Saturday, July 11, 2020

আপনি মুসলমান? তাহলেতো শরীয়ত মুতাবিক চলতে হবে।

আপনি মুসলমান? তাহলেতো শরীয়ত মুতাবিক চলতে হবে।

📿📿📿📿📿📿📿📿📿📿📿📿📿📿

হ্যাঁ, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না, যখন আপনি নিজেকে একজন মুসলমান বলে দাবি করবেন তখন আপনাকে প্রথমেই ভাবতে হবে- আপনি কেন সৃষ্টি হলেন? আপনাকে কেন সৃষ্টি করা হলো? আপনার নিজের প্রতি কি দায়িত্ব? আপনার স্বজাতির প্রতি আপনার কি দায়িত্ব? আপনাকে আরো ভাবতে হবে- আপনি প্রতিনিয়ত কতটুকু পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানিত্বের উপর রয়েছেন? আপনাকে ফিকির করতে হবে- আপনার কোনো কাজ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের ব্যাতিক্রম হয়ে যাচ্ছে নাতো? আপনাকে এটাও জানতে হবে- হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা কি করতেন, উনাদের আদর্শ মুবারক কি ছিলো? উনাদের ত্যাগ- আত্মত্যাগ কেমন ছিলো। এসব ভেবে নিজেই নিজেকে পরখ করে দেখতে হবে যে, আপনি নিজে কতটুকু সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার দ্বারা সুশোভিত হচ্ছেন।
কারণ একজন মুসলমান যখন সাক্ষ্য দিবে পবিত্র কালেমা শরীফ উনার, তখন তাকে ইচ্ছা অনিচ্ছায় পবিত্র তাওহীদ এবং রিসালত শরীফ উনাদের খিলাফ কোনো কাজ করা যাবে না। পবিত্র তাওহীদ উনার বিপরীতে মুশরিকী কাজে নিজেকে নিয়োজিত করা যাবে না। পবিত্র রিসালত শরীফ উনার আদর্শ মুবারকের বিপরীতে কোনো নিয়মনীতি মতবাদ অনুসরণ করা যাবে না। সর্বাবস্থায় সম্মানিত সুন্নত মুবারক দ্বারা নিজেকে পরিচালিত করতে হবে। বিদয়াত ব্শেরাকে কঠোরভাবে বর্জন করতে হবে। কাফির, মুশরিক, মুনাফিকদের সাথে চলাচল উঠাবসায় খুবই সতর্ক সচেতন থাকতে হবে। আর এগুলোর মূলভিত্তি হলো- তাকওয়া বা আল্লাহভীতি। সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি ভয় রেখে আর উনার দয়া করুণার উপর ভরসা করেই সমস্ত আমল করতে হবে। তাহলে অসচেতনভাবেও কাফির-মুশরিকরা মুসলমানদেরকে গুমরাহ করতে পারবে না। বাস্তবিক জীবনে আমরা মুসলমান হিসেবে কতটুকু এমন ভাবনার মধ্যে আছি তা চিন্তা ফিকির করতে হবে।

যে জাতি বা গোষ্ঠী দ্বীন ইসলাম উনার সম্মানিত শরীয়তের খিলাফ অশ্লীল, অশালীন কাজে লিপ্ত হবে- সে জাতির উপর মহামারীসহ ৫টি খোদায়ী আযাব-গযব আপতিত হবে।

যে জাতি বা গোষ্ঠী দ্বীন ইসলাম উনার সম্মানিত শরীয়তের খিলাফ অশ্লীল, অশালীন কাজে লিপ্ত হবে- সে জাতির উপর মহামারীসহ ৫টি খোদায়ী আযাব-গযব আপতিত হবে।
🕳️🕳️🕳️🕳️🕳️🕳️🕳️🕳️🕳️🕳️🕳️🕳️🕳️🕳️🕳️

