Friday, August 28, 2020

মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত মাস হচ্ছেন পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ মাস ।

 মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত মাস হচ্ছেন পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ মাস ।


 

১৪৪২ হিজরী সন। আরবী হিসাব মুতাবিক নতুন বছর। তার মানে সময়ের একটি অংশ পার হয়ে অন্য অংশে গমন করা। সময়ের একটি অংশ থেকে অন্য অংশে পদার্পণ। আরবী চন্দ্রবছরের প্রথম মাস হল ‘মুহররমুল হারাম শরীফ’। অর্থাৎ সম্মানিত মুহররম শরীফ মাস। মহান আল্লাহ পাক তিনি যে চারটি মাসকে সম্মানিত করেছেন তার মধ্যে মুহররমুল হারাম শরীফ অন্যতম এবং তৃতীয়। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

 إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِندَ اللَّـهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِي كِتَابِ اللَّـهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ۚ ذَٰلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ 

অর্থ: নিশ্চয় মহান আল্লাহ পাক উনার বিধান ও গননায় মাসের সংখ্যা বারটি, আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে। তন্মধ্যে চারটি মাস অধিক সম্মানিত। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান; (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৬)

পবিত্র হাদীছ শরীফে এ মাসকে ‘শাহরুল্লাহ’ তথা ‘মহান আল্লাহ পাক উনার মাস’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। 

সকল মাস মহান আল্লাহ পাক উনার মাস হওয়া সত্ত্বেও পবিত্র হাদীছ শরীফে পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ মাসকে বিশেষ করে ‘মহান আল্লাহ পাক উনার মাস’ বলা হয়েছে। এর দ্বারাই উক্ত মাসের বিশেষ তাৎপর্য ও ফযীলত যে কত সুউচ্চ তা সহজেই অনুমেয়। 

যেমনিভাবে পৃথিবীর সব ঘরই মহান আল্লাহ পাক উনার ঘর। কিন্তু সব ঘরকে বাইতুল্লাহ শরীফ বলা হয় না। আসলে সকল মাসের প্রতিটি দিন এবং বছরের প্রতিটি মাসই মহান আল্লাহ পাক তিনিই সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার দয়া ও করুনায় বছরের বিশেষ কিছু দিন ও মাসকে বিশেষ বৈশিষ্ট্য দান করেছেন এবং তাতে বিশেষ কিছু আহকাম জারি করেছেন। কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَذَكِّرْهُمْ بِاَيَّامِ اللَّهِ اِنَّ فِي ذٰلِكَ لَاٰيٰتٍ لِّكُلِّ صَبَّارٍ شَكُوْرٍ

অর্থ: “আর আপনি মহাসম্মানিত আইয়্যামুল্লাহ শরীফ তথা মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ বিশেষ দিন মুবারক সম্পর্কে তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিন, জানিয়ে দিন। নিশ্চয়ই এতে প্রত্যেক ধৈর্য্যশীল ও শুকুরগুজার বান্দা-বান্দী, উম্মতের জন্য সম্মানিত আয়াত তথা নিদর্শন, উপদেশ, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি, মা’রিফাত-মুহব্বত মুবারক নিহিত রয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা ইবরাহীম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫)

উক্ত নিদর্শন মুবারকসমূহের মধ্য থেকে পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ মাস অন্যতম নিদর্শন। এ মাসে বেশ কিছু বিশেষ আমল রয়েছে। কেননা ক্বিয়ামতের দিন কঠিন সময়ে প্রত্যেককেই তার আমলনামা দেয়া হবে। 

সে জীবনে ভালো-মন্দ যা কিছুই করেছে, তাতে সব লেখা আছে। নেককার ও ভাগ্যবানদের আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে, আর বদকার ও দুর্ভাগাদের আমলনামা দেয়া হবে বাঁ হাতে। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

وَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِشِمَالِهِ فَيَقُولُ يَا لَيْتَنِي لَمْ أُوتَ كِتَابِيَهْ - وَلَمْ أَدْرِ مَا حِسَابِيَهْ - يَا لَيْتَهَا كَانَتِ الْقَاضِيَةَ 

অর্থ: ‘আর যার আমলনামা বাঁ হাতে দেয়া হবে, সে বলবে হায়! আমাকে যদি আমার আমলনামা না দেয়া হতো। আমি যদি না জানতাম আমার হিসাব। হায়! আমার মৃত্যুই যদি শেষ হতো।’ (পবিত্র সূরা হাক্কাহ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২৫-২৭)

কাজেই মহান আল্লাহ পাক উনার এই সম্মানিত মুহররমুল হারাম শরীফ মাসকে আমাদের প্রত্যেককেই সম্মান করতে হবে। পাশাপাশি সমস্ত নেক আমলগুলি করে মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করতে হবে।


সুন্নতী সামগ্রী অর্ডার করতে যোগাযোগ করুনঃ

 যোগাযোগের ঠিকানাঃ

আন্তর্জাতিক সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র।

৫/১ আউটার সার্কুলার রোড রাজারবাগ শরীফ, ঢাকা।

 যোগাযোগ নাম্বার:

