Saturday, July 18, 2020

পবিত্র কুরবানী না দিয়ে কুরবানীর টাকা বন্যার্তদের দেয়া যাবে কি?

পবিত্র কুরবানী না দিয়ে কুরবানীর টাকা বন্যার্তদের দেয়া যাবে কি?
***************************************
এক শ্রেণীর গণ্ডমূর্খ মিডিয়াতে প্রচার করছে আগত কুরবানী উনার জন্য নির্ধারিত টাকা ত্রাণ হিসাবে দান করে দেয়ার জন্য। নাউযুবিল্লাহ! এর মাধ্যমেই নাকি কুরবানী উনার ফযীলত লাভ করা যাবে। নাউযুবিল্লাহ! অথচ পবিত্র কুরবানী হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার বিধান। মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন,
لِكُلّ اُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنسَكًا لّيَذْكُرُ‌وا اسْمَ اللهِ عَلـٰى مَا رَ‌زَقَهُم مّن بَـهِيْمَةِ الاَنْعَامِ ۗ
অর্থ: “আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য পবিত্র কুরবানী উনার বিধান দিয়েছি, যাতে তারা গৃহপালিত পশুর উপরে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নাম মুবারক স্মরণ করে। অর্থাৎ মহান আল্লাহ তায়ালা উনার সন্তুষ্টি ও নির্দেশ মুতাবিক উনার নাম মুবারকে পশু কুরবানী করে।” (পবিত্র সূরা হজ্জ শরীফ : ৩৪)
পবিত্র আয়াত শরীফ উনার থেকে প্রমাণ হলো, পবিত্র কুরবানী করা মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে প্রত্যেক উম্মতের জন্য বিধান। আর আল্লাহ পাক উনার বিধান পালন করা বান্দার আবশ্যিক দায়িত্ব।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـي هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ وَجَدَ سَعَةً فَلَمْ يُضَحِّ فَلَا يَقْرَبَنَّ مُصَلَّانَا.
অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি কুরবানী করবে না সে যেন পবিত্র ঈদগাহের নিকটে না আসে।” (মুসনাদে আহমদ ২/ ৩২১: হাদীছ শরীফ ৮২৫৬, ফতহুল বারী ১০/৩, তাফসীরে ইবনে কাছীর ৫/৪৩২, শরহে যারকানী ৩/১০৪)
পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে যা বোঝা গেলো, সামর্থ্যবান ব্যক্তিকে অবশ্যই কুরবানী করতে হবে। কুরবানী না করলে সে মুসলমান উনাদের সাথে নামাযেও আসতে পারবে না। অর্থাৎ মুসলামান জামায়াত থেকে সে বিতাড়িত হবে। তারমানে তার ঈমান থাকবে না।
“পবিত্র কুরবানী করা হচ্ছে ঈদের দিনের সর্বশ্রেষ্ঠ আমল। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে,
افضل العبادات يوم العيد عراقة دم القربان
অর্থ: “ঈদের দিন রক্ত প্রবাহিত করা সর্বশ্রেষ্ঠ আমল।” (তুহফাতুল আহওয়াযী শরহে জামিউত তিরমিযী ৪/১৪৫)
সুতরাং যার প্রতি কুরবানী ওয়াজিব হয়েছে এমন লোকের জন্য কুরবানী না করে এ টাকা ত্রাণহিসাবে দেয়া হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ আমল ত্যাগ করার নামান্তর। নাউযুবিল্লাহ! কোনোভাবেই পবিত্র কুরবানী বাদ দিয়ে এর টাকা কোথাও দান করা যাবে না। যেটা মহান আল্লাহ পাক উনার বিধান সেভাবেই করতে হবে। কেউ যদি দান করতে চায়, তবে পবিত্র কুরবানী উনার টাকা রেখে অন্য যে ফান্ড আছে সেখান থেকে দিতে হবে। এর অন্যথা করলে ঈমান থাকবে না। চরম কুফরী হবে। নাউযুবিল্লাহ!

