Monday, September 14, 2020

ওলীআল্লাহগণ উনারা ব্যতীত প্রতিটা মানুষই ইবলিসের ধোঁকার মধ্যেই নিমজ্জিত।

 ওলীআল্লাহগণ উনারা ব্যতীত প্রতিটা মানুষই ইবলিসের ধোঁকার মধ্যেই নিমজ্জিত।


বর্ণিত রয়েছে, হযরত ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী রহমতুল্লাহি আলাইহি; যিনি উনার যামানার বিখ্যাত আলিম ও মানতিকের ইমাম ছিলেন। তিনি জানতেন যে, ইবলিস মানুষের ইন্তিকালের সময় এসে ধোঁকা দেয় এবং আমার ইন্তিকালের সময়ও সে আসবে ধোঁকা দেয়ার জন্য এবং আমি যতবড় আলিম হই না কেন, ইবলিসের সাথে বাহাছ (তর্ক) করে আমি পারবো না, তিনি এটাও ফিকির করলেন। তারপরও তিনি যেহেতু আলিম সে হিসেবে তিনি একশ থেকে এক হাজার দলীল প্রস্তুত রাখলেন যেন ইবলিসের সাথে বাহাছ করা যায়। এরই মধ্যে হযরত ফখরুদ্দীন রাযী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একজন হক্কানী-রব্বানী শায়েখ উনার সন্ধান পেলেন তিনি বাইয়াত হলেন। 

অবস্থানগত দূরত্ব অনেক বেশি হওয়ায় তিনি একবারে বিদায় নিলেন এবং সম্মানিত শায়েখ উনার নিকট দোয়া চাইলেন যেন ঈমানের সহিত ইন্তিকাল করতে পারেন। উনার শায়েখ বলে দিলেন, যখন ইন্তিকালের সময় হবে, ইবলিস আসবে ধোঁকা দেয়ার জন্য, তখন আমার কথা স্মরণ করো। তিনি দোয়া নিয়ে চলে যাওয়ার পর উনার ইন্তিকালের সময় সত্যিই ইবলিস আসলো। এসেই ধোঁকা দেয়া শুরু করলো। সে বললো, মহান আল্লাহ পাক তিনি একজন নয়, দুইজন। আমিও আল্লাহ। তিনি বললেন, না মহান আল্লাহ পাক তিনি একক। তিনি দলীল দেয়া শুরু করলেন আর ইবলিস একটার পর একটা দলীল খ-াতে লাগলো। এক পর্যায়ে উনার এক হাজার দলীল প্রায় শেষ; এখন ইবলিসকে খোদা হিসেবে মেনে নেয়ার পালা। এমন সময় উনার মনে পড়লো শায়েখ উনার নির্দেশ। তিনি শায়েখ উনার কথা স্মরণ করতে লাগলেন। ঐ সময় উনার শায়েখ ওযূ করতে ছিলেন আর কাশফের মাধ্যমে মুরীদের নিরূপায় অবস্থা দেখতে ছিলেন। মুরীদ ইবলিসের কাছে তর্কে হেরে যাওয়ার আগেই তিনি ওযূর পানি ছুঁড়ে দিয়ে বললেন, হে ফখরুদ্দীন! তুমি বলে দাও বিনা দলীলে মহান আল্লাহ পাক তিনি এক।’ সেই পানির ছিটা ও কথা মুবারক পৌঁছার পর ইবলিস ভয়ে পালিয়ে গেল। যাওয়ার সময় বলে গেলো- হে ফখরুদ্দীন! তোমার মতো অনেক বড় বড় আলিমদেরকে আমি বেঈমান বানিয়ে ছেড়েছি। কিন্তু আজ তুমি তোমার শায়েখ উনার কারণে বেঁচে গে


লে।

আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র’ উনার প্রচার-প্রসারে খালিছ নিয়তে এগিয়ে আসুন; খলীফাতু রসূলিল্লাহ মনোনীত হোন।

 ‘আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র’ উনার প্রচার-প্রসারে খালিছ নিয়তে এগিয়ে আসুন; খলীফাতু রসূলিল্লাহ মনোনীত হোন।



মহান আল্লাহ পাক তিনি মানব জাতিকে আশরাফুল মাখলুকাত তথা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসাবে দুনিয়াতে প্রেরণ করেছেন। আর তাদের সার্বিক জীবন পরিচালনার জন্য মহাসম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনাকে একমাত্র পবিত্র দ্বীন হিসাবে মনোনীত করে উনার যাবতীয় বিধি-বিধান ওহী মুবারক দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন এবং তা বাস্তবায়ন করার জন্য যুগে যুগে হযরত নবী-রাসূল আলাইহিমুস সালাম, মুজাদ্দিদ, গউছ, কুতূব, আফদ্বল, ওলীআল্লাহগণকে প্রেরণ করেছেন। আর উনারা প্রত্যেকেই দা’ওয়াতের মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক উনার যাবতীয় বিধানকে সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন,

