Friday, August 21, 2020

আবারও চাঁদ দেখা নিয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ছলচাতুরী

 আবারও চাঁদ দেখা নিয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ছলচাতুরী

‘মাজলিসু রুইয়াতে হিলাল’ এর শক্ত ভূমিকায় সঠিক তারিখে মাস গণনা শুরু ।


এবারও ১৪৪২ হিজরী সনের মুহররম মাসের তথা হিজরী বছরের প্রথম দিনের চাঁদ দেখা নিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছিলো বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন। তবে রাজারবাগ দরবার শরীফের পক্ষ থেকে পরিচালিত ‘আন্তর্জাতিক রুইয়াতে হিলাল মজলিসের’ দৃঢ় ও শক্ত ভূমিকার কারণে দেশবাসী সঠিক তারিখে মাস গণনা শুরু করতে পারলো এবং সঠিক তারিখে পবিত্র আশুরা শরীফ পালন করতে পারবে।


মাজলিসু রুইয়াতে হিলাল-এর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) তারিখ সন্ধায় চাঁদের অবস্থান ও বয়সের কারণে চাঁদ দেখা যাওয়া খুব স্বাভাবিক ছিলো। কিন্তু মেঘলা আবহাওয়ায় খালি চোখে চাঁদ দেখা সম্ভব হচ্ছিলো না। তবে মুন্সিগঞ্জ জেলায় কিছু সময়ের জন্য মেঘ সরে যায় এবং রুইয়াতে হিলাল মসলিসের সদস্য মুন্সিগঞ্জ সদরের পঞ্চাসার ইউনিয়নের বিনোদপুর গ্রামের গাউসুল আজম জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মুহম্মদ কবির হুসাইন ও তার ৩ জন মুসল্লী একত্রে চাঁদ দেখতে পান। উল্লেখ্য, শরীয়ত অনুসারে ২ জন ঈমানদার প্রাপ্ত বয়স্ক চাঁদ দেখার স্বাক্ষী দিলেই তা গ্রহণযোগ্য।


মাজলিসু রুইয়াতে হিলাল-এর পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্যে জানানো হয়, তারা চাঁদ দেখেন ৭:০৯ মিনিটে (চাঁদ দেখার স্বাভাবিক সময় ছিলো মাগরিবের আযান থেকে ৭:২০ পর্যন্ত)। চাঁদ দেখেই প্রথমে তারা রুইয়াতে হিলাল মজলিসের কেন্দ্রীয় অফিসে জানান। এরপর নিয়ম মাফিক ৭:২০ মিনিটে মুন্সিগঞ্জের ডিসিকে জানান। এরপর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এডি এবং স্থানীয় মেম্বারকে জানান। উল্লেখ্য ইফা’র পক্ষ থেকেও প্রতি মাসে চাঁদ দেখা বিষয়ক মিটিং থেকে কেউ চাঁদ দেখলে এভাবে করেই জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়। রুইয়াতে হিলাল মজলিসের সদস্য হাফেজ মুহম্মদ কবির হুসাইন পুরো নিয়ম অনুসরণ করেন। তিনি ফোন করে জানানোর পরও তাকে ইউএনও, এডিসি এবং ধর্মসচিবের পক্ষ থেকেও ফোন দেয়া হয়। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে তার সাক্ষী গ্রহণ করে চাঁদ দেখার ঘোষণা দিতে গড়িমসি শুরু করে ইসলামীক ফাউন্ডেশনের সদস্যরা। এমনকি ইনকিলাব পত্রিকায় খবর প্রকাশ হয়, ইফা চাঁদ না দেখার ঘোষণা দিয়েছে।


এরপর রাত ১০:২০ মিনিটে ইফার চাঁদ দেখা বিষয়ক কমিটির পক্ষ থেকে চকবাজারের শাহী মসজিদের খতিবের কথা বলে একজন ফোন দেয়। হাফেজ কবির সাহেবকে বলেন- “আমরা ইফার চাঁদ বিষয়ক মিটিং থেকে আপনাকে ফোন দিয়েছি, এখানে আমরা অনেক আলেম-ওলামা বসে আছি। আপনাকে কসম করতে হবে- “যদি আপনি চাঁদ না দেখে চাঁদ দেখার ঘোষণা দেন, তবে আপনার বউ তালাক।” এ কথা শুনে হাফেজ কবির সাহেব বলেন, আমি স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব। আমি নিজ চোখে চাঁদ দেখেছি, ৩ জন মুসল্লীসহ। শরীয়তে ২ জন ঈমানদার চাঁদ দেখলেই যথেষ্ট। আমি আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করি এবং মানুষের ঈমান আকিদ্বার বিষয় নিয়ে আমি কুফরী কাজ করতে পারি না। আমি সত্য কথা বলছি, সুতরাং এমন ওয়াদা করতে আমার কোন সমস্যা নেই। তবে আপনাদেরকেও ওয়াদা করতে হবে, আমি সত্য বলার পরও আপনারা যদি অস্বীকার করেন, তবে আপনাদেরও বউ তালাক হয়ে যাবে।” এ কথা শুনে চকবাজারের শাহী মসজিদের খতিব ফোন রেখে দেয় এবং রাত ১০:৪১ মিনিটে মিডিয়াতে চাঁদ দেখার ঘোষণা দেয়।