ছিহাহ সিত্তাহ উনার অন্যতম বিশুদ্ধ পবিত্র হাদীছ শরীফ গ্রন্থ “ইবনে মাজাহ শরীফ” ৪০১৯ নং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে-
عَن حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ: أَقْبَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا مَعْشَرَ الْمُهَاجِرِينَ خَمْسٌ إِذَا ابْتُلِيتُمْ بِهِنَّ وَأَعُوذُ بِاللهِ أَنْ تُدْرِكُوهُنَّ لَمْ تَظْهَرِ الْفَاحِشَةُ فِى قَوْمٍ قَطُّ حَتَّى يُعْلِنُوا بِهَا إِلاَّ فَشَا فِيهِمُ الطَّاعُونُ وَالأَوْجَاعُ الَّتِى لَمْ تَكُنْ مَضَتْ فِى أَسْلاَفِهِمُ الِّذِينَ مَضَوْا وَلَمْ يَنْقُصُوا الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ إِلاَّ أُخِذُوا بِالسِّنِينَ وَشِدَّةِ الْمَؤُنَةِ وَجَوْرِ السُّلْطَانِ عَلَيْهِمْ وَلَمْ يَمْنَعُوا زَكَاةَ أَمْوَالِهِمْ إِلاَّ مُنِعُوا الْقَطْرَ مِنَ السَّمَاءِ وَلَوْلاَ الْبَهَائِمُ لَمْ يُمْطَرُوا وَلَمْ يَنْقُضُوا عَهْدَ اللهِ وَعَهْدَ رَسُولِهِ إِلاَّ سَلَّطَ اللهُ عَلَيْهِمْ عَدُوًّا مِنْ غَيْرِهِمْ فَأَخَذُوا بَعْضَ مَا فِى أَيْدِيهِمْ وَمَا لَمْ تَحْكُمْ أَئِمَّتُهُمْ بِكِتَابِ اللهِ وَيَتَخَيَّرُوا مِمَّا أَنْزَلَ اللهُ إِلاَّ جَعَلَ اللهُ بَأْسَهُمْ بَيْنَهُمْ
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বর্ণনা করেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদের মাঝে পবিত্রতম তাশরীফ মুবারক নিয়ে আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করেন যে, “হে হযরত মুহাজির ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুম! (আপনারা জেনে রাখুন) পাঁচটি কর্ম এমন রয়েছে, যাতে আপনারা লিপ্ত হয়ে পড়লে তথা আমার উম্মতের মধ্যে কেউ যদি উক্ত ৫টি কাজের মধ্যে লিপ্ত হয়, তাহলে তাদেরকে কঠিন আযাব-গযব তথা শাস্তি গ্রাস করবে অর্থাৎ তাদের উপর কঠিন আযাব-গযব তথা শাস্তি নিপতিত হবে। নাউযুবিল্লাহ! আমি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট পানাহ চাই, যাতে তোমরা তা প্রত্যক্ষ কর। (অর্থাৎ তা থেকে তোমরা বিরত থাকো যাতে করে তোমাদের দ্বারা উক্ত কাজগুলো সংঘটিত না হয়)।
 উক্ত ৫টি কর্ম হলো:-
(১) যখনই কোন জাতি বা গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপকহারে অশ্লীলতা তথা ব্যভিচার-অনাচার প্রকাশ্যভাবে সংঘটিত হবে, তখনই সেই জাতির উপর প্লেগ রোগ এবং মহামারী এমন ব্যাপকহারে দেখা দিবে, যা তাদের পূর্বপুরুষদের উপরেও কখনই আপতিত হয়নি। নাউযুবিল্লাহ!
(২) যে জাতি- মাপে ও ওজনে কম দেবে, সে জাতির উপর কঠিন দুর্ভিক্ষ, কঠিন খাদ্য-সংকট এবং দুনিয়াদার গোমরাহ শাসকগোষ্ঠীর যুলূম নির্যাতন ও অত্যাচারের শিকার হবে। নাউযুবিল্লাহ!
(৩) যে জাতি- তার মালের পবিত্র যাকাত দেওয়া বন্ধ করবে, সে জাতির উপরও শাস্তিস্বরুপ আকাশ হতে বৃষ্টি বন্ধ করে দেওয়া হবে। যদি অন্যান্য প্রাণীকুল না থাকতো, তাহলে তাদের জন্য আদৌ বৃষ্টি হতো না। নাউযুবিল্লাহ!
(৪) যে জাতি- যিনি খালিক্ব যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পবিত্রতম ওয়াদা তথা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবে অর্থাৎ যিনি খালিক্ব যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের এবং মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের পবিত্রতম শান-মান মর্যাদা-মর্তবা মুবারক উনার খিলাফ করবে- সে জাতির উপরেও তাদের বিজাতীয় তথা বেদ্বীন-বদদ্বীন শত্রুদলকে ক্ষমতাসীন করা হবে; যারা তাদের মালিকানাভুক্ত বহু ধন-সম্পদ নিজেদের কুক্ষিগত করে নিবে। তথা তাদের উপর সীমাহীন যুলূম নির্যাতন করবে। নাউযুবিল্লাহ!
