Tuesday, September 15, 2020

সমান অধিকার, নারী অধিকারের নাম দিয়ে নারীদেরকে পুরুষদের সাথে প্রতিযোগিতায় নামানো হচ্ছে

 সমান অধিকার, নারী অধিকারের নাম দিয়ে নারীদেরকে পুরুষদের সাথে প্রতিযোগিতায় নামানো হচ্ছে


; কিন্তু এতে করে তারা পরিণত হচ্ছে পুরুষদের মনোরঞ্জন ও ভোগ্যপণ্যের বস্তুতে।


কথিত সুন্দরী প্রতিযোগিতা তার একটি নমুনা মাত্র; মূলত প্রকৃত নারী অধিকার রয়ে গেছে একমাত্র দ্বীন ইসলাম উনার চর্চার মধ্যেই।


বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র। বাংলাদেশের ৯৮ ভাগ অধিবাসী অন্তরে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার চেতনা ধারণ করে থাকে। স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের কৃষ্টি-সংস্কৃতি-পরিবেশ-অবস্থা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার ধাঁচে গঠিত হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশার বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশ ৯৮% মুসলিম অধ্যুষ্যিত দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের সংস্কৃতি আজ সম্রাজ্যবাদী ও ইহুদীবাদের ও মুশরিকবাদের একটি অঙ্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। 

এটা সম্ভব হচ্ছে সরকারের কর্তাপর্যায়েই পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিরোধী দালাল থাকার কারণে। ধর্মনিরপেক্ষতার লেবাসে তারা মূলত পবিত্র দ্বীন ইসলাম ধ্বংসের চেষ্টাতেই লিপ্ত। তাদের চোখ ইহুদী, নাছারা অথবা নাস্তিক্যবাদের চোখ। তাই মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতার বাছাই পর্বে তারা বলে থাকে, নারীরা তাদের মেধা, সৌন্দর্য, মনন এবং পোশাক-পরিচ্ছদের মধ্য দিয়ে একটা দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।’ নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!

কিন্তু সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রদ্বীন পবিত্র ইসলাম হওয়ার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব সুন্দরী নারীর দেহপ্রদশর্নী দ্বারা হতে পারে না। এই দেহপ্রদর্শনী মূলত পতিতাবৃত্তিরই নামান্তর। আর বাংলাদেশ সংবিধানের ১৮(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে- ‘পতিতাবৃত্তি নিরোধে রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীকে নিয়ে ইসলামবিদ্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত দীর্ঘদিনের। পৃথিবীতে বেশ কয়েকটি সিক্রেট সোসাইটি বা গুপ্ত সংগঠন রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম একটি হলো ফ্রি মেসন। ফ্রি মেসন মূলত ইহুদীদের তৈরি গুপ্ত সংগঠন। এই ফ্রি মেশনের মুসলিমবিরোধী ষড়যন্ত্রগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের মুসলিম জনগোষ্ঠী বিশেষ করে বাংলাদেশের মুসলিম নারীদের এই মিস ওয়ার্ল্ডসহ বিভিন্ন সুন্দরী প্রতিযোগিতা নামক অশ্লীল ওয়েগুলোতে পরিচালিত করার ষড়যন্ত্র করছে। শুধু সুন্দরী প্রতিযোগিতাই নয় তাদের সমস্ত ষড়যন্ত্র সুদুরপ্রসারী।

বাংলাদেশের মুসলিম নারীদের নিয়ে ইহুদী ষড়যন্ত্র:

ফ্রি মেসনদের কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নারী। এজন্য তারা বেছে নিচ্ছে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মুসলিম নারীদের। তারা “নারী অধিকার আন্দোলন” নামে বিভিন্ন সংগঠনের জন্ম দিচ্ছে। বিভিন্ন সমাজসেবা সংস্থার ব্যানারে তারা এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে। “নারী নেতৃত্বে”র স্লোগানের ব্যাপক প্রচার প্রসার করছে বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে। “সুন্দরী প্রতিযোগিতা”র আয়োজনের মাধ্যমে নারীর রূপ-সৌন্দর্য-দেহকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করছে। কর্পোরেট লেভেলে নারীদের ব্যবহার করে ব্যবসায়ীক ফায়দা লোটা হচ্ছে। খেলাধুলায় নারীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের পর্দা-আব্রুকে নষ্ট করছে। “পবিত্র দ্বীন ইসলাম নারীকে আবদ্ধ রাখছে”- এমন একটা কথাকে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নারীকে ধর্মচ্যূত করার চেষ্টা করছে। “পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার অন্তরায়”, এরকম কথা প্রচার করে তারা পুরুষদের বিপরীত পক্ষ হিসেবে দাঁড় করাচ্ছে নারীকে। এনজিও’র মাধ্যমে ‘সমঅধিকার’, আর্থিক সহযোগিতা’ এবং ‘নারী কর্মসংস্থান’ সৃষ্টি করে ঘর থেকে নারীকে বের করে পুরুষদের সাথে কর্মসংস্থানের ‘প্রতিযোগী’ হিসেবে দাঁড় করাচ্ছে। অনুন্নত দেশগুলোতে এভাবে দারিদ্র্যতার সুযোগ নিচ্ছে। অথচ তারা দারিদ্র্যতার দুষ্ট চক্র থেকে তাদের বের করার চেষ্টা করছে না। ‘সহশিক্ষা কার্যক্রম’-এর মাধ্যমে নারী-পুরুষকে একত্রে আসার সুযোগ করে দিয়ে ‘প্রেম’ এবং তার পরবর্তীতে ‘ব্যাভিচার’-এর ক্ষেত্র তৈরি করছে। নারীকে পুরুষের সামনে ছেড়ে দিয়ে তার মান-ইজ্জতের রক্ষার কোনো দায়িত্ব নিচ্ছে না। পতিতাবৃত্তিকে নিষিদ্ধ করার চেষ্টা না করে, বরং বিশ্বব্যাপী পতিতাবৃত্তিকে নারীর ‘অর্থনৈতিক কর্মকা-’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এই দুষ্টুচক্র নারীকে আজীবনের জন্য এই নারকীয় কর্মযজ্ঞের দিকে ধাবিত করছে। 

প্রসঙ্গত, লিটি বারনাম নামক এক দুশ্চরিত্র বিধর্মী ১৮৫৪ সালে কথিত সুন্দরী প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। কিন্তু জনগণ কর্তৃক প্রতিহত হয়। ১৮৮০ সালে প্রথম অনুষ্ঠিত হয় আমেরিকায়। ১৯৫১ সালে এরিক মর্লি কর্তৃক ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ সর্বপ্রথম অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশেও এই মিস ওয়ার্ল্ডের কুপ্রভাব মিডিয়ার মাধ্যমে বিস্তার লাভ করছে। এই মিস ওয়ার্ল্ডে বাংলাদেশ থেকে বাছাই করা নারীদেরকে দেহপ্রদর্শনীর জন্য পাঠানো হচ্ছে। প্রথমেই যে দালাল মিডিয়া গোষ্ঠী এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে চায় তারা দৈনিক, সাপ্তাহিক পত্রিকা, ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রচারণা চালায় এবং আবেদন আহবান করে। সাথে সাথে লোভনীয় চটকদার কথার ফুলঝুরি ছড়ায়। এইসব দেহপ্রদর্শনী প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত হওয়ার জন্য নানা অশ্লীল উপায় অবলম্বন করে কথিত নির্বাচকরা। তাদের শারীরিক গঠন, হাঁটা, কথা, রং-ঢং, অঙ্গভঙ্গি, বাকপটুতা কেমন ইত্যাদি বাহারী নাম দিয়ে মার্কিং করে। যে যত অশ্লীল, মোহনীয় অঙ্গভঙ্গি, আবেদনময়ী হাসি, কামুক স্বরে কথা বলতে পারে তার মার্ক তত বেশি। এখানে দেখা হয় সে কত বেশি বেহায়াপনা দেখাতে পেরেছে সেটার মূল্যায়ন। পণ্যের ও পর্নোর মাপকাঠিতে যে মেয়ে উপযুক্ত- চূড়ান্ত প্রতিযোগী হওয়ার তার সুযোগ ততো বেশি। যে কোম্পানিগুলো এর পৃষ্ঠপোষক থাকে তাদের পণ্যের প্রচারণা কতটুকু হবে ওই মেয়েকে দিয়ে, তারা কতটুকু লাভবান হবে তা-ই মূল মাপকাঠি।