রুইয়াতে হিলাল মজলিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রুইয়াতে হিলাল মজলিসের পক্ষ থেকে প্রতি জেলার প্রতি থানায় বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রতিনিধিরা আছে, যারা কুরআন হাদীস ইজমা কিয়াস অনুসারে চলেন, সুন্নত পাবন্দ করেন, হারাম কাজ এড়িয়ে চলেন, প্রতি মাসে চাঁদ সম্পর্কে তাদের আগেই জানিয়ে দেয়া হয়, কোন এলাকায় কত ডিগ্রি কোণে, কত সময়ের মধ্যে চাঁদ দৃশ্যমান হবে। তারা প্রত্যেক এলাকায় লোকজন নিয়ে অধির আগ্রহে চাঁদের জন্য অপেক্ষা করেন। তারা ঈমানী দায়িত্ব পালন করছে মনে করেই চাঁদ দেখেন। অপরদিকে ইসলামীক ফাউন্ডেশন বিভিন্ন এলাকায় দায়সারাভাবে চাঁদ দেখে। প্রতি জেলায় টাকার বিনিময়ে যে সমস্ত ওয়াচার দিয়ে চাঁদ অবলোকন করায়, তারা অধিকাংশ সময় বেখেয়াল থাকে। অনেক এলাকায় তারা চাঁদ না খুজেই ঘোষণা দেন, চাঁদ দেখি নাই। অনেক এলাকায় হিন্দু ডিসি ও এডিসির দায়িত্ব চাঁদ দেখা, যা শরীয়তে কখনই গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়া, ইফার নিযুক্ত ওয়াচারদের অধিকাংশেরই চাঁদ দেখার কোনো নিয়ম কিংবা প্রশিক্ষন নেই।


উল্লেখ্য, ১৪৪০ হিজরী সনের শাবান মাসের চাঁদ দেখা নিয়েও মিথ্যা আরোপ করেছিলো ইফা। ফলে পুরো দেশের মানুষের পবিত্র শবে বরাত নষ্ট হয়। এ বিষয়ে রুইয়াতে হিলাল মজলিসের পক্ষ থেকে একাধিক স্বাক্ষী পেশ করা হলেও তারা সেটা অগ্রাহ্য করে। এরপর ১৪৪০ হিজরী সনের ঈদুল ফিতরের চাঁদ নিয়েও একই কা- ঘটায়। সে সময়ও বহু সাক্ষী দলিল পেশ করে জাতিকে সঠিকটা জানায় রাজারবাগ শরীফ উনার রুইয়াতে হিলাল মজলিস, কিন্তু তারপরও সেটা অগ্রাহ্য করে ঈদের চাঁদ না দেখার ঘোষণা দেয় ইফা।


সূত্র:

সোনালী যুুগের মুসলিম মনীষীগণকে তৈরি করেছিলেন হক্কানী-রব্বানী ওলী-মুর্শিদগণ উনারা।

 সোনালী যুুগের মুসলিম মনীষীগণকে তৈরি করেছিলেন হক্কানী-রব্বানী ওলী-মুর্শিদগণ উনারা।

=============================


বর্তমানে গোটা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ এক চরম হতাশার মধ্যে দিনাতিপাত করছে। যারা ইতিহাস সচেতন, তারা অতীতের মুসলিম বিজ্ঞানী-কবি সাহিত্যিকদের ইতিহাস স্মরণ করে আফসোস করে। তারা আফসোস করে এই ভেবে যে, আগে আমাদের সবই ছিল, কিন্তু এখন আমাদের কিছুই নেই।

কিন্তু কেন নেই? সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে দেখতে হবে যে, মুসলিম স্বর্ণযুগের বিজ্ঞানী-কবি-শাসক উনারা কাদের কাছে যেতেন? কারা উনাদের সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করেছিলেন?

