মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে, দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার পক্ষে এবং সন্ত্রাসবাদের বিপক্ষে ও ধর্মব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মহাসম্মানিত রাজারবাগ শরীফের কার্য্যক্রম
রাজারবাগ দরবার শরীফের সাথে সন্ত্রাসীদের আকাশ-পাতাল পার্থক্য:
কেউ যদি রাজারবাগ শরীফের সাথে সন্ত্রাসবাদী এক করে ফেলে তবে তা হবে ইতিহাসের নির্মম-নিষ্ঠুর এবং নিকৃষ্ট ভুল। কারণ সন্ত্রাসবাদী কাজের পদ্ধতি ও চিন্তাভাবনার সাথে রাজারবাগ শরীফের কাজের পদ্ধতি ও চিন্তাভাবনায় রয়েছে বিস্তর ফারাক। সন্ত্রাসবাদীদের কাজের ধরণ হলো- তারা মানুষকে হতাহত করে, ভীত সন্ত্রস্ত করে, অস্ত্র হাতে নিয়ে, হুমকি ধামকি দিয়ে, বোমাবাজি করে, ত্রাস সৃষ্টি করে, অর্থাৎ আইন অমান্য করে তাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা চালায়। কিন্তু রাজারবাগ শরীফের কাজের পদ্ধতি হলো, রাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, জনমত তৈরী করে, সংশোধন, পরিবর্তন ও পরিশুদ্ধকরণের মধ্য দিয়ে দ্বীন ইসলামী আইন-আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা। সন্ত্রাসবাদীদের সাথে রাজারবাগ শরীফের এখানেই মৌলিক পার্থক্য।
রাজারবাগ দরবার শরীফের কার্য-পদ্ধতি:
রাজারবাগ দরবার শরীফের পক্ষ থেকে যদি এ দেশে কোন ইসলামী আইনের প্রয়োজন অনুভব করা হয়, তখন প্রয়োজনের কথা রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, অধিদফতর বা কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়। তারপরও যদি কাজ না হয়, তখন মিডিয়ার মাধ্যমে জনমত তৈরী করা হয়, পত্রপত্রিকায় লেখালেখি করা হয়, প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়- যেন সরকার বুঝতে সক্ষম হয়, জনগণের আইনটি প্রয়োজন। এতে উদ্বুদ্ধ হয়ে সরকার যখন আইন তৈরীর কাজ শুরু করে, তখন সেই খসড়া আইন নিয়ে কোন কথা থাকলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি পাঠানো হয়, আইন বিয়োজন-সংযোজনের জন্য পরামর্শ দেয়া হয়। এরপরও আইনটি নিয়ে যদি কোন কথা থাকে, তবে আদালতের দারস্থ হয়ে আইনের ব্যাপারে আপত্তি সরকারকে জানানো হয়। অর্থাৎ সংবিধান অনুযায়ী আইনটির পরিবর্তন বা পরিশোধন চাওয়া হয়। পাশাপাশি কেউ ধর্মবিরোধী কোন অপরাধ করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
রাজারবাগ দরবার শরীফের কিছু কাজের উদাহরণ:
১) আখেরী নবী হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে কটূক্তির বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ড বিধান রেখে আইন পাশ করার জন্য রাজারবাগ শরীফ থেকে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি দেয়া হয়। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা না নেয়ায় পত্রিকায় লেখনীর মাধ্যমে জনমত তৈরী করা হয়, যেন জনগণ সরকারের প্রতি এ আইন প্রণয়নের ব্যাপারে দাবী তুলতে পারে। পাশাপাশি অনলাইনে আখেরী নবী হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে কটূক্তি অব্যাহত থাকায় কটূক্তি বন্ধে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করা হয়। এতে বিটিআরসি সচেতন হয়ে অনেক ধর্মবিদ্বেষী ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়। রিট নম্বর- ৯৬৬০/২০১৫।
