Tuesday, June 22, 2021

আজ বিশ্ব পর্দা দিবস; যা বরকতময় পবিত্র ৮ই যিলক্বদ শরীফ।

 মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- “হে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম! নিশ্চয়ই আপনারা অন্য কোনো মহিলাদের মতো নন।” অর্থাৎ অন্য কোন পুরুষ ও মহিলা কারো মতো নন। সুবহানাল্লাহ!


আজ বিশ্ব পর্দা দিবস; যা বরকতময় পবিত্র ৮ই যিলক্বদ


শরীফ। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুন নিসা, আত্বওয়ালু ইয়াদান, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আস সাবি’য়াহ আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র নিসবাতে আযীমাহ মুবারক দিবস। সুবহানাল্লাহ! আর উনারই সম্মানার্থে ৫ম হিজরী শরীফ উনার এ মহান দিবসে অর্থাৎ পবিত্র ৮ই যিলক্বদ শরীফ পবিত্র পর্দা মুবারক উনার হুকুম নাযিল করা হয়। তাই আজ ‘বিশ্ব পর্দা দিবস’। সুবহানাল্লাহ!


অতএব, সকলের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- এ মহান দিবস উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করার সাথে সাথে উনাদেরকে মুহব্বত করা, অনুসরণ-অনুকরণ করা ও উনাদের যথাযথ খিদমত মুবারক উনার আঞ্জাম দেয়া এবং হাক্বীক্বী পর্দা করা। আর সরকারের জন্যও দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- উনাদের পবিত্র জীবনী মুবারক সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করা, এ মহান দিবস উনার সম্মানার্থে সরকারিভাবে হাক্বীক্বী শরঈ পর্দা পালনের সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।


ছাহিবু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ছাহিবে নেয়ামত, আল ওয়াসীলাতু ইলাল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সুলত্বানুন নাছীর, আল ক্বউইউল আউওয়াল, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বইয়ুমুয্যামান, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ছিলেন মোট ১৩ জন। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নেয়ার মুবারক ধারাবাহিকক্রম অনুযায়ী সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, আফদ্বলুন নাস ওয়ান নিসা বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মুল মু’মিনীন আস সাবি‘য়াহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আত্বওয়ালু ইয়াদান আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন ‘আস সাবি‘য়াহ্ তথা ৭ম’। এ জন্য উনাকে ‘উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আস সাবি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম’ বলা হয়। তিনি সকলের মাঝে ‘সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আস সাবি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম’ হিসেবে পরিচিতি মুবারক গ্রহণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!   


আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, আফদ্বলুন নাস ওয়ান নিসা বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আত্বওয়ালু ইয়াদান, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আস সাবি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন আস সাবি‘য়াহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আত্বওয়ালু ইয়াদান আলাইহাস সালাম এই সম্মানিত লক্বব মুবারকে পরিচিতি মুবারক লাভ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!


আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, আফদ্বলুন নাস ওয়ান নিসা বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আত্বওয়ালু ইয়াদান সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আস সাবি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন, আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালাত মুবারক প্রকাশের ২০ বছর পূর্বে পবিত্র ১৯শে রবী‘উছ ছানী শরীফ ইয়াওমুল জুমু‘য়াহ্ শরীফ সম্মানিত ও পবিত্র মক্কা শরীফে। সুবহানাল্লাহ! তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেন সম্মানিত ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সূচনালগ্নে। সুবহানাল্লাহ! তিনি সম্মানিত হিজরত মুবারক করেন দুইবার। প্রথবার সম্মানিত ও পবিত্র হাবশাহ শরীফ। দ্বিতীবার সম্মানিত ও পবিত্র মদীনা শরীফে। সুবহানাল্লাহ! 


আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, আফদ্বলুন নাস ওয়ান নিসা বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আত্বওয়ালু ইয়াদান সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আস সাবি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার ‘আযীমুশ শান মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে ‘আযীম শরীফ সম্পন্ন হয় ৫ম হিজরী শরীফ উনার পবিত্র ৮ই যিলক্বদ শরীফ লাইলাতু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (লাইলাতু ইছনাইনিল আযীম)। সুবহানাল্লাহ! উনার আযীমুশ শান মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে ‘আ’যীম শরীফ অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় দুনিয়াবী দৃষ্টিতে উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন- ৩৭ বছর ৬ মাস ১৯ দিন। সুবহানাল্লাহ!  


আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, আফদ্বলুন নাস ওয়ান নিসা বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আত্বওয়ালু ইয়াদান সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আস সাবি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র নিসবতে আযীমাহ শরীফ উনার সম্মানিত অলীমা মুবারক উনার ঘটনা মুবারককে কেন্দ্র করে অর্থাৎ উনার সম্মানার্থে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র পর্দা মুবারক উনার হুকুম দিয়ে পবিত্র আয়াত শরীফ মুবারক নাযিল করেন। যেহেতু পবিত্র ৮ই যিলক্বদ শরীফ পবিত্র পর্দা মুবারক উনার বিধান নাযিল হয়েছে, সেহেতু এ মহান দিনকে ‘বিশ্ব পর্দা দিবস’ নামে নামকরণ করা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!


আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, আফদ্বলুন নাস ওয়ান নিসা বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আত্বওয়ালু ইয়াদান সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আস সাবি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেন ৫ বছর ৪ মাস ৪ দিন। সুবহানাল্লাহ!


আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, আফদ্বলুন নাস ওয়ান নিসা বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আত্বওয়ালু ইয়াদান সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আস সাবি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন- ২০ হিজরী শরীফ উনার পবিত্র ২৩শে জুমাদাল উখরা শরীফ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (ইছনাইনিল ‘আযীম) পবিত্র ও সম্মানিত মদীনা শরীফে। সুবহানাল্লাহ!


আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, আফদ্বলুন নাস ওয়ান নিসা বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আত্বওয়ালু ইয়াদান সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আস সাবি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেন- ৫২ বছর ২ মাস ৪ দিন। সুবহানাল্লাহ! উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ সম্মানিত জান্নাতুল বাক্বী’ শরীফ উনার মাঝে অবস্থিত। সুবহানাল্লাহ!

আমাদের কি জানা আছে- মুজাদ্দিদে আযম রাজারবাগ শরীফ উনার মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুনা হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সম্পর্কে?

 আমাদের কি জানা আছে- মুজাদ্দিদে আযম রাজারবাগ শরীফ উনার মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুনা হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সম্পর্কে?



মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার মুবারক বংশ পরম্পরা সাইয়্য্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সম্পৃক্ত। সম্মানিত পিতা-মাতা উভয়ের দিক থেকে তিনি যথাক্রমে সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনাদের সাথে সম্পৃক্ত। এ কারণে তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সম্পর্কযুক্ত। রক্ত মুবারকের ধারাবাহিকতায় সঙ্গতকারণেই তিনি আল হাসানী ওয়াল হুসাইনী ওয়াল কুরাইশী। অর্থাৎ তিনি আওলাদুর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ!


পথভ্রষ্ট ও গুমরাহীতে নিমজ্জিত মানুষকে হিদায়েত দানের লক্ষ্যে সুলত্বানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ, হাবীবুল্লাহ, হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চীশতি আজমিরী সানজিরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বিভিন্ন দেশ হিজরত ও সফর শেষে খালিক্ব¡ মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সদয় নির্দেশে ছয়শত হিজরীর মাঝামাঝি সময়ে আজমীর শরীফ তাশরীফ আনেন। উনারই অন্তরঙ্গ সঙ্গী ওই যামানায় খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ লক্ষ্যস্থল মাদারযাদ ওলী, আওলাদুর রসূল, হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ আবূ বকর মুজাদ্দিদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিও আজমীর শরীফ তাশরীফ আনেন। হিদায়েত দানের কাজে নিমগ্ন হয়ে তিনি আজমীর শরীফ উনার মধ্যেই থেকে যান এবং সেখানেই পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। উনার অধস্তন আওলাদ পাক (সন্তান) মাদারযাদ ওলী, আওলাদুর রসূল, হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ আলাউদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এগারশত হিজরীর শেষার্ধে হিদায়েতের আলো নিয়ে আজমীর শরীফ থেকে চট্টগ্রাম অতঃপর সোনারগাঁও হয়ে বর্তমান নূরানীগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) জেলার আড়াইহাজার থানাধীন প্রভাকরদী শরীফ গ্রামে হিদায়েতের কেন্দ্র (মারকাজ) গড়ে তোলেন। সুবহানাল্লাহ!


উনারই আওলাদ পাক (সন্তান) মাদারযাদ ওলী, আওলাদুর রসূল হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ মালাউদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি। উনার আওলাদ পাক (সন্তান) মাদারযাদ ওলী, আওলাদুর রসূল সাইয়্যিদ মুহম্মদ ইলাহী বখশ রহমতুল্লাহি আলাইহি। উনার আওলাদ পাক (সন্তান) মাদারযাত ওলী আওলাদুর রসূল সাইয়্যিদ মুহম্মদ ওলী বখশ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আওলাদ পাক (সন্তান) মাদারযাদ ওলী, আওলাদুর রসূল সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলিছুর রহমান রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং উনারই আওলাদ পাক (সন্তান) মাদারযাদ ওলী, আওলাদুর রসূল আলোচ্য মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি।


ইলম, আমল ও কামিয়াবী:


