Sunday, February 28, 2021

পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার বিরোধিতা কারীদের প্রতি সতর্কবাণী

 পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার বিরোধিতা কারীদের প্রতি সতর্কবাণী


=================================================

পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ তথা ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরোধিতা কারীদের প্রতি সতর্কবাণী, এখনো তওবা না করলে আবু লাহাবে মতো পচে-গলে আকৃতি বিকৃত হয়ে মরতে হবে.


খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন, “আবু লাহাব ও তার দুই হাত ধ্বংস হোক। তার ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না। আবু লাহাব ও তার স্ত্রী অতি শীঘ্রই প্রজ্বলিত অগ্নিকুণ্ডে (জাহান্নামে) প্রবেশ করবে।” (পবিত্র সূরা লাহাব).

বর্তমানেও যারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক জাত পাক উনার সাথে সম্পর্কিত পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ তথা ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরোধিতা করছে তাদের আবু লাহাবের কথা স্মরণ রাখা উচিত। আবু লাহাব যেমন পচে-গলে আকৃতি বিকৃতি হয়ে মারা গিয়েছিল, ঠিক তেমনি তারাও লানতপ্রাপ্ত হয়ে পচে-গলে আকৃতি বিকৃতি হয়ে মারা যাবে।.

ইতোমধ্যে এ ধরনের বহু দলিল পাওয়া গেছে। যেমন:


১) বায়তুল মোকাররম মসজিদের সাবেক খতিব উবায়দুল হক, যে প্রতি বছর পবিত্র সাইয়িদুল আইয়াদ শরীফ তথা ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরোধিতা করতো। তার মৃত্যুর সাথে সাথে তার লাশে পচন ধরে যায় এবং তা ধারণ করে বিকট আকৃতি। বহু ফরমালিন আর চারপাশে বরফের আস্তরণ দিয়েও তার লাশের পচন থামানো যায়নি।


২) বাংলাদেশে দেওবন্দীদের গুরু শায়খুল হদস আজিজুল হক। সে মারা যাওয়ার আগে তার এক ধরনের চর্মরোগ হয় এবং সেখান থেকে পচন সৃষ্টি হয়; যা সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। উল্লেখ্য আবু লাহাবেরও একইভাবে চর্মরোগ থেকে সারা শরীরে পচন ছড়িয়ে পড়েছিল। হদসের ছেলে এই ঘটনা নিজ মুখেই স্বীকার করেছে। হদসের ছেলে এ সম্পর্কে বলেছে, “ইন্তেকালের ৬/৭ মাস আগে আব্বার শরীরে চর্ম রোগের উপসর্গ দেখা দেয়। শরীরে বিভিন্ন অঙ্গে চামড়ার মধ্যে পানির মতো জমাট বেঁধে ফোস্কা পড়ত। অতঃপর সেই ফোস্কা ফুটে গিয়ে দগদগে ক্ষত সৃষ্টি হতো। ক্ষতগুলো এতটাই প্রকট আকারের হতো যে, পরিবারের সদস্যদের জন্য তা সহ্য করা সম্ভব হতো না।)


৩) মুফতে আমিনী ওরফে কমিনী ২০০২ সালের ১৫ই আগস্ট লালবাগের বড় কাটরা মাদরাসায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে সবাইকে গরু জবাই করে খাওয়ায়। যে খবরটি পরদিন ১৬ই আগস্ট দৈনিক ইনকিলাবে ছাপা হয়। অথচ এই ধর্মব্যবসায়ী নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান বিলাদত শরীফ বা সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার বিরোধিতা করত। (নাউযুবিল্লাহ) যার কারণে কমিনীর দেহ মৃত্যুর সাথে সাথে পচে যায় এবং বিকট আকৃতি ধারণ করে।

তাই এখনো যে সমস্ত কুলাঙ্গার পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ তথা ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরোধিতা করে যাচ্ছে তাদের উচিত তাদের ওস্তাদদের কঠিন পরিণতি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা। কারণ যখন গযব শুরু হয়ে যাবে তখন তা ঠেকানোর কোনো উপায় থাকবে না, দুনিয়া-আখিরাত দুইটিই পরিণত হবে কঠিন জাহান্নামে। (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক).