সামর্থ্যবান হয়েও পবিত্র কুরবানী না করা আল্লাহ পাক উনার অসন্তুষ্টির কারণ।

সামর্থ্যবান হয়েও পবিত্র কুরবানী না করা আল্লাহ পাক উনার অসন্তুষ্টির কারণ।
__________________________________________

সামর্থ্যবান হওয়ার পরেও যে ব্যক্তি পবিত্র কুরবানী করবে না ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন-
من وجد سعة ولم يضح فلا يقربن مصلانا
অর্থ: “সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি পবিত্র কুরবানী করবে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটে না আসে।” (পবিত্র ইবনে মাজাহ শরীফ)
কাজেই, যে সমস্ত ব্যক্তিদের উপর পবিত্র কুরবানী ওয়াজিব, তাদের উচিত- পবিত্র ঈদুল আদ্বহা শরীফ উনার নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে পবিত্র ঈদগাহে গমনের পূর্বেই পবিত্র কুরবানী উনার পশু ক্রয় করা। আর সম্মানিত ঈদুল আদ্বহা শরীফ উনার নামায আদায়ের পর পশু কুরবানী করার মাধ্যমে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি মুবারক অর্জন করা।
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তিদেরকে পবিত্র কুরবানী করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি মুবারক অর্জন করার তাওফীক দান করুন। আমীন!

কথিত ‘লকডাউন’ ও ‘সীমিত পরিসর’ দ্বীন ইসলামসম্মত নয়।

কথিত ‘লকডাউন’ ও ‘সীমিত পরিসর’ দ্বীন ইসলামসম্মত নয়।
___________________________________________
সম্প্রতি করোনা ভাইরাস গযবে চীনসহ তাবৎ কাফির রাষ্ট্রে কোটি কোটি কাফির নিহত হয়েছে। এবং সে গযব থেকে বাঁচার জন্য তারা নিজ নিজ ঘর-বাড়িতে অবস্থানের জন্য লকডাউন ব্যবস্থা চালু করেছে। কিন্তু এতেও তারা স্বস্তি ও নিস্তার পায়নি। এখন কাফিরদের সাথে নামধারি মুসলমানদের বন্ধুত্ব, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চলাফেরা। তাই কাফিরদের প্রতি আপতিত গযবে মুসলমানরাও যাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেজন্য তাদের এজেন্টদের মাধ্যমে মুসলমানদের দেশেও করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার অপপ্রচার চালানো হয় এবং লকডাউন দিতে বাধ্য করে। 
কিন্তু অদ্যাবধি কোন মুসলমান করোনা গযবে আক্রান্ত হয়নি এবং আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও নেই। কারণ করোনা ভাইরাস হচ্ছে একটা খোদায়ী গযব। তা কোন মুসলমানের জন্য নয়। তা শুধুমাত্র কাফিরদের জন্যই নির্ধারিত। এরপরেও যদি দেখা যায়, মুসলমান নামধারী কোন ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে, তাহলে বুঝতে হবে উক্ত ব্যক্তি কাফিরদের গোলাম কিংবা বন্ধু ছিল। নাউযুবিল্লাহ! 
মূলকথা হচ্ছে, করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক ছড়িয়ে মুসলমান দেশে লকডাউন করে ব্যবসা-বাণিজ্য, দোকান-পাট, মসজিদ-মাদরাসা, স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত, হাসপাতাল-চিকিৎসা ইত্যাদি বন্ধ ও সীমিত করে দেয়া সম্পূর্ণ দ্বীন ইসলাম বিরোধি, নাজায়িয, হারাম ও কুফরী। মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِن فَضْلِ اللَّـهِ وَاذْكُرُوا اللَّـهَ كَثِيرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
অর্থ: আর যখন নামায সমাপ্ত হয় তখন তোমরা যমীনে ছড়িয়ে পড় এবং মহান আল্লাহ পাক উনার অনুগ্রহ তথা জীবিকা অন্বেষণ কর এবং (তাতেও) মহান আল্লাহ পাক উনাকে অধিক পরিমাণে স্মরণ কর। অবশ্যই তোমরা সফলতা লাভ করবে। (পবিত্র সূরা জুমুয়াহ শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ ১০)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
طَلَبُ كَسْبِ الْحَلاَلِ فَرِيضَةٌ بَعْدَ الْفَرِيضَةِ
অর্থ: অন্যান্য ফরয সমূহের পর হালাল কামাই বা উপার্জন করাও ফরয। (মিশকাত শরীফ, বাইহাক্বী শরীফ)
অর্থাৎ পুরুষদের জন্য ঈমান বা কলেমা, নামায, যাকাত, রোযা, হজ্জ ইত্যাদি ফরয সমূহের পর ৬ষ্ঠ ফরয হিসেবে হালাল রুজি বা উপার্জন করা ফরয। 
কাজেই, ব্যবসা বা চাকরী প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সবকিছু বন্ধ ও সীমিত করে লকডাউনের নামে বাসা-বাড়ি বা ঘর-বাড়িতে অবস্থান করতে বাধ্য করা মোটেও সম্মানিত দ্বীন ইসলাম সম্মত নয়। বরং তা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার সম্পূর্ণ খিলাফ ও কুফরী এবং কাফির ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ।