সূক্ষ্ম মননশীলতা, অনাবিল অনুসন্ধিৎসা, মুরাকাবার নিবিষ্টতা, পরিচ্ছন্ন ধ্যান-ধারণা, ইলম অর্জনের আকুলতা, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি মা’রিফাত ও মুহব্বতের অতলান্ত গভীরতা এবং মুজাদ্দিদে আ’যম সুলভ মানসিকতা তিনি পবিত্র বিলাদত সূত্রেই লাভ করেছেন। তিনি আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদায় পরিপূর্ণ বিশ্বাসী। ইসলামবিরোধী পুঞ্জীভূত তমসা দূর করে হিদায়েতের নূরে দুনিয়া আলোকিত করার জন্য খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মাঝে সকল সর্বোত্তম গুণ-বৈশিষ্ট্যের অনুপম সমাবেশ ঘটিয়েছেন। বিশ বছর বয়স মুবারকের মধ্যেই তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র তাফসীর শরীফ, পবিত্র ফিক্বাহ, পবিত্র উছূল, পবিত্র মানতিক, পবিত্র বালাগাত, পবিত্র ফাছাহাত, পবিত্র নাহু, পবিত্র ছরফ, সাহিত্য, কাব্য, ইতিহাস, ভূগোল, দর্শন, বিজ্ঞানসহ ইসলামী ইলম উনার সকল শাখায় অতুলনীয় ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। সুবহানাল্লাহ!


মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার জীবনের আয়োজন, ইলম, আমল ও কামিয়াবীর পরিধি ব্যাপকতর। ইলম, আমল, সমঝ ও মুহব্বত-মা’রিফাত নিজস্ব সম্পদ হওয়া সত্ত্বেও খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার উদ্দিষ্ট ব্যবস্থায় তিনি আত্মকেন্দ্রিক হতে পারেন না। মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার দায়িত্ব অপার। ইলমে তাছাওউফ অর্জনের শরয়ী কারণে তিনি কুতুবুল আলম, আমীরুশ শরীয়ত ওয়া রাহনুমায়ে তরীক্বত, সুলত্বানুল আরিফীন, শাইখুল মাশায়িখ, উস্তাযুল আসাতিযা, নাজমুল আউলিয়া, জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম, মুহইউস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াত, লিসানুল উম্মত, রঈসুল মুহাদ্দিছীন, তাজুল মুফাসসিরীন, ফখরুল ফুক্বাহা, আল্লামাতুল আইয়াম, মুফতিউল আ’যম, আশিকু রসূলিল্লাহ (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শাহ ছূফী, আলহাজ্জ, হযরত আল্লামা আবুল খায়ের মুহম্মদ ওয়াজীহুল্লাহ নানুপুরী আলাইহিস সালাম উনার নিকট বাইয়াত হয়ে প্রধান খলীফার মর্যাদাপূর্ণ আসনে সমাসীন হন এবং পরিপূর্ণ কামিয়াবী উনার ক্বদম মুবারক চুম্বন করে। সুবহানাল্লাহ!


খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইউস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, গাউছুল আ’যম, হুজ্জাতুল ইসলাম, বাহরুল উলূম, আশরাফুল আউলিয়া, ছহিবু সুলত্বানিন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, আওলাদে রসূল, আল্লামা সায়্যিদুনা ইমাম হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের পরিপূর্ণ অনুসারী। তিনি সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ও পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে পবিত্র সুন্নত উনার অনুসরণ ও অনুকরণ করেন। একটি মুস্তাহাব আমলও তিনি কখনো তরক করেন না। সুবহানাল্লাহ!


মুজাদ্দিদ কাকে বলা হয়:


পবিত্র দ্বীন ইসলাম মানুষের পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। পবিত্র দ্বীন ইসলাম খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মনোনীত, নিয়ামত ও সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত পরিপূর্ণ একমাত্র দ্বীনি ব্যবস্থা। এতে মানুষকে হাক্বীক্বীভাবে প্রশিক্ষিত ও নিবিষ্ট করার কাজে পৃথিবীতে যুগে যুগে নিয়োজিত থাকেন ওয়ারাছাতুল আম্বিয়াগণ। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মত এবং উনার প্রিয়তম হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রদর্শিত পথে যাঁরা আমরণ ইস্তিক্বামত থাকেন এবং মানুষকে ইস্তিক্বামত করেন- উনারাই ওয়ারাছাতুল আম্বিয়া। অবুঝ, লক্ষ্যভ্রষ্ট ও বিপথগামী মানুষের আক্বীদা, অনুভব ও অনুসরণকে পবিত্র সুন্নত উনার বিধানে আল্লাহমুখী করে দেয়ার জন্য এমন মহান ওলী দুনিয়ায় সব সময়ই মওজুদ থাকেন। এ মহান ও আয়াসসাধ্য দায়িত্বপালনের জন্য প্রতি শতাব্দীতেই সংস্কারকের আবির্ভাব ঘটে। এমন সংস্কারককে বলা হয় মুজাদ্দিদ। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “নিশ্চই খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এই উম্মতের হিদায়েতের জন্য প্রত্যেক হিজরী শতকের শুরুতে এমন একজন ওলী পাঠিয়ে থাকেন, যিনি উম্মতের জন্য পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সংস্কার সাধন করে থাকেন।” সুবহানাল্লাহ!