২) ২০১৩ সালে নাস্তিক ব্লগারদের কেন্দ্র করে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো শাপলা চত্বরে ভাংচুর ও সহিংস কার্যক্রম চালালেও রাজারবাগ দরবার শরীফ তা থেকে বিরত থাকে। এর বদলে যে সকল নাস্তিক এসব অপকর্মের সাথে যুক্ত, তাদের দলিলভিত্তিক তালিকা তৈরী করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। সেই তালিকা নিয়েই পরবর্তীতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মিটিং করে এবং সেই সূত্র ধরে ধর্মবিদ্বেষী নাস্তিকদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবস্থা নেয়া হয়।
৩) পাঠ্যপুস্তকে ধর্মবিরোধী গল্প-কবিতার বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চিঠি পাঠানো হয়, যেন পাঠ্যপুস্তক বোর্ড পাঠ্যবইয়ের বিভিন্ন ধর্মবিরোধী কনটেন্ট সরিয়ে ফেলে। এরপর পাঠ্যপুস্তক বোর্ড পাঠ্যবই থেকে বেশ কিছু ধর্মবিরোধী গল্প-কবিতা সরিয়ে নেয়।
৪) ২০১৫ সালের পর কিছু ধর্মবিদ্বেষীদের উপর হামলা ও হত্যাযজ্ঞ চালায় উগ্রবাদী ও সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলো। বিশেষ করে, বইমেলার লেখক অভিজিৎ রায়কে হত্যা কিংবা জাফর ইকবালের উপর হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্য। কিন্তু রাজারবাগ দরবার শরীফ এ ধরনের হামলা-হত্যা না করে, রাষ্ট্রীয় আইন ব্যবহার করে ধর্মবিদ্বেষীদের বিরুদ্ধে রিট-মামলা দায়ের করে। যেমন- বইমেলায় নাস্তিক লেখক দ্বিয়ার্ষি আরাগ দিপুর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মেনশন করে রুল নেয়া এবং নিম্ন আদালতে মামলা করা। নাস্তিক লেখক তসলিমা নাসরিন, সুপ্রীতি ধর, সুচিষ্মিতা সিমন্তি ও অপু মন্ডলের বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করা ইত্যাদি।
৫) উগ্রবাদী গ্রুপগুলো বিভিন্ন সময় মূর্তি-ভাস্কর্য ভাংচুর করে থাকে। কিন্তু রাজারবাগ দরবার শরীফ এ ধর্মবিরোধী ভাস্কর্য সরিয়ে ফেলার জন্য ভাংচুরে না গিয়ে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করে। যেমন- ২০১৭ সালে হাইকোর্টে থেমিসের মূর্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ইসলামী দলগুলো সহিংস আন্দোলন করলেও রাজারবাগ দরবার শরীফ এসবে সমর্থন দেয়নি। বরং উচ্চ আদালত থেকে থেমিসের মূর্তি সরাতে রাজারবাগ দরবার শরীফের পক্ষ থেকে রিট দায়ের করা হয়েছিলো।
৬) ফ্রান্সে ইসলাম ধর্ম অবমাননার ঘটনায় অনেক উগ্রবাদী ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাও করে এবং হামলা-ভাংচুর চালানোর চেষ্টা চালায়। কিন্তু রাজারবাগ দরবার শরীফের কার্য্যক্রম ছিলো সম্পূর্ণ ভিন্ন। তারা নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ফান্স দূতাবাসে প্রতিবাদলিপি প্রেরণ করে এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি পাঠিয়ে বাংলাদেশ থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ফ্রান্সকে চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানায়। পাশাপাশি, বাংলাদেশের আইন মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠিয়ে বাংলাদেশেও ফ্রান্সের মত ধর্ম অবমাননার ঘটনা রুখতে আইন প্রণয়নের দাবী তুলে।
