Wednesday, May 12, 2021

সম্মানিত দ্বীন ইসলাম থেকে মুসলমান আজ অনেক দূরে

 বর্তমান সময় হচ্ছে আখিরি যামানা। এই আখিরি যামানার বিষয়ে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে মুসলমানদের ঈমান-আক্বীদা, আমল-আখলাক্ব বিপর্যয় হওয়া সম্পর্কে অনেক পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে। যেমন এক বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে- আখিরী যামানায় হাতের তালুর মধ্যে জ্বলন্ত কয়লা রাখাটা যেরূপ কষ্টকর তার চেয়ে বেশি কষ্টকর হবে পবিত্র ঈমান রক্ষা করা। মানুষ সকালে ঈমানদার থাকবে, বিকেলে কাফির হয়ে যাবে। 

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

يُوْشِكُ اَنْ يَّأْتِـىَ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ لَا يَّبْقٰى مِنَ الْاِسْلَامِ اِلَّا اِسْـمُهٗ وَلَا يَبْقٰى مِنَ الْقُرْاٰنِ اِلَّا رَسْـمُهٗ مَسَاجِدُهُمْ عَامِرَةٌ وَّهِىَ خَرَابٌ مِّنَ الْـهُدٰى عُلَمَاؤُهُمْ شَرٌّ مِّنْ تَـحْتِ أَدِيْـمِ السَّمَاءِ مِنْ عِنْدِهِمْ تَـخْرُجُ الْفِتْنَةُ وَفِيْهِمْ تَعُوْدُ

অর্থ: নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, শীঘ্রই মানুষের ওপর এমন এক যুগ আসবে, যখন শুধু সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার নাম ব্যতীত বিধি-বিধান ও আমল কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না, সেদিন পবিত্র কুরআন শরীফ উনার রসম-রেওয়াজ তিলাওয়াত ব্যতীত কোন কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। তাদের মসজিদগুলো হবে অট্টালিকা, দালান-কোঠা, চাকচিক্যে পরিপূর্ণ, কিন্তু তা হবে হিদায়েতশূন্য। তাদের ‘আলিমরা হবে আকাশের নীচে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট লোক, তাদের নিকট হতেই (সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার ব্যাপারে) ফিতনা-ফাসাদ সৃষ্টি হবে। অতঃপর এ ফিতনা তাদের দিকেই ফিরে আসবে। (বায়হাক্বী শরীফ, শু‘আবুল ঈমান)

উপরোল্লেখিত বর্ণনাসমূহের আলোকে প্রতিভাত হয় যে, বাস্তবিকপক্ষে মুসলমান আজ পবিত্র ঈমান-ইসলাম, তাহযীব-তামাদ্দুন থেকে অনেক দূরে চলে গেছে। তারা নিজেরা পরিচয় দিচ্ছে মুসলমান এবং তাদের নামও রেখেছে ইসলামী। কিন্তু তাদের আক্বীদা ও আমল হচ্ছে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার বিপরীত তথা কুফরী। নাঊযূবিল্লাহ ! 

যেমন- স্বাস্থ্যবিধির নাম দিয়ে লকডাউন দিয়ে সাধারণ মানুষকে কষ্ট দেয়া; যা যুলুমের অন্তর্ভূক্ত, সম্মানিত মসজিদে মাস্ক পরে নামাজ আদায়, কাতার ফাঁক এবং মুসল্লির সংখ্যা নির্দিষ্ট করা; যা সম্পূর্ণরূপে কুফরী।

এ অবস্থায় তারা যদি হাক্বীক্বীভাবে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার আলোকে রাষ্ট্র ও জীবন পরিচালনা করে নাযাত পেতে চায় তাহলে তাদের জন্য ফরয-ওয়াজিব হলো ঢাকা রাজারবাগ দরবার শরীফ উনার মহাসম্মানিত শায়খ সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নূরুদ্ দারাজাত মুবারকে এসে বাইয়াত মুবারক হয়ে যিকির-ফিকির করে পবিত্র ঈমান-আমল ছহীহ করা। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে কবুল করুন। আমী


ন!

