পবিত্র কুরবানী বিরোধিতার পরিণতি
::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
সাদিয়া আহমদ ইলমা
::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
ইলাহী ফরমান, তোমরা কুরবানী করো,
ঈমানদাররা আগ্রহী হয়েছিলেন আরো।
কিন্তু করেছিল অমান্য ইলাহী ফরমান
এক নাফরমান গোবিন্দ ছিল যার নাম।
সনটি ছিল ১৩৪৪ খ্রী.
গোবিন্দ আদেশ করেছিল জারী।
নিষেধ করে কুরবানী করতে,
করলে হবে মৃত্যু অপঘাতে।
সেখানেই থাকতেন এক মুসলিম,
যার নাম ছিল শেখ বুরহানুদ্দীন
ছিল না উনার কোন সন্তান,
সন্তান পেয়ে হতে চান ইতমিনান।
সেই আশায় দোয়া ও নিয়্যত করলেন
শুকরিয়াস্বরূপ গরু কুরবানী করবেন,
মহান আল্লাহ পাক কবুল করার মালিক
সন্তান খালিক অবশ্যই দান করবেন।
অবশেষে ঘর আলোকিত করে
ফুটফুটে এক সন্তানের হল আগমন,
নিয়্যত মুতাবিক শুকরিয়াস্বরুপ কুরবানী করে
মুসলমানদের গোশত বিলি করতে লাগলেন।
এমনি সময় একটি চিল হঠাৎ করে উড়ে এসে,
ছো মেরে এক টুকরা গোশত নিয়ে গেলো অবশেষে।
মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত বুঝা বড় দায়,
গোশতের টুকরাটি এনে ফেললো গোবিন্দের ঠিক প্রধান দরজায়।
গোবিন্দ রেগে আগুন হয়ে ডেকে
বললো উপস্থিত করতে শায়েখ বুরহানুদ্দীন উনাকে।
উপস্থিত হওয়ার পর
আহ! করুন কাহিনী কী বলবো আর!
জালিম হিন্দু গোবিন্দ উনার ডান হাত কেটে দিল
নিষ্পাপ শিশুটিকে দেবতার সামনে বলি দিল।
এ অবস্থা উনার স্ত্রী দেখে
ঢলে পড়েন তিনিও মৃত্যুর মুখে
শুধু এতটুকুই নয় গোবিন্দ আক্রমন চালায়
অবশিষ্ট মুসলমানদের ঐ এলাকায়। নাউযুবিল্লাহ!
অত্যন্ত ব্যথিত অন্তরে শায়েখ বুরহানুদ্দীন যান ফিরে
সোনারগাঁয়ে ইলিয়াস শাহের দরবারে।
ইলিয়াস শাহ সব শুনে গোবিন্দকে শাস্তি দেয়ার জন্য
পাঠালেন অনেক সৈন্য।
বেশ কিছুদিন যুদ্ধ হল শত শত মুসলিম শহীদ হল
তবুও কোন বিজয় নাহি আসলো।
শায়েখ বুরহানুদ্দীন রওয়ানা হলেন এবার দিল্লির সম্রাটের কাছে
সবকিছু বললেন খুলে সম্রাট শাহ তুঘলকের কাছে।
শাহ তুঘলক সব শুনে গোবিন্দকে শায়েস্তা করার জন্যে
কিছু সৈন্যসহ সিকান্দার গাজীকে
সেনাপতি করে পাঠালেন অভিযানে।
অতঃপর সম্রাট সেনাপতি নিযুক্ত করলেন বীর সাইয়্যিদ নাসিরকে
সাথে কিছু নতুন সৈন্যকে।
হযরত শাহজালাল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিও উনাদের সঙ্গ নিলেন
৩৬০ জন সঙ্গ নিয়ে অভিযান পথে রওয়ানা হলেন।
তুমুল যুদ্ধ শুরু হল পথিমধ্যে আরো গায়েবী মদদ
পরাজয় বরণ করলো শত্রুরা
শাহজালাল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার রুহানিয়াতের নিকট।
অবশেষে মুসলিম বাহিনী
পৌঁছলেন গোবিন্দের রাজধানী
মুসলমানদের আগমন জানতে পেরে
গোবিন্দ পালালো প্রাসাদ ছেড়ে।
মুসলমানগণ আযান দিতে লাগলেন
গোবিন্দের প্রাসাদের সামনে দাঁড়িয়ে
আযান উনার ধ্বনি শুনে প্রাসাদ ও মন্দির গেল ধ্বংস হয়ে।
অবশেষে উদিদ হল এক নতুন সূর্য
উড়তে লাগলো ইসলামী পতাকা
ফলে এলাকাটির নাম জালালাবাদ করা হয় ধার্য।