পঞ্চদশ শতকের মুজাদ্দিদে আ’যম উনার মুবারক তাশরীফ (আগমন) এবং তাজদীদ উনার প্রকৃতি ও পরিধি:


শতাব্দীর পর শতাব্দী অতিক্রমণে তাওহীদ ও রিসালত পরিপন্থী ঈমান, আক্বীদা ও আমলে মানুষ গুমরাহীতে নিমজ্জিত হয়। কালের প্রবাহে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সম্পর্কে মানুষের ভ্রান্ত উপলব্ধি, নৈতিক অবক্ষয় ও বিরূপ জীবনাচরণের মধ্যে বিদয়াতের জন্ম হয় এবং পবিত্র সুন্নাহ শরীফ ও সম্মানিত শরীয়তবিরোধী কাজের প্রসার ঘটে। ক্রমান্বয়ে মানুষ শিরক ও কুফরীর তমসায় আচ্ছন্ন হয়। বর্তমানে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে এমন অবস্থাই বিরাজমান। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার প্রিয়তম হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মত মুবারক ও পথ মুবারক উনাদের বিপরীত ও সাংঘর্ষিক যাবতীয় আক্বীদা, আমল, আখলাক ও রসম-রিওয়াজের মূলোৎপাটন করে হাক্বীক্বী পবিত্র দ্বীন ইসলাম আবাদের অনূকুল ক্ষেত্র তৈরির প্রয়োজনে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার উদ্দিষ্ট ব্যবস্থায় এবং রউফুর রহীম, রহমাতুল্লিল আলামীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সদয় ইহসানে পঞ্চদশ শতকের মুজাদ্দিদে আ’যম উনার প্রয়োজন অনিবার্য হয়ে উঠে। রিসালতের ধারায় পবিত্র ইসলামী রেনেসাঁ (তাজদীদ) এবং আধ্যাত্ম চিন্তা ও ইলমে তাছাওউফ উনার সুষ্ঠু বিন্যাস ও প্রয়োগে নিরন্তর নিয়োজিত থাকায় মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার মর্যাদা সমধিক। দুনিয়ার প্রতিকূল পরিবেশ-প্রতিবেশে উনার তাজদীদের পরিধি ব্যাপক ও ভিন্নতর।


পঞ্চদশ শতকের মুজাদ্দিদে আ’যম উনার পরিচিতি:


বর্তমান প্রতিকূল প্রেক্ষাপটে মানুষের পরিত্রাণের জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার মনোনীত এবং কুল-কায়িনাতের মুবারকবাদ সিক্ত খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইউস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াত, হুজ্জাতুল ইসলাম, ছাহিবু সুলত্বানিন নাছীর, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, জাব্বারিউল আউয়াল, ক্বইয়্যূমে আ’যম, হাবীবুল্লাহ, গাউছুল আ’যম, কুতুবুল আলম ইমামুল উমাম, আওলাদুর রসূল, আহলু বাইতে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম সাইয়্যিদ মুহম্মদ দিল্লুর রহমান আল হাসানী ওয়াল হুসাইনী ওয়াল কুরাইশী আলাইহিস সালাম উনিই হলেন পঞ্চদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদে আ’যম। যিনি রাজারবাগ শরীফ উনার সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা হিসেবে সারা বিশ্বে মশহুর। উনার মর্যাদা, মর্তবা, শান-মান, ইজ্জত ও ঐতিহ্যের অত্যুচ্চ সোপান কেবল খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার প্রিয়তম হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারাই সম্যক অবহিত। অগণিত লক্বব মুবারক উনার মধ্যে উনার একখানি মূল লক্বব মুবারক হলো “মুজাদ্দিদে আ’যম”। সুবহানাল্লাহ!


মুবারক তাজদীদ উনার ক্ষেত্র:


মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার তাজদীদ মুবারক উনার মূল লক্ষ্য ও ক্ষেত্র কোনো জনপদের ভৌগোলিক সীমানা অথবা অবকাঠামো নয়। লক্ষ্য হলো মানুষের অন্তরের নোংরা অনুভব, অনৈতিক আচরণ ও শরীয়ত গর্হিত কাজ। সম্মানিত ইসলামী পরিভাষায় যার নাম পবিত্র ঈমান, আক্বীদা, ইলম, আমল ও ইখলাছ। একটি সুনির্দিষ্ট ভূখ-ের মধ্যে জনগণ, সরকার ও সার্বভৌমত্বের সমন্বিত রূপকে রাষ্ট্র বলা হয়। পবিত্র দ্বীন ইসলাম এমন রাষ্ট্র সমর্থন করে না। কারণ পবিত্র দ্বীন ইসলাম নির্দিষ্ট কোনো সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়। পবিত্র দ্বীন ইসলাম সার্বজনীন এবং এর আবেদন বিশ্বব্যাপী। পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার কাজ হলো, জগৎময় মানুষের অন্তরকে শাণিত করে তোলা এবং তাঁদের মন ও মননে পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনার সমন্বয়ে সৃষ্ট ইলমে তাছাওউফ উনার নির্যাস প্রবেশ করিয়ে দেয়া। অর্থাৎ মানুষকে পরিপূর্ণরূপে আল্লাহওয়ালা করে তোলা এবং পৃথিবীব্যাপী “খিলাফত আলা মিন হাজিন নুবুওওয়াহ” প্রতিষ্ঠিত করা। 


