Tuesday, July 20, 2021

তাকবীরে তাশরীক পাঠের নিয়মাবলী

 তাকবীরে তাশরীক পাঠের নিয়মাবলী


===================================


পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস উনার একটি বিশেষ আমল হলো আইয়্যামে তাশরীকের দিনগুলোতে তাকবীর পাঠ করা। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,


واذكروا الله في أيام معدودات


তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে নির্দিষ্ট দিনগুলোতে স্মরণ করো। (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: ২০৩) এখানে আইয়্যামে তাশরীকের পাঁচ দিন তথা পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস

উনার নয় তারিখ ‘আরাফার দিন’ থেকে তের তারিখ পর্যন্ত এই দিনগুলোতে প্রতি ফরয নামাযের পর তাকবীর পাঠের মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক উনাকে বিশেষভাবে স্মরণ করতে বলা হয়েছে।


যে প্রসঙ্গে মহাসম্মানিত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,


عن علي عليه السلام أنه سمع النبي ﷺ يقول التكبير دبر الصلاة -

المكتوبات


ইমামুল আউয়াল হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছেন, “তাকবীর হলো প্রত্যেক ফরয নামাযের পর।"


কিতাবে আরো এসেছে,


أن كان علي عليه السلام يكتر بعد صلوة الفجر من يوم عرفة إلى - صلوة العصر من أخر أيام التشريق يقول الله أكبر، الله أكبر، لا إله إلا الله، و الله أكبر، الله أكبر ولله الحمد - ابن ابي شيبه


নিশ্চয়ই ইমামুল আউয়াল হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি আরাফার দিন ফজর নামাযের পর থেকে ১৩ তারিখ আছর নামায পর্যন্ত তাকবীর পাঠ করতেন। তিনি বলতেন,


الله أكبر، الله أكبر، لا إله إلا الله، و الله أكبر، الله أكبر ولله الحمد


উল্লেখ্য, শহরে, গ্রামে-গঞ্জে, মুক্বীম-মুসাফির, পুরুষ-মহিলা সকলের জন্য মোট এই তেইশ ওয়াক্ত ফরয নামাযের পর উপরোক্ত তাকবীরটি একবার পাঠ করা ওয়াজিব আর তিনবার পাঠ করা মুস্তাহাব।


তাই কারো এই ২৩ ওয়াক্তের কোনো ওয়াক্ত নামাজ ক্বাযা হলে আর তা এই ২৩ ওয়াক্তের মধ্যে আদায় করলে এর সাথে তাকবীরও আদায় করে নিতে হবে। তবে এই ২৩ ওয়াক্তের ক্বাযা নামাজ পরবর্তীতে আদায় করলে তাকবীর ক্বাযা আদায় করতে হবে না। আবার এই তেইশ ওয়াক্তের মধ্যে আগের ক্বাযা নামায আদায়ের সময়ও এই তাকবীর পাঠ করতে হবেনা।

মুছাফাহা তথা হাতে হাত মিলানো এবং মুয়ানাকা তথা কোলাকুলি করা খাছ সুন্নত মুবারক

 মুছাফাহা তথা হাতে হাত মিলানো এবং মুয়ানাকা তথা কোলাকুলি করা খাছ সুন্নত মুবারক



মুছাফাহা বা হাতে হাত মিলানো:

একজন মুসলমান অপর মুসলমানের সাথে সাক্ষাতান্তে সালাম বিনিময়ের পর সৌহার্দ্য ও মুহব্বত প্রকাশের মাধ্যমটির নাম হল মুছাফাহা। দেখা হলে মুছাফাহা বা করমর্দন করা একটি ইসলামী শরীয়ত উনার আইন ও উত্তম চরিত্র। এটি মুছাফাহাকারী ব্যক্তিদ্বয়ের মাঝে মুহব্বত-ভালবাসা ও হৃদ্যতার বহিঃপ্রকাশ। অন্যদিকে এটি মুসলমানদের পারস্পারিক হিংসা-বিদ্বেষ ও কলহ দূর করে দেয়। দুই হাতে মুছাফাহা করা খাছ সুন্নত মুবারক এবং এটা ছিল মুসলমানদের মাঝে ও হযরত ছাহাবায়ে কেরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের মাঝে সাধারণ অভ্যাসগত সুন্নত।

মুছাফাহা করা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আমল মুবারক দ্বারা প্রমাণিত। আর এটি গুনাহ মাফ হওয়ার মাধ্যমও বটে। হযরত বারা ইবনে আযেব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যখন দু’জন মুসলমান পরস্পরে সাক্ষাৎকালে মুছাফাহা করে তখন তাদের পৃথক হওয়ার পূর্বেই উভয়ের পাপ ক্ষমা করে দেয়া হয়’। (তিরমিযী শরীফ-২৭২৭ ‘অনুমতি প্রার্থনা’ অধ্যায় ‘মুছাফাহার বর্ণনা’ অনুচ্ছেদ, সুনানে আবু দাউদ শরীফ -৫২১২) 