মুসলমানদের বাদ দিয়ে কমজাত বিধর্মীদের ক্ষমতায়িত করার পরিণতি।

 মুসলমানদের বাদ দিয়ে কমজাত বিধর্মীদের ক্ষমতায়িত করার পরিণতি।



ভারতবর্ষে সিপাহী বিদ্রোহের পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশরা ভারতবর্ষের মুসলমানরা, বিশেষ করে বাঙালি মুসলমানদের উপর দমননীতি গ্রহণ করে। তারা সম্ভ্রান্ত মুসলমানদেরকে সমস্ত সরকারি উচ্চপদ থেকে বরখাস্ত করে সেখানে বিধর্মীদের নিয়োগ দেয়, কারণ সিপাহী বিদ্রোহের সময়ে বাঙালি বিধর্মীরা ছিল ব্রিটিশদের একনিষ্ঠ অনুগত গোলামগোষ্ঠী।

তৎকালীন বাংলায় নিয়োজিত ব্রিটিশ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও চরম মুসলিমবিদ্বেষী উইলিয়াম হান্টারও তার ১৮৭১ সালে লেখা ‘দি ইন্ডিয়ান মুসলমানস’ বইটিতে ব্রিটিশদের এসব অন্যায়-অবিচারের কথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ কলকাতার ‘চিরায়ত প্রকাশন’ থেকে প্রকাশিত বইটির বাংলা অনুবাদ থেকে নিম্নোক্ত অংশগুলো তুলে ধরা হলোÑ

“একশো সত্তর বছর আগে বাংলার কোনো উচ্চবংশ জাত মুসলমানের পক্ষে দারিদ্র্যের মধ্যে পতিত হওয়া প্রায় অসম্ভব ব্যাপার ছিল, বর্তমানে তার পক্ষে ধনী হয়ে থাকা প্রায় অসম্ভব।” (পৃষ্ঠা ১১০)

“একশো বছর আগে সমস্ত সরকারি পদে মুসলমানদের একচেটিয়া আধিপত্য ছিল। বিধর্মীদের প্রাক্তন বিজেতারা তাদের টেবিল থেকে যে অনুগ্রহ বিতরণ করতো, বিধর্মীরা সেটাই ধন্যবাদের সঙ্গে গ্রহণ করতো, এবং দু’চারজন কুঠিয়াল, গোমস্তা ও কেরানি ছিল ইংরেজ। এখন মুসলমানদের সংখ্যা বিধর্মীদের এক-সপ্তমাংশও নয়।” (পৃষ্ঠা ১১৯)


ফারসীতে একটি প্রবাদ আছে, যার বাংলা অর্থ হলো- “কোনো কমজাত বা নিচুশ্রেণীর লোককে উঁচুপদ প্রদান করলে সে সম্মানী লোকদের মানহানি করে থাকে।” 


এখন ব্রিটিশদের মদদে একলাফে উপরে উঠা কমজাত বিধর্মীরা যেরূপ আচরণ করতো মুসলমানদের সাথে, তা নিয়ে কমরেড মুজফ্ফর আহমদ তার রচিত ‘আমার জীবন ও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি’ বইটির ৪২০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছে যে “কোনো বিধর্মীর সাথে কোনো শিক্ষিত মুসলমানের দেখা হলে সে জিজ্ঞেস করে, ‘আপনি কি ভদ্রলোক, না মুসলমান?” (নাউযুবিল্লাহ) 

ব্রিটিশআমলের সেই বিভীষিকা থেকে মুক্ত হতেই কিন্তু বাঙালি মুসলমানরা পাকিস্তান আন্দোলন করেছে। তাতেও যখন কাজ হলো না, তখন করলো ভাষা আন্দোলন ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ।

বাঙালি মুসলমানদের এই শত বছরের স্বাধীকার আন্দোলনের যে ঐতিহ্য, তার হিস্যা কিন্তু রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগই কেবল দাবি করতে পারে। কারণ তার প্রধান নেতা শেখ সাহেবের যেমন পাকিস্তান আন্দোলনে ভূমিকা রয়েছে, ঠিক তেমনি রয়েছে স্বাধীনতা যুদ্ধে। কিন্তু এই আওয়ামী লীগের বিধর্মীতোষণের কারণেই বাঙালি মুসলমানদের এই শত বছরের অর্জন নস্যাৎ হতে চলেছে, তারা ঠিক সেই ব্রিটিশ আমলের মতোই প্রশাসন থেকে মুসলমানদের সংখ্যা কমিয়ে গণহারে বিধর্মী নিয়োগ দিচ্ছে।


 আওয়ামী লীগাররা কি তাদের কয়েক দশকের অর্জিত ইতিহাস ধারাকে ছুড়ে ফেলতে চায়? তারা কি চায়, ইতিহাসের নির্মমতার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে ব্রিটিশআমলের বিভীষিকাকে এই একবিংশ শতাব্দীতে ফের ফিরিয়ে আনতে? এই আওয়ামীরা ও তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কি বিধর্মীদের দ্বারা জিজ্ঞাসিত হতে চায় যে, “আপনি কি ভদ্রলোক, না মুসলমান?”