(৫) আর যে জাতির শাসকগোষ্ঠী যতক্ষণ পর্যন্ত না- যিনি খালিক্ব যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্রতম কিতাব তথা পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ অনুযায়ী দেশ শাসন করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত যিনি খালিক্ব যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ঐ জাতির মাঝে কঠিন শাস্তি নাযিল করবেন, অর্থাৎ সমগ্র জাতিকে আযাব গযবে নিপতিত রাখবেন ।” নাউযুবিল্লাহ! (ইবনে মাজাহ পৃষ্ঠা-৩০০ বাবুল উক্বুবাত, ছহীহ তারগীব, বাইহাকী)
কাজেই উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ এবং পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের খিলাফ তথা সম্মানিত শরীয়ত বিরোধী কার্য্যকলাপ যথা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম শান মুবারকে, পবিত্রতম হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের পবিত্রতম শান মুবারকে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করা, ব্যঙ্গ চিত্র অংকন করা, সিনেমা প্রকাশ করা, নোবেল নাটক প্রকাশ করা, কুরুচিপূর্ণ লেখা প্রকাশ করা, বাল্য বিবাহ দন্ডনীয় অপরাধ এই মর্মে আইন প্রনয়নের কারণে এবং পবিত্র কুরআন শরীফ পরিবর্তন করার ঘোষণা দেয়া, পবিত্র মসজিদ-মাদরাসা বন্ধ করা, হিজাব বা বোরকা পড়া নিষিদ্ধ করা, মুসলমানদের শেয়ার তথা দাড়ি, টুপি, পাগড়ি, মসজিদে আযান, নামাযে বাধা, পবিত্র কুরবানীতে বাধা প্রদানসহ সম্মানিত মুসলমান ও ইসলাম নিধন করার ঘোষণা দেয়ার কারণে তৎসঙ্গে বিশ্ব সমাজে প্রকাশ্যে ব্যাপকহারে ব্যভিচার-অনাচার, বেপর্দা, বেহায়া, নাচ, গান, সুদ, ঘুষ, ছবি আকা-তোলা ইত্যাদি অশ্লীল-অশালীন কাজে জড়িয়ে পড়ার কারণেই কাফের-মুশরিকদের উপর কঠিনভাবে করোনাসহ আরো কোটি কোটি আযাব-গযব আপতিত হচ্ছে এবং হতেই থাকবে। এটা সম্মানিত মুসলমানদের জন্য নয়। তাই বাংলাদেশের করোনা ভাইরাস এটা একটা মহাগুজব। অতএব, এই অবস্থায় মুসলমানদের উচিত খালিছভাবে তওবা-ইস্তেগফার করে যামানার যিনি খাছ লক্ষস্থল, আখাচ্ছুল খাছ আহলু বাইতে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার পবিত্রতম ক্বদম মুবারকে আশ্রয় গ্রহণ করে ইহকালীন ও পরকালীন সমস্ত আযাব-গযব থেকে মুক্তি লাভের কোশেষ করা।
 করোনা মহাগযব সহ সমস্ত প্রকার আযাব-গযব মহামারী থেকে মুক্তি লাভের জন্য মুসলমানদের প্রতি মহাপবিত্রতম মুবারক ফরমান শরীফ:
সর্বকালের, সর্বযুগের, সর্বশ্রেষ্ঠ মুজাদ্দিদ, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে অনেকেই নানা ধরণের তথ্য প্রচার করছে। যা নিয়ে অনেকেই অহেতুক আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলমানদের করণীয় হলো, করোনা ভাইরাসসহ সকল প্রকার আযাব-গযব থেকে বাঁচতে হলে, মুক্তি লাভ করতে হলে খালিছ তওবা-ইস্তেগফার করে পবিত্র মসজিদে মসজিদে, মাদরাসায় মাদরাসায়, প্রতিটি বাড়ীতে বাড়ীতে বেশী বেশী পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ করতে হবে এবং পবিত্র সুন্নতী খাবার-খাদ্য খেতে হবে। কারণ পবিত্র সুন্নতী খাদ্য- খাবার সমূহে আছে বে-মেছাল রহমত, বরকত, ছাকীনা ও নাজাত যা শক্তিশালী রোগপ্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার থেকে জানা যায়, সম্মানিত সিরকা, কালোজিরা, মধু, ত্বীন, যায়তুন, খেজুর ইত্যাদি মহাসম্মানিত সুন্নতী খাদ্যসমূহ সর্বপ্রকার অসুখ-বিসুখ, রোগ-বালাই ধ্বংস করে, প্রতিরোধ করে এবং পরিপূর্ণভাবে শিফা দান করে। সুবহানাল্লাহ!