এলক্ষ্যে মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার তাজদীদের ক্ষেত্র গোটা বিশ্বের সকল মানুষ। বিপন্ন ও পথহারা মানুষের হিদায়েতের জন্য তিনি বেমেছাল রূহানী কুওওয়াত সম্পন্ন আলোকবর্তিকা। অন্যসব ধর্ম ও জাতি, গোত্র, বর্ণ নির্বিশেষে আপামর মানুষের জন্যও তিনি মনোনীত হাদী। পরিপূর্ণরূপে ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাছাওউফ উনাদের অনুসরণে মানুষকে আল্লাহওয়ালা করে তোলা এবং জগৎব্যাপী ইনসানিয়াত প্রতিষ্ঠায় পঞ্চদশ হিজরী শতকে তিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার প্রিয়তম হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের শ্রেষ্ঠতম উপহার। সুবহানাল্লাহ!


মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার প্রিয়তম হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহকামের প্রতি জগৎব্যাপী মানুষের অনীহা, ভ্রান্ত আক্বীদা, পবিত্র সুন্নত উনার প্রতি অবজ্ঞা এবং ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ প্রত্যক্ষ করে তিনি বেদনাক্লিষ্ট হয়ে পড়েন। এ বেদনাবোধই উনার অপ্রতিরোধ্য তাজদীদের ভিত রচনা করে।


তাজদীদের প্রণালী:


বিপর্যস্ত আক্বীদা, কুফরী ও নাস্তিকতার ঘোর দুর্দিনে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার প্রিয়তম হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ লক্ষ্যস্থল মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি হাক্বীক্বী হিদায়েতের জন্য বিশ্ববাসীকে ডাক দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে উনার মুবারক পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত মাসিক “আল বাইয়্যিনাত” ও দৈনিক “আল ইহসান” পত্রিকার সঠিক দিক নির্দেশনায় বিশ্বময় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বাতিলের মুখোশ উম্মোচন ও বাতিলকে পর্যুদস্ত করে হক্ব মত ও পথ প্রতিষ্ঠায় এ দুটি পত্রিকার অমীয় আহ্বানে মানুষ দুনিয়াদার আলিম তথা উলামায়ে সূ’, পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার শত্রু ও বাতিলকে চিনতে ও বুঝতে শিখেছে। মানুষের ইছলাহর জন্য এর পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন কিতাব রচনা করে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার হক্ব বক্তব্য তুলে ধরছেন। একইভাবে সহজ-সরল এবং হৃদয়গ্রাহীভাব ও ভাষায় নিয়মিতভাবে তিনি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ওয়াজ-নছীহত ও তা’লীম তালক্বীন উনার মাধ্যমে সর্বস্তরের মানুষের মনে ইসলামী জযবা সৃষ্টি করছেন। দেশ-বিদেশের অগণিত মানুষ উনার মুরীদ হচ্ছে। অসংখ্য বিধর্মী ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হচ্ছে। উনার যিকির-ফিকিরের তা’লীমে লক্ষ লক্ষ মুরীদের অন্তর ইছলাহ হচ্ছে। ইলমে তাছাউফে দীক্ষিত হয়ে অগণিত মানুষ সত্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে। অবলুপ্ত সুন্নত যিন্দায় মানুষকে হক্ব মত-পথে ফিরিয়ে আনতে উনার বিশ্বময় অতুলনীয় অবদান ইতোমধ্যেই মানুষ জেনে ফেলেছে।


কতিপয় তাজদীদের বিষয়:


মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার তাজদীদের মূল বিষয় হলো, পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ বিরোধী বদ আক্বীদা, আমল, অন্যায়, অবিচারের মূলোৎপাটন। ইসলামবিরোধী যাবতীয় বিশ্বাস ও কার্যকলাপই উনার তাজদীদের ক্ষেত্র। দুনিয়ালোভী আলিমদের মনগড়া ফতওয়ার কারণে বর্তমানে অনেক মানুষ সরাসরি পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ বিরোধী আক্বীদা ও আমলে লিপ্ত। মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি শরীয়ত উনার মূল দলীল, অর্থাৎ পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের ভিত্তিতে সঠিক আক্বীদা ও আমল তুলে ধরছেন এবং সম্মানিত দ্বীন ইসলাম প্রবেশকৃত সকল কুফরী, শিরক ও বিদয়াত অপসারণের কাজে সর্বক্ষণ নিয়োজিত রয়েছেন।


যেসব হারাম ও নাজায়িয বিষয়ের মূলোৎপাটনে তিনি নিয়োজিত, তাঁর কতিপয় নিম্নে উল্লেখ করা হলো:

বেপর্দা, ছবি, গণতন্ত্র, খেলাধুলা, নারী নেতৃত্ব, মুসলমানের মৌলবাদ দাবি, ব্লাসফেমী আইন; হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এবং হযরত আওলিয়ায়ে কিরামগণ উনাদেরকে দোষারোপ করা; টিভি, ভিসিআর, ভিডিও, হরতাল, লংমার্চ, জন্ম নিয়ন্ত্রণ করা; সুদ-ঘুষ, রোযা রেখে ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ইত্যাদি নেয়া, মাযহাব অস্বীকার, বিজাতীয় ও বিধর্মী যাবতীয় আমল ইত্যাদি।

জেনে নিন, কোন ব্যক্তির কারণে দ্বীন ইসলাম ধ্বংস হয়?