বিগত দিনসমূহে মুসলিম কবি-বিজ্ঞানী-মনীষী যাঁরা ছিলেন, উনারা সকলেই ছিলেন ছূফী-দরবেশ। অবধারিতভাবেই উনারা সকলেই কোনো না কোনো হক্কানী পীর-মুর্শিদ উনাদের হাতে বাইয়াত ছিলেন। যেমন, হযরত জালালুদ্দীন রুমী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পীর ছিলেন হযরত শামসে তাবরীযী রহমতুল্লাহি আলাইহি। রসায়ন বিজ্ঞানের জনক বলে পরিচিত হযরত জাবির ইবনে হাইয়ান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মুর্শিদ ছিলেন, ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ইমাম জাফর ছাদিক আলাইহিস সালাম তিনি।

তবে শুধু মুসলিম স্বর্ণযুগ নয়, বরং হাল আমলের ইতিহাসও এই ধারার সমর্থন করে। বাঙালি মুসলিম সাহিত্যের উত্থানের কাল সূচনা হয়েছিল যাঁদের দ্বারা, অর্থাৎ কাজী নজরুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা, ফররুখ আহমদ উনারা সকলেই ফুরফুরা শরীফের পীর সাহেব হযরত আবু বকর ছিদ্দিকী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ও উনার আওলাদগণের মুরীদ ছিলেন।

বাংলা সাহিত্যের একজন অন্যতম মুসলিম কবি হচ্ছেন ফররুখ আহমদ। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, তিনি প্রাথমিক জীবনে মোটেই মুসলিম ভাবধারা লালন করতেন না, বরং বিপরীতটাই করতেন। এ প্রসঙ্গে উনার জীবনীতে উল্লেখিত রয়েছে- 

“কলেজে পড়ার সময় প্রথমদিকে তিনি বেশ সৌখিন জীবনযাপন করতেন। ফিনফিনে ধুতি-পাঞ্জাবী ছিল তার প্রিয় পোশাক। সে সময় তিনি মানবেন্দ্রনাথ রায়ের রেডিক্যাল হিউম্যানিজমের প্রতি আকৃষ্ট হন। কিন্তু অচিরেই তাঁর চেতনা জগতে পরিবর্তন আসে। টেইলর হোস্টেলের সুপারিনটেনডেন্ট বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও ফুরফুরা শরীফের পীর সাহেব উনার খলীফা জনাব আবদুল খালেক উনার সাথে দীর্ঘ আলাপের পর ফররুখ আহমদ ইসলামী আদর্শের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ধীরে ধীরে তিনি সম্পূর্ণ বদলে গেলেন। শুধু পোশাক আশাকে নয়, চিন্তা চেতনায়ও হয়ে গেলেন ঈমানদার মুসলমান। (সূত্র: পাকিস্তান আন্দোলন ও বাংলা কবিতা, বাংলা একাডেমী, পৃষ্ঠা ১৪০)

অর্থাৎ যদি ফররুখ আহমদ সঠিক গাইড না পেতেন, তাহলে তিনি আমাদের বিপরীত শিবিরের অন্তর্ভুক্ত হতেন, হতেন ইসলামবিদ্বেষী সাহিত্যিকদের একজন। মুসলিম উম্মাহ যতদিন এই রাহবার বা অভিভাবক তথা পীর-মুর্শিদ উনাদের মুখাপেক্ষী ছিল, ততোদিন তাদের প্রতিভা নিয়ে কোন খরায় পড়তে হয়নি। কারণ তখন মুসলিম সমাজের অভিভাবক ছিল, যাঁরা তাদের প্রতিভাকে বিকশিত করতেন এবং তাদের সন্তানদের উচ্ছনে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতেন।

 কিন্তু আজ মুসলমান সমাজ দেওবন্দী-ক্বওমী ও সউদীপন্থী ওহাবী সালাফী লা-মাযহাবীদের প্ররোচনায় পড়ে ওলীআল্লাহ উনাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, যার ফলে মুসলিম বিশ্বে পূর্বের ন্যায় কোনো বিশ্বমানের কবি-সাহিত্যিক-বিজ্ঞানীর দেখা মেলে না। যাদের দেখা মিলছে, তাদের অধিকাংশই ইসলামবিরোধী গোষ্ঠীর ফাঁদে পড়ে উল্টো নাস্তিক হয়ে যাচ্ছে, কারণ তাদের রাহবার নেই।

চাঁদের স্বাক্ষীকে ইফার ফতওয়া- চাঁদ নিয়ে মিথ্যা বললে বউ তালাক !

 চাঁদের স্বাক্ষীকে ইফার ফতওয়া- চাঁদ নিয়ে মিথ্যা বললে বউ তালাক !


