Tuesday, December 21, 2021

রাজারবাগ শরীফ উনার পরিচিতি-৪

 রাজারবাগ শরীফ উনার পরিচিতি-৪



৪. এক সুন্নতী মসজিদ উনার কথা:


রাজারবাগ শরীফ উনার পরিচিতি তুলে ধরতে হলে পবিত্র সুন্নতী জামে মসজিদ উনার কথা বলতেই হবে। এছাড়া সমস্ত বর্ণনা অপূর্ণ রয়ে যাবে। মসজিদ মহান আল্লাহ পাক উনার ঘর। খোঁজ নিয়ে দেখা যাবে- মুসলমান মাত্রই কোনো না কোনো মসজিদ তৈরিতে সাহায্য করেন বা দান করে থাকেন। শহরে থাকলে এলাকার মসজিদে, গ্রামে থাকলে গ্রামের মসজিদে আবার অনেকে শহরে থেকেও নিজের গ্রামের মসজিদের জন্য দান করে থাকেন। পাশ্চাত্যে যেমন- আমেরিকা, ব্রিটেন, ইটালী, ফ্রান্স এসব দেশে যখন কোনো মুসলিম দেশ যেমন- বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা কোনো আফ্রিকার মুসলিম দেশ থেকে মুসলমানগণ যান; তারা সেদেশে গিয়ে অনেক মসজিদ-মাদরাসা তৈরি করেছেন তার বহু নজির রয়েছে। অনেক বেনামাযী লোকও কেবল মসজিদ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত হয়ে নামাযী হয়ে গেছেন। এর কারণ মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত। অর্থাৎ খালিছ নিয়তে কেউ যদি মহান আল্লাহ পাক উনার ঘরের খিদমতের আঞ্জাম দেয়, তাহলে এক সময় তার আল্লাহওয়ালা হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়ে যায়।

তবে অবশ্যই একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ, তা হচ্ছে- যদি কোনো ভ্রান্ত মত-পথ প্রচারের লক্ষ্যে, সমাজে নিজের অবস্থান প্রকাশের উদ্দেশ্যে, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মসজিদ-মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করে বা সেখানে দান করে, তবে নেকী না হয়ে বিপরীত ফল বয়ে আনবে।

পবিত্র মসজিদুল হারাম শরীফ উনার মধ্যে নামায পড়লে এক রাকাতের সমান এক লক্ষ রাকাতের ছওয়াব, পবিত্র মসজিদে নববী শরীফ এবং পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস শরীফ উনার মাঝে এক রাকাতের বিনিময়ে পঞ্চাশ হাজার রাকাতের সমান ছওয়াব পাওয়া যায়। আর যে মসজিদে জুমুয়াহ হয় সেখানে নামায পড়লে এক রাকাতের বিনিময়ে পাঁচশ’ রাকাত আর সাধারণ মসজিদে নামায পড়লে ঘরে পড়ার চেয়ে পঁচিশগুণ বেশি ছওয়াব পাওয়া যায়। এখানে ফতওয়া হচ্ছে, বেশি ছওয়াবের নিয়তে পবিত্র মসজিদুল হারাম শরীফ, পবিত্র মসজিদে নববী শরীফ এবং পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস শরীফ ভিন্ন অন্য কোনো মসজিদে ভ্রমণ (ছফর) করা জায়িয নেই। কিন্তু এটা সত্য, এই তিন মসজিদে দান করা আর অন্য কোনো মসজিদে দান করা কখনোই সমান হবে না। একইভাবে যে মসজিদ কোনো মহান ওলীআল্লাহ উনার সঙ্গে নিছবতযুক্ত (সম্পর্কযুক্ত) এবং যে মসজিদ হতে হাক্বীক্বীভাবে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার কার্যক্রম হয়, সেখানে দান করা আর কেবল পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায়ের মসজিদে দান করা কখনো এক হবে না। এর মূল কারণ বুঝতে হলে একটি বিষয় জানা ও উপলব্ধি করা দরকার। যেমন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার আমলনামা দাঁড়িপাল্লার এক অংশে রাখা হলে আর অন্য অংশে বিশ্বের সকল মুসলমান উনাদের আমলনামা রাখা হলে উনার অংশই ভারী হবে। এর কারণ তিনিই প্রথম সম্মানিত পুরুষ ব্যক্তিত্ব মুবারক যিনি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনাকে প্রথম কবুল করেছিলেন। সুবহানাল্লাহ! ফলে যত মুসলমান পবিত্র দ্বীন ইসলাম কবুল করবেন সবার আমলনামা সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার আমলনামায় জমা হচ্ছে এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত হতেই থাকবে। তাহলে সকলের সঞ্চিত নেক আমলনামা যোগে উনার আমলনামা ভারী হবে- এটাই স্বাভাবিক।

