Friday, February 11, 2022

হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি "নূরে মুজাসসাম" অর্থাৎ আপাদমস্তক নূরের সৃষ্টি কুরআন শরীফ উনার দলিল।

 হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি "নূরে মুজাসসাম" অর্থাৎ আপাদমস্তক নূরের সৃষ্টি কুরআন শরীফ উনার দলিল।



আলহামদুলিল্লাহ !আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের সকল অনুসারী সকলের জন্য পর্যাপ্ত দলীল সমৃদ্ধ বর্তমান এই নোট

যে দলীল গুলো ওহাবী/দেওবন্দী/

তাবলীগি/জামাতি/সালাফী সহ সকল বাতিল ফির্কার দাঁতভাঙ্গা জবাব হিসাবে কাজ করবে।

আজকে আমরা দেখতে পাই, এই সকল বাতিল ফির্কারা মুসলিম সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার জন্য কুরআন শরীফ এবং হাদীস শরীফের অপব্যাখ্যা করে বলে থাকে " নবীজী আমাদের মত মাটির মানুষ"।নাউযুবিল্লাহ !!

অথচ কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, তাফসীর, শরাহ, ইমাম মুস্তাহিদ উনাদের বক্তব্যে স্পষ্ট ভাবে জানা যায় হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন নূর, তিনি নূরে মুজাসসাম বা আপাদমস্তক নূর। আল্লাহ পাক সর্বপ্রথম উনার নূর মোবারক সৃষ্টি করেছেন।সুবহানাল

্লাহ্ !!

আমারা আমাদের এই ধারাবাহিক পোস্টে প্রথমে কুরআন শরীফ উনার আয়াত শরীফ এবং তাফসীর পরবর্তীতে হাদীস শরীফ এবং ইমাম মুস্তাহিদ উনাদের বক্তব্য পেশ করবো। ইনশাআল্লাহ!

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম "নূর" হওয়ার কুরআনী দালায়েলঃ

এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক কালামুল্লাহ শরীফ উনার ৫ নং সূরা মুবারকে ইরশাদ করেন-

ﻗﺪ ﺟﺎﺀﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ ﻭ ﻛﺘﺎﺏ ﻣﺒﻴﻦ

অর্থ: নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ হতে এক মহান "নূর" এবং একখানা সুস্পষ্ট কিতাব এসেছে।"

দলীল-

√ সূরা মায়েদা ১৫নং আয়াত শরীফ।

উল্লেখিত আয়াত শরীফে "নূর" শব্দ দ্বারা হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেই বুঝানো হয়েছে, যেহেতু তিনি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম।

এবার আসুন আমরা জগতবিখ্যাত ,অনুসরনীয় সকল মুফাসসিরিন ই কিরাম উনাদের বিশ্ববিখ্যাত এবং নির্ভরযোগ্য তাফসীর সমূহ হতে বর্ননিত আয়াত শরীফ এর "নূর" শব্দের তাফসির সমূহ উল্লেখ করি---

(১) এ প্রসঙ্গে বিখ্যাত সাহাবী রঈসুল মুফাসসিরীন,ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন-

ﻗﺪ ﺟﺎﺀﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ - ﻳﻌﻨﻲ ﻣﺤﻤﺪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ

অর্থ: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট " নূর" অর্থাৎ সাইয়্যিদুনা মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন।"

দলীল-

√ তাফসীরে ইবনে আব্বাস সূরা মায়েদা ১৫নং আয়াত শরীফের তাফসীর।

(২) ইমামুল আল্লাম,নাছিরুশ শরীয়ত, মুহিউস সুন্নাহ , আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইব্রাহীম বাগদাদী মারুফ বিল খাযেন রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

ﻗﺪ ﺟﺎﺀﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ - ﻳﻌﻨﻲ ﻣﺤﻤﺪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ

অর্থ : মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট "নূর" অর্থাৎ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন।"

দলীল-

√ তাফসিরে মায়ানিউত তানযীল ১ম খন্ড ৪৪৭ পৃষ্ঠা ।

(৩) ইমামুল জলীল,আল্লামা আবুল বারাকাত আব্দুল্লাহ ইবনে অহমদ মাহমূদ নাসাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন--

ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ - ﺍﻟﻨﻮﺭ ﻣﺤﻤﺪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻻﻧﻪ ﻳﻬﺘﺪﻱ ﺑﻪ ﻛﺎﻡ ﺳﻤﻲ ﺳﺮﺍﺟﺎ

অর্থ: আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে এক মহান নূর হচ্ছেন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম । কেননা উনার মাধ্যমেই মানুষ হিদায়েত পেয়ে থাকে। যেরূপ উনার নানকরন করা হয়েছে " সিরাজ" অর্থাৎ প্রদীপ।"

দলীল-

√ তাফসিরে মাদারিকুত তানযীল ১ম খন্ড ৪৫৭ পৃষ্ঠা।

(৪) ইমামুল মুফাসসিরিন, তাজুল মানত্বেকীন, আল্লামা ফখরুদ্দীন রাজী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

ﺍﻥ ﺍﻟﻤﺮﺍﺩ ﺑﺎﻟﻨﻮﺭ ﻣﺤﻤﺪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻭ ﺑﺎﻟﻜﺘﺎﺏ ﺍﻟﻘﺮﺍﻥ

অর্থ: নূর দ্বারা অর্থ হচ্ছে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং কিতাব দ্বারা উদ্দেশ্যে কুরআন শরীফ।"

দলীল-

√ তাফসীরে কবীর ১১ খন্ড ১৮৯ পৃষ্ঠা।

(৫) বিখ্যাত মুফাসসির আল্লামা আবূ মুহম্মদ হুসাইন ইবনে মাসুউদ ফাররাউল বাগবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

ﻗﺪ ﺟﺎﺀﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﺮﻭ - ﻳﻌﻨﻲ ﻣﺤﻤﺪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ

অর্থ: মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট "নূর" অর্থাৎ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন।"

দলীল-

√ তাফসীরে মায়ালিমুত তানযীল ২য় খন্ড ২৮ পৃষ্ঠা ।

(৬) ইমামুল কবীর, মুহাদ্দিসুশ শাহীর আল্লামা আবু জাফর মুহম্মদ ইবনে জারীর তাবারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

ﻗﺪ ﺟﺎﺀﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ - ﻳﻌﻨﻲ ﺑﺎﻧﻮﺭ ﻣﺤﻤﺪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ

অর্থ: উক্ত আয়াত শরীফে নূর দ্বারা হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বুঝানো হয়েছে। "

দলীল-

√ তাফসীরে জামিউল বয়ান (তাবারী) ৬ষ্ঠ খন্ড ১০৪ পৃষ্ঠা

(৭) আল্লামাতুল হিবর,হামিলুশ শরীয়ত ওয়াত ত্বরীকত,আলামুল হুদা,আল্লামা কাজী ছানাউল্লাহ পানীপথী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন--

ﻗﺪ ﺟﺎﺀﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ - ﻳﻌﻨﻲ ﻣﺤﻤﺪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ

অর্থ: তোমাদের নিকট মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে "নূর'" অর্থাৎ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন।"

দলীল-

√ তাফসীরে মাযহারী ৩য় খন্ড ৬৮ পৃষ্ঠা ।

(৮) ক্বাজিউল কুজাত,ইমাম আবূ সাউদ মুহম্মদ ইবনে মুহম্মদ ইমাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

ﻗﺪ ﺟﺎﺀﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ ....... ﺍﻟﻤﺮﺍﺩ ﺑﺎﻻﻭﻝ ﻫﻮ ﺍﻟﺮﺳﻞ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻭﺑﺎﻟﺜﺎﻧﻲ ﺍﻟﻘﺮﺍﻥ

