আমলে নাযাত না আক্বিদায় নাযাত (পর্ব-২)
চরম জাহিলিয়াতের যুগে প্রতিষ্ঠিত সত্যবাদী (আল আমীন) যখন নবুয়তের সত্যতা প্রমাণে চাঁদকে দ্বিখন্ডিত করে দেখালেন, সেই পর্যায়েও অনেকে উনাকে নবী হিসেবে মেনে নিতে পারেনি, নসীবে হিদায়েত ছিলনা তাদের। বর্তমান জামানায় হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কিসের তৈরী এ বিষয়ে যত কঠিন কিংবা অকাট্য দলিল ও যুক্তিই উপস্থাপন করা হোক না কেন নসীবে হিদায়েত না থাকলে কোন ব্যক্তির পক্ষে সঠিক সিদ্ধান্তে (আক্বিদায়) পৌছান সম্ভব নয়।
ইহুদী ওয়াহাবী সৌদী রাজা অগাধ পেট্টো ডলার কাজে লাগিয়ে সাধারণ মুসলমানদেরকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছে যে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাটির তৈরী। নাউযুবিল্লাহ! ওরা পবিত্র কুরআন শরীফের একটি আয়াত দলিল হিসেবে উপস্থাপন করে এবং সাধারণ মানুষকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছে যে, কুরআন শরীফের আলোকে সকল মানুষ মাটির তৈরী। এই বক্তব্যটুকু যদি কোন শিক্ষিত খৃষ্টানকে বলা হয় যে, তোমার নবী (গড) মাটির তৈরী তখন ঐ বক্তব্য উপস্থাপনকারীর চোয়ালে একটি দাঁতও সেই খৃষ্টান অবশিষ্ট রাখবে না। কারণ হিসেবে সে বলবে, তোমাদের কুরআন শরীফেই বলা হয়েছে, হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে ‘ফু’ দিয়ে তৈরী করা হয়েছে। উনি মাটির হন কিভাবে? ঐ মূর্খ ওয়াহাবী/সালাফী মুসলমান প্রতিউত্তরে যদি বলে, কেন? আদি পিতা হযরত আদম আলাইহিস সালাম যেহেতু মাটির তৈরী, তাই পরবর্তী সবাই মাটির তৈরী।
খৃষ্টানের জবাব হবে, আমাদের নবীর কোন পিতা নেই, সে মাটির হয় কিভাবে? তারপরও বড় কথা হচ্ছে, তোমাদের কুরআন শরীফ অনুযায়ী মা হাওয়া আলাইহাস সালাম মাটি দ্বারা সৃষ্ট নন। উনাকে হযরত আদম আলাইহিস সালামের পাজরের এক হাড্ডি থেকে তৈরী করা হয়েছে। একান্ত গন্ড মূর্খরাই দুধ খাওয়াকে মাটি খাওয়া গণ্য করে। যুক্তি? মাটিতে ঘাস হয়, ঐ ঘাস গরু খায়, ঐ গরু দুধ দেয় এবং ঐ দুধ মানুষ পান করে, তাই মানুষ মাটি পান করে। এই রকম একটি সূক্ষ্ম খোঁড়া যুক্তি দিয়ে বর্তমান যামানার মুর্খ মুসলমানদেরকে ওয়াহাবী রাজা বুঝাতে সক্ষম হয়েছে যে, আমাদের নূরের নবী মাটির। নাউযুবিল্লাহ!
খৃষ্টান কুরআন শরীফ পড়ে দেখেছে যে, মহান আল্লাহ পাক বলেছেন, “আমি মানব জাতি সৃষ্টি করেছি এক ফোটা আলাক (জমাট রক্ত) থেকে।” [পবিত্র কুরআন শরীফ]
মানব জাতি আলাক থেকে সৃষ্টি আর তুমি সালাফি ধারণা করো তোমার পিতা মাতা তোমাকে মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছে। গন্ডমূর্খ কোথাকার! তবে ডারইউন কী দোষ করলো; সে যখন বলে, আমরা অতীতে বানর ছিলাম(?)
অত্যন্ত সূক্ষ্ম জ্ঞানের অধিকারী ঐ খৃষ্টান বোকা সালাফীকে বুঝাতে চেষ্টা করে বলে, “দেখ, তুমি যেই কুরআন শরীফের আয়াতের কথা বলছো যে, “আমি তোমাদের মত মানুষ, আমার উপর ওহী নাযিল হয়।”
এই ‘মত’ শব্দটা দিয়েই সৌদী ইহুদী রাজা তোমাদেরকে সবচেয়ে বেশী বিভ্রান্ত করেছে। বাস্তবতা হচ্ছে ‘মত’ মানে ‘মত না’। যেমন, চাঁদের মত মুখ, চাঁদ উপগ্রহ আর মুখ হচ্ছে মানুষের অংগ। সিংহের মত হ্নদয়, হরিণের মত চোখ। সিংহ, হরিণ সব হচ্ছে বড় বড় জানোয়ার। আর হ্নদয় হচ্ছে মন আর চোখ হচ্ছে মানুষের অংগ। কোনটাই এক জিনিস নয় অথচ সবই হচ্ছে ‘মত’।
মূলত: ‘মত’ শব্দটা তখনই ব্যবহ্নত হয় যখন দু’টি তুলনা যোগ্য বিষয় বা বস্তু ভিন্ন প্রকৃতির হয়। এতো ছিল সব যুক্তির কথা, চন্দ্র দ্বিখন্ডিত করেও হিদায়েত যাদের নসীবে ছিলনা তারা হিদায়েত পায়নি। বর্তমান যামানাতে দীর্ঘ দিন যারা ওয়াহাবী মগজ ধোলাই এর কারনে নূরের নবীকে মাটির নবী বলে ধারণা করে আসছে তারা কিভাবে আক্বিদাহ শুদ্ধ করবে? একান্ত সৌভাগ্যবান মুসলমানেরাই পারবে সঠিক আক্বিদাতে প্রবেশ করে জান্নাতের চির শান্তির বাগানে প্রবেশ করতে। বর্তমান যামানার ঐ বাতিল ৭২ ফিরকার অধিকাংশ তথাকথিত মুসলমানেরাই গোমরাহীতে দৃঢ় থেকে জাহান্নামের আগুনের খোরাক (লাকরি) হবে। মহান আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে দ্বীনের সহীহ আক্বিদাতে প্রবেশ করার তৌফিক এনায়েত করুন। আমীন।।
সৌদী (ইহুদী) ওয়াহাবী রাজার ভয়ংকর মগজধোলাই থেকে বিশ্ব মুসলমানকে রক্ষা করুন। সুম্মা আমীন।।