পবিত ঈদুল ফিতরের আনন্দ শুধুমাত্র নেককার বান্দাদের জন্য

 পবিত ঈদুল ফিতরের আনন্দ শুধুমাত্র নেককার বান্দাদের জন্য



শাওওয়াল মাসের প্রথম তারিখ পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন। রমাদ্বান শরীফ-এর এক মাস রোযা রাখার পর মুসলমানগণ ঈদুল ফিতরের মাধ্যমে আনন্দ উদ্যাপন করেন। ঈদের দিনগুলোতে খালিক্ব, মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি অগণিত নিয়ামত বর্ষণ করেন। এ কারণে মুসলমানগণ এ দিনগুলোর জন্যে অধীর আগ্রহে অপেক্ষমান থাকেন। প্রকৃতপক্ষে এ মুবারক দিনটি নেক্কারদের জন্য খুশির দিন। 


আর যারা পাপিষ্ঠ তাদের জন্য এ দিনটি খুশির নয় বরং দুঃখের। যেমন বর্ণিত রয়েছে, “যে ব্যক্তি এ মাস (রমাদ্বান শরীফ) ইবাদত-বন্দেগীতে কাটিয়ে দিয়েছে তার জন্য এ দিন আনন্দ ও খুশির। আর যে অন্যায় কাজে অতিবাহিত করেছে তার জন্য দুঃখ। যে ব্যক্তি ভালো ভালো পানাহার করেছে ঈদ তার জন্য নয়। ঈদ হলো, খালিক্ব, মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি লাভের জন্য যে ইবাদত করেছে। নতুন পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধানকারীর জন্যও ঈদ নয়। ঈদ হলো, যে বিচার দিবসকে ভয় করে। উদ্-সুগন্ধী কাষ্ঠে নিজেকে সুগন্ধী করেছে তার জন্যও ঈদ নয়। বরং ঈদ হলো- ঐ ব্যক্তির জন্য, যে একনিষ্ঠভাবে তওবা-ইস্তিগ্ফার করেছে। খাদ্য পাকানো ডেগচি যে উনানে দিয়েছে তার জন্যও ঈদ নয়। ঈদ হলো, যে সাধ্যমতো পরিশ্রম করেছে। 


এভাবে যানবাহনে আরোহণকারীর জন্যও ঈদ নয়। প্রকৃত ঈদ হচ্ছে ঐ ব্যক্তির জন্য, যে গুনাহকে চিরতরে বর্জন করতে পেরেছে। 


হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, একদা ঈদুল ফিতরের দিনে আমি হযরত উমর ফারূক আলাইহিস সালাম উনার নিকট গেলাম। গিয়ে দেখলাম, ঘরের দরজা বন্ধ করে তিনি ক্রন্দন করছেন। আমি আরজ করলাম, হে আমীরুল মু’মিনীন আলাইহিস সালাম! আপনি কাঁদছেন অথচ লোকেরা ঈদের আনন্দে মুখর। হযরত উমর ফারূক আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আনন্দে মুখর ব্যক্তিরা যদি জানতো, তাহলে তারা আনন্দ-উৎসব করতো না। অতঃপর পুনরায় তিনি কাঁদতে কাঁদতে বললেন, তাদের আমল যদি কবুল হয়ে থাকে তবে তারা আনন্দ করুক। আর যদি কবুল না হয়ে থাকে তথা বর্জিত হয়ে থাকে তবে তারা কাঁদুক। কিন্তু আমি জানি না, আমার আমল কবুলের পর্যায়ভুক্ত, না বর্জিতের অন্তর্ভুক্ত।”