অর্থ: বর্নিত আয়াত শরীফের প্রথম শব্দ "নূর" দ্বারা উদ্দেশ্যে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আর দ্বিতীয় শব্দ কিতাবে মুবীন দ্বারা উদ্দেশ্যে হলো কুরআন শরীফ।"

দলীল-

√ তাফসীরে আবী সাউদ ৩য় খন্ড ১৮ পৃষ্ঠা ।

(৯) ইমামুল মুফাসসিরীন,মুজাদ্দিদে জামান,হাফিজে হাদীস আল্লামা জালালুদ্দীন সূয়ুতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ - ﻫﻮ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻭﻛﺘﺎﺏ ﻗﺮﺍﻥ ﻣﺒﻴﻦ

অর্থ: এ আয়াত শরীফে "নূর" অর্থ হলো- হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম,আর কিতাব অর্থ কুরআন শরীফ।"

দলীল-

√ তাফসীরে জালালাইন ৯৭ পৃষ্ঠা

(১০) ইমাম আবুল ফারজ জামালুদ্দীন আব্দুর রহমান ইবনে আলী ইবনে মুহম্মদ জাওযী ক্বোরাঈশী বাগদাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

ﻗﻮﻟﻪ ﺗﻌﺎﻟﻲ - ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ - ﻗﺎﻝ ﻗﺘﺎﺩﺓ ﻳﻌﻨﻲ ﺑﺎﻧﻮﺭ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﻣﺤﻤﺪﺍ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻲ ﻭ ﺳﻠﻢ

অর্থ :(মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে নূর এসেছে) হযরত কাতাদাহ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নূর দ্বারা উদ্দেশ্যে হলো হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।"

দলীল-

√ তাফসীরে যাদুল মাসীর ২য় খন্ড ২৫৪ পৃষ্ঠা।

(১১) বিখ্যাত মুফাসসির আল্লামা আবু আব্দুল্লাহ মুহম্মদ ইবনে আহমদ আনছারী কুরতুবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

ﻗﺪ ﺟﺎﺀﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ - ﻗﻴﻞ ﻣﺤﻤﺪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻋﻦ ﺍﻟﺰﺟﺎﺝ

অর্থ: মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট "নূর" এসেছে, হযরত জুযাজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন।"

দলীল-

√ তাফসীরে জামে আহকামুল কুরআন ৬ষ্ঠ খন্ড ১১৮ পৃষ্ঠা।

(১২) খতেমুল মুহাক্কেকীন,মারজায়ে আহলিল ইরাক, মুফতীয়ে বাগদাদ, আল্লামা আবুল ফযল শিহাবউদ্দিন সাইয়্যিদ মাহমূদ আলূসী বাগদাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

ﻗﺪ ﺟﺎﺀﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ - ﻋﻈﻴﻢ ﻭﻫﻮ ﻧﻮﺭ ﺍﻻﻧﻮﺍﺭ ﻭﺍﻟﻨﺒﻲ ﺍﻟﻤﺨﺘﺎﺭ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ

অর্থ: নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে এক মহান "নূর" এসেছেন, আর তিনি হলেন নরুল আনওয়ার, নাবিয়্যিউল মুখতার, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।"

দলীল-

√ তাফসীরে রহুল মায়ানী ৬ষ্ঠ খন্ড ৯৭ পৃষ্ঠা ।

(১৩) ইমাম বুরহানুদ্দীন আবুল হাসান ইব্রাহীম ইবনে ওমর ফাক্বায়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ - ﺍﻱ ﻭﺍﺿﺢ ﺍﻟﻨﻮﺭﻳﺔ ﻭﻫﻮ ﻣﺤﻤﺪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺍﻟﺬﻱ ﻛﺸﻒ ﻇﻠﻤﺎﺕ ﺍﻟﺸﺮﻙ

অর্থ: মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট নূরের প্রকাশক এসেছেন,তিনি হলেন , হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। যিনি সন্দেহ আর শিরকের আঁধার দূর করবেন।"

দলীল-

√ তফসীরে নাযমুদ দুরার ২য় খন্ড ৪১৯ পৃষ্ঠা।

(১৪) আবুল হাসান আলী ইবনে মুহম্মদ ইবনে হাবীব মাওয়ারাদী বছরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

ﻗﺪ ﺟﺎﺀﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ - ﻣﺤﻤﺪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ

অর্থ: উক্ত আয়াত শরীফে বর্নিত নূর হচ্ছে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।"

দলীল-

√ তাফসীরে মাওয়ারেদী ২য় খন্ড ২২ পৃষ্ঠা।

(১৫)ইমামুল মুফাসসীরিন, হযরত ইসমাঈল হাক্কী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

ﻗﺪ ﺟﺎﺀﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ - ﻫﻮ ﺍﻟﺮﺳﻮﻝ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ

অর্থ: মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে নূর এসেছেন, উক্ত নূর হচ্ছে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ।"

দলীল-

√ তাফসীরে রূহুল বয়ান ২য় খন্ড ৩৬৯ পৃষ্ঠা।

এছাড়া পৃথিবীর সকল তাফসীরের গ্রন্থ সূরা মায়েদা শরীফের ১৫ নং আয়াতের তাফসীরে " নূর" দ্বারা হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বুঝানো হয়েছে ।

দলীল-

√ তাফসীরে গরায়েবুল কুরআন ৬ষ্ঠ খন্ড ৯৭ পৃষ্ঠা।

√ তাফসীরে ক্বাদেরী ১ম খন্ড ২০২ পৃষ্ঠা ।

√ তাফসীরে বায়জবী ২য় খন্ড ৯২ পৃষ্ঠা ।

√ হাশিয়ায়ে মুহিউদ্দীন শায়েখ যাদাহ ২য় খন্ড ১০৩ পৃষ্ঠা।

√ হাশিয়াতুশ শিহাব ৩য় খন্ড ২২৬ পৃষ্ঠা।

√ শরহুস শিফা লি মুল্লা আলী ক্বারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ১ম খন্ড ৪২ পৃষ্ঠা ।

√ তাফসীরে ফতহুল ক্বাদীর ২য় খন্ড ২৩ পৃষ্ঠা ।

√ তাফসীরে মাওয়াহেবুর রহমান ৩য় খন্ড ১০৯ পৃষ্ঠা ।

√ তাফসীরে দ্বিয়াউল কুরআন ১ম খন্ড ৪৫৩ পৃষ্ঠা ।

√ তাফসেরী কাসেমী ৩য় খন্ড ৮৪ পৃষ্ঠা ।

√ তাফসীরে মুদ্বিহুল কুরআন ১০২ পৃষ্ঠা ।

√ তাফসীরে মাজেদী ২৪৪ পৃষ্ঠা ।

√ তাফসীরে আলী হাসান ৩৪৯ পৃষ্ঠা ।

√ তাফসীরে তাহেরী ১ম খন্ড ৪৩৫ পৃষ্ঠা ।

ইত্যাদি তাফসীর ছাড়াও শতশত তাফসীরের কিতাবে এই অভিমত বর্ননা করা হয়েছে।

শুধুতাই নয়, দেওবন্দী দের মুরুব্বীরাও উক্ত আয়াতুল কারীমার "নূর" দ্বারা হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বুঝিয়েছে।

দেখুন, দেওবন্দী শিব্বীর আহমদ ওছমানী লিখেছে-

ﻗﺪ ﺟﺎﺀﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ - ﺷﺎﻳﺪ ﻧﻮﺭ ﺳﮯ ﺧﻮﺩ ﻧﺒﻲ ﻛﺮﻳﻢ ﻗﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻲ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺍﻭﺭ ﻛﺘﺎﺏ ﻣﺒﻴﻦ ﺳﮯ ﻗﺮﺍﻥ ﻛﺮﻳﻢ ﻣﺮﺍﺩ ﻫﮯ

