পৃথিবীর সমস্ত মুসলমানদের উচিত- বেশি বেশি করে তওবা করা এবং বিধর্মীদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা।
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি তওবাকারীকে মুহব্বত করেন।” সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “গুনাহ থেকে তওবাকারী ব্যক্তি যেন কোনো গুনাই করেননি।” সুবহানাল্লাহ!
এজন্য পৃথিবীর সমস্ত মুসলমানদের উচিত বেশি বেশি করে তওবা করা।
মুসলমানদের আরেকটি করণীয় আবশ্যকীয় কাজ হচ্ছে- কাফির-মুশরিক, বেদ্বীন-বদদ্বীনদের সাথে সম্পর্ক না রাখা। তাদেরকে মুহব্বত না করা, তাদের অনুসরণ, অনুকরণ না করা, তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা। কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- “যে যাকে মুহব্বত করবে তার সাথেই তার হাশর-নশর হবে।”
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে- “যে ব্যক্তি যার সাথে সম্পর্ক রাখবে, সাদৃশ্য ও মিল রাখবে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।”
অতএব, বুঝে শুনে মুসলমানদের সম্পর্ক গড়ে তোলা উচিত। বুঝে শুনে কাউকে মুহব্বত করা উচিত এবং চিন্তা ফিকির করে কাউকে অনুসরণ করা উচিত। কারণ মুহব্বত ও অনুসরণ এ দুটি বিষয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কাফির-মুশরিকদের মুহব্বত করলে, অনুসরণ করলে কাফির-মুশরিদের সাথেই হাশর-নশর হবে। নাউযুবিল্লাহ!
আর যদি কেউ মু’মিন, মুসলমান ওলীআল্লাহ উনাদেরকে মুহব্বত করে, উনাদেরকে অনুসরণ করে তবে মু’মিন-মুসলমান ও ওলীআল্লাহ উনাদের সাথেই তার হাশর-নশর হবে। উনাদের সাথেই জান্নাতে যাবে। সুবহানাল্লাহ!
কেউ যদি কাফির-মুশরিকদের সাথে সম্পর্ক রাখে তাহলে তার ধ্বংস অনিবার্য। কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে যে হযরত ইউশা বিন নূন আলাইহিস সালাম উনার উম্মত-এর মধ্যে যারা উনার কথা শুনেনি। উনাকে এবং মহান আল্লাহ পাক উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে যারা মানেনি মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদেরকে ধ্বংস করে দিতে চাইলেন এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন হে হযরত ইউশা বিন নুন আলাইহিস সালাম। আমি আপনার উম্মতের ১ লক্ষ লোককে আযাব-গযব দিয়ে ধ্বংস করে দিবো। তখন হযরত ইউশা বিন নূন আলাইহিস সালাম তিনি বলেন- আয় আল্লাহ পাক! আমার উম্মতের মধ্যে ৬০ হাজার লোক নাফরমানী করেছে, কুফরী করেছে তাহলে বাকী ৪০ হাজার লোককে কোন কারণে ধ্বংস করা হবে? তখন খালিক্ব-মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন- বাকি ৪০ হাজার লোক নাফরমান, কাফির ৬০ হাজার লোকের সাথে সম্পর্ক রেখেছে, তাদের সাথে উঠা-বসা করেছে, এজন্য ৬০ হাজারের সাথে বাকি ৪০ হাজারকেও ধ্বংস করা হবে। নাউযুবিল্লাহ!
এখন চিন্তা ও ফিকিরের বিষয়, তাহলে বর্তমান বিশ্বে কাফির-মুশরিকদের সাথে যারা উঠাবসা করছে, মিল-মুহব্বত রাখছে, তাদের অবস্থা কি হবে? অবশ্যই তারা হযরত ইউশা বিন নূন আলাইহিস সালাম উনার উম্মতদের মতো ধ্বংস হয়ে যাবে। নাউযুবিল্লাহ! তাই বুদ্ধিমানদের কাজ হবে ধ্বংস হওয়ার পূর্বেই কাফির-মুশরিকদের সাথে উঠাবসা করা থেকে বিরত থাকা।
সম্মানিত মুসলমানদের জন্য আরেকটি করণীয় কাজ হচ্ছে- যারা খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, সম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের ও হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের ব্যাপারে চু-চেরা ক্বিল-ক্বাল করে থাকে, উনাদের শান-মান সম্পর্কে এলো-মেলো কথা বলে, উনাদের ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করে ও করতে চায়, পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ যালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করতে চায়, মুসলমানদের শহীদ করে ও করতে চায় এদের বিরুদ্ধে কঠিন বদ-দোয়া করা। যেমন বদ-দোয়া করেছিলেন হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি।
পবিত্র সূরা ফীল শরীফ উনার শানে নুযুলে বর্ণিত রয়েছে- আবরাহা এসেছিলো পবিত্র কা’বা শরীফ ধ্বংস করার জন্য। নাউযুবিল্লাহ! পবিত্র কা’বা শরীফ উনার দেখা-শুনা, রক্ষণা-বেক্ষণের দায়িত্ব ছিল হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপরে। হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দেখলেন আবরাহার মুকাবিলা করা সম্ভব না। কারণ আবরাহা হঠাৎ করে এসেছে। তাই তিনি পবিত্র মক্কা শরীফ থেকে পার্শ্ববর্তী পাহাড়ের কিনারায় অবস্থান মুবারক করলেন। তবে যাওয়ার আগে তিনি পবিত্র কা’বা শরীফ উনার গিলাফ মুবারক ধরে বদ-দোয়া করেছিলেন- আয় আল্লাহ পাক! আমাদের যুদ্ধের প্রস্তুতি নেই, আর এমন প্রস্তুতি গ্রহণ করাও সম্ভব হচ্ছে না, যা দিয়ে আবরাহার মুকাবিলা করি।
আয় মহান আল্লাহ পাক! পবিত্র কা’বা শরীফ উনার মালিক আপনি। সুতরাং আপনিই পবিত্র কা’বা শরীফ হিফাযত করুন। ইত্যাদি দোয়া করে তিনি চলে গেলেন।
যখন আবরাহা পবিত্র কা’বা শরীফ ধ্বংস করার জন্য আসলো, মহান আল্লাহ পাক তিনি আবাবীল নাম ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি পাঠিয়ে আবরাহার হস্তি বাহিনীসহ সবাইকে ধ্বংস করে দিলেন। সুবহানাল্লাহ!
তাই আমাদেরকেও হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণে তাবত কাফির-মুশরিকদের বিরুদ্ধে বদ-দোয়া করতে হবে।