খাবার খাওয়ার সুন্নাতী তরতীব বা নিয়মসমূহ

 ১. খয়েরী রংয়ের দস্তরখানায় প্লেট রেখে খাবার খাওয়া।

২. কাঠের প্লেটে খাবার খাওয়া।

৩. খাবারের শুরুতে বিসমিল্লাহ শরীফ পাঠ করা।

৪. খাবারের শুরুতে লবণ খাওয়া।

৫. ডান হাত দিয়ে খাবার খাওয়া।

৬. নামাযের ছূরতে বসে খাবার খাওয়া।

৬. মাথায় টুপি বা যে কোনো কাপড় দিয়ে খাবার খাওয়া।

৭. খাবার খাওয়ার সময় পায়ে স্যান্ডেল থাকলে তা খুলে খাওয়া।

৮. খাবারের পূর্বে এবং পরে দুই হাত ধৌত করা।

৯. প্লেটের ডান দিক থেকে খাবার খাওয়া শুরু করা।

১০. শুরুতে খাবারের লোকমা মুখের ডান দিকে দেয়া এবং ডান দিক দিয়ে চিবানো শুরু করা ।

১১. খাবারের লোকমা অনেক বড় এবং অনেক ছোট খাওয়া সুন্নত উনার খিলাফ তাই মাঝারি ধরনের খাওয়া।

১২. খাবার খাওয়ার মাঝে প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করা ।

১৩. কাঠের পেয়ালায় পানি পান করা।

১৪. ছোট ছোট ঢোকে পানি পান করা।

১৫. খাবারের শেষে বেশি পানি পান না করে আধা ঘন্টা পর বেশি পানি পান করা ।

১৬. খাবারের শেষে প্লেট এবং আঙ্গুল ভাল করে চেটে খাওয়া।

১৭. খাবারের শেষে লবণ খাওয়া।

১৮. দস্তরখানায় পরে থাকা খাবার তুলে খাওয়া।

১৯. দস্তরখানার উপর খাবারের ময়লা ফেলা সুন্নত উনার খিলাফ তাই দস্তরখানা পরিষ্কার রাখা।

২০. দস্তরখানা উঠানোর পর নিজে উঠা।

২১. পেটের ৩ভাগের ১ ভাগ অংশ খালি রেখে খাবার খাওয়া।

২২. যে প্লেটে খাবার খাওয়া হয় সেই প্লেটে হাত না ধুয়ে অন্য কোন পাত্রে হাত ধোয়া।

২৩. খাবার খাওয়া শেষে শুকরিয়া আদায় করা, আলহামদুলিল্লা


হ বলা। সুবহানাল্লাহ!

তোমরা চাঁদ দেখে রোযা শুরু করো এবং চাঁদ দেখে ঈদ করো।’ সুবহানাল্লাহ!

 নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘তোমরা চাঁদ দেখে রোযা শুরু করো এবং চাঁদ দেখে ঈদ করো।’ সুবহানাল্লাহ!



বাংলাদেশে পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাস উনার চাঁদ তালাশ করতে হবে আগামী ২৯শে রমাদ্বান শরীফ ১৪৪২ হিজরী মুতাবিক ১৩ই ছানী আশার ১৩৮৮ শামসী, ১২ই মে ২০২১ খৃঃ, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) দিবাগত সন্ধ্যায়। পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাস উনার ১, ৪, ৭, ১২ ১৪, ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪ ও ২৫ তারিখ সম্মানিত আইয়্যামুল্লাহ শরীফ উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সউদী ওহাবী, ইহুদী সরকার এবং তাদের অনুসারীরা যুগ যুগ ধরে চাঁদ না দেখে আরবী মাস শুরু করে মুসলমানদের পবিত্র ঈমান-আমল অর্থাৎ পবিত্র রোযা, পবিত্র ঈদ, পবিত্র হজ্জ ইত্যাদি নষ্ট করে যাচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ! বিশ্বের সকল মুসলমানদের উচিত এ ব্যাপারে বেশী বেশী তীব্র প্রতিবাদ করা।