অর্থ: আয়াত শরীফে নূর দ্বারা স্বয়ং হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং কিতাবে মুবীন দ্বারা কুরআন শরীফ উদ্দেশ্য।"

দলীল-

√ তাফসীরে ওছমানী ১৪২ পৃষ্ঠা ।

দেওবন্দী আহমদ সাঈদ দেহলবী তার তাফসীরে লিখেছে-

ﻗﺪ ﺟﺎﺀﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ - ﻧﻮﺭ ﺳﮯ ﻣﺮﺍﺩ ﻧﺒﻲ ﻛﺮﻳﻢ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻫﻴﯽ ﺍﻭﺭ ﮐﺘﺎﺏ ﺳﮯ ﻣﺮﺍﺩ ﻗﺮﺍﻥ ﻫﮯ

অর্থ: বর্নিত আয়াত শরীফে "নূর" দ্বারা উদ্দেশ্য হলো হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আর কিতাব দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কুরআন শরীফ।"

দলীল-

√ কাশফুর রহমান ১৭৫ পৃষ্ঠা ।

মাওলানা নঈম উদ্দীন দেওবন্দী লিখেছে-

" নূর অর্থাৎ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন, আর কিতাব দ্বারা কুরআন শরীফ এসেছে।"

দলীল,-

√ তাফসীরে কামালাইন ১ম খন্ড ৪৪ পৃষ্ঠা ।

বাংলাদেশের দেওবন্দী মৌলবী মুহম্মদ আমীনুল ইসলাম লিখেছে-

" নূর অর্থ নূরে মুহম্মদী তথা হযরত রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরা কিতাব তথা পবিত্র কুরআন শরীফ।"

দলীল-

√ তাফসীরে নুরুল কোরআন ৬ষ্ঠ খন্ড ১৬৭ পৃষ্ঠা ।

সূতরাং সূরা মায়েদা ১৫ নং আয়াত শরীফে বর্নিত "নূর" দ্বারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বুঝানো হয়েছে । যা বিখ্যাত এবং নির্ভরযোগ্য তাফসীরের কিতাব থেকে প্রমানিত হলো।

সুবহানাল্লাহ্ "!!!

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নূরে মুজাসসাম তথা আপাদমস্তক নূরের তৈরী প্রসঙ্গে সূরা মায়িদার ১৫ নং আয়াতের তাহক্বীক

“সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম যে “নূর” তার প্রমাণস্বরূপ সূরা মায়েদায় বর্ণিত-

‏( ﻗﺪﺟﺎﺀ ﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ )

“অর্থাৎ তোমাদের নিকট মহান আল্লাহপাক -এর তরফ থেকে নূর বা মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন।”

এ আয়াত শরীফ ও তার ব্যাখ্যায় নির্ভরযোগ্য ও অনুসরণীয় তাফসীর ও অন্যান্য তাফসীর সহ প্রায় ৩৩ টি বরাত উল্লেখ করা হয়েছে আগের পর্বে।যার অধিকাংশগুলোতেই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নূর বলা হয়েছে।

তবে কেউ কেউ আয়াত শরীফে বর্ণিত “নূর” শব্দ দ্বারা “দ্বীনইসলাম” ও “কোরআন শরীফ কে ও” বুঝিয়েছেন।এখন প্রশ্ন হলো- হযরত মুফাস্সিরীন-ই-কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম গণ ‘নূর’ শব্দের ব্যাখ্যায় যে ইখতিলাফ বা মতভেদ করেছেন,তার সঠিক ফায়সালা কি?

অর্থাৎ “নূর” অর্থ মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, দ্বীন ইসলাম ও কোরআন শরীফ এ তিনটি মতের মধ্যে কোন মতটি অধিক সহীহ্, গ্রহণযোগ্য ও প্রাধান্যপ্রাপ্ত?

মূলতঃ উল্লিখিত তিনটি মতের মধ্যে প্রথম মত অর্থাৎ আয়াত শরীফে বর্ণিত ‘নূর’হলেন “সাইয়্যিদুল মুরসালীন ,ইমামুল মুরসালীন,হুজুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।এ মতটিই সমধিক সহীহ্, গ্রহণযোগ্য ও প্রাধান্যপ্রাপ্ত। কারণ এটা অধিকাংশ মুফাস্সিরীন-ই-কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম গণ উনাদের অভিমত।

যেমন- এপ্রসঙ্গে ইমামুল মুফাস্সিরীন, তাজুল মানতেক্বীন আল্লামা ফখরুদ্দীন রাজী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার “তাফসীরে কাবীর- ১১জিল্দ ১৮৯ পৃষ্ঠায় লিখেন,

ﻭﻓﻴﻪ ﺍﻗﻮﺍﻝ ‏( ﺍﻻﻭﻝ ‏) ﺍﻥ ﺍﻟﻤﺮﺍﺩ ﺑﺎﻟﻨﻮﺭ ﻣﺤﻤﺪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭﺑﺎﻟﻜﺘﺎﺏ ﺍﻟﻘﺮﺍﻥ

‏( ﺍﻟﺜﺎﻧﻰ ‏) ﺍﻥ ﺍﻟﻤﺮﺍﺩ ﺑﺎﻟﻨﻮﺭ ﺍﻻﺳﻼﻡ ﻭﺑﺎﻟﻜﺘﺎﺏ ﺍﻟﻘﺮﺍﻥ ‏( ﺍﻟﺜﺎﻟﺚ ‏) ﺍﻟﻨﻮﺭ ﻭﺍﻟﻜﺘﺎﺏ ﻫﻮ ﺍﻟﻘﺮﺍﻥ ﻭﻫﺬﺍ ﺿﻌﻴﻒ ﻻﻥ ﺍﻟﻌﻄﻒ ﻳﻮﺟﺐ ﺍﻟﻤﻐﺎﺋﺮﺓ .

অর্থঃ- “আয়াত শরীফে বর্ণিত ‘নূর’ শব্দের ব্যাপারে একাধিক মত রয়েছে-

(১) ‘নূর’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং ‘কিতাব’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো- কোরআনশরীফ।

(২) ‘নূর’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো- ইসলাম এবং ‘কিতাব’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো- কোরআন শরীফ।

(৩) ‘নূর এবং কিতাব’ উভয়ের দ্বারাই কেরাআন শরীফ উদ্দেশ্য, তবে এমতটি জঈফ বা দুর্বল।কেননা ব্যাকরণমতে এবং অব্যয়পদটি দু’টি পৃথকবস্তুকে বুঝাতেই ব্যবহৃত হয়।”

এপ্রসঙ্গে ফখরুল আল্লামা মাওলানা আমীর আলী সাহেব উনার “তাফসীরে মাওয়াহেবু ররহমান” ৩য় জিঃ ১০৯ পৃষ্ঠায় লিখেন,

অর্থঃ- “বর্ণিত আয়াত শরীফে ‘নুর’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।এ ব্যাখ্যাই সবচেয়ে শক্তিশালী বা মজবুত ও রাজেহ্ অর্থাৎ প্রাধান্যপ্রাপ্ত।আয়াতাংশের অর্থহলো- মহান আল্লাহপাক উনার পক্ষ হতে তোমাদের নিকট‘নুর’ অর্থাৎ আখেরী নবী ‘মুহম্মদ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন। আর কিতাবে মুবীন অর্থাৎ প্রকাশ্য কোরআন শরীফ এসেছে।”