হযরত ইবনে বাত্তাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: “সর্বস্তরের আলেমদের মতে, মুছাফাহা একটি নেক কাজ। ইমাম নববী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: সাক্ষাতের সময় মুছাফাহা করা সুন্নত মর্মে ইজমা বা আলেমদের ঐক্যমত্য সংঘটিত হয়েছে।” (যেমনটি রয়েছে ‘ফাতহুল বারী’ ১১/৫৫)

মুয়ানাকা বা কোলাকুলি:

মুয়ানাকা (معانَقَه) শব্দের অর্থ কোলাকুলি করা, বুকে বুক মিলানো। দীর্ঘদিন পর একে অন্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে পরস্পরে মুয়ানাকা বা কোলাকুলি করা সুন্নত। কেউ সফর থেকে এলে দীর্ঘদিন পর দেখা-সাক্ষাৎ হওয়ায় হযরত ছাহাবায়ে-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা মুয়ানাকা বা কোলাকুলি করতেন। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশোদ মুবারক হয়েছে- উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত, হযরত যায়েদ ইবনে হারিছা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি যখন পবিত্র মদিনা শরীফে এলেন তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমার ঘরে ছিলেন। হযরত যায়েদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আমার ঘরে এলেন এবং দরজায় টোকা দিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজের কাপড় অর্থাৎ চাদর সামলাতে সামলাতে উঠে গেলেন এবং হযরত যায়েদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সঙ্গে মুয়ানাকা কোলাকুলি করলেন এবং বুছা দিলেন।’ (তিরমিযী শরীফ : ২৭৩২) 

মুয়ানাকা বা কোলাকুলী করার সঠিক পদ্ধতি হচ্ছে- প্রথমে ডান গলা মিলাবে, অতঃপর বাম গলা মিলাবে অতঃপর পুনঃরায় ডান গলা মিলাবে। অর্থাৎ মুয়ানাকা তিনবার আলাদা করাই আফযল বা উত্তম। অনেকে একবার মুয়ানাকার কথা বলে থাকে তা সঠিক নয়।

উপরোক্ত দলীল ভিত্তিক আলোচনা দ্বারা অকাট্ট্যভাবেই প্রমাণিত হয়েছে যে, মুছাফাহা ও মুয়ানাক্বা করা খাছ সুন্নত উনার অন্তর্ভুক্ত। যারা ছোঁয়াচে বিশ্বাস করে পবিত্র ঈদের দিন বা অন্য যে কোনো সময় মুছাফাহা ও মুয়ানাক্বা করতে নিষেধ করবে বা উক্ত আমল থেকে বিরত থাকবে তারা কুফরী করে মুরতাদে পরিণত হবে। তাছাড়া আমভাবে কোনো সুন্নতকে অবজ্ঞা বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। এ প্রসঙ্গে আক্বাইদের কিতাবে উল্লেখ আছে,

اهانة السنة كقر

অর্থ: পবিত্র সুন্নত উনাকে ইহানত বা অবজ্ঞা করা কুফরী।

মহান আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে উপরোক্ত কুফরী আক্বীদা থেকে হিফাজত করে পবিত্র সুন্নত মুতাবিক আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন!

পবিত্র ঈদুল আদ্বহা বা কুরবানীর দিনের সুন্নত সমূহ।

 পবিত্র ঈদুল আদ্বহা বা কুরবানীর দিনের সুন্নত সমূহ।


_______________________________________


ঈদের দিনের সুন্নত হলো-

১. খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠা

২. গোসল করা

৩. মিস্ওয়াক করা

৪. সামর্থ্য অনুযায়ী নতুন পোশাক পরিধান করা

৫. আতর ব্যবহার করা

৬. মহল্লার মসজিদে গিয়ে জামায়াতে ফজরের নামায আদায় করা

৭. ঈদগাহে হেঁটে যাওয়া

৮. ঈদুল আযহার দিন সকালে কিছু না খেয়ে ঈদগাহে যাওয়া 

৯. ঈদুল আদ্বহার দিন পবিত্র কুরবানী উনার গোশত দিয়ে খাওয়া শুরু করা

১০. ঈদগাহে এক রাস্তা দিয়ে যাওয়া এবং অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরে আসা

১১. সকাল সকাল পবিত্র ঈদের নামায পড়ার জন্য যাওয়া 

১২. ঈদের নামায ঈদগাহে গিয়ে পড়া, সম্ভব না হলে মহল্লার মসজিদে গিয়ে ঈদের নামায পড়া।

১৩. নিম্নোক্ত দোয়া পড়তে পড়তে ঈদগাহে যাওয়া:

الله اكبر الله اكبر لا اله الا الله والله اكبر الله اكبر ولله الحمد

আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হাম্দ। ১৪. শরীয়তের সীমার মধ্যে থেকে খুশি প্রকাশ করা ইত্যাদি ঈদের সুন্নত। (আলমগীরী, নূরুল ঈজাহ ও অন্যান্য ফিক্বাহর কিতাব)

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...