Tuesday, August 17, 2021

পবিত্র আশুরা শরীফ সংক্রান্ত একটি ওয়াকিয়া বা ঘটনা।

 এক ব্যক্তি আলিম ছিলেন। একবার অসুস্থতার কারণে তিনি তিন দিন যাবৎ কাজ করতে পারলেন না। চতুর্থ দিন ছিল আশুরা শরীফের দিন। তিনি আশুরা শরীফ উনার দিনে ভাল খাওয়ার ফযীলত সম্পর্কে জানতেন।


 তখন ছিল কাজীদের (বিচারক) যুগ। কাজী ছাহেব ধনী ব্যক্তি ছিল। তার কাছে আশুরা শরীফ উনার ফযীলতের কথা বলে এবং নিজের অসুস্থতা ও পরিবারের অভুক্ত থাকার কথা এবং আশুরা শরীফ উনার দিন ভাল খাওয়ার ফযীলতের কথা উল্লেখ করে দশ সের আটা, দশ সের গোশত ও দুই দিরহাম চাইলেন যে, ‘এই পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য হাদিয়া অথবা কর্জ হিসেবে দিন।’


 কাজী ছাহেব উনাকে যোহরের সময় আসতে বললো। যোহরের সময় কাজী ছাহেব বললো, আছরের সময় আসতে। কিন্তু এরপরে আছরের সময় মাগরিব, মাগরিবের সময় ইশা এবং ইশার সময় সরাসরি নিষেধ করে দিলো। 


তখন আলিম ব্যক্তি বললেন, হে কাজী ছাহেব! আপনি আমাকে দিতে পারবেন না সেটা আগেই বলতে পারতেন, আমি অন্য কোথাও ব্যবস্থা করতাম। কিন্তু তা না করে আমাকে সারাদিন ঘুরিয়ে এই শেষ মুহূর্তে নিষেধ করছেন? 


কাজী ছাহেব সেই আলিম ব্যক্তির কথায় কর্ণপাত না করে ঘরের দরজা বন্ধ করে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করলো।

মনের দুঃখে আলিম ব্যক্তিটি তখন কাঁদতে কাঁদতে বাড়ির দিকে রওয়ানা হলেন। পথে ছিলো এক খ্রিস্টানের বাড়ি। 


একজন বয়স্ক ব্যক্তিকে কাঁদতে দেখে উক্ত খ্রিস্টান উনাকে কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলো। কিন্তু বিধর্মী বিধায় খ্রিস্টানকে প্রথমে তিনি কিছু বলতে চাইলেন না। 


অতঃপর খ্রিস্টানের অধীর আগ্রহের কারণে তিনি আশুরা শরীফ উনার ফযীলত ও কাজী ছাহেবের সাথে সংঘটিত ঘটনার কথা ব্যক্ত করলেন।


 খ্রিস্টান ব্যক্তি তখন উৎসাহী হয়ে উনাকে আশুরা শরীফ উনার সম্মানার্থে দশ সের আটা, দশ সের গোশত, দুই দিরহাম এবং অতিরিক্ত আরও বিশ দিরহাম দিতে চাইলো। 


সে খ্রিস্টান হওয়ার আলিম ব্যক্তি তা নিতে চাইলেন না। খ্রিস্টান ব্যক্তির অত্যাধিক উৎসাহের কারণে আলিম ব্যক্তি সেগুলো কর্জ হিসেবে নিতে রাজী হলেন। 


তখন খ্রিস্টান ব্যক্তি উক্ত আলিম সাহেবকে আশুরা শরীফ উনার সম্মানার্থে দশ সের আটা, দশ সের গোশত, দুই দেরহাম এবং অতিরিক্ত আরো বিশ দিরহাম দিলো।


