Sunday, August 1, 2021

সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম উনার ক্বওল শরীফ:

 সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম উনার ক্বওল শরীফ:



মহান আল্লাহ পাক তিনি মহান ইরশাদ মুবারক করেন, আমি তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছি খালিছভাবে আমার (সন্তুষ্টি মুবারক লাভের উদ্দেশ্যে) ইবাদত করো।

প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলা, জ্বীন-ইনসান সকলের জন্যই ইখলাছ অর্জন করা ফরয। কেননা ইখলাছ ব্যতীত পবিত্র কুরবানীসহ কোন ইবাদতই মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট কবুল হয় না। আর ইখলাছ হাছিল করতে হলে একজন কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট অবশ্যই বাইয়াত গ্রহণ করে ইলমে তাছাউফ অর্জন করতে হবে।

তাই সম্মানিত শরীয়ত উনার ফতওয়া হলো- ইখলাছ অর্জন করা ফরয, ইলমে তাছাউফ অর্জন করা ফরয, আর এ জন্য বাইয়াত গ্রহণ করাও ফরয।


ছাহিবু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ছাহিবে নেয়ামত, আল ওয়াসীলাতু ইলাল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সুলত্বানুন নাছীর, আল ক্বউইউল আউওয়াল, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বইয়ুমুয্যামান, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের উদ্দেশ্যে ইবাদত বা আমল করার নাম ইখলাছ। তাই প্রত্যেক পুরুষ ও মহিলাকে অবশ্যই ইখলাছ অর্জন করতে হবে। অন্যথায় আমল করে ফায়দা বা মর্যাদা হাছিল করা তো দূরের কথা নাজাত লাভ করাটাই কঠিন হবে। যার উদাহরণ মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা মাঊন শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ করেছেন যে, অলসতার সাথে ও লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে নামায আদায়কারীদের জন্য আফসুস তথা জাহান্নাম। নাউযুবিল্লাহ! 


 আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “সমস্ত মানুষ ধ্বংস মু’মিনগণ ব্যতীত এবং মু’মিনরাও ধ্বংস আলিমগণ ব্যতীত এবং আলিমরাও ধ্বংস আমলকারীগণ ব্যতীত এবং আমলকারীরাও ধ্বংস ইখলাছ অর্জনকারীগণ ব্যতীত। 


আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, যা মুসলিম শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের উদ্দেশ্যে আমল না করার কারণে জিহাদকারী জিহাদ করা সত্বেও, ক্বারী সাহেব কুরআন শরীফ শিক্ষা দেয়া সত্বেও এবং আলিম সাহেব ইলম উনার প্রচার প্রসার করা সত্বেও এবং দানশীল দানের সমস্ত রাস্তায় দান করা সত্বেও তাদের সকলকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। নাউযুবিল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার জন্য পবিত্র নামায আদায় করুন এবং আমার জন্যই পবিত্র কুরবানী করুন।


আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, অতএব, কুরবানীসহ সকল আমল করতে হবে একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের উদ্দেশ্যে। অর্থাৎ ইখলাছের সাথে কুরবানীসহ সকল আমল করতে হবে। তবেই সে আমলের দ্বারা-পরিপূর্ণ ফায়দা বা মর্যাদা লাভ করা সম্ভব হবে। এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ইখলাছের সাথে আমল করো। অল্প আমলই তোমার নাজাতের জন্য যথেষ্ট হবে। (আল মুসতাদরাক লিল হাকিম)


আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, প্রত্যেকের জন্য ইখলাছ অর্জন করা ফরয। আর ইলমুল ইখলাছ উনার অপর নামই হচ্ছে ইলমুল ক্বল্ব্ বা ইলমুত তাছাওউফ। যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, ইলম দু’প্রকার। একটি হচ্ছে ক্বলবী ইলম (ইলমে তাছাওউফ) যা উপকারী ইলম। অপরটি হচ্ছে যবানী ইলম (ইলমে ফিক্বাহ) যা মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে বান্দার প্রতি দলীল স্বরূপ।” (দারিমী, মিশকাত, মিরকাত, মাছাবীহুস সুন্নাহ)


আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, হযরত মোল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব মিশকাত শরীফ উনার শরাহ মিরকাত শরীফ-এ হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি যিনি মালিকী মাযহাবের ইমাম উনার ক্বওল উল্লেখ করেছেন যে, “যে ব্যক্তি ইলমে ফিক্বাহ শিক্ষা করলো অথচ ইলমে তাছাওউফ শিক্ষা করলো না, সে ব্যক্তি ফাসিক। আর যে ব্যক্তি ইলমে তাছাওউফ শিক্ষা করেছে বলে দাবী করে কিন্তু ইলমে ফিক্বাহ শিক্ষা করলো না অর্থাৎ গুরুত্ব দিলনা, সে যিন্দিক (কাফির)। আর যে ব্যক্তি উভয়টিই অর্জন করলো, সে ব্যক্তিই মুহাক্কিক।” 


আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, ইলমে ফিক্বাহ অর্থাৎ ওযূ, গোসল, ইস্তিঞ্জা, নামায-কালাম, মুয়ামালাত, মুয়াশারাত ইত্যাদি শিক্ষার জন্য ওস্তাদ গ্রহণ করা যেমন ফরয; সেটা মাদরাসায় গিয়েই হোক অথবা ব্যক্তিগতভাবে কোনো ওস্তাদের নিকট থেকেই হোক তা শিক্ষা করা ফরয। তদ্রƒপ ইলমে তাছাওউফ উনার জন্যও ওস্তাদ গ্রহণ করা ফরয। আর এ ওস্তাদ উনাকেই আরবীতে ‘শায়েখ’ বা ‘মুর্শিদ’ বলা হয়। কাজেই, মুসলমান পুরুষ-মহিলা, জিন-ইনসান প্রত্যেকের জন্যই একজন কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত হওয়া ফরয।  

-০-

মুসলমানরা তাদের সন্তাদের কি শেখাচ্ছে ! আসলে কি শেখানো উচিত?

 মুসলমানরা তাদের সন্তাদের কি শেখাচ্ছে ! আসলে কি শেখানো উচিত?



খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা সকলে আল্লাহওয়ালা-আল্লাহওয়ালী হয়ে যাও”। এই সম্মানিত আয়াত শরীফ অনুসারে প্রত্যেক পুরুষ-মহিলা, ছেলে-মেয়ে, ছোট-বড় সকলের জন্যেই আল্লাহওয়ালা-আল্লাহওয়ালী হওয়াটা ফরয। সম্মানিত ইসলামী শরীয়তে একটি শিশু বোঝার বয়সে উপনীত হলেই তাকে দ্বীনী তালিম দেয়ার কথা বলা হয়েছে। কেননা শৈশবকালীন দ্বীনী তালিম একটি শিশুর জন্য আল্লাহওয়ালা-আল্লাহওয়ালী হওয়ার ক্ষেত্রে পাথেয় হিসেবে কাজ করে। সেই হিসেবে প্রত্যেক পিতা-মাতারই উচিত একটি শিশু জন্মগ্রহণ করলেই তাকে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার আলোকে গড়ে তোলা।

কিন্তু আজসুসের বিষয়, এখন পিতা-মাতারা সন্তান জন্মগ্রহণ করলে তাকে শেখায়, বাবা! বড় হয়ে তোমাকে ডাক্তার হতে হবে, ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে, জজ-ব্যরিষ্টার, মন্ত্রী-মিনিস্টার হতে হবে। কিন্তু একজন পিতা-মাতাকেও বলতে শোনা যায় না, বাবা! বড় হয়ে তোমাকে জগৎবিখ্যাত ওলীআল্লাহ হতে হবে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জীবনী মুবারক উনার উপর গবেষক হতে হবে, সম্মানিত কুরআন শরীফ, সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনাদের গবেষক হতে হবে, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার বোল-বালা, প্রচারে নিবেদিতপ্রাণ হতে হবে।