একইভাবে যে মসজিদ মুবারকে যিকির-ফিকির, ইলম আমলের, পবিত্র দ্বীন ইসলামের প্রচার প্রসারের কাজকর্ম চলতেই থাকে, সেই মসজিদে দান করলে অবশ্যই কেবল ওয়াক্তিয়া মসজিদে দান করার চেয়ে ছওয়াব বেশি পাওয়া যাবে। এটা মহান আল্লাহ পাক উনার ওয়াদা। কারণ তিনি সমস্ত নেক কাজের উত্তম প্রতিদান দিয়ে থাকেন। (চলবে)


Writer: Abm Ruhul Hassan

রাজারবাগ শরীফ উনার পরিচিতি -৩

 রাজারবাগ শরীফ উনার পরিচিতি -৩



ঢাকাস্থ ‘রাজারবাগ শরীফ’ থেকে কার্যক্রম শুরু :

--------------------------------------------------------------------

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূর্ববর্তী সময়ে যে সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা এসেছিলেন, উনারা একটি নির্দিষ্ট কওমের হিদায়েতের জন্য এসেছিলেন। একমাত্র নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এসেছেন পুরো কায়িনাতের জন্য। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন ‘খাতামুন নাবিইয়ীন’ অর্থাৎ উনার পর আর কোনো হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা আসবেন না; কিন্তু উনার উম্মতের মধ্য থেকে আসবেন সম্মানিত “মুজাদ্দিদ”। মুজাদ্দিদগণ কোনো একটি নির্দিষ্ট এলাকায় অবস্থান করলেও উনাদের হিদায়েতের কার্যপরিধি থাকে পৃথিবীব্যাপী।

আর একজন সম্মানিত মুজাদ্দিদসহ সকল ওলীআল্লাহগণ উনারা কে কোথায় অবস্থান করে হিদায়েতের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন তা মূলত নিয়ন্ত্রণ করেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। যেমন হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তৎকালীন বৃহত্তর পারস্যের অধিবাসী হলেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক নির্দেশক্রমে ভারতের আজমীর শরীফে এসে হিদায়েতের কার্যক্রম শুরু করেন। আবার ৭ম শতকের মহান মুজাদ্দিদ মাহবুবে ইলাহী হযরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ভারতের দিল্লীতে উনার হিদায়েতের কেন্দ্রস্থল গড়ে তোলেন। আবার হযরত মুজাদ্দিদে আলফেছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থান ভ্রমণ করলেও উনার পৈতৃক নিবাস সিরহিন্দ শরীফই ছিল উনার মূল হিদায়েতের কর্মস্থল।

একইভাবে ১৫ শতকের মহান মুজাদ্দিদ, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে অবস্থান করার কারণে সেখান থেকেই হিদায়েতের আলো বিতরণ শুরু করেন। যদিও উনার সম্মানিত শায়েখ ঢাকার যাত্রাবাড়িতে অবস্থান করতেন; কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক নির্দেশক্রমে তিনি উনার পৈতৃক নিবাস ঢাকার রাজারবাগ শরীফে মসজিদে নববী শরীফ উনার আদলে পবিত্র সুন্নতী মসজিদ স্থাপন করেন এবং এখান থেকেই উনার মূল হিদায়েতের কার্যক্রম সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেন। সম্মানিত রাজারবাগ শরীফ উনার অবস্থান হচ্ছেন- দেশের বৃহত্তম পুলিশ লাইন ‘রাজারবাগ পুলিশ লাইন’-এর ৩নং গেটের বিপরীত দিকে। যখন কাফির-মুশরিকরা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ বিশ্বের চতুর্দিকে মুসলমানদেরকে সন্ত্রাসী বানানোর একটা অপচেষ্টায় লিপ্ত, ঠিক সেই সময়ে ‘রাজারবাগ পুলিশ লাইন’-এর ৩নং গেটের বিপরীতে হিদায়েতের এই কর্মকান্ড- হচ্ছে হক্বের একটি অনন্য নিশানা এবং সাইয়্যিদুনা হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার একটি কারামত মুবারকের অন্তর্ভুক্ত। (চলবে)