 দিয়ে খ্রিস্টান ব্যক্তি অনেক কাকুতি-মিনতি করে আরজু করলো যে, আমি এগুলো আপনাকে আশুরা শরীফ উনার সম্মানার্থে হাদিয়া দিতে চাই আপনি দয়া করে কবুল করুন এবং আপনাকে আমি আশুরা শরীফ উনার সম্মানার্থে প্রতিমাসে এ পরিমাণ হাদিয়া দিতে চাই। 


তার কাকুতি-মিনতির কারণে আলিম সাহেব কবুল করলেন। অতঃপর ঐ আলিম ব্যক্তি তখন তা নিয়ে বাড়িতে গেলেন এবং খাবার তৈরি করে ছেলে-মেয়েসহ আহার করলেন।


 অতঃপর দোয়া করলেন, “আয় আল্লাহ পাক! যে ব্যক্তি আমাকে সন্তুষ্ট করলো, আমার ছেলে-মেয়েদের মুখে হাসি ফোটালো, আল্লাহ পাক! আপনি তার দিল খুশি করে দিন, তাকে সন্তুষ্ট করে দিন।”


ওই রাতে কাজী ছাহেব স্বপ্ন দেখলো, স্বপ্নে কাজী ছাহেবকে বলা হচ্ছে, হে কাজী ছাহেব! তুমি মাথা উত্তোলন করো। মাথা তুলে কাজী ছাহেব দেখতে পেলো যে, তার সামনে দু’টি বেহেশতের বালাখানা। একটি স্বর্ণের বালাখানা আরেকটি রৌপ্যের বালাখানা। 


কাজী ছাহেব বললো, ‘আয় আল্লাহ পাক! এ দু’টি কি?’ গায়েবী আওয়াজ হলো, ‘এ দু’টি বেহেস্তী বালাখানা। তখন কাজী সাহেব জানতে চাইলো কার জন্য? বলা হলো এ বালাখানা দু’টি তোমারই ছিলো। কিন্তু এখন আর তোমার নেই। 


কারণ তোমার কাছে যে আলিম লোকটি আশূরা শরীফ উপলক্ষে সহযোগিতার জন্য এসেছিলেন উনাকে তুমি সহযোগিতা করনি। এখন বালাখানা দু’টি ওমুক খ্রিস্টান লোকের হয়েছে।’ 


কারণ উক্ত খ্রিস্টান ব্যক্তি সেই আলেম সাহেবকে আশুরা শরীফ উনার সম্মানার্থে সাহায্য করেছে। এটা শুনে ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত হওয়ার কারণে কাজী ছাহেবের ঘুম ভেঙ্গে গেলো। ঘুম থেকে উঠে ওজু ও নামায আদায় করে খুব সকালেই সেই খ্রিস্টানের বাড়িতে গেলো।


খ্রিস্টান ব্যক্তির সকালে উঠার অভ্যাস ছিলোনা। কিন্তু দরজার কড়া নাড়ার শব্দ শুনে উঠে দরজা খুলে খ্রিস্টান ব্যক্তি কাজী ছাহেবকে দেখে বিস্ময়াভুত হলো। 


কারণ কাজী ছাহেব খ্রিস্টানের পড়শি হওয়া সত্ত্বেও জন্মের পর থেকে এ পর্যন্ত কোনো সময় তার বাড়িতে আসতে দেখেনি।


অতঃপর খ্রিস্টান কাজী ছাহেবকে বললো, ‘আপনি এতো সকালে কি জন্য এলেন?’ কাজী ছাহেব বললো, ‘হে খ্রিস্টান ব্যক্তি! তুমি গত রাত্রে যে নেক কাজ করেছো তা আমার কাছে বিক্রি করে দাও। আমি তোমাকে এক লাখ দেরহাম দিবো। কাজী ছাহেবের কথায় খ্রিস্টান লোকটি আশ্চর্য হলো। 


সে বললো, কাজী ছাহেব! আমি আপনার কথার কিছুই বুঝতেছি না। আপনি কেন আমাকে এক লাখ দেরহাম দিবেন। তখন কাজী ছাহেব পুনরায় বললো, হে খ্রিস্টান ব্যক্তি! তুমি গত রাতে যে নেক কাজ করেছো তা আমার কাছে বিক্রয় করে দাও।’ 