অনুরূপ পীর করমশাহ আল আযহারী “তাফসীরে জিয়াউল কোরআন” ১ম জিঃ ৪৫৩ পৃষ্ঠায় লিখেন,

অর্থঃ- “বর্ণিত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমামুল মুফাস্সিরীন হযরত ইবনে জরীর রহমাতুল্লাহি আলাইহি লিখেন, ‘নুর’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।যদ্বারা আল্লাহপাক সত্যকে আলোকিত করবেন। ......... যখন আল্লাহপাক স্বয়ং নিজেই উনার হাবীব পাক উনাকে ‘নুর’ বলে সম্বোধন করেছেন, তখন আপত্তি কিসের? আর কিতাবে মুবীন দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কুরআন শরীফ।‘নূর’ দ্বারা কুরআন শরীফকে বুঝানো হয়েছে একথা সঠিক নয়।কেননা ওয়ায়েআতেফা ভিন্নতা বা তাগায়ূর-এর জন্যেই ব্যবহৃত হয়।”

উপরোক্ত বিস্তারিত আলোচনা দ্বারা এটাই প্রমাণিত হলোযে, সূরা মায়েদায় বর্ণিত‘নূর’ শব্দের ব্যাখ্যায় মুফাস্সিরীন-ই-কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম গণ যে ইখতিলাফ বা মতভেদ করেছেন তন্মেধ্যে ‘নূর’ হলেন- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।অধিকাংশ মুফাস্সিরীন-ই-কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম গণ উনাদের এমতটিই সবচেয়ে অধিকসহীহ্, গ্রহণযোগ্য, প্রাধান্যপ্রাপ্ত ও শক্তিশালী।

আয়াত শরীফে বর্ণিত ‘নূর’ শব্দ দ্বারা যারা ‘মুহম্মদ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীকার করেনা তাদের বক্তব্য ও যুক্তিখন্ডন

উল্লেখ্য, বর্ণিত আয়াত শরীফের “নূর” শব্দ দ্বারা যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বুঝানো হয়েছে, তা অসংখ্য বিশ্বখ্যাত ও নির্ভরযোগ্য তাফসীরের কিতাবসমূহে উল্লেখথাকাসত্ত্বেও এবং অধিকাংশ মুফাস্সিরীন-ই-কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম গণ উনাদের এমতটি অন্যান্য মত থেকে সমধিকসহীহ্, প্রাধান্যপ্রাপ্ত ও শক্তিশালী ছাবেত হওয়ার পরও কেউ কেউ দু’একটি দলীল ও কতিপয় আজগুবী যুক্তি পেশ করে বলে থাকে যে,বর্ণিত আয়াত শরীফে ‘নূর’ শব্দ দ্বারা ‘মুহম্মদ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বুঝানো হয়নি। বরং‘কোরআন শরীফকে’ বুঝানো হয়েছে। আর এরূপ ব্যাখ্যার মূলপ্রবক্তা হলো- আবু আলী জুবাঈ ও কাশশাফ প্রণেতা যমখশরী।

যেমন এপ্রসঙ্গে আল্লামা আলুসী বাগদাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার তাফসীরে রুহুল মায়ানীতে লিখেন,

ﻭﻗﺎﻝ ﺍﺑﻮ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺠﺒﺎﺋﻰ ﻋﻨﻰ ﺑﺎﻟﻨﻮﺭ ﺍﻟﻘﺮﺍﻥ ﻟﻜﺸﻔﻪ ﻭﺍﻇﻬﺎﺭﻩ ﻃﺮﻕ ﺍﻟﻬﺪﻯ ﻭﺍﻟﻴﻘﻴﻦ ﻭﺍﻗﺘﺼﺮ ﻋﻠﻰ ﺫﺍﻟﻚ ﺍﻟﺰﻣﺨﺸﺮﻯ .

অর্থঃ-“আবূ আলী জুবাঈ বলেন, আয়াতে বর্ণিত ‘নূর’ শব্দদ্বারা উদ্দেশ্য হলো কুরআন শরীফ। কেননা কোরআন শরীফ হলো বস্তুর স্বরূপ উম্মোচনকারী ও হিদায়েতের পথপ্রকাশকারী। কাশ্শাফপ্রনেতা যমখশরীও উক্ত আয়াত শরীফেরএরূপতাফসীরকরেছেন।”

আবূ আলী জুবাঈ ও যমখশরীর এ তাফসীরকে পূঁজিকরে পরবর্তী কেউ কেউ আয়াতে বর্ণিত ‘নূর’ দ্বারা কোরআন শরীফ মুরাদ নিয়েছেন। অতএব, প্রমাণিত হলো যে, ‘নূর’ শব্দের অর্থ কুরআন শরীফ এ অভিমত মূলতঃ আবূ আলী জুবাঈ ও আল্লামা যমখশরীর। অথচ আবূ আলী জুবাঈ ও আল্লামা যমখশরীর সকল অভিমত আমাদের নিকট গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা আবূ আলী জুবাঈ ও আল্লাম যমখশরী তারা উভয়েই ছিলেন বাতিল ও জাহান্নামী ফেরক্বা মু’তাযিলা আক্বীদায় বিশ্বাসী।

যেমন এ প্রসঙ্গে আক্বাইদের বিখ্যাত কিতাব আক্বাইদে নাসাফী-এর শরাহ নিবরাস কিতাবের ২৮-২৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

ﻭﻛﺎﻥ ﺻﺎﺣﺐ ﺍﻟﻜﺸﺎﻑ ﻳﻜﻨﻰ ﻧﻔﺴﻪ ﺍﺑﺎﻟﻤﻌﺘﻮﻟﻪ ﺍﺑﻮ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺠﺒﺎﺋﻰ ........... ﺍﻟﺦ .

অর্থাৎ “আবূ আলী জুবাঈ ও যমখশরী উভয়েই বাতিল মাযহাব মু’তাযিলাহ ফেরক্বার অনুসারী ছিল।”সুতরাং এব্যাপারে আল্লামা যমখশরী ও আবু আলী জুবাঈ-এর বক্তব্য মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।

‘নূর’ বিরোধীরা এব্যাপারে যেসকল ভ্রান্তিমূলক যুক্তি ও বক্তব্য পেশ করে থাকে, নিম্নে নির্ভরযোগ্য দলীলের ভিত্তিতে তাখন্ডন করা হলো-

‘নূর বিরোধীদের ভ্রান্তিমূলক প্রথমযুক্তি ও তা খন্ডন:

উল্লেখ্য,আল্লামা আবূ আলী জুবাঈ ও যমখশরীর মতকে পূঁজি করে যারা আয়াত শরীফে বর্ণিত ‘নূর’ শব্দ দ্বারা কোরআন শরীফ মুরাদ নিয়েছেন, তাদের একটি ভ্রান্তিমূলক বক্তব্য হলো- আয়াত শরীফে বর্ণিত ‘নূর’ ও কিতাব একই বস্তু অর্থাৎ ‘নূর’ দ্বারাও উদ্দেশ্য হলো কোরআন শরীফ।কারণ " ﻧﻮﺭ ﻭﻛﺘﺎﺏ ﻣﺒﻴﻦ " -এরমধ্যখানেযে ( ﻭ) রয়েছে, তাওয়ায়ে তাফসীরী অর্থাৎ তাফসীর বা ব্যাখ্যা করার জন্য এসেছে অর্থাৎ ‘নূর ও কিতাব’ একই বস্তু।

অথচ তাদের এবক্তব্য সম্পূর্ণই অশুদ্ধ ও অবান্তর। যেমন-তাদের এভ্রান্তিমূলক বক্তব্যের জবাবে রঈসুল মুহাদ্দিসীন, হযরত মোল্লা আলী ক্বারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার বিখ্যাত কিতাব শরহুশ শিফার ১মখন্ড ৪২ পৃষ্ঠায় লিখেন,

ﻗﺪ ﺟﺎﺀ ﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ - ﺍﻯ ﻟﻈﻬﻮﺭ ﺍﻟﺤﻖ ﻭﺍﺑﻄﺎﻝ ﺍﻟﺒﺎﻃﻞ ﻭﺍﻃﻠﻖ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺼﻠﻮﺍﺓ ﻭﺍﻟﺴﻼﻡ ﻻﻧﻪ ﻳﻬﺘﺪﻯ ﺑﻪ ﻣﻦ ﺍﻟﻈﻠﻤﺎﺕ ﺍﻟﻰ ﺍﻟﻨﻮﺭ ‏( ﻛﺘﺎﺏ ﻣﺒﻴﻦ ‏) ﺑﻴﻦ ﺍﻻﻋﺠﺎﺯ ﻭﺑﻴﻦ ﺍﻻﺣﻜﺎﻡ ﻭﻫﺬﺍ ﺷﺎﻫﺪ ﻟﻠﻤﺪﻋﻰ ﺍﻻﻭﻝ ﺑﻴﺎﻧﻪ ﺍﻥ ﺍﻻﺻﻞ ﻓﻰ ﺍﻟﻌﻄﻒ ﺍﻟﻤﻐﺎﺋﺮﺓ .