এখন অনেকেই প্রশ্ন করবেন, তাহলে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, জজ-ব্যারিষ্টার হওয়া কি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার সাথে সাংঘর্ষিক। তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, চিকিৎসা করানো খাছ সুন্নত-সুতরাং ডাক্তার লাগবে, বাড়ি-ঘর রাস্তা-ঘাট নির্মাণ করতে হবে সেজন্য ইঞ্জিনিয়ার দরকার, কাফির-মুশরিক মুনাফিকগুলি যদি আইনকে অপব্যবহার করে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার বিরুদ্ধে ব্যবহার করে সেটাকে আইনের মাধ্যমে প্রতিহত করতে জজ-ব্যারিষ্টার প্রয়োজন। অর্থাৎ সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনাকে বোল-বালা করতে যা যা প্রয়োজন তা সবই শিখতে হবে-জানতে হবে। তবে সর্বাগ্রে যে বিষয়টা প্রয়োজন সেটা হচ্ছে তাকে প্রথমেই আল্লাহওয়ালা-আল্লাহওয়ালী হওয়ার তালিম দিতে হবে। এরপর ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, জজ-ব্যারিষ্টার যাই হোক তাতে কোন সমস্যা নেই, বরং কিছু লোককে সেটা হতেই হবে। তবে সমস্যাটা হচ্ছে, এখন মুসলমানদের আক্বীদা নষ্ট হয়ে গেছে। তারা মনে করে ছেলে-মেয়েকে সম্মানিত ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করলে তারা খাওয়া-পরা পাবে না। নাউযুবিল্লাহ!

অথচ মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “মহান আল্লাহ পাক উনার উপর কারোও কোন হক্ব নেই, তবে মহান আল্লাহ পাক উনার হক্ব হচ্ছেন মুমিন বান্দা-বান্দী উনাদের সাহায্য করা”।

এছাড়া হাদীছে কুদসী শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করা হয়েছে, “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- হে আমার বান্দা! আমার ইবাদতের জন্য কিছু সময় নির্ধারণ করে নাও, তাহলে আমি তোমার অন্তরকে বেনিয়াজ (অমুখাপেক্ষী) করে দিবো। তোমার হাতকে রিযিক দ্বারা পরিপূর্ণ করে দিবো।

এরপর আরো ইরশাদ মুবারক করা হয়েছে, হে আমার বান্দা! আমার ইবাদত-বন্দেগী থেকে বিমুখ হয়ো না। যদি বিমুখ হও, তাহলে তোমার অন্তর অপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়বে। তোমার হাত অভাব-অনটনে পরিপূর্ণ হবে”।

তাই প্রত্যেক পুরুষ-মহিলা সকলেরই উচিত নিজেরা আল্লাহওয়ালা-আল্লাহওয়ালী হওয়ার সাথে সাথে সন্তানদেরকে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার তালিম দেয়া। সেই তালিম যেন একজন মুসলমান শিশু সহজেই লাভ করতে পারে সেই বিষয়টি জগৎবিখ্যাত ওলীআল্লাহ হযরত শেখ সাদী রহমতুল্লহি আলাইহি তিনি অল্প কথায় বুঝিয়ে দিয়েছেন, ‘যখন তোমাদের সন্তান জন্মগ্রহণ করে তখন তাকে কোন বুযূর্গ ওলীআল্লাহ উনার দরবার শরীফে পৌঁছে দাও, তাহলে সে যদি বড় ওলীআল্লাহ নাও হতে পারে অন্ততপক্ষে গোমরাহ হবে না’।

