Wednesday, July 8, 2020

গ্রীষ্ম কালীন সময়ে আম কাঠালের ছুটি যদি ১০ দিন হয় তবে কুরবানীর ঈদে গোস্তের ছুটি কেন ১২ দিন হবে না?

গ্রীষ্ম কালীন সময়ে আম কাঠালের ছুটি যদি ১০ দিন হয় তবে কুরবানীর ঈদে গোস্তের ছুটি কেন ১২ দিন হবে না?
=================================

আমাদের দেশে গ্রীষ্মকালীন, শরৎকালীন, বর্ষাকালীন ইত্যাদি বিভিন্ন মৌসুমে ছুটি দেওয়ার রেওযাজ আছে। সংবিধানে এমন ছুটি বাধ্যবাধকতা না থাকলেও বেশ কিছুদিনের জন্য এসব ছুটি দেয়া হয়। যেমন গ্রীষ্মকালীন সময়ে আম কাঠালের ছুটি দেয়া হয় এবং বলা হয়ে থাকে যে আম কাঠাল খাওয়ার জন্য ছুটি দেয়া হল। যদিও চড়া মূল্যের জন্য অনেকে আম কাঠাল কিনে খেতেও পারেনা। তবুও এ ছুটির মেয়াদ হয় সাধারণত ৭-১০ দিন। তাহলে আম কাঠাল খাওয়ার জন্য যদি ১০ দিন ছুটি দেয়া হয় তবে কুরবানীর ঈদে গোস্ত খাওয়ার জন্য কমপক্ষে ১০ দিন ছুটি দেয়া উচিত। কেননা আম কাঠাল শুধু বড়লোক আর মধ্যবিত্তদের জন্য হলেও কুরবানীর গোস্ত কিন্তু ধনী গরীব সকলে মিলে সমান ভাগে বন্টন করে খাওয়া হয়। তাই কুরবানীর পশু কেনার আগে ও পরে পর্যাপ্ত সময়ের প্রয়োজন। যেখানে আম কাঠাল কিনতেও তেমন লাগেনা, খেতেও তেমন সময়ের প্রয়োজন হয়না। অতএব, আম কাঠালের ছুটি ১০ দিন হলে কুরবানীর ঈদের ছুটি কমপক্ষে ১২ দিন দেয়া উচিত।

পবিত্র কুরবানী বিরোধিতার পরিণতি

পবিত্র কুরবানী বিরোধিতার পরিণতি
::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
                    সাদিয়া আহমদ ইলমা
::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::

ইলাহী ফরমান, তোমরা কুরবানী করো,
ঈমানদাররা আগ্রহী হয়েছিলেন আরো।

কিন্তু করেছিল অমান্য ইলাহী ফরমান
এক নাফরমান গোবিন্দ ছিল যার নাম।

সনটি ছিল ১৩৪৪ খ্রী.
গোবিন্দ আদেশ করেছিল জারী।
নিষেধ করে কুরবানী করতে,
করলে হবে মৃত্যু অপঘাতে।

সেখানেই থাকতেন এক মুসলিম,
যার নাম ছিল শেখ বুরহানুদ্দীন
ছিল না উনার কোন সন্তান,
সন্তান পেয়ে হতে চান ইতমিনান।

সেই আশায় দোয়া ও নিয়্যত করলেন
শুকরিয়াস্বরূপ গরু কুরবানী করবেন,
মহান আল্লাহ পাক কবুল করার মালিক
সন্তান খালিক অবশ্যই দান করবেন।

অবশেষে ঘর আলোকিত করে
ফুটফুটে এক সন্তানের হল আগমন,
নিয়্যত মুতাবিক শুকরিয়াস্বরুপ কুরবানী করে 
মুসলমানদের গোশত বিলি করতে লাগলেন।

এমনি সময় একটি চিল হঠাৎ করে উড়ে এসে,
ছো মেরে এক টুকরা গোশত নিয়ে গেলো অবশেষে।

মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত বুঝা বড় দায়,
গোশতের টুকরাটি এনে ফেললো গোবিন্দের ঠিক প্রধান দরজায়।

গোবিন্দ রেগে আগুন হয়ে ডেকে
বললো উপস্থিত করতে শায়েখ বুরহানুদ্দীন উনাকে।

উপস্থিত হওয়ার পর
আহ! করুন কাহিনী কী বলবো আর!

জালিম হিন্দু গোবিন্দ উনার ডান হাত কেটে দিল
নিষ্পাপ শিশুটিকে দেবতার সামনে বলি দিল।

এ অবস্থা উনার স্ত্রী দেখে
ঢলে পড়েন তিনিও মৃত্যুর মুখে
শুধু এতটুকুই নয় গোবিন্দ আক্রমন চালায় 
অবশিষ্ট মুসলমানদের ঐ এলাকায়। নাউযুবিল্লাহ!