কুরবানীর পশুর হাট নিয়ে ষড়যন্ত্র চলবে না প্রতিটি মহল্লায় মহল্লায় কোরবানির পশুরহাট চাই

প্রত্যেক মহল্লায় মহল্লায়, কুরবানীর পশুর হাট ঢাই! গরুর হাট বাজার জারি থাক, অনলাইন চক্রান্ত নিপাত যাক।

একটা গল্প বলি-

একটা গল্প বলি-
এক চোর একটা মুরগী চুরি করে বাসায় এনে বউকে দিছে কুটতে। 
তো বউ মুরগী কুটতেছে। 
এমন সময় চোর বউকে জিজ্ঞেস করলো- “কি বউ মুরগী কুটতে এত দেরি লাগে কেন ?”
উত্তরে বউ বললো- “মুরগীর ভেতর কিছু হারাম জিনিস আছে, সেগুলো বের করতেছি, তাই দেরি লাগতেছে।”
তখন চোর বললো- আরে, এটা তো চুরির মুরগী। পুরা মুরগীটাই তো হারাম। সেখান থেকে হারাম জিনিস ফেলে দেয়ার দরকারটা কি ?

গত কয়েকদিনে রিজেন্ট হাসপাতালের সাহেদকে নিয়ে বিভিন্ন লাফঝাপ দেখে,
আমার শুধু এ গল্পটাই মনে পড়তেছে। 
কারণ- করোনা নিয়ে যা হইছে, তার পুরোটাই তো ভাওতাবাজি, এর মধ্যে শুধু (কয়েক হাজার জ্বাল সার্টিফিকেট দেয়া) সাহেদকে আলাদা করার মানেটা কি ?

ধরেন,
প্রথমে প্রচার করলো- করোনা এক বিশাল মহামারী। 
বাংলাদেশে দিনে নাকি ৫ লক্ষ লোক মারা যাবে। 
কিন্তু ৪ মাস থুয়ে ৫ মাস হইতে চললো, এখনও লক্ষ লক্ষ লাশের স্তুপ পড়লো না।
যে কয়জন মারা গেলো, এর মধ্যেও বেশিরভাগ হইলো বৃদ্ধ, কেউ হইলো ক্যান্সারের রোগী,
কেউ মারা গেছে হার্ট অ্যাটাকে, কেউ হাই ডায়বেটিকসে, কেউ এ্যাজমায়। 
কিন্তু শরীরে করোনা ভাইরাস পাওয়া মানে, সে ভাইরাসেই মারা গেছে,
সেখানে বার্ধক্য, ক্যান্সার আর হার্ট ফেইলর তো নস্যি।

