Friday, June 25, 2021

আমলে নাযাত না আক্বিদায় নাযাত (পর্ব-২)

 আমলে নাযাত না আক্বিদায় নাযাত (পর্ব-২)



চরম জাহিলিয়াতের যুগে প্রতিষ্ঠিত সত্যবাদী (আল আমীন) যখন নবুয়তের সত্যতা প্রমাণে চাঁদকে দ্বিখন্ডিত করে দেখালেন, সেই পর্যায়েও অনেকে উনাকে নবী হিসেবে মেনে নিতে পারেনি, নসীবে হিদায়েত ছিলনা তাদের। বর্তমান জামানায় হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কিসের তৈরী এ বিষয়ে যত কঠিন কিংবা অকাট্য দলিল ও যুক্তিই উপস্থাপন করা হোক না কেন নসীবে হিদায়েত না থাকলে কোন ব্যক্তির পক্ষে সঠিক সিদ্ধান্তে (আক্বিদায়) পৌছান সম্ভব নয়।


ইহুদী ওয়াহাবী সৌদী রাজা অগাধ পেট্টো ডলার কাজে লাগিয়ে সাধারণ মুসলমানদেরকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছে যে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাটির তৈরী। নাউযুবিল্লাহ! ওরা পবিত্র কুরআন শরীফের একটি আয়াত দলিল হিসেবে উপস্থাপন করে এবং সাধারণ মানুষকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছে যে, কুরআন শরীফের আলোকে সকল মানুষ মাটির তৈরী। এই বক্তব্যটুকু যদি কোন শিক্ষিত খৃষ্টানকে বলা হয় যে, তোমার নবী (গড) মাটির তৈরী তখন ঐ বক্তব্য উপস্থাপনকারীর চোয়ালে একটি দাঁতও সেই খৃষ্টান অবশিষ্ট রাখবে না। কারণ হিসেবে সে বলবে, তোমাদের কুরআন শরীফেই বলা হয়েছে, হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে ‘ফু’ দিয়ে তৈরী করা হয়েছে। উনি মাটির হন কিভাবে? ঐ মূর্খ ওয়াহাবী/সালাফী মুসলমান প্রতিউত্তরে যদি বলে, কেন? আদি পিতা হযরত আদম আলাইহিস সালাম যেহেতু মাটির তৈরী, তাই পরবর্তী সবাই মাটির তৈরী।


খৃষ্টানের জবাব হবে, আমাদের নবীর কোন পিতা নেই, সে মাটির হয় কিভাবে? তারপরও বড় কথা হচ্ছে, তোমাদের কুরআন শরীফ অনুযায়ী মা হাওয়া আলাইহাস সালাম মাটি দ্বারা সৃষ্ট নন। উনাকে হযরত আদম আলাইহিস সালামের পাজরের এক হাড্ডি থেকে তৈরী করা হয়েছে। একান্ত গন্ড মূর্খরাই দুধ খাওয়াকে মাটি খাওয়া গণ্য করে। যুক্তি? মাটিতে ঘাস হয়, ঐ ঘাস গরু খায়, ঐ গরু দুধ দেয় এবং ঐ দুধ মানুষ পান করে, তাই মানুষ মাটি পান করে। এই রকম একটি সূক্ষ্ম খোঁড়া যুক্তি দিয়ে বর্তমান যামানার মুর্খ মুসলমানদেরকে ওয়াহাবী রাজা বুঝাতে সক্ষম হয়েছে যে, আমাদের নূরের নবী মাটির। নাউযুবিল্লাহ!


খৃষ্টান কুরআন শরীফ পড়ে দেখেছে যে, মহান আল্লাহ পাক বলেছেন, “আমি মানব জাতি সৃষ্টি করেছি এক ফোটা আলাক (জমাট রক্ত) থেকে।” [পবিত্র কুরআন শরীফ]


মানব জাতি আলাক থেকে সৃষ্টি আর তুমি সালাফি ধারণা করো তোমার পিতা মাতা তোমাকে মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছে। গন্ডমূর্খ কোথাকার! তবে ডারইউন কী দোষ করলো; সে যখন বলে, আমরা অতীতে বানর ছিলাম(?)

অত্যন্ত সূক্ষ্ম জ্ঞানের অধিকারী ঐ খৃষ্টান বোকা সালাফীকে বুঝাতে চেষ্টা করে বলে, “দেখ, তুমি যেই কুরআন শরীফের আয়াতের কথা বলছো যে, “আমি তোমাদের মত মানুষ, আমার উপর ওহী নাযিল হয়।”


এই ‘মত’ শব্দটা দিয়েই সৌদী ইহুদী রাজা তোমাদেরকে সবচেয়ে বেশী বিভ্রান্ত করেছে। বাস্তবতা হচ্ছে ‘মত’ মানে ‘মত না’। যেমন, চাঁদের মত মুখ, চাঁদ উপগ্রহ আর মুখ হচ্ছে মানুষের অংগ। সিংহের মত হ্নদয়, হরিণের মত চোখ। সিংহ, হরিণ সব হচ্ছে বড় বড় জানোয়ার। আর হ্নদয় হচ্ছে মন আর চোখ হচ্ছে মানুষের অংগ। কোনটাই এক জিনিস নয় অথচ সবই হচ্ছে ‘মত’।