সাথে যেসব নারী শরীর বিষয়ক বিচারকরা থাকে, তাদের কুধারণা বা কুবাসনা যারা যত বেশি জাগিয়ে তুলতে পারবে বা উসকে দিতে পারবে, সে প্রতিযোগীর বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি। হাজার হাজার মেয়ের মধ্য হতে এখানে বাছাই করে মাত্র ২০-২৫ জনকে পরবর্তী ধাপের জন্য চূড়ান্ত করা হয়। প্রতিযোগিতার এক পর্যায়ে মিডিয়াগোষ্ঠী প্রতিযোগী মেয়েদের দ্বারা একটি চুক্তিপত্রে সই করিয়ে নেয়। সেখানে উল্লেখ থাকে প্রতিযোগী মেয়েরা কয়েক বছর উক্ত মিডিয়া গোষ্ঠীর যেকোনো বাণিজ্যে, পণ্যে, অনুষ্ঠানে, মডেলিংয়ে বিনা পারিশ্রমিকে হাজির থাকবে এবং নির্দেশ মতো কাজ করবে। না চাইলেও সংধারী মেয়েদের তা এড়ানোর উপায় থাকে না। সংধারী হারায় তার স্বাধীনতা। এ সুযোগে আয়োজক মিডিয়া গোষ্ঠী কামিয়ে নেয় টাকা। উক্ত সংধারীদেরকে নিজের সবকিছু বাদ দিয়ে অন্যের মনোরঞ্জনের জন্য হাজির থাকতেই হয়।

বলতে হয়, বাংলাদেশে কথিত শত শত ইসলামী দল থাকলেও প্রকৃতপক্ষে এরা সবাই ধর্মব্যবসা তথা দ্বীন ইসলাম উনাকে বিক্রি করা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। নাউযুবিল্লাহ! এই দ্বীন ইসলাম বিক্রিকারী ধর্মব্যবসায়ী মালানারা কোনো সময়ই এই অশ্লীল সুন্দরী প্রতিযোগিতা, মিস ওয়ার্ল্ড ইত্যাদির বিরুদ্ধে কোনো টু শব্দটি পর্যন্ত করে না। এইসব বেলেল্লাপনায় মহান আল্লাহ পাক উনার কঠোর শাস্তির কথা তারা দেশে প্রচার করছে না। অর্থাৎ এককথায় বলতে গেলে তারা উল্টো এগুলোকে অগ্রাহ্য করছে। তথা পরোক্ষভাবে সমর্থন প্রদান করছে। নাউযুবিল্লাহ! অথচ মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন- “যারা চায় ঈমানদারদের মধ্যে ব্যভিচার প্রসার লাভ করুক, তাদের জন্য ইহকাল ও পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে।”

‘হক্ব কথা বলা’- এটা পবিত্র ঈমানের অন্যতম আলামত

 ‘হক্ব কথা বলা’- এটা পবিত্র ঈমানের অন্যতম আলামত



পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মাঝে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- যে ব্যক্তি হক্ব কথা বলা থেকে বিরত থাকে অর্থাৎ নিশ্চুপ থাকে সে হলো বোবা শয়তান।’ নাউযুবিল্লাহ! অতএব, একজন মুসলমান যে নিজেকে ঈমানদার মু’মিন দাবি করে সে কি করে বোবা শয়তান হতে পারে। কস্মিনকালেও একজন প্রকৃত মুসলমান বোবা শয়তান হতে পারে না। অথচ এরপরও বর্তমানে মুসলমান নামধারীগণ শাসকের ভয়ে, ক্ষমতার ভয়ে, পেশীশক্তির ভয়ে, কাফির মুশরিকদের ভয়ে হক্ব কথা, সত্য কথা, ইসলামসম্মত কথা, এককথায় মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের আদেশ নির্দেশের কথা দীপ্তকণ্ঠে বলে দিতে অত্যন্ত ভীত ও লজ্জিত থাকে। নাউযুবিল্লাহ! 

