মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- “আপনি ছলাত পড়ুন ও কুরবানী করুন।” নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- “মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র, তিনি পবিত্রতা বা হালালকেই পছন্দ করেন।”
পবিত্র কুরবানীর পশু হাটে গিয়ে দেখে শুনে ক্রয় করাই খাছ সুন্নত উনার অন্তর্ভুক্ত। অনলাইনের মাধ্যমে পবিত্র কুরবানীর পশু ক্রয় করলে তাতে পবিত্র কুরবানী ছহীহ হবে না। অনলাইন ভিত্তিক পবিত্র কুরবানীর পশুর হাট শরীয়তসম্মত নয়। কেননা, অনলাইন হাট ছবি সম্বলিত। আর ছবি তোলা, আঁকা হারাম। তাই সেখানে হারামের সংমিশ্রণ ও আক্বীদাগত ত্রুটির বিষয় বিদ্যমান। মোটাতাজা ও সুস্থ্য পশু কুরবানী করতে হবে এবং হারাম পন্থায় উপার্জিত সম্পদ ওয়ালার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে না এবং হারাম পন্থায় ক্রয় করলেও কুরবানী ক্ববুল হবে না।
কাজেই সকলের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- অনলাইন হাটের এই ফিতনা হতে হাক্বীক্বীভাবে দূরে থেকে সরাসরি বাজার থেকে পবিত্র কুরবানীর পশু ক্রয়ের ব্যবস্থা করা ও ঈমান ও আমলের উপর ইস্তিকামত থেকে বিরাট সফলতা লাভ করে সন্তুষ্টি মুবারক অর্জন করা।
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
- ক্বওল শরীফ: সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম
১৭ মাহে যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪১
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইউস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যূল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদে রসূল, মাওলানা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, অনলাইন ভিত্তিক পবিত্র কুরবানীর পশুর হাট শরীয়তসম্মত নয়। কেননা অনলাইনে পবিত্র কুরবানীর পশু বেচা-কেনা করার অর্থ হচ্ছে পবিত্র কুরবানীর পশুর ছবি দেখিয়ে বেচা-কেনা করা। অথচ সম্মানিত শরীয়ত তথা দ্বীন ইসলামে প্রাণীর ছবি তোলা, তোলানো, দেখা ও দেখানো সবই হারাম। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে- মহান আল্লাহ পাক তিনি ঐ সকল মানুষকে ক্বিয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন শাস্তি দিবেন যারা ছবি তোলে বা আঁকে। নাউযুবিল্লাহ!
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে- মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, ঐ ব্যক্তির চেয়ে বড় যালিম বা অত্যাচারী কে রয়েছে, যে আমার সৃষ্টির সাদৃশ্য কোন প্রাণীর ছূরত তৈরী করে। নাউযুবিল্লাহ!
ছহীহ মুসলিম শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে ছবি তোলনেওয়ালা, আঁকনেওয়ালা প্রত্যেকেই জাহান্নামে যাবে। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রতিটি ছবিকে প্রাণ দিবেন এবং সেগুলো তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি দিতে থাকবে। অনুরূপ আরো অসংখ্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বর্ণনার মাধ্যমে ছবি তোলা, আঁকা, রাখা, দেখা, দেখানো ইত্যাদি হারাম ঘোষণা করা করা হয়েছে। এবং ছবি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরকে বড় যালিম, কাফির ও জাহান্নামী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!
মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, দ্বিতীয়তঃ অনলাইন ভিত্তিক পবিত্র কুরবানীর পশুর হাট করা তথা পবিত্র কুরবানীর পশু বেচা-কেনা করার উদ্দেশ্য হচ্ছে, করোনা ভাইরাসকে সংক্রামক বা ছোঁয়াচে বলে মনে করা। অথচ সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার বিধান মতে সংক্রামক বা ছোঁয়াচে, কুলক্ষণ ইত্যাদি বিশ্বাস করা কুফরী। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- ছোঁয়াচে বা সংক্রামক কোন রোগ নেই এবং কুলক্ষণ বলেও কিছু নেই।
মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, তৃতীয়তঃ অনলাইনে পবিত্র কুরবানীর পশু বেচা-কেনা করা হলে পবিত্র কুরবানীর পশু নিখুঁত ও উপযুক্ত হওয়ার জন্য যে সমস্ত গুণ থাকা জরুরী তা সনাক্ত করা কখনোই সম্ভব নয়। ফলে উক্ত পশু পবিত্র কুরবানীর পশু হিসেবে অনুপযুক্ত হওয়ার কারণে তা দ্বারা পবিত্র কুরবানী করলে কুরবানী মোটেও শুদ্ধ হবে না।
মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সর্বোপরি পবিত্র কুরবানী ওয়াজিব ইবাদত। এই ইবাদত পালন করার জন্যে ঈমানদার বা মুসলমান হওয়া শর্ত। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, অনলাইনে পশু বেচা-কেনা করার কারণে পশু বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়ে করোনা ভাইরাসকে ছোঁয়াচে বিশ্বাস করে ঈমান নষ্ট করে ঈমানহারা হয়ে যাবে অর্থাৎ ঈমানদার বা মুসলমান থেকে খারিজ হয়ে যাবে। আর প্রাণীর ছবির সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে বড় যালিম ও জাহান্নামী হিসেবে গণ্য হয়ে যাবে। নাউযুবিল্লাহ!
মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, ফিক্হের কিতাবে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে দুই পক্ষের পূর্ণ সম্মতিক্রমে মুদ্রা কিংবা বৈধ পণ্যের বিনিময়ে বৈধ পণ্যের হস্তান্তরকে সম্মানিত ইসলামী শরীয়তে বেচা-কেনা বলে। (হিদায়া-শরীফ ৩/১৮) সুতরাং বেচা-কেনা শরীয়ত সম্মত উপায়ে সংঘটিত হওয়ার জন্য শরীয়তসম্মত বিষয় ও বিধান থাকতে হবে যা অনলাইনের মাধ্যমে ক্রয় বিক্রয় হলে শরীয়তের বিষয়সমূহ ঠিকঠাক মতে হবে না এবং অসম্ভব। কাজেই অনলাইন ভিত্তিক পবিত্র কুরবানীর পশুর হাট থেকে বিরত থাকা সকলের ঈমানী দায়িত্ব। আরো দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে হাক্বীক্বীভাবে অনলাইনের এই ফিতনা থেকে দূরে থেকে সরাসরি বাজার থেকে পবিত্র কুরবানীর পশু ক্রয়ের ব্যবস্থা করা ও ঈমান ও আমলের উপর ইস্তিকামত থেকে বিরাট সফলতা লাভ করে সন্তুষ্টি মুবারক অর্জন করা। সুবহানাল্লাহ!