Wednesday, March 23, 2022

রোমের শাসকের বিরুদ্ধে হযরত আব্দুল্লাহ বিন হুযায়ফা সহমী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ঈমানদীপ্ত ইতিহাস

 রোমের শাসকের বিরুদ্ধে হযরত আব্দুল্লাহ বিন হুযায়ফা সহমী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ঈমানদীপ্ত ইতিহাস



দ্বীন ইসলাম উনার দ্বিতীয় খলীফা, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আযম আলাইহিস সালাম তিনি রোম শাসকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে মুসলিম বাহিনী প্রেরণ করেন। সেই বাহিনীতে শামিল ছিলেন হযরত আব্দুল্লাহ বিন হুযায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। এক পর্যায়ে তিনি রোমকদের হাতে বন্দী হলেন। তখন তাঁকে নিয়ে যাওয়া হলো রোম শাসকের সম্মুখে। হযরত আব্দুল্লাহ বিন হুযায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার জবান মুবারকে দ্বীন ইসলাম উনার সুমহান শান মুবারক এবং কথাবার্তা শুনে রোম শাসক পাল্টা উনাকে খ্রিস্টান হওয়া এবং রোম সরকারের একজন শরীক হওয়ার লোভনীয় প্রস্তাব দিল।


তখন হযরত আব্দুল্লাহ বিন হুযায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু রোম শাসকের উদ্দেশ্যে বলে উঠলেন- ‘যদি তুমি আমাকে তোমার পুরো রাজত্ব এবং সারা আরব জাহানও দান করো আর তার পরিবর্তে এক পলকের জন্যও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদর্শ মুবারক থেকে ফিরে থাকতে বলো, তাতেও আমি কক্ষনোই রাজী হবো না।’ সুন্নতে নববী উনার প্রতি উনার এমন দৃঢ়তা দর্শনে রোম শাসক তখন উনাকে কতল করার হুমকি দিল। হযরত আব্দুল্লাহ বিন হুযায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এতে বিন্দুমাত্র ভয় না পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই জবাব দিলেন- সেটা তোমার ইখতিয়ার। তখন রোম শাসক উনাকে শূলে চড়ানোর নির্দেশ দিল। সাথে সাথে তীর নিক্ষেপকারী জল্লাদকে শাসক গোপনে বলে দিল যাতে তীরগুলো উনার হাতে পায়ে তথা শরীর মুবারকের একেবারে নিকট দিয়ে ঘেষে যায় কিন্তু তবুও যাতে শরীর মুবারকে বিদ্ধ না হয়। তার ফাঁকে ফাঁকে উনাকে খ্রিস্টান হবার জন্য যাতে চাপ দেয়া হয়। এ অবস্থায়ও যখন হযরত আব্দুল্লাহ বিন হুযায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সম্রাটের প্রস্তাব অস্বীকার করতেছিলেন তখন উনাকে শূল থেকে নামিয়ে আনার নির্দেশ দেয়া হল। অতঃপর উনার সম্মুখে একটি ডেগ এনে তাতে খুব ভালভাবে পানি ফুটানো হলো। তারপর দু’জন মুসলিম মুজাহিদ বন্দী উনাদের হাজির করে একজনকে উনারই সম্মুখে সেই ফুটানো পানির ডেগে নিক্ষেপ করা হলো। (নাঊযুবিল্লাহ) তিনি শহীদ হয়ে গেলেন।


 এমন মর্মান্তিক হৃদয় বিদারক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেই হযরত আব্দুল্লাহ বিন হুযায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে খ্রিস্টান হওয়ার জন্য চাপ দেয়া হচ্ছিল। কিন্তু তিনি পূর্বের চেয়ে আরো বেশি দৃঢ়তার সাথে তা অস্বীকার করছিলেন। নিরূপায় হয়ে শাসক তখন হযরত আব্দুল্লাহ বিন হুযায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে সেই ফুটন্ত ডেগে নিক্ষেপ করতে নির্দেশ দিল। যখন উনাকে ধরে ডেগের কাছে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তখন তিনি অঝোর নয়নে কাঁদছিলেন। এ দৃশ্য দেখে রোম শাসক মনে করলো তিনি বোধহয় জীবন ভয়ে ভীত হয়ে কাঁদা শুরু করেছেন। তাই রোম শাসক উনাকে ফুটন্ত পানির ডেগের কাছ থেকে ফিরিয়ে এনে জিজ্ঞেস করলো- নিশ্চয়ই তুমি এবারে খ্রিস্টান হতে মনোস্থির করেছ? হযরত আব্দুল্লাহ বিন হুযায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সাথে সাথে তার কথা প্রত্যাখান করলেন। রোম শাসক তখন জিজ্ঞাসা করলো- তাহলে তুমি কাঁদছিলেই বা কেন? জবাবে হযরত আব্দুল্লাহ বিন হুযায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন- আমি তো শুধু এজন্যই কাঁদছিলাম যে আমার তো এই একটি মাত্র প্রাণ, যা ফুটন্ত পানির ডেকে ফেলে দিলে হয়তোবা নিঃশেষ হয়ে যাবে। কিন্তু আমার প্রতি পশমে পশমে যদি একেকটি প্রাণ থাকতো তবে প্রত্যেকটি প্রাণকেই আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মত-পথ আদর্শ মুবারকে ইস্তিক্বামত রাখতে একে একে তোমার এই ফুটন্ত পানির ডেকে ঢেলে দিতে পারতাম। এমনটি না পারার বেদনাই আমার কাঁদার একমাত্র কারণ। (সুবহানাল্লাহ)

