরও একই অবস্থা হবে। তারাও মুরীদ থাকতে পারবেনা। কাট্টা কাফির এবং চিরজাহান্নামী হবে। নাঊযুবিল্লাহ! কেননা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা তথা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মতদের নিকট যেমন (মর্যাদাবান এবং অনুসরণীয়-অনুকরণীয়), ঠিক তদ্রুপ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা তিনিও উনার মুরীদদের নিকট (তেমন মর্যাদাবান এবং অনুসরণীয়-অনুকরণীয়)।” সুবহানাল্লাহ! 


মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের শান-মান, ফাযাইল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক আলোচনা করার, বর্ণনা করার, প্রকাশ করার, শ্রবণ করার, উপলদ্ধি করার এবং বরদাশত করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...