আর কেউ যদি সত্যিই ওলীআল্লাহ হতে পারে, তাহলে তার জন্য কুদরতী রিযিকের সর্বোত্তম ফায়সালা হবে। দ্বীনী কিতাবাদীতে এ বিষয়ক অজস্র ওয়াকেয়া আমরা দেখতে পাই। মেছালস্বরূপ উল্লেখ করা যায়, হযরত হাবীব আজমী রহমতুল্লহি আলাইহি উনার কথা।

তিনি জীবনের কোন এক পর্যায়ে সুদের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি নিয়ত করলেন, সুদের সাথে আর সংশ্লিষ্ট থাকবেন না। সেজন্য তিনি যাদের সাথে সুদী কারবার করতেন, তাদের থেকে তো সুদ নিলেনই না বরং আসলটাও ছেড়ে দিলেন। এছাড়া উনার থেকে যারা পাওনা ছিলো সেটা পরিশোধ করতে করতে উনার এবং পরিবারের পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই বাকি থাকলো না। এরপর তিনি ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীকত হযরত ইমাম হাসান বছরী রহমতুল্লহি আলাইহি উনার কাছে বাইয়াত হয়ে যিকির-ফিকির, মুরাকারা-মুশাহাদায় মশগুল হয়ে গেলেন। পরবর্তীতে আর উনি তেমন কোন কাজই করেননি। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পর পর উনার জন্য খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক তিনি কুদরতী রিযিক পাঠাতেন। সেটা খেয়েই তিনি বাকি জীবন অতিবাহিত করেছেন।

লেখা বাহুল্য, খাঞ্চাসহ খাদ্য নাযিলের ঘটনা সম্মানিত কুরআন শরীফ এবং সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে সরাসরি বর্ণিত রয়েছে। এছাড়া কিতাবাদীতে এ বিষয়ে বহু ওয়াকেয়া উল্লেখ রয়েছে। খাঞ্চাসহ শুধু খাদ্যই কেন, টাকা-পয়সাও নাযিল হতে পারে। তাহলে অনর্থক দুনিয়ার পিছনে ছুটে ইহকাল-পরকাল দু’কালই হারানো সমঝদারের কাজ হতে পারে না। তাই কেউ যদি প্রখ্যাত ওলীআলাহ হযরত শেখ সাদী রহমতুল্লহি আলাইহি উনার কালোত্তীর্ণ ক্বওল শরীফ উনার উপর আমল করতে চায় তাহলে তাদের উচিত তাদের সন্তানদের বর্তমান যামানার সুমহান ওলিআল্লাহ সাইয়্যিদুনা রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার ছোহবতে পাঠানো। 

মূলত মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নিকট বাইয়াত হয়ে যিকির-ফিকির করে ছোহবত এখতিয়ার করার মাধ্যম দিয়ে ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ হাছিল করা ব্যতীত বর্তমান যামানায় কারো পক্ষেই আল্লাহওয়ালা-আল্লাহওয়ালী হওয়া যেমন সম্ভব নয় তেমনি কুদরতী রিযিক প্রাপ্তিও সম্ভব নয়। খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে বিষয়টি হাক্কীকীভাবে উপলদ্ধি করার তাওফিক দান করুন। আমীন!

মুসলমানদের সম্মানিত শরীয়ত পালনের বয়স কবে হবে?

 মুসলমানদের সম্মানিত শরীয়ত পালনের বয়স কবে হবে?



খলিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে পরিপূর্ণভাবে দাখিল হও”। অর্থাৎ মাথার তালু থেকে পায়ের তলা, হায়াত থেকে মউত অর্থাৎ সর্বাবস্থায় সম্মানিত শরীয়ত উনার হুকুম-আহকাম পালন করতে হবে তথা সম্মানিত সুন্নত অনুসরণ করতে হবে। মুসলমানদের এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। 


এখন অনেক মুসলমানকে দাঁড়ি রাখার কথা, সুন্নতি পোশাক পরার কথা জিজ্ঞাসা করলে উত্তর দেয়; ভাই! এখনো সময় হয়নি, যখন বয়স হবে অর্থাৎ যখন দাঁড়ি-চুল পাকবে তখন দাঁড়ি রাখবে, সুন্নতি পোশাক পড়বে তথা সম্মানিত শরীয়ত উনার হুকুম-আহকাম অনুসরণ করা শুরু করবে। 


এখন কথা হলো, দাঁড়ি রাখা বা সুন্নতি পোশাক পরার বিষয়ে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত কোন বয়স নির্ধারণ করেছেন কিনা। সম্মানিত ইসলামী শরীয়তে একটি শিশু ৭ বছর বয়সে উপনীত হলে তাকে দ্বীনী তালিম-তালকীন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে এবং ১০ বছর হলে শাসন করার কথা বলা হয়েছে। তাদের কথার প্রেক্ষিতে আরো বলতে হয়, তাদের কি মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে চুক্তি হয়েছে (নাউযুবিল্লাহ!) তারা এত বছর বা এত বয়স পর্যন্ত দুনিয়াতে থাকবেই। কতলোকই তো অল্প বয়সে চলে যায়। অর্থাৎ একজন মানুষ যেমন অনেক বছর দুনিয়াতে থাকতে পারে তেমনি যে কোন মুহূর্তে কোন কারণ ছাড়াই ইন্তেকাল করতে পারে। তাহলে তারা কিভাবে দাবী করতে পারে অমুক বয়সে উপনীত হলে দাঁড়ি রাখবে কিংবা সম্মানিত শরীয়ত অনুসরণ করা শুরু করবে। তাহলে এই অমুক বয়স পর্যন্ত সে কাকে অনুসরণ করবে? সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, “যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখবে সে তাদেরই অন্তর্ভূক্ত হবে।” অর্থাৎ যে যাকে অনুসরণ করবে সে তাদেরই দলভূক্ত হবে। মনে রাখতে হবে, সম্মানিত সুন্নত উনার বিপরীত হচ্ছে বিদয়াত। অর্থাৎ একটি সুন্নত ছেড়ে দেওয়া মানেই একটি বিদয়াত তথা হারামকে অনুসরণ করা। মুসলমানদের জন্য আফসুস, মুসলমানদের সুন্নতি পোশাক পড়তে লজ্জা লাগে, কিন্তু কাফির মুশরিকদের পোশাক পড়তে লজ্জা লাগে না; দাঁড়ি রাখতে লজ্জা লাগে, কিন্তু দাঁড়ি চাঁছতে লজ্জা লাগে না; সম্মানিত শরীয়ত অনুসরণ করতে লজ্জা লাগে কিন্তু কাফির-মুশরিকদের অনুসরণ করতে লজ্জা লাগে না। অর্থাৎ কাফির-মুশরিকদের অনুসরণ করতে বয়স লাগে না, কিন্তু সম্মানিত শরীয়ত অনুসরণ করতে বয়স লাগে। নাউযুবিল্লাহ!


 এখন কেউ যদি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার কোন হুকুম-আহকাম যথাযথভাবে পালন করতে না পারে সে জন্য তওবা-ইস্তেগফার করতে হবে, খ¦লিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাদের অপারগতা ক্ষমা করে দিয়ে সম্মানিত শরীয়ত পূঙ্খানুপুঙ্খভাবে-সূক্ষাতিসূক্ষভাবে অনুসরণ করার তাওফিক দান করেন সেজন্য দোয়া-আরজু জানাতে হবে। কিন্তু মনগড়া মত পেশ করা কোন অবস্থাতেই শুদ্ধ হবে না। এই মনগড়া মত পেশ করার একটাই কারণ মুসলমানরা এখন দ্বীনী জজবা হারিয়ে ফেলেছে। এর জন্য কাফির-মুশরিকদের পাশাপাশি উলামায়ে ‘সূ’রাও সমানভাবে দায়ী। কারণ উলামায়ে ‘সূ’রাই-এত সুন্নত লাগে না, এত পর্দা লাগে না প্রভৃতি শরীয়ত বিরোধী ফতওয়া দিয়ে মুসলমানদের দ্বীনী জজবা নষ্ট করে দিয়েছে। শুধুমাত্র এবং কেবলমাত্র যামানার সুমহান ইমাম ও মুজতাহিদ, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত কুরআন শরীফ, সম্মানিত হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ এবং সম্মানিত কিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে ফতওয়া দিয়ে থাকেন। যার কারণে উনার ছোহবতে যারা আসা-যাওয়া করেন উনাদের মধ্যেই কেবলমাত্র দ্বীনী জজবা অটুট রয়েছে। সুবহানাল্লাহ!