 (অসমাপ্ত)

সূত্র: দৈনিক আল-ইহসান

হযরত সুহাইব রুমী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ঈমানদীপ্ত বুদ্ধিমত্তা মুবারক

 হযরত সুহাইব রুমী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা 

আনহু উনার ঈমানদীপ্ত বুদ্ধিমত্তা মুবারক



 বিখ্যাত ছাহাবী হযরত সুহাইব রুমী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি যখন সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করলেন তখন কাফির-মুশরিকরা উনার উপর অকথ্য অত্যাচার নির্যাতন শুরু করে। যে অত্যাচারের কোন সীমা ছিল না। অতঃপর তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট যাওয়ার জন্য পবিত্র মদীনাতুল মুনাওয়ারা শরীফ উনার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। তিনি যখন মক্কা শরীফ ছেড়ে রওয়ানা দিলেন তখন কতিপয় কাফির পথিমধ্যে উনার পিছু নিল এবং নানা কথা বলে উনার গতিরোধ করতে চাইলো। এমতাবস্থায় হযরত সুহাইব রুমী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার তীর-বর্শাফলক ভালভাবে ঠিক করে নিলেন এবং কাফিরদেরকে শাসিয়ে বলতে লাগলেন- ওহে! তোমরা তো ভালভাবেই জান যে আমি তোমাদের চেয়ে পাকা তীরন্দাজ! আল্লাহ পাক উনার কসম! যতক্ষণ পর্যন্ত আমার তীরদানীর মধ্যে একটি তীরও অবশিষ্ট থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমার নিকট ভিড়তে পারবে না। তীর শেষ হয়ে গেলে যতক্ষণ পর্যন্ত আমার নিকট তরবারী আছে ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা আমার সাথে লড়াই করে টিকে থাকতে পারবে না। 


অতএব তোমাদের মধ্যে যার ইচ্ছা সে আমার সাথে লড়াইয়ে নামুক কিংবা যদি বাহুতে শক্তি থাকে তাহলেও আমার সাথে লড়াই করুক। আর যদি দুনিয়াবী সম্পদ কামনায় তোমরা এতটুকু চাও যে, আমার সম্পদের ঠিকানা তোমাদেরকে বলে দিই, তাতেও প্রস্তুত আছি। ইতোমধ্যে যেহেতু কাফিররা হযরত সুহাইব রুমী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ঈমানদীপ্ত হুংকারে ঘাবড়িয়ে গেছে তাই সম্পদের প্রস্তাব শুনে সাথে সাথে রাজি হয়ে সমস্বরে বলে উঠলো- আচ্ছা ঠিক আছে, তাহলে আপনার সম্পদের কথাই আমাদেরকে বাতলিয়ে দিন। হযরত সুহাইব রুমী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ংঅতঃপর কাফির দুর্বৃত্তদেরকে উনার মালসম্পদের ঠিকানা বলে দিয়ে নিরাপদে পবিত্র মদীনাতুল মুনাওয়ারা শরীফ পানে রওয়ানা হলেন। যখন তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে গিয়ে পৌঁছালেন এবং ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করলেন, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার উদ্দেশ্যে পরপর দুবার ইরশাদ মুবারক করলেন- হে আবু ইয়াহিয়া! আপনার সওদা-কারবার সফলকাম হয়েছে। সফলকাম হয়েছে!। (সুবহানাল্লাহ)

Rajarbag Shareef Official

সূত্র: দৈনিক আল-ইহসান

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...