আর সউদী ওহাবী, ইহুদী এবং সব দেশের সরকারের উচিত- খাছ তওবা করত: মনগড়া নিয়ম পরিহার করে পবিত্র শরীয়ত উনার নির্দেশ মুবারক অনুযায়ী খালি চোখে চাঁদ দেখে আরবী মাস গণনা করা।


ছাহিবু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, চাঁদ দেখা নিয়ে সমস্ত মুসলিম-অমুসলিম দেশের শাসক শ্রেণীর ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক থাকা জনগণের জন্য বিশেষ কর্তব্য। বিগত কয়েক যুগের তথ্য-উপাত্তে দেখা গেছে- সউদী ইহুদী ওহাবী সরকার চাঁদ না দেখেই প্রতিটি আরবী মাসের তারিখ ঘোষণা করে যাচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ! এই প্রবণতা কেবল সউদী আরবেরই নয়, বরং তার পার্শ্ববর্তী দেশ কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, আবুধাবী (আরব আমিরাত), জর্ডান, সিরিয়া- এসব দেশেও আছে। এছাড়া অধিকাংশ মুসলিম দেশ আরবী মাস গণনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ক্রাইটেরিয়া ব্যবহার করে। অথচ সম্মানিত শরীয়ত অনুযায়ী খালি চোখে চাঁদ দেখে আরবী মাস গণনা করা শর্ত। একটি বাতিল সম্প্রদায় একই দিনে সারা বিশ্বে ঈদ পালনের পক্ষে কথা বলে আরো বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। ফলে চাঁদ তালাশের দিনে সকল জনগণকে অত্যান্ত সচেতন থাকতে হবে। 


খালি চোখে চাঁদ না দেখে মনগড়া নিয়মে আরবী মাস শুরু করা এবং সউদী সরকারের গুমরাহী সম্পর্কে নছীহত মুবারক পেশ করতে গিয়ে তিনি উপরোক্ত ক্বওল শরীফ পেশ করেন।


আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, চাঁদ নিয়ে সউদী ওহাবীদের ষড়যন্ত্রের ইতিহাস নতুন নয়; তারা প্রতি বছরের প্রতিটি মাসেই এই গর্হিত কাজটি করে যাচ্ছে। সউদী ওহাবী সরকারের উচিত- এ বিষয়ে খালিছ তওবা করা এবং মুসলমানদের ঈমান ও আমল রক্ষার বিষয়ে সচেষ্ট থাকা।  


আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর মুসলমানদের অন্যতম একটি ঈদ। এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “প্রত্যেক ক্বওম বা সম্প্রদায়ের খুশির দিন রয়েছে; আর মুসলমানদের ঈদ বা খুশির দিন হচ্ছে- পবিত্র ঈদুল ফিতর ও পবিত্র ঈদুল আযহা।’ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘যে ব্যক্তি পবিত্র ঈদুল ফিতর ও পবিত্র ঈদুল আযহা উনার রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদতে মশগুল থাকবে, যেদিন অন্য সমস্ত দিল মরবে, সেদিন তার দিল মরবে না।” সুবহানাল্লাহ! এর অর্থ হলো, ক্বিয়ামতের দিন অন্যান্য দিল পেরেশানীতে থাকলেও দু’ঈদের রাতে জাগরণকারী ব্যক্তির দিল শান্তিতে থাকবে। সুবহানাল্লাহ!


আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, এই সম্মানিত দিন অর্থাৎ পবিত্র ঈদুল ফিতর উনার ফযীলত সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “ঈদুল ফিতর উনার দিনে যখন মুছল্লীরা ঈদের নামায আদায় করার জন্য ঈদগাহে জমায়েত হন, তখন মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে ঘোষণা করা হয়, হে আমার বান্দারা! তোমরা আমারই রেযামন্দি মুবারক লাভের আশায় এক মাস রোযা রেখেছো এবং আজ আমার সন্তুষ্টি মুবারক লাভের আশায় ঈদগাহে সমবেত হয়েছো। কাজেই আমি আজ তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিলাম। তোমরা আজ ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে ঘরে ফিরে যাও।” সুবহানাল্লাহ!


আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সম্মানিত শাওওয়াল শরীফ মাস উনার ১লা তারিখ অর্থাৎ পবিত্র ঈদুল ফিতর উনার দিন পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, বাহরুল উলূম, সাইয়্যিদাতুন নিসা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!


পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাসে অনেকগুলো আইয়্যামুল্লাহ শরীফ রয়েছে। যথা-


পবিত্র ৪ঠা শাওওয়াল শরীফ উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!


পবিত্র ৭ই শাওওয়াল শরীফ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উনার সম্মানিত আ’দাদ শরীফ। সুবহানাল্লাহ!


পবিত্র ১২ই শাওওয়াল শরীফ পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ ১২ই শরীফ। এ দিন কোটি কোটি কণ্ঠে পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ ও পবিত্র তাবারুক বিতরণ করা হয়।


পবিত্র ১৪ই শাওওয়াল শরীফ ক) সাইয়্যিদাতুনা হযরত বিনতে ইমামুল আউওয়াল আছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!


খ) হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!


পবিত্র ১৮ই শাওওয়াল শরীফ সাইয়্যিদুনা হযরত ইবনে যিন নূর আছ ছানী আলাইহিস সালাম উনার পবিত্রতম বিছালী শান মুবারক প্রকাশ অবস্থায় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!


পবিত্র ১৯শে শাওওয়াল শরীফ সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নিসবাতুল আযীম শরীফ দিবস। সুবহানাল্লাহ!


পবিত্র ২০শে শাওওয়াল শরীফ উম্মুল মুমিনীন, হযরত আল খামীসাহ আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!


পবিত্র ২১শে শাওওয়াল শরীফ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার আক্বদ মুবারক ও নিসবাতুল আযীম শরীফ দিবস। তাই এ দিন আন্তর্জাতিক বাল্যবিবাহ দিবস। সুবহানাল্লাহ!


পবিত্র ২২শে শাওওয়াল শরীফ প্রথমতঃ সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার সাথে হযরত শাফীউল উমাম আলাইহিস সালাম উনার নিসবাতুল আযীম শরীফ। দ্বিতীয়ত সাইয়্যিদাতুনা হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার সাথে হযরত হাদীউল উমাম আলাইহিস সালাম উনার নিসবাতুল আযীম শরীফ দিবস। সুবহানাল্লাহ!


পবিত্র ২৪শে শাওওয়াল শরীফ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম উনার নিসবাতুল আযীম শরীফ দিবস। সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র ২৫শে শাওওয়াল শরীফ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহাস সালাম উনার পবিত্রতম বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!


আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, বাংলাদেশ পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাস উনার চাঁদ তালাশ করবে- আগামী ২৯শে রমাদ্বান শরীফ ১৪৪২ হিজরী, ১৩ই ছানী আশার ১৩৮৮ শামসী, ১২ই মে ২০২১ খৃঃ. ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) সন্ধ্যায় সেদিন চাঁদ দিগন্তরেখার মাত্র ০৫ ডিগ্রীর কিছু উপরে অবস্থান করবে এবং চাঁদের বয়স হবে প্রায় ১৭ ঘণ্টার কিছু বেশী। সেদিন ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬ টা ৩৩ মিনিটে এবং চন্দ্রাস্ত ৭ টা ০৫ মিনিটে অর্থাৎ মাত্র ৩২ মিনিট চাঁদ আকাশে অবস্থান করে অস্ত যাবে। সেদিন চাঁদ অবস্থান করবে ২৮৮ ডিগ্রী আযিমাতে এবং সূর্যের অবস্থান থাকবে ২৯০ ডিগ্রী আযিমাতে। সূর্যাস্তের সময় চাঁদ ৭ ডিগ্রী কোণ করে সূর্য থেকে সরে থাকবে এবং চাঁদের মাত্র ০০.৩৯% আলোকিত থাকবে। চাঁদের এরূপ মান থাকার কারণে সেদিন বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাস উনার চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