এবারও ১৪৪২ হিজরী সনের বছরের প্রথম দিনের চাঁদ দেখা নিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছিলো বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন। তবে রাজারবার দরবার শরীফ উনার আন্তর্জাতিক রুইয়াতে হিলাল মজলিসের কারণে জাতি সেই ফিৎনা রক্ষা পেয়েছে।


গত ২০শে আগস্ট, ২০২০ ঈসায়ী তারিখ সন্ধায় চাঁদের অবস্থান ও বয়সের কারণে চাঁদ দেখা যাওয়া খুব স্বাভাবিক ছিলো। কিন্তু বাধ সাথে মেঘলা আবহাওয়া। দুপুরের পর থেকে অনেক এলাকা মেঘলা হয়ে যায়, বৃষ্টিপাতও শুরু হয়। এতে অধিকাংশ এলাকা থেকে চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার কথা থাকলেও খালি চোখে চাঁদ দেখা সম্ভব হচ্ছিলো না। তবে মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুন্সিগঞ্জ জেলায় কিছু সময়ের জন্য মেঘ সরে যায় এবং রুইয়াতে হিলাল মসলিসের সদস্য মুন্সিগঞ্জ সদরের পঞ্চাসার ইউনিয়নের বিনোদপুর গ্রামের গাউসুল আজম জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মুহম্মদ কবির হুসাইন ও তার ৩ জন মুসল্লী একত্রে চাঁদ দেখে ফেলেন। শরীয়ত অনুসারে ২ জন ঈমানদার প্রাপ্ত বয়স্ক চাদ দেখার স্বাক্ষী দিলেই তা গ্রহণযোগ্য। 


তারা চাঁদ দেখেন ৭:০৯ মিনিটে (চাঁদ দেখার স্বাভাবিক সময় ছিলো মাগরিবের আযান থেকে ৭:২০ পর্যন্ত)। চাঁদ দেখেই প্রথমে তারা রুইয়াতে হিলাল মজলিসের কেন্দ্রীয় অফিসে জানান। এরপর নিয়ম মাফিক ৭:২০ মিনিটে মুন্সিগঞ্জের ডিসিকে জানান। এরপর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এডি এবং স্থানীয় মেম্বারকে জানান। উল্লেখ্য ইফার পক্ষ থেকেও প্রতি মাসে চাঁদ দেখা বিষয়ক মিটিং থেকে কেউ চাঁদ দেখলে এভাবে করেই জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়। রুইয়াতে হিলাল মজলিসের সদস্য হাফেজ মুহম্মদ কবির হুসাইন পুরো নিয়ম অনুসরণ করেন। তিনি ফোন করে জানানোর পরও তাকে ইউএনও, এডিসি এবং ধর্মসচিবের পক্ষ থেকেও ফোন দেয়া হয়। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে তার সাক্ষী গ্রহণ করে চাঁদ দেখার ঘোষণা দিতে গড়িমসি শুরু করে ইসলামীক ফাউন্ডেশনের সদস্যরা। এমনকি ইনকিলাব পত্রিকায় খবর প্রকাশ হয়, ইফা চাঁদ না দেখার ঘোষণা দিয়েছে।


এরপর রাত ৯:০০ টার দিকে হাফেজ কবির হুসাইনকে ইফার চাদ দেখা কমিটির পক্ষ থেকে ফোন দেয় কফিলুদ্দিন সরকার। এরপর রাত ১০:২০ মিনিটে ইফার চাঁদ দেখা বিষয়ক কমিটির পক্ষ থেকে চকবাজারের শাহী মসজিদের খতিবের কথা বলে একজন ফোন দেয়। হাফেজ কবির সাহেবকে বলেন- “আমরা ইফার চাদ বিষয়ক মিটিং থেকে আপনাকে ফোন দিয়েছি, এখানে আমরা অনেক আলেম-ওলামা বসে আছি। আপনাকে কসম করতে হবে- “যদি আপনি চাঁদ না দেখে চাঁদ দেখার ঘোষণা দেন, তবে আপনার বউ তালাক।” এ কথা শুনে হাফেজ কবির সাহেব বলেন, আমি স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব। আমি নিজ চোখে চাঁদ দেখেছি, ৩ জন মুসল্লী সহ। শরীয়তে ২ জন ঈমানদার চাদ দেখলেই যথেষ্ট। আমি আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করি এবং মানুষের ঈমান আকিদ্বার নিয়ে আমি কুফরী কাজ করতে পারি না। আমি সত্য কথা বলছি, সুতরাং এমন ওয়াদা করতে আমার কোন সমস্যা নেই। তবে আপনাদেরকেও ওয়াদা করতে হবে, আমি সত্য বলার পরও আপনারা যদি অস্বীকার করেন, তবে আপনাদেরও বউ তালাক হয়ে যাবে।” এ কথা শুনে চকবাজারের শাহী মসজিদের খতিব ফোন রেখে দেয় এবং রাত ১০:৪২ মিনিটে মিডিয়াতে চাঁদ দেখার ঘোষণা দেয়।