ইসলাম উনার দৃষ্টিতে ছোঁয়াচে রোগে বিশ্বাস রাখা হারাম ও শিরকের অন্তর্ভূক্ত

একটি দলীলভিত্তিক পর্যালোচনা: পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে ছোঁয়াচে রোগে বিশ্বাস রাখা হারাম ও শিরকের অন্তর্ভূক্ত
 
বর্তমান সময়ে করোনা নামক গজবকে কেন্দ্র করে মুসখাজালমান নামধারী কিছু মানুষ ছোঁয়াচে রোগের কথা সমাজে খুব প্রচার করছে। এরা ছোঁয়াচে রোগের কথা বলে পবিত্র মসজিদ উনার নামায বন্ধের মত কাজও করে যাচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ। তাদের এই ঈমান ধ্বংসী ফতোয়াতে বিভ্রান্ত হয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ ঈমান নষ্ট করছে। নাউযুবিল্লাহ। তাই মুসলমান উনাদের এ বিষয়ে কি আক্বীদা থাকা দরকার সে বিষয়ে পবিত্র শরীয়ত কি বলে সে বিষয়ে আলোকপাত করা হলো।

ছোঁয়াচে রোগ বিষয়ে মুসলমানদের মৌলিক যে আক্বীদা রাখতে হবে:

وَقَالَ عَفَّانُ حَدَّثَنَا سَلِيمُ بْنُ حَيَّانَ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مِينَاءَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُوْلُ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لاَ عَدْوى وَلاَ طِيَرَةَ وَلاَ هَامَةَ وَلاَ صَفَرَ.
হযরত আবু হুরায়রাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, ছোঁয়াচে বলে কোন রোগ নেই, কুলক্ষণ বলে কিছু নেই, পেঁচা অশুভের লক্ষণ নয়, ছফর মাসে কোন অশুভ নেই। (বুখারী শরীফ ৫৭০৭, বুখারী শরীফ ৫৭১৭, মুসলিম শরীফ ৫৯২০, ইবনে মাজাহ ৮৬, মুসনাদে আহমদ ১৫৫৪, সহীহ ইবনে হিব্বান ৫৮২৬, মুসনাদে বাযযার ৭১৪৭, মুসনাদে তয়লাসী ২০৭৩, সুনানে কুবরা নাসাঈ ৯২৩২, মুসনাদে আবু ইয়ালা ৭৯৮, সুনানে কুবরা বায়হাকী ১৪৬১৯)

হযরত সা’দ ইবনু মালিক রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ ‏ "‏ لاَ هَامَةَ وَلاَ عَدْوَى وَلاَ طِيَرَةَ 
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, পেঁচা অশুভ নয়, ছোঁয়াচে রোগ নেই এবং কোন জিনিস অশুভ হওয়া ভিত্তিহীন। (আবু দাউদ শরীফ ৩৯২১, ৩৯১৬, ৩৯১২ )

উপরোক্ত ছহীহ হাদীছ শরীফ থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, দ্বীন ইসলামে ছোঁয়াচে রোগের কোন অস্তিত্ব নেই। কারন স্বয়ং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছোঁয়াচে রোগ বলে কোন রোগ না থাকার বিষয়কে স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

 সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগে বিশ্বাস করা মানে এটা বিশ্বাস করা রোগের নিজস্ব ক্ষমতা আছে, নিজ ক্ষমতায় রোগ কারো উপর সংক্রমন করতে পারে। যা স্পষ্ট শিরক। রোগ দেয়ার মালিক মহান আল্লাহ পাক। এরপরও কেউ যদি ছোঁয়াচে রোগের কথা বিশ্বাস করে সে তাহলে এ বিষয়ে মৌলিক আক্বীদা থেকে বিচ্যুৎ হয়ে পথভ্রষ্ট হিসাবে চিহিৃত হবে। কারন পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার কোন একটা বিষয়ে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা করা হলে কেউ সেটা অস্বীকার করলে কুফরী হবে।

ছোঁয়াচে রোগে বিশ্বাস করা জাহেলী যুগের বৈশিষ্ট:

এ বিষয়ে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বলা হয়েছে,

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ أَرْبَعٌ فِي أُمَّتِي مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ لَنْ يَدَعَهُنَّ النَّاسُ النِّيَاحَةُ وَالطَّعْنُ فِي الأَحْسَابِ وَالْعَدْوَى أَجْرَبَ بَعِيرٌ فَأَجْرَبَ مِائَةَ بَعِيرٍ مَنْ أَجْرَبَ الْبَعِيرَ الأَوَّلَ وَالأَنْوَاءُ مُطِرْنَا بِنَوْءِ كَذَا وَكَذَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ ‏.‏

হযরত আবূ হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, আমার উম্মতের মাঝে জাহিলী যুগের চারটি বিষয় আছে। তারা কখনও এগুলো (পুরোপুরি) ছাড়তে পারে না: মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ সহকারে ক্রন্দন করা, বংশ তুলে গালি দেওয়া, ছোঁয়াচে রোগ সংক্রমিত হওয়ার ধারণা করা, যেমন একটি উট সংক্রমিত হলে একশ’টি উটে তা সংক্রমিত হওয়া। কিন্তু প্রশ্ন হলো, প্রথমটি কিভাবে সংক্রমিত হল? আর নক্ষত্রের প্রভাব মান্য করা অর্থাৎ অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের উপর বৃষ্টি হলো। নাউযুবিল্লাহ। (তিরমিযী শরীফ ১০০১)

জাহিলী যুগের বৈশিষ্ট সমূহের একটা বৈশিষ্ট হচ্ছে ছোঁয়াচে রোগের প্রতি বিশ্বাস রাখা। সূতরাং পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে প্রমাণ হলো, ছোঁয়াচে রোগের প্রতি বিশ্বাস রাখা মু’মিনদের আক্বীদা না বরং জাহেলী যুগের আক্বীদা। তাই যারা আজ ছোঁয়াচে রোগের কথা বিশ্বাস করে এবং এ আক্বীদা প্রচার করে তারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ভবিষ্যৎবানী অনুযায়ী জাহেলী যুগের বৈশিষ্ট বহন করছে।