এটা কখনোই উচিত নয়। কারণ, অন্যায় কাজের প্রতিবাদ প্রতিরোধ করতে যদি হাতে না পারা যায়, তবে যেন জবান দিয়েই করা হয়-এটাই দ্বীন ইসলাম উনার শিক্ষা। একারণে অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- “হযরত আবু সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন- “তোমরা সাবধান হয়ে যাও! মানুষের ভয় যেন কাউকে হক্ব কথা বলা থেকে বিরত রাখতে না পারে, যখন সে জানে যে নিশ্চিত এটাই হক্ব।” অতএব, প্রত্যেক মু’মিন মুসলমান উনাদের উচিত কাফির যালিম ফাসিক ফুজ্জারদের সম্মুখে হক্ব বিষয় বলে দেয়ার ক্ষেত্রে কোনোরূপ দুনিয়াবী ভয়ভীতি বা অপশক্তিকে পরোয়া না করা। তাহলেই মহান আল্লাহ পাক তিনি মুসলমান ঈমানদার উনাদেরকে গায়েবী মদদ দ্বারা সাহায্য করবেন। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আইয়্যামুল্লাহ শরীফ পালন করা সকলের জন্য ফরযে আইন।

 মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আইয়্যামুল্লাহ শরীফ পালন করা সকলের জন্য ফরযে আইন।


____________________________

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আইয়্যামুল্লাহ শরীফ উনাদের সম্মানিত পরিচিতি মুবারক:

اَيَّامٌ (আইয়্যাম) শব্দ মুবারকখানা يَوْمٌ (ইয়াওম্) শব্দ মুবারক উনার বহুবচন। অর্থ দিনসমূহ। আর শব্দ মুবারকখানা লফযে আল্লাহ (اللهُ শব্দ মুবারক) উনার সাথে ইযাফত হয়ে হয়েছেন- اَيَّامُ اللهِ (আইয়্যামুল্লাহ্)। সুবহানাল্লাহ!

اَيَّامُ اللهِ (আইয়্যামুল্লাহ্) উনার অর্থ হচ্ছেন যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিশেষ বিশেষ দিনসমূহ। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ দিনসমূহের মধ্যে এমন কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দিন মুবারক রয়েছেন, যেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দিন মুবারক উনাদেরকে স্বয়ং যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার নিজের দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! 

এ সম্পর্কে স্বয়ং যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَذَكِّرْهُمْ بِاَيَّامِ اللهِ اِنَّ فِـىْ ذٰلِكَ لَاٰيٰتٍ لِّكُلِّ صَبَّارٍ شَكُوْرٍ

অর্থ: “আর আপনি তাদেরকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আইয়্যামুল্লাহ শরীফ তথা মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিশেষ বিশেষ দিন মুবারক সম্পর্র্কে স্মরণ করিয়ে দিন, জানিয়ে দিন। সুবহানাল্লাহ! নিশ্চয়ই নিশ্চয়ই এই বিশেষ বিশেষ দিন মুবারকসমূহ উনাদের মধ্যে প্রত্যেক ধৈর্য্যশীল ও শুকুরগুজার বান্দা-বান্দী-উম্মত উনাদের জন্য সম্মানিত আয়াত তথা নিদর্শন, উপদেশ, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি, মা’রিফাত-মুহব্বত মুবারক নিহিত রয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ইবরাহীম শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৫)

ইমামুল মুফাসসিরীন মিনাল আউওয়ালীন ইলাল আখিরীন, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিইয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের, হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের এবং সম্মানিত ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার অর্থাৎ উনাদের সংশ্লিষ্ট মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিশেষ বিশেষ দিন ও রাত মুবারকসমূহই হচ্ছেন আলোচ্য সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আইয়্যামুল্লাহ শরীফ উনাদের অন্তর্ভুক্ত।” সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আইয়্যামুল্লাহ শরীফ পালন করা সকলের জন্য ফরযে আইন:

যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক

وَذَكِّرْهُمْ بِاَيَّامِ اللهِ اِنَّ فِـىْ ذٰلِكَ لَاٰيٰتٍ لِّكُلِّ صَبَّارٍ شَكُوْرٍ

