জলপাই (যয়তুন) তেলে কমে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি।
মানুষের শরীরের শান্তির দূত হলো জলপাইয়ের তেল, যা অলিভ ওয়েল, আরবিতে জয়তুন, যেটাকে লিকুইড গোল্ড বা তরল সোনা নামেও ডাকা হয়। আকর্ষণীয় এবং মোহনীয় সব গুণাবলি রয়েছে এই অলিভ ওয়েলের মধ্য।
ক্যান্সার প্রতিরোধ, চামড়া ও চুলের স্বাস্থ্য, আয়রন ও ভিটামিনের উৎসের সঙ্গে জলপাই তেলের আরেকটি কার্যকরী গুণ আবিষ্কৃত হয়েছে। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে অলিভ অয়েল বা জলপাই তেল উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়।
অলিভ অয়েলের আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট (শরীরের জন্য উপকারী এক প্রকার চর্বি) শরীরের স্যাচুরেটেড ফ্যাট (যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর) নিয়ন্ত্রণ করে উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে সহায়তা করে।
ভূমধ্য অঞ্চলীয় খাবারে আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট প্রচুর পরিমাণে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে অলিভ ওয়েল, বাদাম, অ্যাভোকাডোজ, সেলারি, গাজর ইত্যাদি।
জলপাই তেল, বাদাম কিংবা অ্যাভাকাডো তেলের সঙ্গে নাইট্রাইট ও নাইট্রেট সমৃদ্ধ শাক-সবজি কিংবা গাজরের সংমিশ্রণে এর মধ্যে এক ধরনের ফ্যাটি এসিড তৈরি করে। যা শরীরের খারাপ চর্বিগুলোকে ভেঙে দেয়। সেটা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
গবেষকরা দেখিয়েছেন খাবারে অলিভ ওয়েল ব্যবহারের ফলে শরীরের খারাপ ও ভাল চর্বি নিয়ন্ত্রণ হয়। এটি শরীরে অ্যাসিড কমায় ও লিভার পরিষ্কার করে। যা প্রতিটি মানুষের ২/৩ দিনে একবার করে দরকার হয়। গবেষকদের মতে, ফলমূল, সবজি, মাছসহ শস্যজাত খাবারের সাথে জলপাই তেল গ্রহণ করলে তা মানুষের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমিয়ে আনার পাশাপাশি অতিরিক্ত চর্বি কমাতেও সহায়তা করে। যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে দারুণভাবে সাহায্য করে।
গবেষণায় আরো বলা হয়, বিশ্বব্যাপী অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের মধ্যে প্রায় এক চতুর্থাংশ মানুষেরই স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি রয়েছে। ৫৫ থেকে ৮০ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে এই গবেষণা চালানো হয়। তবে যাদের খাবারের সাথে জলপাই তেল যুক্ত থাকে তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকাংশেই কমে যায়।