অর্থঃ- “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহপাক উনার পক্ষ হতে তোমাদের নিকট এক মহান ‘নূর’ সত্যের প্রকাশ ও মিথ্যাকে দূরিভূত করার জন্য তাশরীফ এনেছেন। আয়াত শরীফে বর্ণিত ‘নূর’ শব্দটি দ্বারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেই বুঝানো হয়েছে। কেননা উনার কারণে গোমরাহী থেকে হিদায়েতের পথে আসা যায়, “এবং সুস্পষ্ট কিতাব” অর্থাৎ মহান আল্লাহপাক উনার কালাম হওয়ার এক প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ এবং খোদায়ী কানুনের প্রকাশ্য দলীল হয়ে এক সুস্পষ্ট কিতাব এসেছে। আর এটাই মূলতঃ প্রথমদাবী অর্থাৎ ‘নূর’ দ্বারা যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বুঝানো হয়েছে, এটাই তার সুস্পষ্ট প্রমাণ।

আর তা হচ্ছে- আরবী কাওয়ায়েদ অনুযায়ী “হুরুফে আতেফা” এর প্রকৃতি ও স্বভাবই হলো " ﻣﻐﺎﺋﺮﺓ " অর্থাৎ (মাতূফ ও মাতূফ আলাইহি) দু’টি পৃথক বস্তুকে চাওয়া।” তাছাড়া ও যারা ( ﻭ ) ওয়াও কে তাফসীরের অর্থে গ্রহণ করে বলে থাকে যে, নূর ও কিতাব একই বস্তু অর্থাৎ কোরআন শরীফ।তবে আমরাও ( ﻭ) ওয়াও কে তাফসীরের অর্থেগ্রহণ করে বলবো যে, ‘‘নূর ও কিতাব একই বস্তু অর্থাৎ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুরপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” আর এ বক্তব্যের প্রতি পরিপূর্ণ সমর্থন রয়েছে- রঈসুল মুহাদ্দিসীন, হযরত মোল্লা আলী ক্বারী রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনার।

তিনি বলেন,

ﻭﻗﺪ ﺣﺎﻝ ﺑﻌﺾ ﺍﻟﻤﻔﺴﺮﻳﻦ ﺑﺎﻧﻪ ﻣﻦ ﺑﺎﺏ ﺍﻟﺠﻤﻊ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﻮﺻﻔﻴﻦ ﺑﺎﻋﺘﺒﺎﺭ ﺗﻐﺎﺋﺮ ﻫﻤﺎ ﺍﻟﻠﻔﻈﻰ ﻭﺍﻥ ﺍﻟﻤﺮﺍﺩ ﺑﻬﻤﺎ ﺍﻟﻘﺮﺍﻥ ﻭﻗﺪ ﻗﺎﻝ ﻓﻰ ﻣﻘﺎﺑﻠﻬﻢ ﻭﺍﻯ ﻣﺎﻧﻊ ﺍﻥ ﻳﺠﻌﻞ ﺍﻟﻨﻌﺘﺎﻥ ﻟﻠﺮﺳﻮﻝ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﺎﻧﻪ ﻧﻮﺭ ﻋﻈﻴﻢ ﻟﻜﻤﺎﻝ ﻇﻬﺮﺭﻩ ﺑﻴﻦ ﺍﻻﻧﻮﺍﺭ ﻭﻛﺘﺎﺏ ﻣﺒﻴﻦ ﻭﻣﻦ ﺣﻴﺚ ﺍﻧﻪ ﺟﺎﻣﻊ ﻟﺠﻤﻴﻊ ﺍﻻﺳﺮﺍﺭ ﻭﻣﻈﻬﺮ ﻟﻼﺣﻜﺎﻡ ﻭﺍﻻﺣﻮﺍﻝ ﻭﺍﻻﺧﺒﺎﺭ .

অর্থঃ- ‘কোন কোন মোফাস্সির (যেমন-আবূআলীজুবাঈ ও কাশ্শাফ লেখক যমখশরী) " ﻧﻮﺭ ﻭﻛﺘﺎﺏ ﻣﺒﻴﻦ " -কে ( ﺗﻐﺎﺋﺮ ﺍﻟﻔﻈﻰ ) অর্থাৎ শুধুমাত্র শাব্দিক পৃথক হওয়াই যথেষ্ট হিসেবে ‘নূর ও কিতাবে মুবীন’ উভয় শব্দদ্বারা‘ কোরআন’ অর্থ করেছেন।তাদের এবক্তব্যের জবাবে বলতে হয় যে, একই নিয়মে উভয় শব্দ অর্থাৎ ‘নূর ও কিতাব’ দ্বারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বুঝাতে বাঁধা কিসের? কারণ, সৃষ্টিতে তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ ‘নূর’।কেননা তামাম নূরের মধ্যে উনার নূরই পূর্ণ সুস্পষ্ট।আর কিতাবে মুবীন ও তাঁরই ছিফাত ও বিশেষণ। কারণ তিনি মহান আল্লাহ্পাক-এর যাবতীয় রহস্যের ভান্ডার ও যাবতীয় কানুনে ইলাহিয়ার প্রকাশক ও তিনি সমগ্র মাখলুকাতের সামনে মহান আল্লাহ্পাক-এর জাত ও ছিফতের পরিচয়দাতা।”

তাফসীরে রুহুল মায়ানীর লেখক-আল্লামা মাহমুদ আলুসী বাগদাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ও উক্ত আয়াত শরীফের তাফসীরে এরূপ অভিমত ব্যক্ত করেছেন।অতএব প্রমাণিত হলো যে, ( ﻭ) ওয়াও কে তাফসীরের অর্থে গ্রহণ করে ‘নূর’ ও‘ কিতাব’ একই বস্তু অর্থাৎ কোরআন শরীফ মুরাদ নেয়া শুদ্ধ নয়।বরংকাওয়ায়েদমোতাবেক‘নূর’দ্বা

রাউদ্দেশ্যহলো- সাইয়্যিদুলমুরসা

লীন, ইমামুলমুরসালীন, হুজুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।আর ‘কিতাব’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো- কোরআন শরীফ।আর যদি ওয়াও কে তাফসীর হিসেবেই ধরা হয়, তবে ‘নূর ও কিতাব’ উভয়শব্দ দ্বারাই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদ্দেশ্য।

‘নূর’ বিরোধীদের ভ্রান্তিমূলক দ্বিতীয় যুক্তি ও তা খন্ডন

স্মর্তব্যযে, যারা সূরা মায়েদায় বর্ণিত ‘নূর’ শব্দ দ্বারা কোরআন শরীফ মুরাদ নিয়েছে বা কোরআন শরীফকে বুঝিয়েছে, তাদের আরেকটি খোঁড়া যুক্তি হলো- ‘নূর’ সম্পর্কিত আয়াতের শুরুতে এরশাদ হয়েছে-