অর্থ: “আর আপনি তাদেরকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আইয়্যামুল্লাহ শরীফ তথা মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিশেষ বিশেষ দিন মুবারক সম্পর্র্কে স্মরণ করিয়ে দিন, জানিয়ে দিন। সুবহানাল্লাহ! নিশ্চয়ই নিশ্চয়ই এই বিশেষ বিশেষ দিন মুবারকসমূহ উনাদের মধ্যে প্রত্যেক ধৈর্য্যশীল ও শুকুরগুজার বান্দা-বান্দী-উম্মত উনাদের জন্য সম্মানিত আয়াত তথা নিদর্শন মুবারক, উপদেশ মুবারক, মা’রিফাত-মুহব্বত, নিসবত-কুরবত, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক নিহিত রয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ইবরাহীম শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৫)

আলোচ্য সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘আইয়্যামুল্লাহ্ তথা যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিশেষ বিশেষ দিনসমূহ’ বলে মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিশেষ বিশেষ দিনসমূহ উনাদেরকে উনার সাথে নিসবত করে, উনার সাথে সম্পর্কযুক্ত করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিশেষ বিশেষ দিনসমূহ উনাদের ইজ্জত-সম্মান, শান-মান, মর্যাদা-মর্তবার বিষয়টি সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের নিকট স্পষ্ট করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! যেমন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ উনাকে ‘বাইতুল্লাহ’ তথা ‘মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ঘর মুবারক’ বলে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ উনার ইজ্জত-সম্মান, শান-মান, মর্যাদা-মর্তবার বিষয়টি সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িানতবাসী সকলের নিকট স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! আবার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনাকে ‘কালামুল্লাহ’ তথা ‘মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালাম মুবারক’ বলে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার ইজ্জত-সম্মান, শান-মান, মর্যাদা-মর্তবার বিষয়টি সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িানতবাসী সকলের নিকট স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! কাজেই, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আইয়্যামুল্লাহ শরীফ হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিশেষ শি‘য়ার বা নির্দশন মুবারক, অত্যন্ত সম্মানিত বিষয় এবং পালনীয় বিষয়, যেমন মহাম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ শি‘য়ার বা নিদর্শন মুবারক, অত্যন্ত সম্মানিত বিষয় এবং উনাদের মধ্যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ উনাকে অত্যন্ত মুহব্বত ও তা’যীম-তাকরীমের সাথে তাওয়াফ করতে হয়, উনার দিকে মুখ করে নামায পড়তে হয় আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনাকে অত্যন্ত মুহব্বত ও তা’যীম-তাকরীমের সাথে তিলাওয়াত করতে হয়। সুবহানাল্লাহ! তাই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনাদেরকে যেমন ইজ্জত-সম্মান মুবারক করা, তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা ফরয, তেমনিভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আইয়্যামুল্লাহ শরীফ উনাদেরকেও ইজ্জত-সম্মান করা, তা’যীম-তাকরীম করা, পালন করা ফরয। সুবহানাল্লাহ!  

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- 

لَا تُـحِلُّوْا شَعَآئِرَ اللهِ.

অর্থ: “তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত শি‘য়ার মুবারকসমূহ উনাদের, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আইয়্যামুল্লাহ শরীফ উনাদের মানহানী করো না অর্থাৎ সম্মান-ইজ্জত করো, তা’যীম-তাকরীম মুবারক করো।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা মায়িদাহ শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২)


আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

عَنْ حَضْرَتْ عَيَّاشِ بْنِ اَبـىْ رَبِيْعَةَ الْـمَخْزُوْمِىِّ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَزَالُ هٰذِهِ الْاُمَّةُ بِـخَيْرٍ مَّا عَظَّمُوْا هٰذِهِ الْـحُرْمَةَ حَقَّ تَعْظِيْمِهَا فَاِذَا ضَيَّعُوْا ذٰلِكَ هَلَكُوْا. 