৭) পৃথিবীর অনেক দেশে উগ্রবাদীরা স্থানীয় পতিতালয়ে হামলা ও ভাংচুর চালিয়ে তা বন্ধ করতে চায়। কিন্তু রাজারবাগ দরবার শরীফ উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করে পতিতাদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে পতিতালয় বন্ধের জন্য কাজ করে। রিট নং- ১০৭৩৩/২০১৮ ।
৮) পৃথিবীর অনেক দেশে মসজিদ ভাঙ্গার ঘটনা থেকে সহিংস ঘটনার জন্ম হয়। কিন্তু রাজারবাগ দরবার শরীফ সহিংস ঘটনা দিয়ে নয়, বরং মসজিদ ভাঙ্গা রুখতে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করে। রিট নং- ৭২১২/২০১৮ ।
৯) ইসলামিক পারিবারিক আইনে বিয়ের জন্য কোন নির্দ্দিষ্ট বয়স নেই। তাই বাল্যবিয়ে বাধ্যতামূলক না হলেও ক্ষেত্র বিশেষে প্রয়োজন আছে। যে বিষয়টি নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য দিয়েছিলেন। (সূত্র: চ্যানেল২৪, ৭ই ডিসেম্বর, ২০১৬)। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী পুত্র শেখ সজীব ওয়াজেদ জয়ও ফেসবুক স্ট্যাটাসে বাল্যবিয়ের প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করে স্ট্যাটাস দেন। (৮ই ডিসেম্বর, ২০১৬)। রাজারবাগ দরবার শরীফ তাই সামাজিক ও ধর্মীয় দায়বদ্ধতা থেকেই বিয়ের জন্য বয়স নির্ধারণ করে দেয়ার বিপক্ষে অবস্থান নেয়। কিন্তু এজন্য কোন সহিংস ঘটনা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় আইনের মাধ্যমেই যেন বিষয়টি বিষয়টির ফয়সালা হয়, সে জন্য তারা বাল্যবিয়ের পক্ষে একটি রিট দায়ের করে। রিট নং- ২৪৭৭/২০২০ ।
১০) বাংলাদেশের রাষ্ট্রদ্বীন ইসলাম সংবিধান তুলে দেয়ার জন্য একদল রিট দায়ের করলে তার বিরুদ্ধে কথিত ইসলামী দলগুলো হরতাল, মিটিং মিছিল ও সহিংস ঘটনার হুমকি দেয়া শুরু করে। কিন্তু রাজারবাগ দরবার শরীফ সে পথে না গিয়ে ইন্টারভেনার হিসেবে সেই রিটে পার্টি হয়ে সংবিধানে রাষ্ট্রদ্বীন ইসলাম বহাল রাখা ও তাদের রিট আবেদনের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে। রিট নং- ১৪৩৪/১৯৮৮।
১১) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারীদের বোরকা পরায় বাধা দেয়ায় দেশের অনেক স্থানেই প্রতিবাদ ও সহিংস ঘটনার জন্ম হয়েছে। কিন্তু রাজারবাগ দরবার শরীফ নারীদের বোরকা পরার অধিকার চেয়ে এবং একই সাথে যেসব প্রতিষ্ঠান পর্দা করতে বাধা দেয় তাদের বিষয়ে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করে। এতে হাইকোর্ট রুল দেয়। রিট নং- ৫৪৪/২০১৯ ।
১২) পৃথিবীর অনেক দেশে ধর্মবিদ্বেষী কনটেন্ট থাকার কারণে সিনেমা পরিচালক বা অভিনেতাদের উপর হামলার ঘটনা ঘটায় উগ্রবাদীরা। কিন্তু রাজারবাগ দরবার শরীফ এক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় নিয়ম অনুযায়ীই ধর্মবিদ্বেষী সিনেমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। যেমন- ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া ‘ন ডরাই’ মুভি প্রদর্শন কেন নিষিদ্ধ করা হবে না, মুভিটির সেন্সর ছাড়পত্র কেন বাতিল করা হবে না এবং কমিক বই ‘ন ডরাই’ - এডভেঞ্চার অফ আয়েশা’ কেন বাজার থেকে প্রত্যাহার করা হবে না’ -এই মর্মে হাইকোর্টে রিট করা হয়। হাইকোর্ট রুল দেয়। রিট নং- ১৪২৬৮/২০১৯ ।