مَا تَرَكْتُ شَيْئًا مِمَّا أَمَرَكُمُ اللهُ بِهِ إِلاَّ وَقَدْ أَمَرْتُكُمْ بِهِ وَلاَ تَرَكْتُ شَيْئًا مِمَّا نَهَاكُمُ اللهُ عَنْهُ إِلاَّ وَقَدْ نَهَيْتُكُمْ عَنْهُ 

অর্থ: ‘আমি এমন কোন জিনিসই ছাড়িনি যার হুকুম মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন; কিন্তু আমি তার হুকুম তোমাদেরকে অবশ্যই দিয়েছি। আর আমি এমন কোন জিনিসই ছাড়িনি যা মহান আল্লাহ পাক তিনি নিষেধ করেছেন; কিন্তু আমি তোমাদেরকে তা অবশ্যই নিষেধ করেছি’। [সুনানু কুবরা লিল বাইহাকী : ১৩৮২৫]

বর্তমানে আমাদের মাঝে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সরাসরি নেই। তবে তিনি আমাদের সার্বিক জীবন পরিচালনার দিশারী হিসাবে পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফকে আমাদের মাঝে রেখে গেছেন। আর সেই পবিত্র সুন্নত মুবারকগুলি প্রচার প্রাসর করা উম্মতের জন্য নাজাত, কামিয়াবী ও রহমত মুবারক লাভের কারন। এমনকি প্রচারকারী ও তা’লীমদাতাকে খাছ খলীফা হিসেবে পবিত্র হাদীছ শরীফে ঘোষণা করেছেন।

মানুষ তার সার্বিক জীবনে দ্বীন ইসলামের বিধান পালনের ক্ষেত্রে একমাত্র নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দেখিয়ে দেওয়া পদ্ধতির অনুসরণ করবে। তিনি যে পদ্ধতিতে মানুষকে দা‘ওয়াত দিয়েছেন, মানুষ ঠিক সে পদ্ধতিতে দা‘ওয়াতী কার্যক্রম পরিচালনা করবে। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيْبُهَا أَوْ إِلَى امْرَأَةٍ يَنْكِحُهَا فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ 

অর্থ: ‘নিশ্চয়ই প্রত্যেক কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল। আর মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিফল পাবে। তাই যার হিজরত হবে ইহকাল লাভের অথবা কোন মহিলাকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে, তার হিজরত সেদিকেই গণ্য হবে, যে জন্য সে হিজরত করেছে’। [বুখারী শরীফ : ০১]

অতএব একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে মানুষকে ‘আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র’ উনার প্রচার প্রসারে সমস্ত মাখলুকাতকে খালিছ নিয়তে দা‘ওয়াত দিতে হবে। দুনিয়াবী কোন উদ্দেশ্যে নয়। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

مَنْ عَمِلَ مِنْهُمْ عَمَلَ الآخِرَةِ لِلدُّنْيَا لَمْ يَكُنْ لَهُ فِيْ الآخِرَةِ مِنْ نَصِيْبٌ 

অর্থ: ‘যে ব্যক্তি পরকালীন কোন আমল দুনিয়াবী উদ্দেশ্যে পালন করবে, পরকালে তার জন্য নেকীর কোন অংশ থাকবে না। [আহমাদ শরীফ : ২১২৬০]

কথিত অভিনয়কারীদের “তারকা” বলে সম্বোধন করা কুফরী।

 কথিত অভিনয়কারীদের “তারকা” বলে সম্বোধন করা কুফরী।



খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন “মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ছাহাবায়ে ক্বিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের প্রতি সন্তুষ্ট উনারাও মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি সন্তুষ্ট।” সুবহানাল্লাহ!


আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “আমার সকল ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা আকাশের তারকা সাদৃশ্য, উনাদের যে কাউকে কোনো ব্যক্তি উত্ততমভাবে অনুসরণ করবেন উনারা সকলেই হিদায়েত লাভ করবেন।” সুবহনাল্লাহ!


অর্থাৎ এই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাই হচ্ছেন একমাত্র আকাশের তারকার ন্যায়। কিন্তু বর্তমানে যে সকল সমাজচ্যুত অভিনেতা-অভিনেত্রী রয়েছে তাদেরকে ‘তারকা’ বলে সম্বোধন করা হয়। নাউযুবিল্লাহ!


আকাশের তারকার ন্যায় মূলত তিনিই হবেন যিনি হবেন অনুসরণীয়। যাঁকে অনুসরণ করার মাধ্যমে মানুষ নাজাত লাভ করবেন। কিন্তু যারা অনুসরণীয় নয় অর্থাৎ যাদেরকে অনুসরণ করার মাধ্যমে বর্তমানে মানুষ কুফরীর দিকে হারাম পথের দিকে ধাবিত হচ্ছে তারা কিভাবে আকাশের তারকার ন্যায় হতে পারে? যা চিন্তা করাটাও কুফরী হবে। সুতরাং সকলের উচিত হবে হক্বটা জেনে নাহক্ব থেকে বিরত থাকা।

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...