Saturday, August 14, 2021

সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করা সবার জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য

 সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করা সবার জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য


=============================== 


খলিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি মানবজাতিসহ সব প্রাণীকে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। এরপর সবাইকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ এই সত্যের ওপর বিশ্বাসী। মানুষ মাত্রই তার প্রিয়জনসহ পাড়া-পড়শির মৃত্যু প্রত্যক্ষ করে থাকে। অথচ তারপরও নিজের মৃত্যুর কথা স্মরণ করে এতটুকু ভয় পায় না। যে ব্যক্তি নিজের মৃত্যুর কথা স্মরণ করে চিন্তিত হবে এবং হৃদয় দিয়ে তা অনুভব করবে, সেই ব্যক্তির পক্ষে কোনো অসৎ কাজ করা সম্ভব নয়। মানুষ কতটা অপরিণামদর্শী ও অবিবেচক যে, সে অপরের মৃত্যু দেখে; তারপরও নিজের মৃত্যুরর কথা চিন্তা করে না। বরং আধুনিকতার নামে লাশের পাশে দাঁড়িয়ে ‘সেলফি’ তোলায় ব্যস্ত থাকে। নাউযুবিল্লাহ!


মানুষ সামাজিক জীব। সমাজবদ্ধভাবেই তাদের বাস। অর্থ উপার্জন করবে, বিবাহ করবে, পিতা-মাতা, ভাই- বোন, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করবে। সমাজের অন্য সবার সঙ্গে ভালো-মন্দ শেয়ার করবে। একে অপরের খোঁজ খবর নেবে। এরূপ সামাজিক প্রথায় মানুষ জীবনকে সঠিক নিয়মে পরিচালনার জন্য পরস্পরের ভুল শোধরিয়ে দেয়া উচিত। কেননা খ¦ালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللّهِ 

অর্থ: তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যানের জন্যেই তোমাদেরকে পাঠানো হয়েছে। তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দান করবে ও অন্যায় কাজে বাধা দেবে এবং মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি ঈমান আনবে। (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ -১১০)


আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, “হযরত আবু সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমাদের সামনে যখন ইসলামবিরোধী কাজ হতে দেখবে তখন হাত দিয়ে প্রতিরোধ করবে। যদি এতে অক্ষম হও তবে মুখ দিয়ে প্রতিবাদ জানাবে। যদি তাতে অক্ষম হও তবে অন্তর দিয়ে তাকে ঘৃণা করবে, তবে এটি দুর্বল ঈমানের পরিচায়ক।” (ছহীহ মুসলিম শরীফ)


সম্মানিত শরীয়ত উনার খিলাফ কাজ দেখে বাধা না দেয়া ধ্বংস হওয়ার কারন, যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

عن جابر رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أوحى الله عز وجل إلى حضرت جبريل عليه السلام أن اقلب مدينة كذا وكذا بأهلها، قال: فقال: يا رب إن فيهم عبدك فلاناً لم يعصك طرفة عين، قال: فقال: اقلبها عليه وعليهم، فإنَّ وجهه لم يتمعَّر فيَّ ساعة قط

অর্থ: হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, খ¦লিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম উনাকে হুকুম দিলেন, ‘অমু শহরকে এর বাসিন্দাসহ উল্টিয়ে দিন।’ হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম আরয করলেন, ‘হে আমার রব, সেই শহরে আপনার অমুক বান্দাও রয়েছেন, যিনি চোখের পলকের তরেও আপনার নাফরমানি করেননি।’ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি বলেন, খ¦লিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম উনাকে বলেন, ‘আপনি সেই শহরকে উক্ত ব্যক্তিসহ সমস্ত শহরবাসীর উপর উল্টিয়ে দিন। কেননা শহরবাসীকে আমার হুকুম অমান্য করতে দেখে এক মুহূর্তের জন্যও সেই ব্যক্তির চেহারার রং পরিবর্তন হয়নি।’ (মিশকাত শরীফ, বায়হাকী শরীফ, তাবরানী শরীফ)

খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুমের সারমর্ম এই যে- এই কথা সত্য যে, আমার উক্ত বান্দা কখনও আমার নাফরমানি করেনি, কিন্তু তার এই অপরাধই বা কম কিসে যে, লোকজন তার সম্মুখে গুনাহ করতে থাকল এবং খ¦লিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার নাফরমানি করতে থাকল, কিন্তু অসৎ কাজ ও নাফরমানিতে লিপ্ত ব্যক্তিদের দেখে তার চেহারায় অসন্তোষের ভাবও পরিলক্ষিত হল না। বিধায় তাকে ধ্বংস করে দেয়া হলো।


খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে উপরোক্ত আলোচনা থেকে ইবরত নছীহত হাসিল করে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করার হাক্বীক্বী তাওফীক দান করুন। আমীন ।

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...