মূলত ইফা বা তার সদস্যদের দাবী হলো- “শুধু রাজারবাগ দরবার শরীফ উনার রুইয়াতে হিলাল মসলিসের লোকরাই কেন চাঁদ দেখে, তারা কেন দেখে না। ”

আসলে রুইয়াতে হিলাল মজলিসের সদস্যরা কেন চাঁদ দেখে, এটা তো তাদের সমস্যা না। সমস্যা হইলো ইফা সদস্যরা কেন গাফেলতি করে? মূলত রুইয়াতে হিলাল মজলিসের পক্ষ থেকে প্রতি জেলার প্রতি থানায় বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রতিনিধিরা আছে, যারা কুরআন হাদীস ইজমা কিয়াস অনুসারে চলেন, সুন্নত পাবন্দ করেন, হারাম কাজ এড়িয়ে চলেন, প্রতি মাসে চাঁদ সম্পর্কে তাদের আগেই জানিয়ে দেয়া হয়, কোন এলাকায় কত ডিগ্রি কোণে, কত সময়ের মধ্যে চাঁদ দৃশ্যমান হবে। তারা প্রত্যেক এলাকায় লোকজন নিয়ে অধির আগ্রহে চাঁদের জন্য অপেক্ষা করেন। তারা ঈমানী দায়িত্ব পালন করছে মনে করেই চাঁদ দেখেন। অপরদিকে ইসলামীক ফাউন্ডেশন বিভিন্ন এলাকায় দায়সারাভাবে চাঁদ দেখে। প্রতি জেলায় টাকার বিনিময়ে যে সমস্ত ওয়াচার দিয়ে চাঁদ অবলোকন করায়, তারা অধিকাংশ সময় বেখেয়াল থাকে। অনেক এলাকায় তারা চাঁদ না খুজেই ঘোষণা দেন, চাঁদ দেখি নাই। আবার অনেক এলাকায় অফিসারা পিয়নকে ছাদে পাঠায় চাঁদ দেখার জন্য, আর অফিসাররা রুমে বসে চা খায়। অনেক এলাকায় হিন্দু ডিসি ও এডিসির দায়িত্ব চাঁদ দেখা, যা শরীয়তে কখনই গ্রহণযোগ্য নয়। ৩০-৪০ মিনিট আকাশের দিকে তাকিয়ে থেকে চাঁদ দেখার জন্য যতটুকু ঈমানী কুওওয়াত দরকার, সেটা তাদের অধিকাংশ জেলা ওয়াচারদের নেই। তাদের অধিকাংশই জানে না, কয়টা থেকে কয়টা পর্যন্ত চাঁদ দৃশ্যমান হবে কিংবা কত ডিগ্রি কোণে চাঁদ দৃশ্যমান হতে পারে। এ বিষয়ে তাদের অধিকাংশের কোন প্রশিক্ষনও নেই।  


জাতি সাক্ষী আছে, ১৪৪০ হিজরী সনের শাবান মাসের চাঁদ দেখা নিয়েও মিথ্যা আরোপ করেছিলো ইফা। ফলে পুরো দেশের মানুষের পবিত্র শবে বরাত নষ্ট হয়। এ বিষয়ে রুইয়াতে হিলাল মজলিসের পক্ষ থেকে একাধিক স্বাক্ষী পেশ করা হলেও তারা সেটা অগ্রাহ্য করে। এরপর ১৪৪০ হিজরী সনের ঈদুল ফিতরের চাঁদ নিয়েও একই কাণ্ড ঘটায়। সে সময়ও বহু সাক্ষী দলিল পেশ করে জাতিকে সঠিকটা জানায় রাজারবাগ শরীফ উনার রুইয়াতে হিলাল মজলিস, কিন্তু তারপরও সেটা অগ্রাহ্য করে ঈদের চাঁদ না দেখার ঘোষণা দেয় ইফা। এতে পুরো জাতি ক্ষিপ্ত হয়ে গেলে তারা গভীর রাতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। সে সময় জাতি বুঝতে পারে, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাঁদ বিষয়ক কমিটির কাছে জাতির ঈমান আমল কখনই সুরক্ষিত নয়।

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...