 +8801711 27 27 73,

 +8801782 255 244

 ভিজিট করুন: https://sunnat.info

হাক্বীক্বী কামিয়াবী হতে সামান্য কয়েকটি নেক আমলের মাধ্যমে পবিত্র আশুরা মিনাল মুহররমুল হারাম শরীফকে সম্মান করুন।

 হাক্বীক্বী কামিয়াবী হতে সামান্য কয়েকটি নেক আমলের মাধ্যমে পবিত্র আশুরা মিনাল মুহররমুল হারাম শরীফকে সম্মান করুন।


 

এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা সামান্যতেই অনেক কিছু হাছিল হয়। মণিমুক্তা, স্বর্ণ, হিরা ইত্যাদি ছোট ও অল্প হলেও এর দাম কিন্তু অনেক বেশী। দুনিয়া হলো পরকালের শস্যক্ষেত্র। আমলের বীজ বপন এবং চাষাবাদের জায়গা। দুনিয়ায় যে যেমন আমলের বীজ বপন করবে, যেমন চারা রোপণ করবে, যেমন সময়-শ্রম দিয়ে আমলের চাষাবাদ করবে, পরকালে সে তেমনই ফল ও প্রতিদান লাভ করবে। তাই দুনিয়া থেকেই আখিরাতের পাথেয় সংগ্রহ করতে হবে। আর সেই পাথেয় বেশী সংগ্রহ করার জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে বেশ কিছু বিশেষ দিবস দিয়েছেন। তার মধ্যে আশুরা মিনাল মুহররমুল হারাম শরীফ অন্যতম।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

اَكْرِمُوا الْمُحَّرَمَ وَ اَكْرِمُوْا عَاشُوْرَاءَ مِنَ الْمُحَّرَمِ مَنْ اَكْرَمَ عَاشُوْرَاءَ مِنَ الْمُحَّرَمِ اَكْرَمَهُ اللهُ تَعَالٰى بِالْـجَنَّةِ وَنَـجَّاهُ مِنَ النَّارِ

অর্থ: তোমরা মুহররমুল হারাম শরীফ উনার মধ্যে পবিত্র আশুরা শরীফ উনাকে সম্মান করো, কেননা যে ব্যাক্তি আশুরা শরীফকে সম্মান করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে সম্মানিত জান্নাত দ্বারা সম্মানিত করবেন এবং জাহান্নাম থেকে পানাহ দিয়ে সম্মানিত করবেন। সুবহানাল্লাহ!

এখন কথা হলো আমরা কিভাবে পবিত্র আশুরা শরীফকে সম্মান করবো। সেটা অনেক মাধ্যম ও আমল রয়েছে। তবে সহজ ও স্বাভাবিক পন্থা মাত্র কয়েকটি নেক আমলের মাধ্যমে পবিত্র আশুরা শরীফকে সম্মান করতে হবে। যা আমরা জেনেছি বর্তমান পনেরো শতকের মহান মুজাদ্দিদে আযম, যামানার লক্ষ্যস্থল আহলে বাইত ওলীআল্লাহ, কুল কায়িনাতের ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইউস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, হাবীবুল্লাহ, মাওলানা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মুবারক ক্বওল শরীফ ও আলোচনা মুবারক থেকে। সুবহানাল্লাহ!

যাতে করে দুনিয়ার সমস্ত পুরুষ মহিলা, জ্বিন ইনসান উক্ত আমলগুলি করার মাধ্যমে চিরস্থায়ী কামিয়াবী ও নাজাত লাভ করতে পারেন।

উক্ত কতিপয় নেকআমলের নাম হলো:

১) ৯ ও ১০ তারিখ তথা সামনের ইয়াওমুস সাবত ও আহাদীতে রোযা রাখা। 

২) পরিবারবর্গকে ভালো তথা সুন্নতী খাবার খাওয়ানো ও উত্তম পোশাক তথা সুন্নতী পোশাক পরিধান করানো।

৩) উক্ত দিনে গোছল করা।

৪) চোখে ইছমিদ সুরমা লাগানো।

৫) রোযাদারকে ইফতার করানো এবং

৬) ইয়াতিম, মিসকিন ও ক্ষুধার্তদের সাহায্য সহযোগিতা করা, খাদ্য খাওয়ানো ও তাদের মাথায় হাত বুলানো।

মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে উক্ত আমলগুলি করার মাধ্যমে পবিত্র আশুরা শরীফকে সম্মান করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!


সুন্নতী সামগ্রী অর্ডার করতে যোগাযোগ করুনঃ

 যোগাযোগের ঠিকানাঃ

আন্তর্জাতিক সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র।

৫/১ আউটার সার্কুলার রোড রাজারবাগ শরীফ, ঢাকা।

 যোগাযোগ নাম্বার:

 +8801711 27 27 73,

 +8801782 255 244

 ভিজিট করুন: https://sunnat.info

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...