অত্যন্ত ব্যথিত অন্তরে শায়েখ বুরহানুদ্দীন যান ফিরে
সোনারগাঁয়ে ইলিয়াস শাহের দরবারে।

ইলিয়াস শাহ সব শুনে গোবিন্দকে শাস্তি দেয়ার জন্য
পাঠালেন অনেক সৈন্য।

বেশ কিছুদিন যুদ্ধ হল শত শত মুসলিম শহীদ হল
তবুও কোন বিজয় নাহি আসলো।

শায়েখ বুরহানুদ্দীন রওয়ানা হলেন এবার দিল্লির সম্রাটের কাছে
সবকিছু বললেন খুলে সম্রাট শাহ তুঘলকের কাছে।

শাহ তুঘলক সব শুনে গোবিন্দকে শায়েস্তা করার জন্যে
কিছু সৈন্যসহ সিকান্দার গাজীকে 
সেনাপতি করে পাঠালেন অভিযানে।

অতঃপর সম্রাট সেনাপতি নিযুক্ত করলেন বীর সাইয়্যিদ নাসিরকে
সাথে কিছু নতুন সৈন্যকে।

হযরত শাহজালাল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিও উনাদের সঙ্গ নিলেন
৩৬০ জন সঙ্গ নিয়ে অভিযান পথে রওয়ানা হলেন।

তুমুল যুদ্ধ শুরু হল পথিমধ্যে আরো গায়েবী মদদ
পরাজয় বরণ করলো শত্রুরা 
শাহজালাল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার রুহানিয়াতের নিকট।

অবশেষে মুসলিম বাহিনী
পৌঁছলেন গোবিন্দের রাজধানী
মুসলমানদের আগমন জানতে পেরে
গোবিন্দ পালালো প্রাসাদ ছেড়ে।

মুসলমানগণ আযান দিতে লাগলেন 
গোবিন্দের প্রাসাদের সামনে দাঁড়িয়ে
আযান উনার ধ্বনি শুনে প্রাসাদ ও মন্দির গেল ধ্বংস হয়ে।

অবশেষে উদিদ হল এক নতুন সূর্য
উড়তে লাগলো ইসলামী পতাকা 
ফলে এলাকাটির নাম জালালাবাদ করা হয় ধার্য।

হযরত হাবীল আলাইহিস সালাম উনার ও কাবীলের কুরবানী

হযরত হাবীল আলাইহিস সালাম উনার ও কাবীলের কুরবানী

পৃথিবীর প্রথম কুরবানী সংঘটিত হয় হযরত আবুল বাশার ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার যমীনে অবস্থানকালীন সময় থেকেই। হযরত আবুল বাশার ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম ও উম্মুল বাশার হযরত হাওওয়া আলাইহাস সালাম উনাদের প্রতিবার একজন ছেলে সন্তান ও একজন মেয়ে সন্তান একসাথে যমীনে আগমন করতেন (হযরত শীছ আলাইহিস সালাম তিনি ব্যতিত)। তাই মহান আল্লাহ পাক তিনি তখনকার শরীয়ত অনুযায়ী হযরত আবুল বাশার ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার প্রতি এই ওহী মুবারক করেন যে, একইসাথে যে ছেলে সন্তান ও মেয়ে সন্তান যমীনে আসবেন উনারা পরস্পর সহোদর ভাই-বোন হিসেবে গণ্য হবেন। উনাদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক হারাম। কিন্তু পরে আগমনকারী ছেলে সন্তানের জন্য পূর্বে আগমনকারিণী মেয়ে সন্তান সহোদরা বোন হিসেবে গণ্য হবে না। তাই উনাদের মধ্যে পরস্পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া হালাল। 

ঘটনাক্রমে কাবীলের সাথে যে সহোদরা বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন উনার নাম মুবারক ছিল হযরত আকলিমা বা একলিমা আলাইহাস সালাম। হযরত হাবীল আলাইহিস সালাম উনার সাথে যে সহোদরা বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন উনার নাম মুবারক ছিল হযরত গাযা বা লিওযা আলাইহাস সালাম। বিবাহের সময় হলে শরয়ী নিয়মানুযায়ী হযরত হাবীল আলাইহিস সালাম উনার সহোদরা হযরত গাযা বা লিওযা আলাইহাস সালাম উনাকে কাবীলের সাথে বিবাহ দেয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। কিন্তু কাবীল উক্ত সিদ্ধান্ত মানতে নারাজী প্রকাশ করে।

অবশেষে মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে পুনরায় ওহী মুবারক করা হল, ‘আপনারা উভয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার উদ্দেশ্যে কুরবানী পেশ করুন, যার কুরবানী কবুল হবে, উনার সাথেই হযরত আকলিমা বা একলিমা আলাইহাস সালাম উনার বিবাহ দেয়া হবে।’