কাজেই উলামায়ে ‘সূ’দের বদ-তাছির থেকে মুক্ত থাকতে চাইলে সকল মুসলমানকে অবশ্যই ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক ছোহবতে আসতে হবে। সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নিকট বাইয়াত হয়ে ছবক নিয়ে যিকির-ফিকির করার মাধ্যম দিয়ে ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ হাসিল করে অন্তরকে ইছলাহ করতে হবে। যে যতটুকু নিজেকে ইছলাহ করতে পারবে তার পক্ষে ঠিক ততটুকু সম্মানিত শরীয়ত পালনের জজবা পয়দা হবে এবং কাফির-মুশরিকদের অনুসরণ থেকে নিজেকে বিরত রাখার পাশাপাশি উলামায়ে ‘সূ’ তথা ধর্মব্যবসায়ীদের বদ-তাছির অর্থাৎ গোমরাহীমূলক ফতওয়া থেকে মুক্ত থাকতে পারবে।

শুদ্ধভাবে আরবী শেখার গুরুত্ব

 শুদ্ধভাবে আরবী শেখার গুরুত্ব



আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “প্রত্যেক নর-নারীর জন্য ইলম অর্জন করা ফরয।” 

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে যে, “ইলম দুই প্রকার। প্রথমত, ক্বলবী ইলম; যা উপকারী ইলম। দ্বিতীয়ত, জবানী ইলম; যা আদম সন্তানের জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে দলীলস্বরূপ।” (দারিমী, মিশকাত, মিরকাত)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “কোনো মু’মিনের একটি মাসয়ালা শিক্ষা করা এক বছর নফল ইবাদতের চেয়ে উত্তম।” সুবাহানাল্লাহ!

এখন আমরা যে দ্বীনী ইলম শিক্ষা করবো, মাসয়ালা শিক্ষা করবো- তা আমাদেরকে পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে শিক্ষা করতে হবে। কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে যে, “পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের ইলমই হচ্ছে ইলমে দ্বীন।”

কাজেই যেকোনো ইলম শিখতে হলে পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ প্রয়োজন। আর পবিত্র কুরআন শরীফ উনার ভাষা হচ্ছে আরবী। অতএব, আমাদের জন্য অবশ্যই আরবী ভাষা শেখা প্রয়োজন। আরবী ভাষা উনাকে তিনটি কারণে মুহব্বত করতে বলা হয়েছে। 

(১) আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, খতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ভাষা আরবী। 

(২) পবিত্র কুরআন শরীফ উনার ভাষা আরবী। 

(৩) সম্মানিত জান্নাত উনার ভাষা আরবী।

আর আরবী ভাষা শিখলেই কেবলমাত্র পবিত্র কুরআন শরীফ উনাকে শুদ্ধভাবে পড়া সম্ভব। এ থেকেই বুঝা যায় যে- আরবী ভাষা শেখার কতখানি গুরুত্ব! সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাস উনাদের নিকট আরবী ভাষার ইজ্জত, সম্মান, হুরমত রক্ষা করার তাওফীক চাচ্ছি। (আমীন)

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...