ﻗﺪ ﺟﺎﺀ ﻛﻢ ﺭﺳﻮﻟﻨﺎ

অর্থঃ- “তোমাদের নিকট আমার রসূল এসেছেন।” অর্থাৎ এআয়াতে প্রথমেই রসূলের কথা বলে দেয়া হয়েছে, তাই আয়াতের শেষাংশ অর্থাৎ ﺟﺎﺀ ﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ দ্বারা রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদ্দেশ্য নয়।”

অথচ তাদের এবক্তব্যটিও সম্পূর্ণই মনগড়া ও অজ্ঞতামূলক।কারণ এ আয়াতের প্রথমাংশেও ( ﺟﺎﺀ ) ফে’ল বা ক্রিয়াপদ এসেছে এবং শেষাংশেও ( ﺟﺎﺀ ) ফে’ল বা ক্রিয়াপদ এসেছে।সুতরাং ( ﺟﺎﺀ ) ফে’লের ( ﻓﺎﻋﻞ ) বা কর্তা উভয়স্থলে এক হওয়াই অধিকযুক্তিযুক্ত।

যেমন এপ্রসঙ্গে দেওবন্দীদের অগ্রণী আশরাফ আলী থানবী সাহেব তার রেসালায়ে নূর’ কিতাবের ৩১ পৃষ্ঠায় লিখেছেন-

" ﻗﺪ ﺟﺎﺀ ﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ ﻭﻛﺘﺎﺏ ﻣﺒﻴﻦ "

এ আয়াতের একটি তাফসীর বা ব্যাখ্যা হলো, আয়াত শরীফে বর্ণিত ‘নূর’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।কারণ আয়াতের শুরুতেও ﻗﺪ ﺟﺎﺀ ﻛﻢ ﺭﺳﻮﻟﻨﺎ বলা হয়েছে।অতএব ( ﺟﺎﺀ ) ফে’লের ( ﻓﺎﻋﻞ ) বা কর্তা উভয়স্থলে এক হওয়াই যুক্তিযুক্ত।সুতরাং যদি তাই হয়ে থাকে, তবে একথা কিকরে গ্রহণযোগ্য হতে পারেযে, ‘নূর’ দ্বারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বুঝানো হয়নি?

মূলতঃ সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিতহলোযে, যারা ( ﺭﺳﻮﻟﻨﺎ ) শব্দের উপর ভিত্তি করে বলে থাকে যে, নূর দ্বারা কোরআন শরীফকে বুঝানো হয়েছে, তাদের সে বক্তব্য সম্পূর্ণই ভুলওমনগড়া।

‘ নূর’ বিরোধীদের ভ্রান্তিমূলক তৃতীয় যুক্তি ও তা খন্ডনঃ

স্মরণযোগ্য যে, যারা সূরা মায়েদায় বর্ণিত‘নূর’শব্দ দ্বারা ‘মুহম্মদ’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীকার করেনা, তাদের আরেকটি যুক্তি এইযে ﺟﺎﺀ ﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ এআয়াতাংশের পরেই এরশাদ হয়েছে যে, ﻳﻬﺪﻯ ﺑﻪ ﺍﻟﻠﻪ অর্থাৎ এঅংশে ( ﺑﻪ ) –এর জমীর বা সর্বনাম যেহেতু ( ﻭﺍﺣﺪ ) বা একবচনএসেছে, সেহেতু বুঝা যাচ্ছে যে, ‘নূর’ এবং “কিতাবে মুবীন” দ্বারা দু’টি পৃথক বস্তুকে বুঝানো হয়নি।বরং একটি বস্তুই বুঝানো হয়েছে,আর তা হচ্ছে- কোরআন শরীফ।

তাদের এযুক্তিটিও নেহায়েতই জেহালতপূর্ণ।শুধু তাই নয়, তাদের এবক্তব্য কোরআন-হাদীস সম্পর্কিত ইল্মের স্বল্পতারই বহিঃপ্রকাশ।কারণ কোরআন –হাদীস ও আরবী ভাষা সম্পর্কে স্বল্পঅভিজ্ঞ ব্যক্তি ও জানে যে, উদ্দেশ্য ও গুণাগুণের ঐক্যের ভিত্তিতে পবিত্র কোরআন শরীফের বহুস্থানে একের অধিক বস্তুর জন্যে একটিমাত্র জমীর বা সর্বনাম ব্যবহৃত হয়েছে।

যেমন মহান আল্লাহ্পাক পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে মুনাফিকদের স্বভাব বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন-

ﻳﺤﻠﻔﻮﻥ ﺑﺎﻟﻠﻪ ﻟﻜﻢ ﻟﻴﺮﺿﻮﻛﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺭﺳﻮﻟﻪ ﺍﺣﻖ ﺍﻥ ﻳﺮﺿﻮﻩ .

অর্থাৎ “তারা (মুনাফিকরা) তাদেরকে সন্তুষ্টি করার জন্যে মিথ্যা শপথ করে।অথচ আল্লাহ্পাক ও উনার রাসূলই সন্তুষ্ট পাওয়ার সমধিক উপযুক্ত।”

এআয়াত শরীফের প্রথমে বলা হয়েছে- ﻭﺍﻟﻠﻪ ﻭﺭﺳﻮﻟﻪ ) অর্থাৎ আল্লাহ্ ও রসূল এই দুই পৃথকসত্ত্বার উল্লেখ রয়েছে, আর পরবর্তীতে বলা হয়েছে- ( ﺍﻥ ﻳﺮﺿﻮﻩ ) অর্থাৎ এখানে জমীর বা সর্বনাম ( ﻭﺍﺣﺪ ) বা একবচন আনা হয়েছে।অথচ এখানে সর্বনাম দ্বিবচন হওয়া উচিত ছিল।কারণ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল, হুজুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উভয়েই সন্তুষ্টি পাওয়ার উপযুক্ত।

যেহেতু সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সন্তুষ্টিই মহান আল্লাহ্পাক উনার সন্তুষ্টি, তাই জমীর বা সর্বনামকে একবচন আনা হয়েছে। সুতরাং সর্বনামকে দ্বিবচন ব্যবহার না করে একবচন ব্যবহার করার এরচেয়ে উৎকৃষ্ট প্রমাণ আরকি হতে পারে?

অনুরূপ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও কুরআন শরীফ যদিও দু’টি পৃথক বস্তু কিন্তু উভয়ের উদ্দেশ্য বা গুণাগুণ যেহেতু এক, তাই জমীর বা সর্বনাম দ্বিবচন না এনে একবচন আনা হয়েছে।কেননা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অনুসরণ করার অর্থই হলো কুরআন শরীফকে অনুসরণ করা।

কারণ কোরআন শরীফের বাস্তব নমুনাই হলেন- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।যেমন এপ্রসঙ্গে কিতাবে উল্লেখ আছে যে, একবার কতিপয় সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা আলাইহাস সালাম উনার দরবার শরীফে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, “হে উম্মুল মু’মিনীন! আল্লাহ পাক উনার রসূল, হুজুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চরিত্র মোবারক কিরূপ?” জবাবে উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা আলাইহাস সালাম বলেন, “হে সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহুতা

য়াল আনহুম! আপনারা কি কুরআন শরীফ পাঠ করেননি? কারণ " ﻛﺎﻥ ﺧﻠﻘﻪ ﺍﻟﻘﺮﺍﻥ " কুরআন শরীফই আল্লাহ পাক উনার রাসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চরিত্র মুবারক।”

অর্থাৎ কুরআন শরীফের বাস্তব ও পূর্ণাঙ্গ নমুনাই হচ্ছেন- আল্লাহপাক উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।তাই জমীর বা সর্বনামকে একবচন আনা হয়েছে।