এরপর প্রচার করলো-
“করোনায় কোটি কোটি লোক হাসপাতালে ভর্তি হবে যে যায়গা দেয়া যাবে না,
তাই আগত রোগীর সংখ্যা কমাতে লকডাউন দিতে হবে।”
এই যুক্তি দিয়ে ৬৫ দিন লকডাউন দিয়ে দেশের অর্থনীতির ১২টা বাজায় দিলো।
এখন ২ মাস হইতে চললো লকডাউন নাই, 
দৈনিক ৩-৪ হাজার করোনা শনাক্তও হইতেছে। 
তাহলে রোগী কোথায় ?
খবরে উল্টা দেখলাম- রোগীর অভাবে করোনা হাসপাতালই নাকি বন্ধ করে দিতেছে। (https://bit.ly/39ggrSc, https://bit.ly/32zbVN8)
দৈনিক ৩-৪ হাজার করোনা রোগী সনাক্ত হওয়ার পরও যদি রোগীর অভাবে হাসপাতাল বন্ধ করে দিতে হয়, তবে এটা কোন জাতের মহামারী ?

এরপর বললো-
করোনায় বাংলাদেশে নাকি ২ লক্ষ লোক শনাক্ত হইছে।
বাংলাদেশে নাকি ভয়ানক অবস্থা। 
কিন্তু এই ২ লক্ষ লোক আসলে কোথায় ?
পরে বের হইলো- এই ২ লক্ষের আসলে বাস্তব অস্তিত্ব নাই।
এর মধ্যে একজন শনাক্তকারীকে ২, ৩ বা ৪ বার করেও গোনা হইছে। 
মানে সে যতবার টেস্ট করছে, যতবার পজিটিভ হইছে, ততবার তাকে ১ জন করে কাউন্ট করা হইছে। 
তাহলে ২ লক্ষ করোনা শনাক্তের আসলেই কি অস্তিত্ব আছে ?
(https://bit.ly/3f15buU)

এরপর যারা করোনায় আক্রান্ত হইছে বা মারা গেছে, এগুলোরই বা সত্যতা কতটুকু ?
কারণ শুধু যে রিজেন্ট হাসপাতাল ও জেকেজি হেলথকেয়ার ভুয়া সার্টিফিকেট দিছে তা তো নয়,
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (https://bit.ly/3fJwIBA)
তেজগাওয়ে আইডিসিআর অনুমতিতে এনজিও ভুয়া সার্টিফিকেট দিছে। (https://bit.ly/3eIklnT) 
এরকম অনেকেই ভুয়া সার্টিফিকেট দিছে। আসলে কয়জন যে করোনায় আক্রান্ত তা নিয়েই তৈরী হইছে সন্দেহ। 
যেহেতু করোনা আক্রান্ত হলে বা মৃত্যু হলে সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারিদের জন্য মোটা অংকের অনুদান ঘোষনা করা হয়েছে, তাই দেখা গেছে বহু সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারি এই সার্কিফিকেট নিয়ে অনুদান খুজেছে। এক পুলিশেই আক্রান্ত দেখানো হয়েছে ১৩ হাজার। দুর্নীতিতে অভ্যস্ত পুলিশের অধিকাংশ যে ভুয়া করোনা রোগী নয়, তার গ্যারান্টি কি ?

কথা হইলো-
করোনা নিয়ে যত ঘটনা, আতঙ্ক, ভয়, ভীতি সবটাই হইলো ভুয়া,
সেই ভুয়ার খানিকটা শেয়ার নিয়ে লাভবান হইতে চাইছিলো সাহেদ।
 সে হিসেবে তার দোষ আসলে কতটুকু ?

আর তাকে যদি দোষ দিতেই হয়,
তবে করোনা নিয়ে যারা ভুয়া আতঙ্ক ছড়াইলো, 
হাসপাতালগুলো ডাক্তারশূণ্য করে হাজার হাজার রোগীকে হত্যা করলো,
লকডাউন দিয়ে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করলো,
তারা তো আরো বড় দোষী,
তাদের আরো আগে বিচার হওয়া উচিত।

৯৮% মুসলিমদের একটাই দাবি

৯৮%মুসলমান অধ্যুষিত বাংলাদেশে গান-বাজনা, ছবি, টিভি ভিডিও, বেপর্দা-বেহায়াপনা খেলাধুলা, গণতন্ত্র, নারী নেতৃত্ব, হরতাল, লংমার্চ সুদ-ঘুষ, নেশা, দাড়ি সেফ,প্যাণ্ট-শার্ট, কোট, টাই, বিধর্মীদের অনুসরন-অনুকরণসহ সর্বপ্রকার হারাম কাজ নিষিদ্ধ করা হোক!!