 জেনে নিন, কোন ব্যক্তির কারণে দ্বীন ইসলাম ধ্বংস হয়?



নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সময় যেমন কাফির, মুশরিক ও মুনাফিকরা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার ক্ষতি করেছিল, কিয়ামত পর্যন্ত এ ধরনের কিছু মুনাফিক, কাফির মুশরিক থাকবে যারা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার ক্ষতি করার ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করেই চলবে। নাঊযূবিল্লাহ!

তবে কারা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার বেশি ক্ষতি করবে, সে সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে এসেছে,

 وعن حضرت زياد بن جدير رضي الله تعالـى عنه ، قال : قالحضرت عمر رضي الله تعالـى عنه : هل تدري ما يهدم الإسلام ؟ قلت : لا ، قال : يهدمه زلة العالم ، وجدال المنافق بالكتاب ، وحكم الأئمة المضلين

অর্থ: হযরত যিয়াদ ইবনে হুদাইর রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত ফারুক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আপনি কি জানেন? কোন জিনিস সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনাকে ক্ষতি করে? আমি বললাম, না। তখন তিনি বললেন, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার ক্ষতি করে, আলিমের পদস্খলন অর্থাৎ উলামায়ে সূ বা দুনিয়াদার আলিম, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার বিষয়ে মুনাফিকদের তর্ক-বিতর্ক এবং পথভ্রষ্ট গোমরাহ শাসকদের গুমরাহীমূলক আদেশ-নিষেধ। সুনানে দারেমী, শরহুস্সুুন্নাহ, মিরকাতুল মাফাতীহ)


حَدَّثَنَا كَثِيرُ بن عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ:إِنِّي أَخَافُ عَلَى أُمَّتِي مِنْ بَعْدِي مِنْ أَعْمَالٍ ثَلاثَةٍقَالُوا: مَا هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: زَلَّةُ الْعَالِمِ، أَوْ حُكْمٌ جَائِرٌ، أَوْ هَوًى مُتَّبَعٌ.

অর্থ: হযরত কাছীর ইবনে আব্দুল্লাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার পিতা থেকে, অতঃপর উনার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে শুনেছি, তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি আমার পরে আমার উম্মতদের মাঝে তিনটি আমলের ব্যাপারে আশঙ্কা করছি। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সেগুলো কি? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আলিমের পদস্খলন অর্থাৎ উলামায়ে সূ বা দুনিয়াদার আলিম, অত্যাচারী শাসকদের গুমরাহীমূলক আদেশ-নিষেধ, প্রবৃত্তির অনুসরণ অর্থাৎ নফসানিয়ত। (আল মু’জামুল কাবীর(

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

إياكم و زلة العالم و جدال المنافق

অর্থ: তোমরা আলিমের পদস্খলন অর্থাৎ উলামায়ে সূ বা দুনিয়াদার আলিম এবং মুনাফিকদের তর্ক-বিতর্ক থেকে দূরে থাক। )মুস্তাদরাকে হাকেম) 

উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের আলোকে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে যে, আলিমের পদস্খলন, অত্যাচারী শাসক, পথভ্রষ্ট শাসক/বিচারক/সরকার ও মুনাফিক এদের কারণেই সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কেননা এরা মনগড়া সকল কাজ-কর্ম করে থাকে। এদের কার্যকলাপ থেকে দূরে থাকতে হবে এবং ৯৮ ভাগ মুসলমানের এ দেশ থেকে তাদেরকে মিটিয়ে দেয়ার জন্য সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নূরুদ্দারাযাত মুবারকে এসে বাইয়াত মুবারক হয়ে যিকির-ফিকির করে রুহানী কুওয়াত হাছিল করা ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে এ ব্যাপারে ছহীহ বুঝ দান করুন। আমীন!

কুরবানী পশুর হাট বৃদ্ধিতে বাধা প্রদান প্রকৃতপক্ষে দ্বীন ইসলাম উনার বিরোধিতা করা।

 কুরবানী পশুর হাট বৃদ্ধিতে বাধা প্রদান প্রকৃতপক্ষে দ্বীন ইসলাম উনার বিরোধিতা করা।



বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী সরকারের ক্ষমতায় আসার অন্যতম প্রতিশ্রæতি হচ্ছে, পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের বিরোধী কোনো আইন পাশ হবে না।