জাহিলী যুগের ছোঁয়াচে রোগের বদ আক্বীদা রোধ করার জন্য ‘ছোঁয়াচে বলে কোন রোগ নেই’ এই হাদীছ শরীফ উনার অবতারনা:

হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বলা হয়েছে, لاَ عَدْوى বা ছোঁয়াচে বলে কোন রোগ নেই। অর্থাৎ কোন রোগের নিজস্ব এ ক্ষমতা নেই যে, কাউকে সংক্রমণ করবে। মহান আল্লাহ উনার তরফ থেকে রোগ আসে এর শিফাও মহান আল্লাহ পাক তিনিই দিয়ে থাকেন। রোগের নিজস্ব কোন ক্ষমতা নেই যে, সে কোন প্রাণীকে সংক্রমিত করবে। 

‘ছোঁয়াচে বলে কোন রোগ নেই’ এ পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা জাহিলী যুগের সেই বিশ্বাসকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে যে, জাহিলী যুগে লোকেরা বিশ্বাস করতো রোগীর সংস্পর্শে থাকলে রোগ তার নিজস্ব ক্ষমতায় অন্যের দেহে চলে আসে। অথচ রোগের সংক্রমণ করার ক্ষমতাকে বিশ্বাস করা শিরক ও কুফরী বিশ্বাস। সেই কুফরী বিশ্বাসকে এ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মাধ্যমে বাতিল করা হয়েছে। বিখ্যাত মুহাদ্দিছ হযরত ইমাম বায়হাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সুনানে কুবরা বায়হাকীতে ছোঁয়াচে রোগের আলোচনা করতে গিয়ে একটা অধ্যায়ের শিরোনামে বিষয়টা স্পষ্ট করেছেন, 

باب‏:‏ لاَ عَدْوَى عَلَى الْوَجْهِ الَّذِى كَانُوا فِى الْجَاهِلِيَّةِ يَعْتَقِدُونَهُ مِنْ إِضَافَةِ الْفِعْلِ إِلَى غَيْرِ اللَّهِ تَعَالَى

“অধ্যায়: ছোঁয়াচে বলে কোন রোগ নেই এই নিষেধাজ্ঞা হচ্ছে জাহিলী যুগের মানুষের আক্বীদার কারণে। তারা এটা গাইরুল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করতো।” [অর্থাৎ তাদের ধারণা ছিলো রোগ ব্যধির নিজস্ব ক্ষমতা রয়েছে যে কারণে কোন সুস্থ মানুষ কোন রোগীর সংস্পর্শে গেলে সেও সংক্রমিত হবে। তাদের এ শিরকি আক্বীদা রদ করতে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিষয়টা স্পষ্ট করে দিয়েছেন ছোঁয়াচে বলে কোন রোগ নেই] (সুনানে কুবরা বায়হাকী ৭ম খন্ড ৩৫১ পৃষ্ঠা, প্রকাশনা দারু কুতুব আল ইলমিয়া, বৈরূত লেবানন)

যে কারণে আমরা দেখতে পাই, পরবর্তীতে এ প্রসঙ্গে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনারা সুওয়াল জিজ্ঞাসা করেছেন যাতে আমরা এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা অর্জন করতে পারি ও বিশুদ্ধ আক্বীদা পোষণ করতে পারি। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে,

أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ إِنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لاَ عَدْوى وَلاَ صَفَرَ وَلاَ هَامَةَ فَقَالَ أَعْرَابِيٌّ يَا رَسُوْلَ اللهِ فَمَا بَالُ إِبِلِي تَكُونُ فِي الرَّمْلِ كَأَنَّهَا الظِّبَاءُ فَيَأْتِي الْبَعِيرُ الأَجْرَبُ فَيَدْخُلُ بَيْنَهَا فَيُجْرِبُهَا فَقَالَ فَمَنْ أَعْدَى الأَوَّلَ.

হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ছোঁয়াচে বলে কোন রোগ নেই, ছফর মাস উনার কোন অশুভ আলামত নেই, পেঁচার মধ্যেও কোন অশুভ আলামত নেই। তখন এক বেদুঈন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনি সাল্লাম! তাহলে আমার এ উটের এ অবস্থা কেন হয়? সেগুলো যখন চারণ ভূমিতে থাকে তখন সেগুলো যেন মুক্ত হরিণের পাল। এমন অবস্থায় চর্মরোগাগ্রস্থ উট এসে সেগুলোর পালে ঢুকে পড়ে এবং এগুলোকেও চর্মরোগে আক্রান্ত করে ফেলে। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, তাহলে প্রথমটিকে চর্ম রোগাক্রান্ত কে করেছে? (বুখারী শরীফ ৫৭১৭, মুসলিম শরীফ ২২২০)

