Friday, November 20, 2020

কোন ৫টি বিষয়কে গণিমত মনে করতে হবে???

 কোন ৫টি বিষয়কে গণিমত মনে করতে হবে??? 


================================


পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُوْنَ الْاَوْدِىِّ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِرَجُلٍ وَ هُوَ يَعِظُه اِغْتَنِمْ خَمْسًا قَبْلَ خَمْسٍ شَبَابَكَ قَبْلَ هَرَامِكَ صِحَّتَكَ قَبْلَ سُقْمِكَ غِنَائَكَ قَبْلَ فَقْرِكَ فَرَاغَكَ قَبْلَ شُغْلِكَ حَيَاتَكَ قَبْلَ مَوْتِكَ.

অর্থ: হযরত আমর ইবনে মাইমুনা আউদিয়্যি রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এক ব্যক্তিকে নসীহত মুবারক করার সময় ইরশাদ মুবারক করলেন, “পাঁচটি বিষয়কে পাঁচটি বিষয়ের পূর্বে গণিমত মনে করুন। ১. বৃদ্ধ হওয়ার পূর্বে যৌবনকালকে ২. দারিদ্রতার পূর্বে সচ্ছলতাকে ৩. ব্যস্ততার পূর্বে অবসর সময়কে ৪. অসুস্থতার পূর্বে সুস্থতাকে ৫. মৃত্যুর পূর্বে হায়াতকে। (তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ)


মানুষ নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে না। নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে হয় হক্ব আদায়ের মাধ্যমে। আর হক্ব আদায় হবে তার সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে। মহান আল্লাহ পাক তিনি এই পাঁচটি বিষয়কে নিয়ামত হিসেবে দান করেছেন তাই এগুলোকে গণিমত মনে করে হক্ব আদায় করতে হবে। যেমনঃ যৌবনকালে শক্তি-সামর্থ্য থাকে তাই এসময় ইবাদত-বন্দেগী, রিয়াযত-মাশাক্কাত, যিকির-ফিকির ভালোভাবে করা যায়, কামাই-রোজগার করে পরকালের পাথেয় সঞ্চয় করা যায়। কিন্তু বয়স হয়ে গেলে এ সমস্ত কাজ করা যায় না। আর রিয়াযত-মাশাক্কাত, যিকির-ফিকির না করলে ইখলাস অর্জন করা যায় না। আর ইখলাস অর্জন না হলে কোনো ইবাদত-বন্দেগী কবুল হবে না। কারণ মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

وَمَا أُمِرُوْا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللّٰـهَ مُخْلِصِيْنَ لَهُ الدِّيْنَ

অর্থ: “তাদেরকে (বান্দা-বান্দি) আদেশ করা হয়েছে, তারা যেন মহান আল্লাহ পাক উনার বিধান অনুযায়ী (সন্তুষ্টি মুবারক উনার উদ্দেশ্যে) খালিছভাবে উনারই ইবাদত করে”। (সূরা বায়্যিনাত শরীফ- ৫)


 ইখলাস অর্জনের উত্তম সময় হল যৌবনকাল, সুস্থাবস্থা, সচ্ছলতা, অবসর সময় এবং হায়াত। এই নিয়ামতগুলোকে যিকির-ফিকির, রিয়াজত-মাশাক্কাত এবং ইবাদত-বন্দেগী ইত্যাদির মাধ্যমে কাজে লাগাতে হবে। তাহলে নিয়ামতের ক্বদর করা সম্ভব হবে। আর নিয়ামতের ক্বদর করলে মহান আল্লাহ পাক তিনি নিয়ামত বৃদ্ধি করে দিবেন। অপরদিকে যে ব্যক্তি নিয়ামতের ক্বদর করবেনা বা শুকরগুজারী করবে না, তার নিয়ামত বৃদ্ধি হবে না। 


কিতাবে একটি ঘটনা বর্ণিত রয়েছে, মহান আল্লাহ পাক তিনি একজন নবী আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে বণী ইসরাইলের এক দম্পতিকে জানালেন যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদেরকে সচ্ছলতা দান করতে চান, তা উনারা কোন সময়ে নিতে চান? তখন লোকটি বলল, বৃদ্ধ বয়সে যেহেতু শক্তি-সামর্থ্য থাকে না, তখন সচ্ছলতা থাকলে ভাল হবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার আহলিয়ার সাথে পরামর্শ করে জানাতে বললেন । আহলিয়া বললেন যে, যদি মহান আল্লাহ পাক তিনি সচ্ছলতা দান করতে চান তাহলে যেন এখনই দান করেন। কেননা এখন আমাদের শক্তি-সামার্থ্য আছে তাই আমরা এখনই ইবাদত-বন্দেগী সব কিছু করে নিতে পারবো। উভয়ে মিলে এই পরামর্শ করে জানিয়ে দিলেন যে, আমরা এখনই সচ্ছলতা চাই। কেননা এখনই আমাদের শক্তি-সামার্থ্য আছে এবং আমরা ইবাদিত-বন্দেগী, রিয়াজত-মাশাক্কাত ইত্যাদি সব করতে পারবো। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদের উপর সন্তুষ্ট হয়ে উনাদের সম্পূর্ণ জিন্দেগীতেই সচ্ছলতা দান করে দিলেন। সুবহানাল্লাহ! 


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,  

لَئِن شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ ۖ وَلَئِن كَفَرْتُمْ إِنَّ عَذَابِي لَشَدِيدٌ ﴿٧﴾

অর্থঃ “যদি তোমরা (মহান আল্লাহ পাক উনার নিয়ামতের) শুকরিয়া আদায় কর তবে অবশ্যই আমি তোমাদেরকে (নিয়ামত) বৃদ্ধি করে দিব। আর যদি তোমরা কুফরী কর অর্থাৎ নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না কর, তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি অত্যন্ত কঠিন। (পবিত্র সূরা ইবরাহীম শরীফঃ পবিত্র আয়াত শরীফ- ৭)


হায়াত, যৌবনকাল, সুস্থতা, সচ্ছলতা, অবসর সময় এই পাঁচটি বিষয় মহান আল্লাহ পাক তিনি যাকে যতটুকু দান করেছেন তার জন্য ততটুকুই বড় নিয়ামত। এই নিয়ামত উনার হক্ব আদায় করতে পারলেই কামিয়াবি হাছিল করা সম্ভব। মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাদের সকলকে এই নিয়ামত উনার হক্ব আদায় করে হাকীকী শুকরগুজার বান্দা-বান্দি হওয়ার তৌফিক দান করেন। আমিন!

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...