Writer: Abm Ruhul Hassan

রাজারবাগ শরীফ উনার পরিচিতি-১

 রাজারবাগ শরীফ উনার পরিচিতি-১



নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মাঝে ইরশাদ মুবারক করেন- “আমার উম্মত আমার শিক্ষাকে ৭৩টি দলে বিভক্ত করবে, তবে তার মাঝে একটি দল হবে হক।” সেই সঠিক আক্বীদাবিশিষ্ট দলকে পরবর্তীতে বলা হয়েছে ‘আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত’। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেলো অনেকেই নিজেদের সেই দলের সদস্য দাবি করছে কিন্তু তাদের আক্বঈদ, আমল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত থেকে ভিন্ন, যেমন ওহাবী ও সলাফী সম্প্রদায়। চার মাযহাবের অনুসারীগণই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অনুসারী। তারপরেও একই মাযহাবের অনুসারীগণের মধ্যে আবার ইলমে তাসাউফ, ইলমে আখলাক বা ইলমে বাতেন হাছিলের জন্য বিভিন্ন ধারা, তরীক্বা বা সিলসিলা পাওয়া যায়। ‘সিলসিলা’ একটি আরবী শব্দ; যার অর্থ- চেইন বা সংযোগের ধারাবাহিকতা। এটা আধ্যাত্মিক বংশতালিকাও বটে, যেখানে একজন কামিল মুর্শিদ বা শায়েখ উনার উত্তরপুরুষদের মধ্যে খিলাফতের ভার ন্যাস্ত করে যান। ‘সিলসিলা’ হচ্ছে কামিল মুর্শিদ বা শায়েখগণের একটি পর্যায়ক্রমিক ধারা। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়- গাউসুল আ’যম হযরত বড়পীর সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং সুলত্বানুল হিন্দ হযরত খাজা গারীব নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা আহলে সুন্নাত জামাতের আক্বীদাভুক্ত হবার পরেও মাযহাবের দিক থেকে এবং তাসাউফ শিক্ষার সিলসিলার দিক থেকে ভিন্ন। আর সে কারণে অনেক সময় তাসাউফ শিক্ষার পর্যায়ক্রমিক ধারাই ‘সিলসিলা’ হিসেবে মশহুর হয়ে থাকে।

কখনো কখনো কোনো সিলসিলার মধ্যে আগত কোনো বিশিষ্ট ওলীআল্লাহ উনার নাম অনুসারে বা উনার অবস্থানস্থল অনুসারে সেই সিলসিলা ভিন্ন নামে মানুষের মাঝে পরিচিত হয়ে থাকে। কিন্তু নাম যাই হোক না কেন, সেই সিলসিলা মূলের দিক থেকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আক্বীদাভুক্ত এবং তসাউফের একটি নির্দিষ্ট ধারার সঙ্গে অবশ্যই সম্পৃক্ত থাকবে। 

গাউসুল আ’যম হযরত বড়পীর সাহেব রহমতুল্লাহি উনার তরীক্বা বা সিলসিলা উনার সম্মানিত নাম মুবারক অনুসারে ‘কাদেরিয়া তরীক্বা’ বা ‘কাদেরিয়া সিলসিলা’ হিসেবে মশহুর। আবার হযরত মুজাদ্দিদে আলফেছানী রহমতুল্লাহি উনার তরীক্বা প্রথম দিকে কেবল ‘মুজাদ্দিদিয়া তরীক্বা’ হিসেবেও থাকলেও পরে নকশবন্দিয়া তরীক্বা মিলিত হবার কারণে নাম হয় ‘নকশবন্দিয়া-মুজাদ্দেদিয়া’। আবার চিশত নামক স্থান থেকে ‘চিশতিয়া তরীক্বা’ নামের উদ্ভব হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। হযরত বাহাউদ্দিন নকশবান্দ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার তরীক্বা ‘নকশবন্দিয়া তরীক্বা’ হিসেবে মশহর। এই ‘নকশবান্দ’ নাম মুবারক মশহুর হবার পেছনে দুটি কারণ ব্যাখ্যা করা হয়- ১. তিনি উনার সম্মানিত পিতাকে নকশাদার চাদর বুনতে সাহায্য করতেন। ২. তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির করার মাধ্যমে উনার অন্তরে মহান আল্লাহ পাক উনার নকশা অঙ্কিত করেছিলেন।

আবার ত্রয়োদশ শতকের মহান মুজাদ্দিদ হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি চার তরীক্বার তালিম দেয়ার কারণে অনেক স্থানে এসে এই সিলসিলার নাম পরিবর্তিত হয়ে যায়। যেমন ১৪ শতকের বিশিষ্ট মুজাদ্দিদ তিনি ভারতের ফুরফুরা শরীফে অবস্থান করার কারণে সিলসিলার নাম পরিবর্তিত হয়ে ‘ফুরফুরা সিলসিলা’ হিসেবে মশহুর হয়ে যায়। তাহলে আমরা দেখতে পেলাম ওলীআল্লাহগণের নাম থেকে, এলাকার নাম থেকে, রুপক অর্থে বিভিন্নভাবে সিলসিলার নাম মশহুর হয়ে থাকে। একইভাবে ১৫ শতকের সম্মানিত মুজাদ্দিদ হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি রাজারবাগ শরীফে অবস্থান কারণে মানুষরা এই সম্মানিত সিলসিলাকে রাজারবাগ সিলসিলা হিসেবে চেনে থাকেন। (চলবে)


Writer: Abm Ruhul Hassan

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...