এ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মাধ্যমে আক্বীদা স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে। কেউ যাতে কোনভাবেই ছোঁয়াচে রোগে বিশ্বাস না করে সেটা পরিষ্কার করে দেয়া হয়েছে। কারন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার প্রথমেই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ফয়সালা মুবারক করেছেন ‘ছোঁয়াচে বলে কোন রোগ নেই’। এরপর যখন উনাকে চর্মরোগে আক্রান্ত উটের সাথে অন্য উট রাখার কারণে তাদের মধ্যেও কিছু উটের চর্মরোগ হওয়ার বিষয়টা বলা হলো তখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ‘ছোঁয়াচে বলে কোন রোগ নেই’ এটা আরো স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিতে গিয়ে বলেছেন, প্রথম উটটি যেভাবে আক্রান্ত হয়ে এগুলোও সেভাবে হয়েছে। অর্থাৎ প্রথম উট কারো সংস্পর্শ ছাড়া যেভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার প্রদত্ত রোগে আক্রান্ত হয়েছে অন্য উটও সেভাবে রোগাক্রান্ত হয়েছে, কোন ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত হয়নি। কেননা ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত হওয়ার বিন্দুমাত্রও যদি কোন কারণ থাকতো (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক) তাহলে সেটা উল্লেখ করা হতো চর্মরোগে আক্রান্ত উট বিষয়ক সুওয়ালে। কিন্তু এ ধরনের জাহিলী আক্বীদার দরজা বন্ধ করার জন্য স্পষ্ট করে অন্য উটগুলো কিভাবে আক্রান্ত হলো তার কারণও সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলে দিলেন। আর এটাই আক্বীদা ও ঈমান। এর ব্যতিক্রম আক্বীদা রাখলে সে স্পষ্ট শিরক করবে। নাউযুবিল্লাহ।

বিগত পর্বের আলোচনা থেকে আমরা জানতে পেরেছি পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার আক্বীদা হচ্ছে ছোঁয়াচে বলে কোন রোগ নেই। সেই সাথে ছোঁয়াচে রোগের বিশ্বাস রাখা হচ্ছে জাহিলী যুগের বৈশিষ্ট। কিন্তু বিভ্রান্ত বদ আক্বীদাধারী কিছুলোক স্পষ্ট দলীল থাকার পরও ছোঁয়াচে রোগ প্রমাণ করার জন্য বিভিন্ন দলীলের অবতারনা করে। উল্লেখ্য, যেহেতু পবিত্র বিশুদ্ধ রেওয়ায়েত দ্বারা স্পষ্ট শব্দে প্রমাণিত হচ্ছে হয়েছে, لاَ عَدْوى বা ছোঁয়াচে বলে কোন রোগ নেই। (বুখারী শরীফ ৫৭১৭)
 সেক্ষেত্রে অন্য কোন রেওয়ায়েত যদি পাওয়া যায় যা আপাতদৃষ্টিতে ব্যতিক্রম মনে হয় তাহলে ব্যতিক্রম রেওয়ায়েতের ব্যাখ্যা খুঁজতে ও বুঝতে হবে। সরাসরি এসকল রেওয়ায়েত দেখে ছোঁয়াচে রোগ আছে এমন কথা বলা, আক্বীদা রাখা, প্রচার করা কুফরী হবে। কারন এসকল রেওয়ায়েতের হাক্বীকত সম্পূর্ণ ভিন্ন বরং এসকল রেওয়ায়েত দ্বারাই ছোঁয়াচে রোগ আছে বিশ্বাস করার মাধ্যমে ঈমান হারানো থেকে বাঁচার পথ দেখানো হয়েছে।

দুর্বল ঈমানদারদের ঈমান রক্ষা:

যেমন, একটা হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে,

عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ‏:‏ لاَ يُورِدُ مُمْرِضٌ عَلَى مُصِحٍّ‏.‏
হযরত আবূ হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ণিত, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, রোগাগ্রস্থ উট যেন সুস্থ উটের সাথে না রাখা হয়।” (মুসলিম শরীফ ৫৯০৫)

বাহ্যিকভাবে এ বর্ণনা দেখে হয়তো মনে হবে ছোঁয়াচে রোগ না থাকলে সুস্থ উটকে অসুস্থ উটের কাছ থেকে আলাদা রাখতে বলার কারন কি? 
কারনও পরিষ্কার। আমরা ইতিপূর্বে দেখেছি ছোঁয়াচে রোগে বিশ্বাস করা শিরক ও কুফরী। এ শিরক ও কুফর থেকে বাঁচানোর জন্যই মূলত সুস্থ উটকে অসুস্থ উটের কাছ থেকে আলাদা রাখতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ কেউ যদি তার সুস্থ পশুকে কোন রোগাক্রান্ত পশুর সাথে রাখলো এবং স্বভাবিক প্রক্রিয়ায় সেখানকার কোন সুস্থ পশুও অসুস্থ হয়ে গেলো এমতাবস্থায় তার মনে যদি কোনভাবে এ ধারণার উদ্রেক হয় যে, তার সুস্থ পশুকে সেই অসুস্থ পশুর সাথে রাখার কারণেই সেই রোগ সংক্রামিত হয়েছে। তাহলে এ ধারনার কারনে তার ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে। সূতরাং ঈমানী দুর্বতলার কারনে কেউ যাতে শিরক কুফর করে না বসে তাই সতর্কতামূলক পন্থা অবলম্বন করে সুস্থ উটকে অসুস্থ উটের থেকে আলাদা রাখতে বলা হয়েছে, ছোঁয়াচের কারনে নয়।

