নিশ্চিত পরাধীনতার পথে ধাবমান বাংলাদেশ (পর্ব-৩)
প্রিয় পাঠক! লেখাটি একটি ধারাবাহিক যা ১০টি পর্বে সমাপ্ত হবে ইনশাআল্লাহ।
আপনারা নিশ্চয় মুসলিম অধ্যুষিত বসনিয়াতে মুসলিম গণহত্যার কথা জানেন। এই একবিংশ শতাব্দীতে ইউরোপের একটি উন্নত দেশ বসনিয়ার লক্ষাধিক মুসলমান মা-বোনেরা যদি ধর্ষিতা হতে পারে, তাহলে ভারতীয় কাফিররা বাংলাদেশ দখলের পর আপনাদের মা-বোন-মেয়েদের সাথে কেমন আচরণ করবে সেটা হয়তো সহজেই অনুমান করতে পারছেন। মুসলমান মেয়েদের পেটে কাফিরের বাচ্চা তাদের যুগ যুগান্তরের আকাঙ্খা।
ইতিহাস স্বাক্ষী কাফিরদের এই আকাঙ্খা পূরণে তথাকথিত মুসলমান নামধারী মুনাফিকরাই বরাবর সাহায্য করেছে। বসনিয়ার মুনাফিকরা কিন্তু বাঁচে নি কাফিরদের অত্যাচারের হাত থেকে, যেমন বাঁচে নি মীর জাফর গং। বসনিয়ান মুনাফিকদের মা/বোনেরাও কিন্তু রক্ষা পায়নি সার্ব খ্রিস্টান ধর্ষকদের হাত থেকে।
সেই একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের সম্পূর্ণ সহযোগিতার মাধ্যমে।
বসনিয়াতে মুসলিম গণহত্যার পর জাতিসংঘ বলেছিল, সার্ব খ্রিস্টানরা ৩০ হাজার মুসলমান নারীদের ধর্ষণ করেছে, যদিও প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশী। বাংলাদেশের অনেক সেনা অফিসার বসনিয়া গণহত্যার সময় জাতিসংঘ শান্তি মিশনে গিয়েছিল। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী এক একটি ইউ এন পোষ্ট এ ৩০/৩৫ হাজার মুসলমান নারী ধর্ষিতা, সেরকম ইউ এন পোষ্ট ছিল প্রায় ১৯টি। এখন হিসাব করুন আমাদের কত অসহায় মা-বোন ধর্ষিতা হয়েছিল বসনিয়ায়।
বাংলাদেশে কি আপনারা সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখতে চান?
বসনিয়া গণহত্যা ছিল মুসলমান ধ্বংসে ইহুদী ও খ্রিস্টানদের যৌথ উদ্যোগ, তারা ইউরোপের বুকে সম্ভ্রান্ত ও অভিজাত মুসলিমদের দেখতে চায় নি। হুবহু একইরকম চক্রান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ পরাধীনতার দিকে ধাবমান, তবে এবার উদ্যোগটি হচ্ছে ইহুদী-হিন্দুদের যৌথভাবে। এই যৌথ উদ্যোগের ফলাফলটা হবে বসনিয়ার চেয়ে আরো অনেক বেশী ভয়ংকর। কারণ পবিত্র কুরআন শরীফে আল্লাহ পাক বলেছেন,
(হে আমার হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) “আপনি মু’মিনদের জন্য মানুষদের মধ্যে সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে পাবেন ইহুদীদেরকে, অতঃপর মুশরিকদেরকে।” (সূরা মায়িদা : ৮২)
প্রিয় পাঠক! তাহলে সহজেই বুঝতে পারছেন যে এই ইহুদী ও হিন্দুদের যৌথ উদ্যোগ কতটা ভয়ঙ্কর হবে।
১৯৪৭ সালের পর থেকেই ভারতে চলছে মুসলিমদের উপর অকথ্য নির্যাতন। একের পর এক গণহত্যার মাধ্যমে ভারতে শহীদ করা হয়েছে কয়েক লক্ষ মুসলিম, তেমনি ধর্ষিতা হয়েছেন কয়েক লক্ষাধিক মুসলিম নারী। ১৯৪৮ সালে ভারত গায়ের জোরে হায়দরাবাদ দখল করে ২ লাখেরও বেশী মুসলিমদের গণহত্যা ও গণধর্ষণের মাধ্যমে!
গত এক বছরের বেশী সময় ধরে কাশ্মীরে বন্ধ করে রাখা হয়েছে ইন্টারনেট, গোটা কাশ্মীর পরিণত হয়েছে একটি খোলা জেল খানায়, সেখানে ধর্ষিতা হয়েছেন লক্ষাধিক মুসলিম নারী, যার কোন বিচার হয় না, হবেও না। এই জঘন্য অমানবিক অপরাধ বিশ্বের মানুষের দৃষ্টির আড়ালে রাখার জন্য কোন সাংবাদিককে কাশ্মীর যেতে দেয়া হচ্ছে না গত এক বছর ধরে।
একই ধরনের ধর্ষণ-নির্যাতন চালু আছে আরাকানের রোহিংগা মুসলমানদের উপরও। এর আগে আমি একটি পোস্ট লিখেছিলাম মায়ানমারের উপর সেখানে আমি প্রমাণ করার চেষ্টা করেছি মায়ানমারে ইহুদীদের ইনভল্ভমেন্ট।
বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে, সরকার গঠন করা হয় গায়ের জোরে ভারতীয় গোয়েন্দা "র" এর প্রত্যক্ষ মদতে, কেড়ে নেয়া হয়েছে মানুষের বাক স্বাধীনতা। গনতন্ত্রের আড়ালে চালু করা হয়েছে কঠিন স্বৈরতন্ত্র, সেনাবাহিনীকে ব্যাপক টাকা পয়সা আর ঘুষ খাওয়ার সুযোগ দিয়ে করে ফেলা হয়েছে পেশাগত ভাবে অযোগ্য আর দুর্নীতিবাজ। সীমান্তের এপার থেকে হুমকি দিলে সেনানিবাসে থেকেই তারা অস্ত্র সমর্পণ করবে। তাহলে বাকী রইলো কি?