কিন্তু উক্ত সরকার স্বীয় প্রতিশ্রæতি আদৌ রক্ষা করতে পারেনি। নাউযুবিল্লাহ! আর উক্ত প্রতিশ্রæতি বা ওয়াদা তারা রক্ষা করতে পারবে না; এটাই শতভাগ ঠিক। কারণ মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন, হারামের দ্বারা হারাম ব্যতীত কিছু বের হয় না। মানবরচিত তন্ত্র-মন্ত্র অনুসরণ করে কখনোই সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার হুকুম পালন করা যায় না। তাই তারা স্বীয় ওয়াদা বা প্রতিশ্রæতি ভঙ্গ করে সম্মানিত ঈমান ও ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে গেছে। 

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, যে ওয়াদা রক্ষা করে না তার ঈমান নেই। অর্থাৎ সে মুনাফিক। ফলে হারাম ও কুফরী তন্ত্র-মন্ত্র অনুসরণ করার কারণে তারা একটি দুটি ক্ষেত্রে নয় সর্বক্ষেত্রেই পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের বিরোধী আইন, নিয়ম-নীতি, তর্জ-তরীক্বা অনুসরণ ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ!

আমরা দেশের ৯৮ ভাগ মুসলমান উক্ত সরকারের সমস্ত হারাম ও কুফরী আইনের অনুসরণ ও বাস্তবায়নের প্রতি নিন্দা জানাই এবং তা থেকে তওবা করে ফিরে আসার আহŸান জানাই।

উল্লেখ্য, সম্মানিত কুরবানী মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তোষজনক ইবাদত ও ফযীলপূর্ণ এক বিশেষ ইবাদত। এই ইবাদতের সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে পশুর হাট। যেখানে পশু বেচা-কেনা করা হয়। পশুরহাট যতই বৃদ্ধি করা হবে ততই বেচা-কেনা করা সহজ হবে। পশু আনা-নেয়া সহজ হবে এবং বেচা কেনাও বৃদ্ধি হবে। অর্থাৎ কুরবানী দেয়া বা করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা হবে। আর যদি হাট বৃদ্ধিতে বাধা দেয়া হয়, তাহলে কুরবানীর পশু বেচা কেনার মধ্যেই বাধা দেয়া হলো। যা প্রকারান্তরে কুরবানী করার মধ্যেই বাধা দেয়া হলো, যা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আদেশ মুবারকের প্রকাশ্য বিরোধী ও কুফরী। নাউযুবিল্লাহ!

পর্দা পালন কোন সরকারী নিয়ম নয়, এটা মহান আল্লাহ পাক উনার মুবারক বিধান।

 পর্দা পালন কোন সরকারী নিয়ম নয়, এটা মহান আল্লাহ পাক উনার মুবারক বিধান।



মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “(হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনি ঈমানদার নারীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের ইজ্জত ও আবরু হিফাজত করে। তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে। তবে চলাচলের কারণে অনিচ্ছা সত্তে¡ও যা প্রকাশ পায় তা ব্যতীত এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভাই, ভাতিজা, ভাগিনা, সহধর্মিণী স্ত্রীলোক, অধিকারভুক্ত বাদী আর পুরুষদের মধ্যে যারা অবুঝ আর বালকদের মধ্যে ওই সমস্ত বালক যাদের কাছে মেয়েদের পর্দার বিষয়টা এখনো স্পষ্ট হয়নি, তাদের ব্যতীত কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। তারা যেন এমনভাবে পদচারণা না করে যাতে তাদের চুপানো সৌন্দর্য প্রকাশ হয়ে পড়ে। মু’মিনগণ, তোমরা সকলেই মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে তওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।” (পবিত্র সূরা নূর শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩১)

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মেয়েরা পর্দার সাথে থাকবে। কেননা তারা যখন কোথাও বের হয়, তখন শয়তান উঁকি-ঝুঁকি দিতে থাকে, কিভাবে তাদের দ্বারা পাপ কাজ সংঘটিত করা যায়।” (তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ)।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরও ইরশাদ মুবারক হয়েছে, হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, “হে হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম! আপনি আপনার দৃষ্টি অনুসরণ করবেন না, প্রথম দৃষ্টিকে ক্ষমা করা হবে কিন্তু দ্বিতীয় দৃষ্টিকে ক্ষমা করা হবে না।” অর্থাৎ প্রত্যেক পলকে বা দৃষ্টিতে একটি করে কবীরা গুনাহ হবে। উপরোক্ত কুরআন শরীফ এবং হাদীছ শরীফ দ্বারাই বুঝা যায় যে, পর্দা পালন করা ফরয এবং যে কোনো অবস্থায় যে কোনো পরিস্থিতিতে যেখানে পর্দা করা ফরয সেখানে পর্দা করতেই হবে।

প্রতি মহল্লায় পবিত্র কুরবানীর হাট থাকা আবশ্যক৷

 আমাদের দেশের শতকরা ৯৮ ভাগ লোক মুসলমান। আর পবিত্র কুরবানী একটি সম্মাানিত আমল। পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে পবিত্র কুরবানী উনার ফাযায়িল-ফযীলত স¤পর্কে অনেক বর্ণনা রয়েছে। কুরবানীদাতা অনেক নেকী হাছিল করে থাকেন । সুবহানাল্লাহ!