আমি তোমাকে এক লাখ দেরহাম দিবো। তখন খ্রিস্টান ব্যক্তি বললো, আমার খেয়ালে আসে না যে, আমি গতরাতে কোনো উল্লেখযোগ্য নেক কাজ করেছি। তবে আপনি যদি জেনে থাকেন তাহলে আমাকে বলতে পারেন।


 তখন কাজী ছাহেব বললো, তুমি গত রাতে আশূরা শরীফ উপলক্ষে এক আলিমকে দশ সের আটা, দশ সের গোশত, দুই দিরহাম এবং তার সাথে আরো বিশ দিরহাম হাদিয়া করেছো এবং প্রতি মাসে উনাকে এ পরিমাণ হাদিয়া দেয়ার ওয়াদা করেছো। 


খ্রিস্টান ব্যক্তি তা স্বীকার করলো। কাজী ছাহেব বললো, তুমি তোমার এই নেক কাজ এক লক্ষ দিরহামের বিনিময়ে আমার নিকট বিক্রি করে দাও এবং তুমি উনার সাথে প্রত্যেক মাসে যে ওয়াদা করেছ আমি উনাকে তা দিয়ে দিবো।’


 খ্রিস্টান ব্যক্তি বললো, হে কাজী ছাহেব! আপনি কি জন্য এই সামান্য হাদিয়া করার বিনিময়ে আমাকে এক লক্ষ দিরহাম দিবেন সেটা স্পষ্ট করে বলুন? 


তখন কাজী ছাহেব তার স্বপ্নের কথা খুলে বললো যে, এই আলিম আশূরা শরীফ উপলক্ষে আমার কাছে সহযোগিতা চেয়েছিলো আমি তাকে সহযোগিতা করিনি। 


যার কারণে রাতের বেলা আমাকে স্বর্ণ ও রৌপ্যের দ্বারা তৈরি বেহেশতের দু’টি বালাখানা স্বপ্নে দেখিয়ে বলা হয়েছে, হে কাজী ছাহেব! ‘এ বালাখানা দু’টি তোমার ছিলো। কিন্তু এখন আর তোমার নেই। 


কারণ তোমার কাছে যে আলিম ব্যক্তিটি আশূরা শরীফ উপলক্ষে সহযোগিতার জন্য এসেছিলেন উনাকে তুমি সহযোগিতা করনি। অমুক খ্রিস্টান সহযোগীতা করেছে সে জন্য এ বালাখানা দু’টি এখন ওমুক খ্রিস্টান লোকের হয়েছে।’ 


তখন কাজী ছাহেব বললো, তুমি তো খ্রিস্টান। তুমি তো এই বালাখানা পাবে না। কারণ, ইসলাম আসার পরে পূর্ববর্তী সমস্ত ধর্ম বাতিল হয়ে গেছে। কাজেই সেই ধর্মের উপর যারা থাকবে তারা জান্নাত লাভ করতে পারবে না। তখন খ্রিস্টান ব্যক্তি বললো, হে কাজী ছাহেব! আমি কিভাবে সেই বালাখানা লাভ করতে পারবো? 


সেই বালাখানার মালিক হওয়ার কোন সুযোগ কি আমার জন্য আছে? তখন কাজী ছাহেব বললো, হ্যাঁ, তুমি যদি ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হও তাহলে তুমি বালাখানা লাভ করতে পারবে। 


তখন খ্রিস্টান ব্যক্তি বললো, হে কাজী ছাহেব! যদি ইসলাম গ্রহণ করলে সেই জান্নাতী বালাখানা লাভ করা যায়, তাহলে আপনি সাক্ষী থাকুন, আমি এক্ষণি কালিমা শরীফ পড়ে মুসলমান হয়ে গেলাম।” সুবহানাল্লাহ! 