অর্থ: “হযরত ‘আইয়্যাশ ইবনে আবী রবী‘আহ মাখ্যূমী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, এই উম্মত ততদিন পর্যন্ত খায়ের-বরকত, কল্যাণের উপর থাকবে, যতদিন পর্যন্ত তারা এই সম্মানিত বিষয় মুবারকসমূহ উনাদের, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আইয়্যামুল্লাহ শরীফ উনাদের যথাযথ ইজ্জত-সম্মান করবে, তা’যীম-তাকরীম মুবারক করবে। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর যখন তারা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আইয়্যামুল্লাহ শরীফ উনাদের ইহানত করবে, মানহানী করবে, অবমাননা করবে, তখন তারা হালাক হয়ে যাবে, ধ্বংস হয়ে যাবে।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (ইবনে মাজাহ শরীফ, মিশকাত শরীফ, মিরক্বাত শরীফ)

আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আইয়্যামুল্লাহ শরীফ উনাদেরকে ইজ্জত-সম্মান করার, তা’যীম-তাকরীম মুবারক করার একমাত্র উপায় হচ্ছে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আইয়্যামুল্লাহ শরীফ উনাদেরকে অত্যন্ত যওক্ব-শওক্ব, মুহব্বত, তা’যীম-তাকরীম ও সম্মানের সাথে উদযাপন করা, পালন করা। সুবহানাল্লাহ!


এ জন্যই যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন,

وَذَكِّرْهُمْ بِاَيَّامِ اللهِ اِنَّ فِـىْ ذٰلِكَ لَاٰيٰتٍ لِّكُلِّ صَبَّارٍ شَكُوْرٍ

অর্থ: “আর আপনি তাদেরকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আইয়্যামুল্লাহ শরীফ তথা মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিশেষ বিশেষ দিন মুবারক সম্পর্র্কে স্মরণ করিয়ে দিন, জানিয়ে দিন। সুবহানাল্লাহ! নিশ্চয়ই নিশ্চয়ই এই বিশেষ বিশেষ দিন মুবারকসমূহ উনাদের মধ্যে প্রত্যেক ধৈর্য্যশীল ও শুকুরগুজার বান্দা-বান্দী-উম্মত উনাদের জন্য সম্মানিত আয়াত তথা নিদর্শন মুবারক, উপদেশ মুবারক, মা’রিফাত-মুহব্বত, নিসবত-কুরবত, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক নিহিত রয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ইবরাহীম শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৫)


এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রথমে সম্মানিত নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আইয়্যামুল্লাহ শরীফ উনাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য, জানিয়ে দেয়ার জন্য। সুবহানাল্লাহ! তারপর তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, 


اِنَّ فِـىْ ذٰلِكَ لَاٰيٰتٍ لِّكُلِّ صَبَّارٍ شَكُوْرٍ

অর্থ: “নিশ্চয়ই নিশ্চয়ই এই বিশেষ বিশেষ দিন মুবারকসমূহ উনাদের মধ্যে প্রত্যেক ধৈর্য্যশীল ও শুকুরগুজার বান্দা-বান্দী-উম্মত উনাদের জন্য সম্মানিত আয়াত তথা নিদর্শন মুবারক, উপদেশ মুবারক, মা’রিফাত-মুহব্বত, নিসবত-কুরবত, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক নিহিত রয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ইবরাহীম শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৫)

 অর্থাৎ বান্দা-বান্দীদের জন্য ফরয হচ্ছে- অত্যন্ত ধৈর্য্য ও শুকুরগুজারীর সাথে, অত্যন্ত যওক্ব-শওক্ব, মুহব্বত, তা’যীম-তাকরীম ও সম্মানের সাথে এই বিশেষ বিশেষ দিন মুবারকসমূহ উনাদেরকে উদ্যাপন করা, পালন করা। তাহলে তারা হাক্বীক্বী রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক, মা’রিফাত-মুহব্বত মুবারক লাভ করতে পারবে। সুবহানাল্লাহ!


একদিকে ধ্বংস থেকে বাঁচা যেমন ফরয, অন্যদিকে মহান আল্লাহ পাক উনার হাক্বীক্বী মা’রিফাত-মুহব্বত, নিসবত-কুরবত, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক অর্জন করাটাও ফরয। সুবহানাল্লাহ! 

কাজেই সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীর জন্য ফরযে আইন হচ্ছে অত্যন্ত ধৈর্য্য ও শুকুরগুজারীর সাথে, অত্যন্ত যওক্ব-শওক্ব, মুহব্বত, তা’যীম-তাকরীম ও সম্মানের সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আইয়্যামুল্লাহ শরীফ উনাদেরকে উদযাপন করা, পালন করা। সুবহানাল্লাহ!

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...