“জমীর বা সর্বনাম একবচন আনার কারণ সম্পর্কে মুফাসসিরীনে কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহি গণেরঅভিমত।”

উল্লেখ্য,প্রায়সকল মুফাস্সিরীন-ই-ক

িরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম গণই একমত যে, উদ্দেশ্য, গুণাগুণ ও হুকুমের উপর ভিত্তি করেই মূলতঃ ( ﺑﻪ )-এর জমীর বা সর্বনাম একবচন আনা হয়েছে।

যেমন এক্ষেত্রে জমীর বা সর্বনাম একবচন আনার কারণ সম্পর্কে ইমামুল আইম্মাতিল মুসলিমীন ক্বাজী নাছীরুদ্দীন আব্দুল্লাহ্ ইবনে ওমর বায়জবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার বিখ্যাত তাফসীর “তাফসীরে বায়জবীতে” উল্লেখ করেছেন-

‏( ﻳﻬﺪﻯ ﺑﻪ ﺍﻟﻠﻪ ‏) ﻭﺣﺪ ﺍﻟﻀﻤﻴﺮ ﻻﻥ ﺍﻟﻤﺮﺍﺩ ﺑﻬﻤﺎ ﻭﺍﺣﺪ ﺍﻭ ﻻﻧﻬﻤﺎ ﻓﻰ ﺍﻟﺤﻜﻢ ﻛﻮﺍﺣﺪ .

অর্থঃ- “(উক্ত আয়াত শরীফে) জমীর বা সর্বনাম একবচন আনার কারণ এইযে, ‘নূর’ ও ‘কিতাবে মুবীন’ উভয়ের দ্বারা উদ্দেশ্য একটাই এবং হুকুমের ক্ষেত্রে উভয়ে একই রূপ। অর্থাৎ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে যেরূপ অনুসরণ করা ওয়াজিব তদ্রুপ কুরআন শরীফকেও অনুসরণ করা ওয়াজিব।”

ইমামুল আলম, আল ফাযেল, কুতুবু য্যামান, শায়খ ইসমাঈল হাক্বী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার বিখ্যাত তাফসীর গ্রস্থ- “তাফসীরে রুহুল বয়ানে”উল্লেখ করেন-

‏( ﻳﻬﺪﻯ ﺑﻪ ‏) ﻭﺣﺪ ﺍﻟﻀﻤﻴﺮ ﻻﻥ ﺍﻟﻤﺮﺍﺩ ﺑﻬﻤﺎ ﻭﺍﺣﺪ ﺑﺎﻟﺬﺍﺕ ﺍﻭ ﻻﻧﻬﺎ ﻓﻰ ﺣﻜﻢ ﺍﻟﻮﺍﺣﺪ ﻓﺎﻥ ﺍﻟﻤﻘﺼﻮﺩ ﻣﻨﻬﻤﺎ ﺩﻋﻮﺓ ﺍﻟﺨﻠﻖ ﺍﻟﻰ ﺍﻟﺤﻖ ﺍﺣﺪﻫﻤﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻬﻰ ﻭﺍﻻﺧﺮ ﻣﻌﺠﺰﺗﻪ .

অর্থঃ-“এখানে জমীর বা সর্বনাম একবচন আনা হয়েছে, কেননা (মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও কুরআন শরীফ) উভয়ের দ্বারা একটাই উদ্দেশ্য। অর্থাৎ হিদায়েত অথবা হুকুমের ক্ষেত্রে উভয়েই এক। সুতরাং উভয়ের দ্বারা উদ্দেশ্য হলো- মাখলুকাতের প্রতি দাওয়াত।একজন হলেন, মহান আল্লাহপাক উনার রসূল, আর দ্বিতীয় হলো উনার মু’জিজা অর্থাৎ কুরআন শরীফ।”

উক্ত আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় প্রখ্যাত মুফাস্সির আল্লামা শায়খ আবূ সাউদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ“তাফসীরে আবূ সাউদে” উল্লেখ করেন-

ﺗﻮﺣﻴﺪ ﺍﻟﻀﻤﻴﺮ ﺍﻟﻤﺠﺮﻭﺭ ﻻﺗﺤﺎﺩ ﺍﻟﻤﺮﺟﻊ ﺑﺎﻟﺬﺍﺕ ﺍﻭ ﻟﻜﻮﻧﻬﻤﺎ ﻓﻰ ﺣﻜﻢ ﺍﻟﻮﺍﺣﺪ ﺍﻭ ﺍﺭﻳﺪ ﻳﻬﺪﻯ ﺑﻤﺎ ﺫﻛﺮﻩ .

অর্থঃ-“শাব্দিক ভাবে ‘মারজা’ অর্থাৎ জমীরের উদ্দেশ্য দু’টো হলেও সত্ত্বাগতভাবে এক হওয়ায় জমীর বা সর্বনামকে একবচন আনা হয়েছে।অথবা শরীয়তের দৃষ্টিতে নবী এবং কুরআন শরীফ উভয়ের আনুগত্য তাই যেহেতু ওয়াজিব, সেহেতু সে একক হুকুমকে বুঝাবার জন্যই সর্বনাম একবচন ব্যবহার করা হয়েছে।অথবা শুধুমাত্র ‘পুর্বোল্লিখিত” কথাটা বুঝাবার জন্যই সর্বনাম একবচন আনা হয়েছে।”

আল্লামাতুল হিব্র বাহরুল ফাহহমাহ, হামিলুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, বায়হাক্বি উল ওয়াক্বত, আলামুল হুদা আল্লামা কাজী মুহম্মদ ছানাউল্লাহ্ ওছমানী হানাফী পানিপথী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার বিখ্যাত তাফসীরগ্রস্থ তাফসীরে মাযহারীর ৩য় জিঃ ৬৮ পৃষ্ঠায় লিখেন,

ﻳﻬﺪﻯ ﺑﻪ - ﻭﺣﺪ ﺍﻟﻀﻤﻴﺮ ﻻﻥ ﺍﻟﻤﺮﺍﺩ ﺑﻬﻤﺎ ﺍﻣﺎ ﻭﺍﺣﺪ ﺍﻭﻛﻮ ﺍﺣﺪ ﻓﻰ ﺍﻟﺤﻜﻢ .

অর্থঃ- “( ﺑﻪ )-এর মধ্যে জমীর বা সর্বনাম একবচন এসেছে। কারণ উভয়ের দ্বারা উদ্দেশ্য একটিই অথবা উভয়ের হুকুম ও এক।”

সিহ্বানুল হিন্দ মাওলানা আহমদ সাঈদ দেহলভী দেওবন্দী সাহেব তাঁর তাফসীর গ্রস্থ‘ কাশফুর রহমান’ ১৭৫ পৃষ্ঠায় লিখেন,

অর্থঃ- “( ﺑﻪ )-এর মধ্যে জমীর বা সর্বনাম এর মারজা ‘মুহম্মদ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও কুরআন শরীফ উভয়ের দিকেই, যেহেতু উদ্দেশ্যের দিক থেকে উভয়ে একইরূপ। এজন্যই জমীর একবচন নেয়া হয়েছে।”

তাফসীরে বায়জবীর শরাহ্ “হাশিয়াতুশ শিহাব ৩য় জিল্দ ২২৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,

‏( ﻳﻬﺪﻯ ﺑﻪ ‏) ﻭﺣﺪ ﺍﻟﻀﻤﻴﺮ ﻻﻥ ﺍﻟﻤﺮﺍﺩ ﺑﻬﻤﺎ ﻭﺍﺣﺪ ﺍﻭ ﻻﻧﻬﻢ ﻛﻮﺍﺣﺪ ﻓﻰ ﺍﻟﺤﻜﻢ .