মূলত: ‘মত’ শব্দটা তখনই ব্যবহ্নত হয় যখন দু’টি তুলনা যোগ্য বিষয় বা বস্তু ভিন্ন প্রকৃতির হয়। এতো ছিল সব যুক্তির কথা, চন্দ্র দ্বিখন্ডিত করেও হিদায়েত যাদের নসীবে ছিলনা তারা হিদায়েত পায়নি। বর্তমান যামানাতে দীর্ঘ দিন যারা ওয়াহাবী মগজ ধোলাই এর কারনে নূরের নবীকে মাটির নবী বলে ধারণা করে আসছে তারা কিভাবে আক্বিদাহ শুদ্ধ করবে? একান্ত সৌভাগ্যবান মুসলমানেরাই পারবে সঠিক আক্বিদাতে প্রবেশ করে জান্নাতের চির শান্তির বাগানে প্রবেশ করতে। বর্তমান যামানার ঐ বাতিল ৭২ ফিরকার অধিকাংশ তথাকথিত মুসলমানেরাই গোমরাহীতে দৃঢ় থেকে জাহান্নামের আগুনের খোরাক (লাকরি) হবে। মহান আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে দ্বীনের সহীহ আক্বিদাতে প্রবেশ করার তৌফিক এনায়েত করুন। আমীন।।


সৌদী (ইহুদী) ওয়াহাবী রাজার ভয়ংকর মগজধোলাই থেকে বিশ্ব মুসলমানকে রক্ষা করুন। সুম্মা আমীন।।

আমলে নাযাত না আক্বিদায় নাযাত (পর্ব-১)

 আমলে নাযাত না আক্বিদায় নাযাত

(পর্ব-১)


========================

অতীত যুগের কোন মুসলমান যদি এই প্রশ্নটি কোথাও উপস্থাপন করতো তৎখনাৎ তাকে প্রশ্ন করা হতো, “তুমি কবে থেকে মুসলমান, গতকাল থেকে না আজ থেকে?” কারণ একজন মুসলমান এমন সামান্য একটি বিষয়ে বেখবর থাকবে তা সে যুগে কল্পনাই করা যেতো না। বর্তমান আখেরী মানাতে এই প্রশ্নটির উত্তর সাধারণ মুসলমানতো অনেক পরের কথা, সমাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত শতকরা ৯০ ভাগ হুজুরই সম্ভবত বলতে পারবে না। তবে এ যুগের সাধারণ মুসলমানদেরকে দোষ দিয়ে কী লাভ? এরাতো ধর্ম ইসলাম শিখে হুজুরদের কাছ থেকেই। যদি তারা ভাগ্যক্রমে সঠিকভাবে জবাব দিতে সক্ষম হয়, অতঃপর যদি ২য় প্রশ্নটি করা হয় যে, ঈমান ও আক্বিদার মধ্যে পার্থক্য কী? এ ক্ষেত্রে অধিকাংশই ব্যর্থ হবে সঠিক জবাব দিতে। প্রশ্ন হচ্ছে এ অবস্থায়, কে আমাদেরকে সঠিক আক্বিদার

সাথে পরিচয় করাবে? এক্ষেত্রে প্রাথমিক চাহিদা হচ্ছে, এই বিষয়ে নিজেকেই প্রথমে জিজ্ঞেস করা,

আমি কী ইসলমের সঠিক আক্বিদা ধারণ করি? এই প্রশ্নের ভিতরই সঠিক আক্বিদা অর্জন করার সূত্র নিহিত। এই কথাটি আর কেউ নয় মহান আল্লাহ পাক বলেছেন, “যে আমাকে খুঁজবে তাকে আমার প্রাপ্তি সহজ করে দেব।” (সূরা শুরা:১৩) যেহেতু মহান আল্লাহ পাক স্বয়ং বলেছেন উনাকে তালাশ করতে এ বিষয়ে আর দ্বিমতের সুযোগ নেই। অর্থাৎ অন্তরে হক্ব তালাশের আগ্রহ সৃষ্টি করা হচ্ছে মহান আল্লাহকে প্রাপ্তির পথে প্রথম পদক্ষেপ। আর এই প্রথম পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থদের জন্য জান্নাত আশা করা হবে কল্পনার অলীক উদ্ভাবন। ইসলামের শক্রদের অবিরাম প্রচেষ্টা আর এ যুগের মুসলমানদের চেতনাহীনতার কারনে ইসলাম আজ ৭৩ ভাগে বিভক্ত। ইসলামের চরম শক্ররাই বর্তমানে সাধারণ মুসলমানদের ধর্মীয় দিক নির্দেশনা দানকারীর দায়িত্ব পালন করছে। তাদের বিরুদ্ধে কোন বক্তব্য শুনলে অধিকাংশ তথাকথিত মুসলমানরা ক্ষেপে উঠে। যেমন জাকির নায়েক, ধর্মীয় জ্ঞানে পারদর্শী এক সূক্ষ্ম আক্বিদা ধ্বংসকারী, সাধারণ মুসলমানেরা তা বুঝে না। [ লিংক:

http://www.rajibkhaja.com/zakirnaik ] কোন এক ভিডিওতে, এক প্রশ্নের উত্তরে সে বলে যে, মুসলমানদের মধ্যে কোন দল নেই কারণ, নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিয়া, সুন্নী ছিলেন না। তাই ইসলামে বিভিন্ন দল, মত আছে বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। কি সাংঘাতিক সূক্ষ্ম এক

বিভ্রান্তি! যেখানে পরিষ্কার হাদীস শরীফ আছে, “ইহুদীরা ৭১ দলে, নাছারারা ৭২দল আর আমার

উম্মতেরা ৭৩ দলে বিভক্ত হবে।” [মুসলিম, মিশকাত শরীফ] আর সেখানে জাকির নায়েক বলছে,

মুসলমানদের মধ্যে কোন ভাগ নেই। সরাসরি হাদীস শরীফ অস্বীকার করা! এ যুগের কতজন মুসলমান এহেন মগজ ধোলাই থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে সক্ষম? জাকির নায়েক যে কাফির নায়েক জানতে ক্লিক করুন: [ http:// www.youtube.com/watch?v=0w6ofjiWLMI ] আসা যাক এবার আক্বিদা সংক্রান্ত বিভ্রান্তি নিরসনে। হাদীস শরীফ অনুযায়ী, “আক্বিদাহ শুদ্ধ কর, অল্প আমলই

নাজাতের জন্য যথেষ্ট।” প্রশ্ন হচ্ছে, আক্বিদা বলতে কি বুঝায় তাই যদি না বুঝি, শুদ্ধ করবো কিভাবে? একজন খৃষ্টান হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে নবী হিসেবে মানে ও বিশ্বাস করে, অর্থাৎ নবীর প্রতি তার ঈমান আছে বলেই সে খৃষ্টান, তবে তার আক্বিদা নষ্টের কারনে সে জাহান্নামী। তার

কী আক্বিদাহ নষ্ট(?) সে ধারণা করে, তার নবী স্বয়ং গড বা সৃষ্টিকর্তা। এই ভ্রান্ত আক্বিদার কারনেই

সে জাহান্নামী, ঈমান থাকা সত্বেও। এখন একজন মুসলমানেরও যদি তার নবী সম্বন্ধে আক্বিদায়

ক্রটি থাকে সে কোথায় যাবে? ঐ একই স্থানে, অর্থাৎ কঠিন জাহান্নাম। বর্তমান সময়ে মুসলমান সমাজে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে ৪ ধরনের আক্বিদাহ বিদ্যমান। একদল

বলে, নবীজি মহান আল্লাহ পাকের জাতি নূর দিয়ে তৈরী। পাকিস্তানে অবস্থিত ক্বদরীয়া তরিকার

অতি সুন্নিরা এহেন আক্বিদা পোষণ করে। দ্বিতীয় আক্বিদাটি হচ্ছে, মহান আল্লাহ পাক হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সর্বপ্রথম নূর দিয়ে সৃষ্টি করেন এবং পরবর্তীতে মানুষের

অবয়বে পৃিথবীতে প্রেরন করেন। আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত এই আক্বিদায় বিশ্বাসী। তৃতীয়

দলটি কোরান শরীফের একটি আয়াতের বরাত দিয়ে বলে, উনি মাটির তৈরী। এটা ওয়াহাবীদের আক্বিদা। অনেক টাকার বিনিময়ে দীর্ঘ দিনের প্রচেষ্টার মাধ্যমে সৌদী (ইহুদী) ওয়াহাবী রাজা এই ভ্রান্ত

আক্বিদা মুসলিম সমাজে আজ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। চতুর্থ আক্বিদাটি হচ্ছে, নবী কিসের

তৈরী তা চিন্তা ফিকিরের প্রয়োজন নেই, আমল কর, আমল! আমলই তোমার জান্নাত নিশ্চিত করবে।

এটা তবলীগ জামাতের আক্বিদা অথচ নাজাতের একমাত্র চাহিদাই হচ্ছে আক্বিদার বিশুদ্ধতা। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্মন্ধে এই চার ধরনের আক্বিদার মধ্যে শুধু মাত্র একটি আক্বিদাই সঠিক বাকী তিনটিই ভ্রান্ত। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কোনটা সঠিক? কেউ যদি জান্নাত পেতে চায় তার জন্য ফরজ-ওয়াজিব হচ্ছে সঠিক আক্বিদাহ পোষণ করা।

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...