পবিত্র_ঈদুল_আদ্বহা_উনার_দিন_কুরবানী_করাই_সর্বশ্রেষ্ঠ_আমল

পবিত্র_ঈদুল_আদ্বহা_উনার_দিন_কুরবানী_করাই_সর্বশ্রেষ্ঠ_আমল 

বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যে দশ বছর অবস্থান মুবারক করেছেন। প্রতি বছরই পবিত্র কুরবানী করেছেন; কখনও তা ছাড়েননি এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাও পবিত্র কুরবানী করার ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ اَقَامَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْمَدِيْنَةِ عَشْرَ سِنِيْنَ يُضَحِّي.‏

অর্থ : “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যে দশ বছর অবস্থান মুবারক করেছেন এবং প্রতি বছরই পবিত্র কুরবানী করেছেন।” (তিরমিযী শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ১৫০৭)

পবিত্র কুরবানী না করে তার অর্থ দান করে দেয়ার বিধান সম্মানিত শরীয়ত উনার মধ্যে নেই। কেননা, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কিংবা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা কখনো এরূপ করেননি। অথচ উনাদের যুগেই এর জরুরত ছিল অধিক। বরং উনারা পবিত্র কুরবানী করেছেন এবং কুরবানীকৃত পশুর গোশত ও চামড়া অভাবগ্রস্তদের মধ্যে বণ্টন করতে বলেছেন।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- 

عَنْ حَضْرَتْ اُمِّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الثالثة الصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ مَا عَمِلَ اِبْنُ اٰدَم مِنْ عَمَلٍ يَوْمَ النَّحْرِ اَحَبُّ اِلٰى اللهِ مِنْ اِهْرَاقِ الدَّمِ وَاِنَّهُ لَيَأْتِىْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِقُرُوْنِـهَا وَاَشْعَارِهَا وَاَظْلَافِهَا وَاِنَّ الدَّمَ لَيَقَعُ مِنَ اللهِ بِـمَكَانِ قَبْلَ اَنْ يَّقَعَ بِالْاَرْضِ فَطِيْبُوْا بِـهَا نَفْسًا.

অর্থ : “উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, বান্দা-বান্দী বা উম্মত পবিত্র কুরবানী উনার দিন যেসব নেকীর কাজ করে থাকে তন্মধ্যে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় আমল হলো পবিত্র কুরবানী করা। ক্বিয়ামত দিবসে পবিত্র কুরবানী উনার পশু তার শিং, পশম ও খুরসহ উপস্থিত হবে এবং পবিত্র কুরবানী উনার পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার পূর্বেই তা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট পৌঁছে যায়। কাজেই আপনারা আনন্দচিত্তে পবিত্র কুরবানী করুন।” (তিরমিযী শরীফ ও ইবনে মাজাহ শরীফ)

এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَااُنْفِقَتِ الْوَرِقُ فِىْ شَىْءٍ اَحَبَّ اِلَى اللهِ مِنْ نَـحْرٍ يُنْحَرُ فِىْ يَوْمِ عِيْدٍ.
 