বাংলাদেশের মুসলমানদের এখন কোন নেতার দিকে তাকিয়ে থাকলে লাভ হবে না। দেশের এই চরম সংকটের সময় প্রত্যেককে যার যার কর্তব্য পালন করতে হবে। কেয়ামতের ময়দানে কিন্তু নেতার দোষ দিয়ে পার পাওয়া যাবেনা, নিজের দ্বারা যতটুকু সম্ভব তাই করতে হবে। মুসলমানদের ইজ্জত ও সম্ভ্রম নিয়ে বাঁচতে হলে ঈমানী জজবা নিয়েই বাঁচতে হবে।
যেহেতু মুসলমানদের ঈমানী জজবাই হচ্ছে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাই সেই ঈমানী জজবা ধ্বংস করার জন্য সেকুলারিজম তথা ধর্মনিরপেক্ষতার নামে
শিশু-কিশোরদের জন্য চালু করা হয়েছে ধর্মহীন শিক্ষা যা তাদেরকে গড়ে তুলবে মূল্যবোধহীন ও ভোঁতা একটি প্রজন্ম হিসাবে। গত ১০ বৎসর স্বঘোষিত নাস্তিক শিক্ষা মন্ত্রী নাহিদের পর এবার শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়ীত্ব পেয়েছেন নওফেল, যে নিজেকে হিন্দু সন্ত্রাসী সংগঠন ইসকনের সদস্য হিসাবে দাবী করে। এই ধরণের শিক্ষামন্ত্রীরা দেশকে কোথায় নিয়ে যাবে ?
মনে রাখতে হবে যে দেশ রক্ষার দায়িত্ব কোন দল বা সরকারের নয় বা কোন নেতার নয়, দেশের সকলের। ১৯৭১ বাংলাদেশের জনগণ সবাই মিলেই স্বাধীনতা অর্জন করেছে। দেশের সরকার যদি শক্তিশালী গোয়েন্দা কার্যক্রমের কারণে বিদেশী শক্তির কাছে জিম্মি হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে জনগণ সহায়তা করবে সরকারকে উদ্ধার করতে।
শ্যামলী ট্রান্সপোর্টের হিন্দু মালিক বাংলাদেশকে পরাধীন করে অখন্ড ভারতের অন্তর্ভুক্ত করতে চায়! সে বাংলাদেশের নাগরিক, বাংলাদেশেই ব্যবসা করে হাজার কোটি টাকা বানিয়েছে।
ভারত সরকারের নির্দেশে বাংলাদেশ সরকার তার বিরুদ্ধে কিছু করতে পারছেনা, বিষয়টি বোধগম্য। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ তো আর মোদীর কাছে নাকে খৎ দেয় নি যে একজন প্রকাশ্য দেশদ্রোহীকে ছেড়ে দেবে! বাংলাদেশের মানুষদের উচিত সমস্ত রকম প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করে শ্যামলী ট্রান্সপোর্টের ব্যবসা বন্ধ করাতে বাধ্য করতে। যদি অন্তত এইটুকু না করতে পারেন তবে প্রস্তুত থাকুন কিছুদিন পর ভারতীয় নাগরিক হয়ে নতুন পাশপোর্ট করার জন্য, যদি বেঁচে থাকেন। সেইসাথে প্রস্তুত থাকুন নিজ মা-বোনদের ইজ্জত রক্ষা করার প্রচেষ্টা না করে আল্লাহ পাকের উপর ছেড়ে দিয়ে হা হুতাশ করতে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী হলো ঠাণ্ডা মাথায় মুসলিমদের গণহত্যাকারী। সে ২০০২ সালে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মুসলিমদের গণহত্যা করেছিল বলে ভারতীয় হিন্দুরা তাকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছে যাতে গোটা দেশে মুসলিমদের গণহত্যা করা যায়। সে কিন্তু হিন্দুদের এই আখাঙ্খা পূরণ করেছে, ক্ষমতায় আসার পর ভারতে শুরু হয়েছে মুসলিমদের পিটিয়ে মারার উৎসব! কাশ্মীরে শুরু হয়েছে আরও বেশী নির্যাতন।
ভারতে মুসলিম নিধনের এই সাফল্যের তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে তুলতে ভারতীয় সেনা বাংলাদেশে প্রবেশ করলে কী অবস্থা হবে তা কি কল্পনা করতে পারছেন?
মুসলমানদের গণহত্যা ও গণধর্ষণ গুজরাতে হাজারে, কাশ্মীরে লাখে, বাংলাদেশে পৌঁছাবে কোটিতে!
মোদী বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ সরকারকে মনে করে গোলামের গোলাম যারা ফুঁ দিলেই ক্ষমতাচ্যুত হয়ে যাবে। যে কোন ধরনের সাজানো নাটকের (ফল্স ফ্ল্যাগ অপারেশন) মাধ্যমে বাংলাদেশ আক্রমণ করা কোন সমস্য নয় তার জন্য। আর সেটা হলে কি হবে তার পরিণতি আপনাদের জানাই আছে !




