আয়া সুফিয়াকে জোর জবরদস্তি করে মসজিদ বানানো হয়নি। জোর জবরদস্তি করে মসজিদকে গির্জা বানানোর ইতিহাস রয়েছে বিধর্মীদের। গির্জাকে মসজিদ বানানোর ইতিহাস আমাদের নেই। সংক্ষেপে ইতিহাস বলছি। শুনুন।
সবার প্রথমে ইস্তাম্বুল শহর সম্পর্কে জেনে নিই। আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানী গ্রন্থ পবিত্র কুরআনে রোম বিজয়ের কথা বলে যে শহর বোঝানো হয়েছে এটিই আয়া সুফিয়ার শহর। হাদীছ গ্রন্থে শহরটির নাম ‘আল-কুস্তুন্তুনিয়া’। এর অপর নাম ‘মদিনা জানিব মিনহা আল-বাহার ওয়া জানিব মিনহা আল-বার’ অর্থাৎ এমন শহর যার একদিকে সাগর, অন্যদিকে স্থল। ব্যাখ্যাকারগণ একমত, এটা তুরস্কের ইস্তাম্বুল।
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভবিষ্যৎবাণী করে গিয়েছিলেন, অবশ্যই কুস্তুন্তুনিয়া বিজিত হবে। কতই না উত্তম ওই বিজয়ের আমির! আর কতই না উত্তম বাহিনী সেই বাহিনী! (মুসনাদে আহমদ)
সেই উত্তম আমির ছিলেন সুলতান মুহম্মদ ফাতিহ রহমতুল্লাহি আলাইহি। আর উত্তম বাহিনী ছিল ইস্তাম্বুল বিজয়ের বাহিনী।
এবার একটু মনযোগ ঘুরিয়ে জানুন, বর্তমান ইস্তাম্বুলের পূর্ব নাম ছিল কনস্টান্টিনোপল। কনস্টান্টিনোপলের পূর্বনাম ছিল বাইজান্টিয়াম। সম্রাট কন্সটান্টাইন যখন এখানে রোমান সাম্রাজ্যের রাজধানী সরিয়ে আনেন তখন এই শহরের নামকরন করেন কনস্টান্টিনোপল যার অর্থ কন্সটান্টাইনের শহর। আবার সর্বশেষ নবী হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ভবিষ্যৎবাণী অনুযায়ী সুলতান মুহম্মদ ফাতিহ রহমতুল্লাহি আলাইহি কনস্টান্টিনোপল দখল করে তার নাম রেখেছিলেন ইসলামবুল যার অর্থ ইসলামের নগর। পরবর্তী সময়ে এ নামটি পরিবর্তন হয়ে ইস্তাম্বুল হয়।
ইস্তাম্বুল এবং ইস্তাম্বুলে অবস্থিত আয়া সুফিয়ার পতন নিশ্চিত হওয়ার পরও সুলতান ফাতিহ রহমতুল্লাহি আলাইহি নিজে উদ্যোগী হয়ে সন্ধির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু খ্রিস্টান পাদ্রীরা আসমানি সাহায্যের আশায় সন্ধির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল। সেসময় আয়া সুফিয়ায় আশ্রয়গ্রহণকারী খ্রিস্টানদের হত্যা করে সুলতান ফাতিহ রহমতুল্লাহি আলাইহি আয়া সুফিয়া দখল করে নিতে পারতেন। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, সুলতান ফাতিহ রহমতুল্লাহি আলাইহি গির্জায় আশ্রয়গ্রহণকারী একজন মানুষকেও হত্যা করেননি, সবাইকে নিরাপত্তা দান করেছিলেন। অথচ স্পেন বিজয়ের পর মসজিদে আশ্রয়গ্রহণকারী মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা করার কাহিনী এপ্রিল ফুল নিয়ে সবাই জানেন। কই, আপনারা তো সেই বিষয়ে বিধর্মীদের দোষারোপ করেন না। বরং সানন্দে এপ্রিল ফুল উদযাপন করেন। নাঊযুবিল্লাহ!
আয়া সুফিয়া দখলের পর সুলতান ফাতিহ রহমতুল্লাহি আলাইহি নিজের ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে আয়া সুফিয়াকে খ্রিস্টান অর্থোডক্স পাদ্রীদের থেকে ক্রয় করে নিয়েছিলেন। কারণ উনার ইচ্ছা ছিল, আয়া সোফিয়াকে মসজিদ বানিয়ে আশপাশের এলাকাসহ মুসলিমদের কল্যাণে ‘ওয়াকফ’ করে দিবেন। আর ক্রয়-বিক্রয়ের চুক্তিপত্রটি আজ অবধি আঙ্কারার ‘তার্কিশ ডকুমেন্ট অ্যান্ড আর্গুমেন্ট ডিপার্টমেন্টে' সংরক্ষিত আছে।
সুতরাং ক্রয় করা সম্পত্তি নিয়ে পৃথিবীর কারো কিছু বলার কোন অধিকার নেই। যেমন বলার অধিকার নেই আমেরিকার প্রতিটা অঙ্গরাজ্য নিয়ে।
তারপরও বলছি, গ্রিক-রাশিয়া এবং কিছু মুসলমানদের যারা আয়া সুফিয়াকে আজ মসজিদ বানানোর ব্যাপারে নিন্দা করছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, খবিস কামাল পাশা যখন প্রতিষ্ঠিত মসজিদ আয়া সুফিয়ায় শিকল পরিয়ে রেখেছিলেন তখন খ্রিস্টানরা কেন তাদের গির্জার অধিকার ফিরিয়ে চাননি? ১৯৩৪ সালে তৎকালীন তুর্কী সরকার যখন শিকল পরা আয়া সুফিয়াকে জাতীয় জাদুঘরে পরিণত করতে চেয়েছিলেন তখন খ্রিস্টানরা কেন তাদের গির্জা ফিরিয়ে চাননি?
মুসলমানদের কেনা সম্পদের শিকল ভেঙে আজ যখন আয়া সুফিয়া আবার মসজিদে রূপান্তর হলো তখনই কেবল খ্রিস্টানদের সাথে নামধারী মুসলমানদের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে।
নিশ্চিতই আমাদের কেনা সম্পদে খ্রিস্টানদের কোন অধিকার নেই। তাই তারা যা ইচ্ছা বলুক। আমাদের কিছু যায় আসে না। আর মুসলমানদের মধ্যে যারা খ্রিস্টান পাদ্রীদের পক্ষে আওয়াজ তুলছেন, তাদের পরিচয় সংক্ষেপে বলে দেওয়া উচিত। তাদের পরিচয় হাদীছেই পাওয়া যায়।
আমাদের নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, অচিরেই আমার উম্মতের কিছু লোক মূর্তিপূজা করবে। আর অতি শীঘ্রই আমার উম্মতের কিছু লোক মূর্তিপূজকদের সাথে মিশে যাবে। (সুনানে আবু দাউদ ৪২৫৪, ইবনে মাজাহ ৩৯৫২)
তথ্যসূত্রঃ
https://bit.ly/328VJSt
https://bit.ly/38O5M0L
https://bit.ly/2DqhgvF