অর্থঃ-“( ﺑﻪ )-এর জমীর বা সর্বনাম একবচন নেয়া হয়েছে, কারণ উভয়ের উদ্দেশ্য একটাই।অথবা হুকুমের ক্ষেত্রে উভয়েই একরূপ।”

তাফসীরে বায়জবীর শরাহ্ “হাশিয়ায়ে মুহিউদ্দীন শায়খযাদাহ্ ২জিল্দ ১০৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখআছে,

‏( ﻳﻬﺪﻯ ﺑﻪ ‏) ﻭﺣﺪ ﺍﻟﻀﻤﻴﺮ ﻻﻥ ﺍﻟﻤﺮﺍﺩ ﺑﻬﻤﺎ ﻭﺍﺣﺪ ﺍﻭ ﻻﻧﻬﻤﺎ ﻛﻮﺍﺣﺪ ﻓﻰ ﺍﻟﺤﻜﻢ .

অর্থঃ-“( ﺑﻪ )-এর জমীর বা সর্বনাম একবচন নেয়া হয়েছে, কারণ উভয়ের উদ্দেশ্য একটাই।অথবা হুকুমের ক্ষেত্রে উভয়েই একরূপ।” অতএব, উপরোক্ত দলীলভিত্তিক আলোচনা দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, ‘নূর’ ও‘কিতাবে মুবীন’ একই বস্তু হওয়ার কারণে জমীর বা সর্বনাম একবচন নেয়া হয়নি, বরং ‘নূর’ও‘কুরআন শরীফের’ উদ্দেশ্য ও গুণাগুণ এক হওয়ার কারণেই জমীর বা সর্বনাম একবচন নেয়া হয়েছে। কাজেই যারা বলে জমীর বা সর্বনাম একবচন নেয়া হয়েছে বিধায় ‘নূর’ও‘কিতাব’ এউভয় শব্দদ্বারাই কুরআন শরীফ উদ্দেশ্য তাদের এদাবী সম্পূর্ণই মিথ্যা, অবান্তর ও জেহালতপূর্ণ।

মূলকথা হলো, বর্ণিত আয়াত শরীফে ‘নূর’ দ্বারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকেই বুঝানো হয়েছে, এমতটিই সবচেয়ে শক্তিশালী, সহীহ্ ও গ্রহণযোগ্য।আর যারা‘নূর’দ্বারা কুরআন শরীফ ও ইসলাম মুরাদ নিয়েছে, তাদের মত জঈফ বা দুর্বল। এ ব্যাপারে‘ নূর’ বিরোধীরা যত দলীল বা যুক্তিই পেশ করুক না কেন তার কোনটাই গ্রহণযোগ্য নয়।

কাজেই কুরআন শরীফের আয়াতদ্বারা অকাট্যভাবেই প্রমাণিত হলো যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপাদমস্তক ‘নূর’ বা নুরে মুজাস্সাম।উনাকে ‘নূর’ হিসেবেঅস্বীকার করার অর্থই হলো কুরআন শরীফের আয়াতকে অস্বীকার করা, যা সকলের মতেই কুফরি।

আজ বরকতময় ১০ই রজবুল হারাম শরীফ বিধর্মীদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের মহান বিজয় ঐতিহাসিক ইয়ারমুক জিহাদ দিবস৷৷ সুবহানাল্লাহ!

 মহান আল্লাহ পাক তিনি যে মুসলমান উনাদেরকে দায়িমীভাবে গাইবি মদদ করেন, এ বিষয়টি যে সমস্ত জিহাদে দিবালোকের চেয়েও সুস্পষ্ট হয়েছে তার মধ্যে ইয়ারমুক জিহাদ অন্যতম।


আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার খিলাফত মুবারককালে ১৫ হিজরী সনের ৫ই রজবুল হারাম শরীফ ইয়াওমুছ ছুলাছা শরীফ ইয়ারমূকের জিহাদ মুবারক শুরু হয়।  

এই সম্মানিত জিহাদ মুবারক-এ সম্মানিত মুসলমান উনাদের সৈন্য সংখ্যা ছিলেন ৩৫ হাজার। আর খ্রিষ্টানদের সৈন্য সংখ্য ছিলো ২ লাখেরও বেশি। তবে সরাসরি ময়দানে উপস্থিত ছিলো ২ লাখ। 

৫ই রজবুল হারাম শরীফ ইয়াওমুছ ছুলাছা শরীফ থেকে ১০ই রজবুল হারাম শরীফ ইয়াওমুল আহাদ পর্যন্ত একাধারে ছয় দিন সম্মানিত জিহাদ মুবারক হয় এবং ১০ই রজবুল হারাম শরীফ সম্মানিত মুসলমান উনাদের চূড়ান্ত বিজয়ী শান মুবারক প্রকাশ পায়। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত মুসলমান উনারা ইয়ারমুকের জিহাদ মুবারক-এ ১লাখের চেয়েও অধিক খ্রিষ্টানদেরকে হত্যা করেন। আর সম্মানিত মুসলমান উনাদের মধ্যে ৩ হাজার জন সম্মানিত শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

উনাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূর আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!

এ জিহাদের মাধ্যমে রোম শাসক ও সৈন্য বাহিনী ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পলায়ন করে এবং পর্যায়ক্রমে রোম সম্রাজ্যেও অস্তিত্ব বিলিন হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ!

সবার রিযিকের মালিক মহান আল্লাহ পাক তিনি; এটা সম্পূর্ণ কুদরতী বিষয়

 সবার রিযিকের মালিক মহান আল্লাহ পাক তিনি; এটা সম্পূর্ণ কুদরতী বিষয়



وَمَا مِن دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّـهِ رِزْقُهَا

অর্থ: “যমীনে যত প্রাণী আছে সবার রিযিকের মালিক মহান আল্লাহ পাক তিনি।” (পবিত্র সূরা হুদ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ-৬ )

হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম তিনি একবার বললেন, মহান আল্লাহ পাক আমি সমস্ত মাখলুককে এক বছর খাওয়াতে চাই। মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, সেটা সম্ভব নয়। তিনি বললেন, তাহলে ৬ মাস।। মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, সেটাও সম্ভব নয়। তিনি বললেন, তাহলে ১ মাস। মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, সেটাও সম্ভব নয়। তিনি বললেন, তাহলে পনের দিন। মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, সেটাও সম্ভব নয়। তিনি বললেন, তাহলে ৭ দিন। মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, না, সেটাও সম্ভব নয়। তিনি বললেন, তাহলে ১ দিন। মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, চেষ্টা করে দেখুন।

হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম তিনি তখন খাবার যোগাড় করতে লাগলেন। এভাবে ১ বছর ধরে খাবার যোগাড় করলেন। খাদ্যের পাহাড় করে ফেললেন। কুল-মাখলুকাতের সবাইকে খাওয়ার দাওয়াত দেয়া হয়েছে। খাওয়ার সময় হলো, তখন সবাই আসলো। সমুদ্র থেকে একটা বড় মাছ এসে বললো, খাবার কোথায়? হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, ঐ যে খাদ্যের পাহাড় জমা আছে, সেখান থেকে খাও। সে মাছ এক লোকমায় সব খেয়ে ফেললো আর বললো- আমি প্রতিদিন এরকম ৩ লোকমা খাই। ১ লোকমা খেয়েছি; আরো ২ লোকমা কোথায়? তখন হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম তিনি সিজদায় পড়ে গেলেন। এবং বললেন, আয় মহান আল্লাহ পাক! একটা মাছে তো ১ লোকমায় সব খেয়ে ফেললো। এবং আরো ২ লোকমা চায়। আর অন্যরাইবা কি খাবে? মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, আপনি চিন্তা করবেন না। আমি কুদরতীভাবে সবার পেট ভরিয়ে দিবো। ঠিক তাই করা হলো। তারা সবাই পেট ভরে বিদায় নিলো। সুবহানাল্লাহ!

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...