অর্থ : “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ঈদের দিন কুরবানী করার খাতে যে ব্যয় করা হয়, মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট উক্ত ব্যয়ের চেয়ে প্রিয় কোন খাত নেই।” (আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব : ২য় খ- : কিতাবুল ঈদাইনে ওয়াল উদ্বহিয়াহ : হাদীছ শরীফ নং ১৬৬৫; মু’জুমাল কবীর লিত ত্ববারানী : হাদীছ শরীফ নং ১০৭৩৫; জামিউছ ছগীর : হাদীছ শরীফ নং ৭৮৪৫; কানযুল উম্মাল : হাদীছ শরীফ নং ১২১৫৫; জামিউল জাওয়ামে : হাদীছ শরীফ নং ৫১৭; তাফসীরে ইবনে কাছীর : ৫ম খন্ড : হাদীছ শরীফ নং ৪২৬; সুনানে দারে কুতনী : ৫ম খ- : হাদীছ শরীফ নং ৪৭৫২; বায়হাক্বী : হাদীছ শরীফ নং ১৯৫৮৭; শু‘য়াবুল ঈমান : হাদীছ শরীফ নং ৬৯৫৩)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় বর্ণিত হয়েছে- 

اَفْضَلُ الْعِبَادَاتِ يَوْمُ الْعِيْدِ عِرَاقَةُ دَمِ الْقُرْبَاتِ

অর্থ : “ঈদের দিন রক্ত প্রবাহিত করা সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত।” সুবহানাল্লাহ! (তুহফাতুল আহওয়াজী)

কুরবানীর দিন কুরবানী করাই মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট প্রিয় আমল। আর তাই ফিক্বহের কিতাবে এসেছে-

شراء الاضحية بعشرة اولي من ان يتصدق بالف.

অর্থ : “কুরবানীর দিনে ১০ টাকা দিয়ে পশু খরিদ করে কুরবানী করা ১ হাজার টাকা ছদক্বা করা থেকে উত্তম।” (ফতওয়ায়ে আলমগীরী ৫ম খ- ৩৪৬ পৃষ্ঠা)
সুতরাং যারা কুরবানী না করে সেই টাকা গরীবদের দান করে দেয়ার কথা বলছে তাদের বিরুদ্ধে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হুশিয়ারী উচ্চারণ মুবারক করেন।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

   عَنْ حَضْرَتْ اَبِـي هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ وَجَدَ سَعَةً فَلَمْ يُضَحِّ فَلَا يَقْرَبَنَّ مُصَلَّانَا.

অর্থ : “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সামর্থ থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি কুরবানী করবেনা সে যেনো আমাদের ঈদগাহের নিকটে না আসে।” (মুসনাদে আহমদ শরীফ)

কুরবানীদাতা উনার ফযীলত

কুরবানীদাতা উনার ফযীলত

পবিত্র কুরবানী উনার ফযীলত সম্পর্কে বহু পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে।

ক) প্রত্যেক পশমের বিনিময়ে নেকী বা ছওয়াব দেয়া হবে : 

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে- 

عَنْ حَضْرَتْ زَيِدِ بْنِ اَرْقَمَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ اَصْحَابُ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ! مَا هذِهِ الْاَ ضَاحِىْ؟ قَالَ سُنَّةُ اَبِيْكُمْ اِبْرَاهِيْمَ عَلَيْهِ الـسَّلاَمُ قَالُوْا فَمَا لَنَـا فِيْهَا يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ بِكُلّ شَعْرَةٍ حَسَنَةٌ قَالُوْا فَالصُّوْفُ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ بِكُلِّ شَعْرَةٍ مِّنَ الصُّوْفِ حَسَنَةٌ.

অর্থ : “হযরত যায়িদ ইবনে আরকাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এই কুরবানী কি? তিনি জাওয়াবে ইরশাদ মুবারক করেন, আপনাদের পিতা হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সুন্নত। উনারা পূনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এতে আমাদের জন্য কি পরিমাণ নেকী রয়েছে? তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, পবিত্র কুরবানী উনার পশুর প্রতিটি পশমের পরিবর্তে একটি করে নেকী রয়েছে। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা আবার জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! পশমওয়ালা পশুর ক্ষেত্রে কি হুকুম? তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, পশমওয়ালা পশুর প্রত্যেকটি পশমের পরিবর্তেও একটি করে নেকী রয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! 

(মুসনাদে আহমদ শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ)

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...