১৩) পৃথিবীর অনেক রাষ্ট্রেই জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের কিছু অংশ নিয়ে ধর্মীয় আলেমদের মধ্যে আপত্তি থাকায়, অনেকেই এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। কিন্তু রাজারবাগ দরবার শরীফ সহিংস ঘটনার মাধ্যমে নয়, বরং নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে মাদ্রাসাগুলোতে জাতীয় সংগীত গাওয়া বন্ধ করতে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করে।
১৪) বিপিএল-আইপিএল ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে সারা দেশজুড়ে জুয়া খেলার বিস্তার ঘটায় তা বন্ধ করতে প্রশাসন বরাবর জাস্টিজ ডিমান্ডিং নোটিশ পাঠায় রাজারবাগ দরবার শরীফ প্রতিনিধিরা।
১৫) দেশজুড়ে উচ্চস্বরে গান-বাজনা বন্ধ করতে প্রশাসনের কাছে জাস্টিজ ডিমান্ডিং নোটিশ পাঠানো হয়।
১৬) পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসাগুলোতে অনৈসলামিক কাজ করতে বাধ্য করার বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে প্রশাসনের কাছে জাস্টিজ ডিমান্ডিং নোটিশ পাঠানো হয় এবং উচ্চ আদালতে রিট করা হয়।
১৭) ফ্ল্যাট বাড়িতে কোরবানীকে বাধাগ্রস্ত করার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করা হয়।
১৮) বিদেশী পতাকা উড়িয়ে দেশী পতাকার অবমাননার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করা হয়।
১৯) পবিত্র কোরবানীর পশুর চামড়া মাদ্রাসার ইয়াতিমদের হক্ব। কিন্তু সেই চামড়া এলাকার সন্ত্রাসীরা কেড়ে নিয়ে যায়। এ অপকর্মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ কর্তাব্যক্তিদের বরাবর চিঠি পাঠানো হয়।
২০) জাতীয়ভাবে জাঁকজমক ও শান শওকতের সাথে পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করতে দাবী জানিয়ে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বরাবর চিঠি পাঠানো হয়।
এরকম আরো শতাধিক উদহারণ আছে।
সর্বোপরি রাজারবাগ দরবার শরীফ হচ্ছে, ত্বরিকতপন্থী ইলমে তাসাউফ বা অন্তর পরিশুদ্ধকরণের দরবার শরীফ। মূলত দ্বীন ইসলামের প্রচার প্রসার হয়েছে পীর সাহেব বা সূফী সাধকগণের অন্তর পরিশুদ্ধকরণ কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে। কারণ একটি মানুষের অন্তর যখন পরিশুদ্ধ হয়ে যায়, তখন সে স্বাভাবিকভাবে মন্দ কাজ হতে ফিরে আসে এবং ভালো কাজ গ্রহণ করে। তাই সুফী-পীর সাহেবগণ যখন দ্বীন ইসলামের প্রচার করেছেন, তখন তাদের বোমাবাজি আর সন্ত্রাসের দরকার হয়নি। কিন্তু যে সব তথাকথিত ইসলামপন্থীরা তরিক্বত বা ইলমে তাসাউফ বিশ্বাস করে না, তাদের কাছে অপরকে শুদ্ধ করার জন্য সন্ত্রাসবাদ তথা শক্তি প্রয়োগ ভিন্ন অন্য কোন পদ্ধতি অবশিষ্ট থাকে না। কারণ অপরের অন্তর পরিশুদ্ধের জ্ঞান তাদের কাছেই নেই। এ কারণে ঐ সমস্ত দলগুলো ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে অস্ত্র ও গায়ের শক্তি ব্যবহার করে। তখনই তৈরী হয় সন্ত্রাসবাদ। এজন্য এখন পর্যন্ত দেশ-বিদেশে যারা সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রমে ধরা পড়েছে, তারা সবাই তাসাউফ বিরোধী সালাফী বা আহলে হাদীস দলের লোক, যারা ইলমে তাসাউফ বা তরিক্বতপন্থীদের বিরুদ্ধে। অপরদিকে সুফী বা তরিক্বত ও তাসাউফপন্থী কোন লোক কখনই সন্ত্রাসবাদী বা সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ধরা পড়ে নাই। বরং কোন অঞ্চলে তাসাউফ চর্চার বিস্তার ঘটলে সেখানে সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণরূপে দূরীভূত হতে দেখা যায়।
(প্রেস বিজ্ঞপ্তি- রাজারবাগ দরবার শরীফ)