-০-

ঈদের দিনের সুন্নতসমূহ

 ঈদের দিনের সুন্নতসমূহ me



১) অন্যদিনের তুলনায় সকালে ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া। (বায়হাকী শরীফ, হাদীছ -৬১)

২) মিসওয়াক করা। (তাবয়ীনুল হাকায়েক-১/৫৩৮)

৩) গোসল করা। হাদিসে এসেছে, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দুই ঈদের দিন lগোসল করতেন। (মুসনাদে বায‍যার, হাদীছ: ৩৮৮০)

হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত যে, তিনি ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে গোসল করতেন। (মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হাদীছ: ৬০৯)

৪) শরীয়তসম্মত সাজসজ্জা করা। (বুখারী শরীফ, হাদীছ নং- ৯৪৮)

৫) সামর্থ অনুযায়ী উত্তম পোশাক পরিধান করা। হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত যে তিনি দুই ঈদের দিনে সুন্দরতম পোশাক পরিধান করতেন। (বায়হাকী শরীফ: ১৯০১)

৬) সুগন্ধি ব্যবহার করা। (মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীছ নং- ৭৫৬০)

৭) ঈদুল ফিতরে ঈদগাহে যাবার আগে মিষ্টিজাতীয় যেমন খেজুর ইত্যাদি খাওয়া। তবে ঈদুল আযহাতে কিছু না খেয়ে ঈদের নামাযের পর নিজের কুরবানীর গোশত আহার করা উত্তম। হযরত বুরাইদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঈদুল ফিতরের দিনে না খেয়ে বের হতেন না, আর ঈদুল আজহার দিনে ঈদের নামাজের পূর্বে খেতেন না। সালাত থেকে ফিরে এসে কুরবানীর গোশত খেতেন। (আহমদ শরীফ: ১৪২২) হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঈদুল ফিতরের দিন কয়েকটি খেজুর না খেয়ে বের হতেন না, আর খেজুর খেতেন বেজোড় সংখ্যায়। (বুখারী শরীফ: ৯০০)

৮) সকাল সকাল ঈদগাহে যাওয়া। (আবু দাউদ শরীফ, হাদীস নং- ১১৫৭)

৯) ঈদুল ফিতরে ঈদগাতে যাওয়ার পূর্বে ফিতরা আদায় করা। হযরত ইবনু উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত যে, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকদেরকে ঈদের নামাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পূর্বেই সাদকাতুল ফিত্‌র আদায় করার নির্দেশ দেন। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং- ১৪২১)

১০) পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া। হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন সুন্নত হল ঈদগাহে পায়ে হেঁটে যাওয়া। (তিরমিযী শরীফ: ১৮৭ )

১১) ঈদের নামায ঈদগাহে আদায় করা, বিনা অপরাগতায় মসজিদে আদায় না করা। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং- ৯৫৬, আবু দাউদ শরীফ, হাদীস নং- ১১৫৮)

১২) যে রাস্তায় ঈদগাতে যাবে, সম্ভব হলে ফেরার সময় অন্য রাস্তা দিয়ে ফেরা। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং- ৯৮৬)

১৩) ঈদুল ফিতরে ঈদগাহে যাবার সময় আস্তে আস্তে এই তাকবীর পড়তে থাকাঃ

اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ

তবে ঈদুল আযহায় যাবার সময় পথে এ তাকবীর আওয়াজ করে পড়তে থাকবে। (মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীছ নং- ১১০৫)

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...