নদী রক্ষার নামে পবিত্র মসজিদ ভাঙ্গা বা স্থানান্তর করা চলবে না, কারণ পবিত্র মসজিদ উনার মালিক কোন ব্যক্তি-গোষ্ঠি বা কোন দেশের সরকার নয়।

 নদী রক্ষার নামে পবিত্র মসজিদ ভাঙ্গা বা স্থানান্তর করা চলবে না, কারণ পবিত্র মসজিদ উনার মালিক কোন ব্যক্তি-গোষ্ঠি বা কোন দেশের সরকার নয়।



রাস্তা-ঘাট, ফ্লাইওভার, মেট্ররেল, নদী সংরক্ষণ বা সরকারী-বেসরকারী যে কোন প্রয়োজনের নাম দিয়ে পবিত্র মসজিদ ভাঙ্গা, স্থানান্তর করা অথবা মসজিদ উনার জমি বিক্রয় করা চলবে না। কারণ পবিত্র মসজিদ উনার মালিক কোন ব্যক্তি-গোষ্ঠি বা কোন দেশের সরকার নয়। পবিত্র মসজিদ উনার একমাত্র মালিক হচ্ছেন খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি।

এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلّٰهِ

অর্থ: আর নিশ্চয়ই পবিত্র মসজিদ সমূহ মহান আল্লাহ পাক উনার। (পবিত্র সূরা জ্বিন শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ- ১৮)

অর্থাৎ পবিত্র মসজিদ সমূহ মহান আল্লাহ পাক উনার এ কথার অর্থ হচ্ছে পবিত্র মসজিদ সমূহ উনার মালিক হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক তিনি। সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

اَلْـمَسْجِدُ بَيْتُ اللهِ

অর্থ: পবিত্র মসজিদ সমূহ মহান আল্লাহ পাক উনার ঘর। সুবহানাল্লাহ!

এখন প্রশ্ন হচ্ছে অন্যের মালিকানাধীন জমি বা ঘর কারো জন্য বিক্রি করা, ভাঙ্গা বা স্থানান্তর করা জায়িয আছে কি? কস্মিনকালেও জায়িয নেই, তাহলে মহান আল্লাহ পাক উনার অনুমতি ব্যতিত পবিত্র মসজিদ উনার জমি বা ঘর কারো জন্য বিক্রি করা, ভাঙ্গা বা স্থানান্তর করা কি করে জায়িয হতে পারে? সে তো এই জমির মালিক না।

পবিত্র মসজিদ ভাঙ্গতে বা স্থানান্তর করতে হলে অথবা পবিত্র মসজিদ উনার জমি বিক্রি করতে হলে মহান আল্লাহ পাক উনার অনুমতি লাগবে, যা কস্মিনকালেও একজন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় বিধায় রাস্তা-ঘাট, ফ্লাইওভার, মেট্ররেল, নদী সংরক্ষণ বা সরকারী-বেসরকারী যে কোন প্রয়োজনে মসজিদ ভাঙ্গা বা স্থানান্তর করা অথবা পবিত্র মসজিদ উনার জমি বিক্রি করা সম্পূর্ণরূপে হারাম ও কবীরা গুনাহ। হালাল বা জায়িয বলা কুফরী।

সুতরাং দেশের সরকার প্রধানসহ তৎসংশ্লিøষ্ট সকলের দায়িত্ব এবং কর্তব্য হচ্ছে, যে কোনো অজুহাতে পবিত্র মসজিদ ভাঙ্গা বা স্থানান্তর করার তো প্রশ্নই আসে না বরং আরো বেশী বেশী পবিত্র মসজিদ নির্মাণ করতে হবে এবং পবিত্র মসজিদসমূহকে উত্তমভাবে তা’যীম-তাকরীমের সাথে সংরক্ষণ করার জন্য নির্দেশ দিতে হবে এবং সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে হাক্বীক্বী ছহীহ সমঝ দান করুন এবং সর্বদা হক্বের উপর ইস্তিক্বামত থাকার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন।

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...