বিষয়টিকে এভাবে ব্যাখ্যা করে বিখ্যাত মুহাদ্দিছ হযরত ইমাম বায়হাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সুনানুল কুবরা বায়হাকী শরীফে এ বিষয়ে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করার জন্য একটা অধ্যায় কয়েম করেছেন এবং তার শিরোনাম দিয়েছেন,

باب‏:‏ لاَ يُورِدُ مُمْرِضٌ عَلَى مُصِحٍّ فَقَدْ يَجْعَلُ اللَّهُ تَعَالَى بِمَشِيئَتِهِ مُخَالَطَتَهُ إِيَّاهُ سَبَبًا لِمَرَضِهِ

অধ্যায়: অসুস্থ উট সুস্থ উটের সাথে রাখবে না। যেহেতু কখনো মহান আল্লাহ পাক উনার ইচ্ছায় অসুস্থের সাথে সুস্থেকে রাখার পর (সুস্থ পশু) সেই রোগে আক্রান্ত হতে পারে।” (সুনানে কুবরা বায়হাকী ৭ম খন্ড ৩৫২ পৃষ্ঠা, প্রকাশনা: দারু কুতুব আল ইলমিয়া , বৈরুত লেবানন)

এধরনের আক্রান্ত হওয়া ঈমানী পরীক্ষার অন্তর্ভূক্ত। তাই দূর্বল ঈমানের অধিকারীরা যাতে সুস্থ পশুকে অসুস্থ পশুর সাথে রাখার কারনে ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত হয়েছে এ আক্বীদা পোষন না করতে পারে তাই সর্তকতামূলক অসুস্থ উট সুস্থ উটের সাথে রাখবে না এ হাদীছ শরীফ এসেছে। 

সূতরাং এ ক্ষেত্রে মুসলমান ঈমানদারমাত্রই এ আক্বীদা রাখতে হবে, অসুস্থ ব্যক্তি বা পশুর সংস্পর্শে আসার কারনে তার সেই রোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংক্রমণ হয়নি। বরং উক্ত রোগ মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুমেই হয়েছে বলে বিশ্বাস রাখতে হবে।

সরকারের নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানী করার উদ্যোগ কি আদৌ বাস্তব কোন বিষয়?

সরকারের নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানী করার উদ্যোগ কি আদৌ বাস্তব কোন বিষয়?
=======≠===========≠=========