আবার এই নেক কাজটি যেখানে করা হয় সেখানে রহমত, সাকীনা, বরকত, দয়া, দান ইত্যাদি নাযিল হয়ে থাকে। সেজন্যই মুসলমানদের দেশগুলো সবসময়ের জন্যই সম্পদে পরিপ‚র্ণ। যেখানে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে স্মরণ করা হয় সেখানে আপদ-বিপদ, বালা-মুছিবত আসে না। সুবহানাল্লাহ!

তাহলে দেখা যায় যে, যে স্থানে পবিত্র কুরবানী দেয়া হয়, সে স্থানটাও ফযীলত লাভ করে থাকে। যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে পবিত্র কুরবানীর জন্য আনীত পশুগুলোকেও নিদর্শন হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং সেগুলোকে যেন কষ্ট দেয়া না হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। 

তাহলে দেখা গেল, পবিত্র কুরবানীর প্রতিটি বিষয় অত্যন্ত সম্মানিত এবং মুসলমানগণ উনারা যাতে এই সম্মানিত আমলটি সহজে করতে পারেন তার জন্য সব রকমের সুব্যবস্থা করা সরকারের দায়িত্ব। আর এই লক্ষ্যে প্রতি মহল্লায় মহল্লায় পবিত্র কুরবানীর পশুর হাট বসানো হোক, যাতে পশু কিনে নিয়ে আসা সহজ হয় এবং নিয়ে আসতে পবিত্র কুরবানীর পশুগুলো কষ্ট না পা


য়।

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল হাদীছ শরীফখানা হলো-

 মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল হাদীছ শরীফখানা হলো-


عَنْ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يُؤْمِنُ اَحَدُكُمْ حَتّٰـى اَكُوْنَ اَحَبَّ اِلَيْهِ مِنْ وَّالِدِهٖ وَوَلَدِهٖ وَالنَّاسِ اَجْمَعِيْنَ وَفِىْ رِوَايَةٍ اُخْرٰى مِنْ مَّالِهٖ وَنَفْسِهٖ 

 অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না তোমরা তোমাদের পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি এবং সমস্ত মানুষ থেকে আমাকে সবচেয়ে বেশি মুহব্বত না করবে। অপর বর্ণনায় রয়েছে, নিজের ধন-সম্পদ এবং নিজের জীবনের চেয়েও বেশি মুহব্বত না করবে। সুবহানাল্লাহ!

 সমস্ত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনারা মহাসম্মানিত এই হাদীছ শরীফ উনার পরিপূর্ণ মিছদাক্ব। সুবহানাল্লাহ!

 আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারকে মহাসম্মানিত এই উম্মুল হাদীছ শরীফখানা যে কত বেমেছালভাবে ফুটে উঠেছে তথা বাস্তবায়িত হয়েছে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।

সন্তান-সন্ততির চেয়েও বেশি মুহব্বত করতে হবে:

 মহাসম্মানিত উম্মুল হাদীছ শরীফখানা উনার মধ্যে বলা হয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিজ সন্তান-সন্ততির চেয়েও বেশি মুহব্বত মুবারক করতে হবে। সুবহানাল্লাহ! বিষয়টির সুস্পষ্ট উজ্জ্বল প্রমাণ জমীনের বুকে স্থাপন করেছেন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি। উনার একজন ছেলে সন্তান হযরত আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু, যিনি অনেক বড় একজন যোদ্ধা ছিলেন। বলা হয়, তিনি একাই ১০০০ যোদ্ধার মোকাবেলা করার যোগ্যতা রাখতেন। তিনি একবার উনার পিতা সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে বললে- হে আমার সম্মানিত পিতা, দ্বীন ইসলাম গ্রহণের পূর্বে আমি একবার একটি জিহাদে ছিলাম যখন আমি কাফিরদের পক্ষে যুদ্ধে রত ছিলাম। জিহাদ চলাকালীন একবার আপনাকে আমি হাতের কাছেই পেয়েছিলাম, ইচ্ছে করলে আমি আপনাকে শহীদ করতে পারতাম। কিন্তু আপনি আমার সম্মানিত পিতা হওয়ার কারনে আমি আপনাকে কোন আঘাত করিনি। সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি ছেলের এ কথা শুনে বললেন- তোমার ভাগ্য ভালো যে, জিহাদের ময়দানে আমি তোমাকে দেখতে পাইনি, যদি দেখতে পেতাম তাহলে অবশ্যই সাথে সাথে তোমাকে তরবারির আঘাতে কতল করে ফেলতাম। কারন তোমার কতবড় স্পর্ধা যে তুমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিপক্ষ হয়ে যুদ্ধ করছো।

 সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি যে উনার আপন সন্তান-সন্ততি আপন ছেলে-মেয়ে সকলের চেয়ে কতবেশি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মুহব্বত মুবারক করতেন- এ ঘটনাটি তারই একটি সাক্ষাত উদাহরণ। সুবহানাল্লাহ!

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...