তখন লোকটি বললেন এখন কি আমি বালাখানা পাব? কাজী ছাহেব বললেন, হ্যাঁ, এখন আপনি বালাখানা পাবেন। তখন কাজি ছাহেব আরো অস্থির, পেরেশান, বেকারার এবং অসুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে গেলো।


এই ঘটনা থেকে আমাদের জন্য ইবরত নছিহতের বিষয় হলো, কাজি ছাহেব পবিত্র আশূরা শরীফকে সম্মান না করার কারণে জান্নাতের দু’টি বালাখানা থেকে মাহরুম হল। নাঊযুবিল্লাহ! 


আর খ্রিস্টান ব্যক্তি আশূরা শরীফকে সম্মান করার কারণে ঈমান নসীব হল এবং সম্মানিত জান্নাত উনার বালাখানারও মালিক হয়ে গেল। সুবহানাল্লাহ!


আল্লাহপাক আমাদেরকে যথাযথ তাযীম তাকরীমের সাথে আশুরা শরীফ পালন করার এবং সম্মাণিত এই দিনের হক্ব আদায়ের মাধ্যমে দুনিয়াবী যাবতীয় নাজ নি


য়ামত এবং পরকালীন নিরাপত্তা ও নাজাত লাভ করার তৌফিক দান করুন৷ 

আমীন।

সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম উনার ক্বওল শরীফ

 সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম উনার ক্বওল শরীফ 


========================== 


পবিত্র আশূরা শরীফ উপলক্ষে দুই দিন রোযা রাখা, গোসল করা, চোখে সুরমা দেয়া, উত্তম খাবার গ্রহণ করা, ইয়াতীমের মাথায় হাত বুলানো এবং রোযাদারকে ইফতার করানো বেহিসাব ছওয়াব লাভ এবং ইহকাল-পরকালে নিয়ামত ও নাজাত লাভের কারণ। সুবহানাল্লাহ!


তাই, প্রত্যেক মুসলমানের জন্য দায়িত্ব কর্তব্য হলো- পবিত্র আশূরা শরীফ উনার সম্মানার্থে আক্বীদা বিশুদ্ধ করে ও সংশ্লিষ্ট আমলগুলো যথাযথভাবে আদায় করে খাছ সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের কোশেশ করা। আর সরকারের জন্যও দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- পবিত্র আশুরা শরীফ পালনের সার্বিক আনজাম দেয়ার সাথে সাথে নূন্যতম তিনদিন বাধ্যতামূলক ছুটি এবং পর্যাপ্ত বাজেট ও বরাদ্দ ঘোষণা করা।


================================


পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক করা হয়েছে, ‘তোমরা সম্মানিত মুহররমুল হারাম শরীফ মাস উনাকে এবং উনার মধ্যস্থিত বরকতময় পবিত্র আশূরা শরীফ উনাকে সম্মান করো।’


যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইউস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যূল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদে রসূল, মাওলানা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ মাসের উল্লেখযোগ্য ও শ্রেষ্ঠতম দিন হচ্ছে ১০ই মুহররমুল হারাম শরীফ ‘পবিত্র আশূরা’ শরীফ উনার দিনটি। এ দিনটি বিশ্বব্যাপী এক আলোচিত দিন। সৃষ্টির সূচনা হয় এ দিনে এবং সৃষ্টির সমাপ্তিও ঘটবে এ দিনে। বিশেষ বিশেষ সৃষ্টি এ দিনেই করা হয় এবং বিশেষ বিশেষ ঘটনাও এ দিনেই সংঘটিত হয়। তাই, পবিত্র আশূরা শরীফ উনার ফাযায়িল-ফযীলত ও আমল সম্পর্কে জেনে সে মুতাবিক আমল করে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর দায়িত্ব-কর্তব্য।


মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র আশূরা শরীফ উনার সাথে আক্বীদা ও আমল দুটি বিষয়ই জড়িত রয়েছে। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে শুরু করে সাইয়্যিদুনা আবুল বাশার হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পর্যন্ত প্রায় সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের কোন না কোন উল্লেখযোগ্য ঘটনা এ দিনে সংঘটিত হয়েছে। সঙ্গতকারণে এ দিনটি আমাদের সবার জন্যে এক মহান আনুষ্ঠানিকতার দিন, যা রহমত, বরকত, সাকীনা, মাগফিরাত, নিয়ামত মুবারক হাছিল করার দিন। ফলে এ দিনে বেশ কিছু আমল করার ব্যাপারে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উৎসাহিত করা হয়েছে। 


মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, ‘মুসলিম শরীফ’ উনার মাঝে উল্লেখিত পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে, “পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার ফরয রোযার পর উত্তম রোযা হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার মাস পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ উনার রোযা।” সুবহানাল্লাহ! অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে, “পবিত্র আশূরা শরীফ উনার রোযা পালনে মহান আল্লাহ পাক তিনি বিগত বছরের গুনাহখতা ক্ষমা করে দিবেন।” সুবহানাল্লাহ! ‘তিরমিযী শরীফ’ উনার মাঝে উল্লেখিত পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে, “তোমরা ৯ ও ১০ই মুহররমুল হারাম শরীফ রোযা রেখে ইহুদীদের খিলাফ তথা বিপরীত আমল করো।” অর্থাৎ, পবিত্র আশূরা শরীফ উপলক্ষে দুটি রোযা রাখা সুন্নত। মুহররম শরীফ উনার ৯ ও ১০ তারিখে অথবা ১০ ও ১১ তারিখে। তবে উত্তম হলো ৯ ও ১০ তারিখে রোযা রাখা। শুধু ১০ই মুহররম আশূরার উদ্দেশ্যে ১টি রোযা রাখা মাকরূহ। কারণ ইহুদীরা সেদিনটিতে রোযা রেখে থাকে।


মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, “পবিত্র আশূরা শরীফ উনার দিন যে ব্যক্তি কোন রোযাদারকে ইফতার করাবে, সে যেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সমস্ত উম্মতকে ইফতার করালো।” সুবহানাল্লাহ!


মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি আশূরা শরীফ উনার দিন তার পরিবারবর্গকে ভালো খাওয়াবে-পরাবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি সারা বৎসর ওই ব্যক্তিকে সচ্ছলতা দান করবেন।” সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ, পবিত্র আশুরা শরীফে পরিবারের জন্য ভালো খাবারের ব্যবস্থা করলে এক বছরের জন্য স্বচ্ছলতা লাভ করা যাবে। সুবহানাল্লাহ।


মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে, “পবিত্র আশূরা শরীফ উনার দিন কোন মুসলমান যদি কোন ইয়াতীমের মাথায় হাত স্পর্শ করে, কোন ক্ষুধার্তকে খাদ্য খাওয়ায় এবং কোন পিপাসার্তকে পানি পান করায় তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে জান্নাত উনার দস্তরখানায় খাদ্য খাওয়াবেন এবং ‘সালসাবীল’ ঝর্ণা থেকে পানীয় (শরবত) পান করাবেন।” সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ, পবিত্র আশুরা শরীফে ইয়াতীম-মিসকীনদের সাহায্য-সহযোগিতা করলে নিশ্চিতভাবে জান্নাত লাভ করা যাবে। সুবহানাল্লাহ।


মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “যে ব্যক্তি পবিত্র আশূরা শরীফ উনার দিন গোসল করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে রোগ থেকে মুক্তি দান করবেন। মৃত্যু ব্যতীত তার কোন কঠিন রোগ হবেনা এবং সে অলসতা ও দুঃখ-কষ্ট হতে নিরাপদ থাকবে।” সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ, পবিত্র আশুরা শরীফে গোসল করলে নিশ্চিতভাবে এক বছরের জন্য শারীরিক সুস্থতা লাভ করা যাবে। সুবহানাল্লাহ।


মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, “যে ব্যক্তি পবিত্র আশূরা শরীফ উনার দিন মিশক মিশ্রিত সুরমা চোখে দিবে, সেদিন হতে পরবর্তী এক বৎসর তার চোখে কোন প্রকার রোগ হবেনা।” সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ, পবিত্র আশুরা শরীফে চোখে ইসমিদ সুরমা ব্যবহার করলে নিশ্চিতভাবে এক বছরের জন্য চোখের সুস্থতা লাভ করা যাবে। সুবহানাল্লাহ।


-০-


#12shareef 

#Saiyidul_Aayaad_Shareef 

#সাইয়্যিদুল_আইয়াদ_শরীফ

আসন্ন পবিত্র ‘আশূরা শরীফ’ উপলক্ষে মুসলমান উনাদের জন্য করণীয় আমলসমূহ এখন হতেই জেনে নিন।

 আসন্ন পবিত্র ‘আশূরা শরীফ’ উপলক্ষে মুসলমান উনাদের জন্য করণীয় আমলসমূহ এখন হতেই জেনে নিন


=====================================


(১) হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম (সম্মানিত নবী পরিবার) উনাদের ব্যাপক আলোচনা করা।

ফযীলত: রহমত, বরকত, সাকীনা, মাগফিরাত, দয়া, দান, ইহসান ও কামিয়াবী লাভ হবে।

(২) পরিবর্গকে সাধ্যমতো ভালো খাবার খাওয়ানো।

ফযীলত: আগামী এক বছরের জন্য সচ্ছলতা লাভ হবে।

(৩) গোসল করা।

ফযীলত: আগামী এক বছরের জন্য সুস্থতা লাভ ও গাফলতী থেকে মুক্তি লাভ হবে।

(৪) চোখে ইসমিদ (মেশক মিশ্রিত) সুরমা দেয়া।

ফযীলত: আগামী এক বছরের জন্য চোখের সুস্থতা লাভ হবে।

(৫) ইয়াতীমের মাথায় হাত বুলানো।

ফযীলত: সম্মানিত জান্নাত উনার দস্তরখানায় খাদ্য খাওয়া যাবে।

(৬) ক্ষুধার্ত ও পিপাসার্তকে পানাহার করানো।

ফযীলত: বিদ্যুৎ বেগে পুলছিরাত পার হওয়া যাবে।

(৭) দুই দিন (৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ তারিখ) রোযা রাখা সুন্নত। তবে ৯ ও ১০ তারিখ রোযা রাখা উত্তম।

ফযীলত: ষাট (৬০) বছর দিনে রোযা ও রাতে ইবাদত করার ফযীলত পাওয়া যাবে।

(৮) রোযাদারকে ইফতারী করানো।


ফযীলত: সমস্ত উম্মত উনাদেরকে ইফতারী করানোর সওয়াব পাওয়া যাবে।

মহান খালিক্ব মালিক রব আল্লাহ পাক তিনি মুসলিম উম্মাহ উনাদেরকে আসন্ন পবিত্র আশূরা শরীফ উনার আমলসমূহ করার মাধ্যমে চিরস্থায়ী রেযামন্দি তথা সন্তুষ্টি মুবারক উনার মধ্যে থাকার তাওফীক দান করুন। আমীন!


#12shareef 

#Saiyidul_Aayaad_Shareef 

#সাইয়্যিদুল_আইয়াদ_শরীফ#ashura #karbala #muharram #imamhussain #islam #yahussain #arbaeen #shia #najaf #iraq #imamali #hussain #allah #iran #imam #azadari #muslim #yaali #labbaikyahussain #quran #yaabbas #ahlulbayt #imamaliquotes #prophetmuhammad #azadar #moharram #ziyarat #love #mumineen #bhfyp

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...