সে সময় কুরবানী কবুল হওয়ার একটি সুস্পষ্ট নিদর্শন ছিল যে, আকাশ থেকে আগুন এসে সে কুরবানীকে ভষ্মীভূত করে ফেলত। এ সম্পর্কে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
يَأْتِيَنَا بِقُرْ‌بَانٍ تَأْكُلُهُ النَّارُ‌ ۗ
অর্থ : “ওই কুরবানী আমার নিকট পৌঁছে থাকে যাকে আগুন গ্রাস করে নেয়।” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৮৩)

আর যার কুরবানী কবুল হতো না তার কুরবানীর বস্তু পড়ে থাকত। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুল নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূর্ববর্তী অনেক হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদের যামানায় কুরবানী উনার এ ত্বরীকা বলবৎ ছিল।

কাবীল ক্ষেতে ফসল ফলাতো। তাই সে তার আবাদকৃত নিম্ন মানের কিছু ফসল কুরবানীর উদ্দেশ্যে পাহাড়ে রেখে আসলো। আর হযরত হাবীল আলাইহিস সালাম তিনি মাঠে পশু চড়াতেন। তাই তিনি উনার পশুর পাল থেকে সর্বোকৃষ্ট একটি দুম্বা কুরবানীর জন্য পাহাড়ে রেখে আসলেন। অতঃপর নিয়মানুযায়ী আকাশ থেকে আগুন এসে হযরত হাবীল আলাইহিস সালাম উনার কুরবানীর পশুটি জ্বালিয়ে দেয়। ফতহুল ক্বাদীরের বর্ণনায় জানা যায় যে, হযরত হাবীল আলাইহিস সালাম উনার পেশকৃত দুম্বাটি জান্নাতে উঠিয়ে নেয়া হয় এবং তা জান্নাতে বিচরণ করতে থাকে। অবশেষে হযরত ইসমাঈল যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পরিবর্তে ঐ দুম্বাটি পাঠিয়ে দেয়া হয়। আর কাবীলের কুরবানী যথাস্থানেই পড়ে থাকলো।

অর্থাৎ হযরত হাবীল আলাইহিস সালাম উনার কুরবানী কবুল করা হলো আর কাবীলের কুরবানী কবুল হলো না। কিন্তু কাবীল এই ওহী মুবারক উনার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারল না। সে আত্মসংবরণ করতে পারল না এবং প্রকাশ্যে তার ভাইকে বলল, ‘আমি অবশ্যই আপনাকে শহীদ করবো। নাঊযুবিল্লাহ! হযরত হাবীল আলাইহিস সালাম তিনি প্রতুত্তোরে বলেছিলেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি মুত্তাক্বীন উনাদের কুরবানীই কবুল করেন। অতঃপর এক পর্যায়ে হযরত হাবীল আলাইহিস সালাম উনাকে কাবীল শহীদ করে ফেলল। নাঊযুবিল্লাহ!

উক্ত ঘটনা সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ ابْنَيْ اٰدَمَ بِالْـحَقِّ إِذْ قَرَّ‌بَا قُرْ‌بَانًا فَتُقُبِّلَ مِنْ أَحَدِهِـمَا وَلَـمْ يُتَقَبَّلْ مِنَ الْاٰخَرِ‌ قَالَ لَأَقْتُلَنَّكَ ۖ قَالَ إِنَّـمَا يَتَقَبَّلُ اللهُ مِنَ الْمُتَّقِيْنَ
অর্থ : “হযরত আবুল বাশার ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার দুই আওলাদ হযরত হাবীল আলাইহিস সালাম ও কাবীলের ঘটনা বৃত্তান্ত আপনি উনাদেরকে যথাযথভাবে শুনিয়ে দিন, যখন তারা উভয়ে কুরবানী করেছিল, তখন একজনের (হযরত হাবীল আলাইহিস সালাম উনার) কুরবানী কবুল করা হলো এবং অন্যজনের (কাবীলের) কুরবানী কবুল হলো না। তাদের একজন (কাবীল) বলল, আমি আপনাকে অবশ্যই শহীদ করবো। অপরজন (হযরত হাবীল আলাইহিস সালাম তিনি) বললেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি তো মুত্তাক্বীন উনাদের কুরবানীই কবুল করে থাকেন।” (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২৭)

কাবীল নিজের নফসের বশবর্তী হয়ে কিছু নিম্ন মানের খাদ্যশস্য কুরবানী হিসেবে পেশ করে। ফলে তার কুরবানী কবুল করা হয়নি। সুতরাং প্রমাণিত হলো কুরবানী তাক্বওয়া ব্যতিত কবুল হয় না। তারপর থেকে বিগত সকল উম্মতের জন্যই কুরবানীর বিধান জারী ছিল।

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...