গত বছরের মত এ বছরও সরকার প্রচারণা চালাচ্ছে নির্দ্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানী করার। ইতিমধ্যে সরকার সারা দেশে ৬২৩৩টি স্পট নির্ধারণ করে বলছে সেখানে পশু কোরবানী করার। শুধু তাই নয় প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে বলা হয়েছে- কে পশু কোরবানী করবে, কোন কোন কসাই মাংশ প্রসেসিং করবে এমনকি কোথায় মাংশ বণ্টন হবে সেটাও সরকার নির্ধারণ করে দিবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সরকার এই যে মহাযজ্ঞ করছে, আদৌ কি নির্দ্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানী সম্ভব ?? আমাদের পুরো দেশের দিকে তাকিয়ে লাভ নেই, আসুন রাজধানী ঢাকা নিয়ে একটু চিন্তা করি। ক) ঢাকা শহরে দুই সিটি কর্পোরেশন স্পট নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৫০টি। সারা বাংলাদেশে যদি আনুমানিক ১ কোটি পশু কোরবানী হয়, তবে ঢাকায় কোরবানী হয় প্রায় ৩০ লক্ষ পশু। অর্থাৎ গড়ে প্রতি স্পটে কোরবানী করতে হবে ২৬০৮টি পশু। খ) একই সাথে যদি ১০০টি করে গরু ফেলানো হয়, তবে ২৬০৮টি গরু ফেলাতে ২৬টি টার্ম দরকার হবে । ৩ দিন যদি হয়, তবে প্রতিদিন ৯টি করে টার্ম আসবে অর্থাৎ প্রতি মাঠে প্রতিদিন ৯০০ গরু জবাই করতে হবে। প্রত্যেকটি কসাই টিমকে দৈনিক ৯টি করে গরু জবাই করতে হবে। গ) এক সাথে ১০০টি গরু জবাই করা যায়, এমন বিশাল মাঠের প্রয়োজন। এরকম ঢাকা শহরে ১১৫০টি মাঠের প্রয়োজন। তবেই এই মহাযজ্ঞ বাস্তবায়ন করা সম্ভব। কিন্তু ঢাকা শহরে ১১৫০টি মাঠ কোথায় ?? ঘ) প্রতি মাঠে ১০০টি কসাই টিম (কমপক্ষে ৪ সদস্য) লাগবে। পুরো ঢাকা শহরে লাগবে ১১৫০গুন১০০গুন ৪ = ৪ লক্ষ ৬০ হাজার কসাই। এরা টানা তিন দিন কাজ করবে। অবশ্য সরকার সারা দেশের জন্য মাত্র ১২ হাজার ৬৩৮ জন কসাই নির্ধারণ করেছে। (লিঙ্ক নিচে) ঙ) প্রত্যেক টিম ১টি গরু জবাই ও প্রসেসিং করার জন্য সময় পাবে মাত্র ১ ঘণ্টা করে। ৯ ঘণ্টায় (সকাল ৯- সন্ধা ৬টা) ৯টি করে পশু জবাই করতে হবে। যদিও বাস্তবে প্রত্যেক গরু প্রসেসিং এ সময় লাগে কমপক্ষে ৩ ঘণ্টা। তারমানে দেখা যাচ্ছে পুরোপুরি কাজ ১১৫০টি স্পটে, ৪ লক্ষ ৬০ হাজার কসাই একযোগে তিন দিন কাজ করলেও মাত্র তিন ভাগের এক ভাগ (১০ লক্ষ পশু) করতে পারবে, বাকি (২০ লক্ষ) পশু ঐ তিন দিন জবাই করা সম্ভব নয়। তবে হ্যা, সরকার একটি কাজ করলেই কেবল এই নির্দ্দিষ্ট স্থানে কোরবানী করার উদ্যোগ সফল করতে পারে, তা হলো আলাউদ্দিনের চেরাগের সাহায্য নিলে। যদি আলাউদ্দিদের দৈত্য কোন উপায় বাতলে দেয়, তবেই সরকারের এ উদ্যোগ সম্ভব বাস্তবে প্রয়োগ করা সম্ভব, এছাড়া বাংলাদেশের মত এত ঘনবসতিপূর্ণ দেশে নির্দ্দিষ্টস্থানে পশু জবাইয়ের মত বেকুবমার্কা সিদ্ধান্ত কখনই বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

পবিত্র কুরবানীর পশু এবং কুরবানী সংশ্লিষ্ট কাজকে সম্মান করতে হবে।

পবিত্র কুরবানীর পশু এবং কুরবানী সংশ্লিষ্ট কাজকে সম্মান করতে হবে।
🕳️🕳️🕳️🕳️🕳️🕳️🕳️🕳️🕳️🕳️🕳️🕳️🕳️🕳️🕳️
পবিত্র কুরবানীর পশু হলো মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্রতম নিদর্শন। যেহেতু পশু কুরবানীর মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল কারা যাবে। সেহেতু উক্ত পশু ও করবানী করার সংশ্লিষ্ট কাজগুলিও নিদর্শন মুবারকের অন্তর্ভূক্ত। এ প্রসঙ্গে খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ لاَ تُحِلُّواْ شَعَآئِرَ اللّهِ وَلاَ الشَّهْرَ الْحَرَامَ وَلاَ الْهَدْيَ وَلاَ الْقَلآئِدَ وَلا آمِّينَ الْبَيْتَ الْحَرَامَ يَبْتَغُونَ فَضْلاً مِّن رَّبِّهِمْ وَرِضْوَانًا 
অর্থ: হে সম্মানিত মু’মিনগণ! আপনারা অসম্মান করবেন না, মহান আল্লাহ পাক উনার নিদর্শনসমূহ এবং সম্মানিত মাসসমূহকে এবং হারাম শরীফে পবিত্র কুরবানীর জন্যে নির্দিষ্ট পশুকে এবং ঐসব পশুকে, যাদের গলায় কন্ঠাভরণ রয়েছে এবং ঐসব লোককে যারা সম্মানিত কা’বা শরীফ অভিমুখে যাচ্ছেন, যারা স্বীয় রব মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত মুবারক ও সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের লক্ষ্যে। (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ; পবিত্র আয়াত শরীফ ০২) 
সুতরাং উক্ত পবিত্রতম আয়াত শরীফ দ্বারা প্রতিয়মান হয় যে, পবিত্র কুরবানীর পশু যেমন মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্রতম নিদর্শন। ঠিক তেমনি কুরবানী সংশ্লিষ্ট কাজগুলোও মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত নিদর্শন মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই পবিত্র কুরবানীর পশু কুরবানী করার পাশাপাশি পবিত্র কুরবানীর সংশ্লিষ্ট কাজগুলো যথাযথ সম্মানের সহিত করতে হবে। 
তাহলেই মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করা সহজ ও সম্ভব হবে। সুবহানাল্লাহ!

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...