Saturday, December 23, 2023

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

 

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু 

ভাই তোমার জন্য শুভকামনা রইল আল্লাহ পাক তোমাকে দীর্ঘায়ু দান করুক। 

দল মত নির্বিশেষে বারো বাজারের সকল মানুষের এই দাবির সাথে একমত পোষণ করা উচিত।


“বারবাজার বাসির প্রাণের দাবি"

ঐতিহ্যবাহী বারবাজার কে পর্যটন নগরী হিসেবে ঘোষণা করা হোক।


বারবাজার রেল স্টেশন থেকে ঢাকা এবং খুলনা, বেনাপোল যাতায়াত ব্যবস্থা করতে হবে।


দর্শনার্থীদের জন্য একটি রেস্ট হাউজ ও একটি মিউজিয়াম নির্মাণ করা হোক৷


#বারবাজার #বাসির #প্রাণের #দাবি

#ঐতিহ্যবাহী #বারবাজা #কে #পর্যটন 

#নগরী #হিসেবে #ঘোষণা #করা 

#হোক।#শহর_মোহাম্মদাবাদ #বৈরাট_নগর


(কপি পেস্ট)

Wednesday, December 28, 2022

পাছ-আনফাস একটি অসাধারণ যিকির পদ্ধতি

 পাছ-আনফাস একটি অসাধারণ যিকির পদ্ধতি

*******---*******---*******----*******---*****

পাছ-আনফাস অর্থাৎ শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে খেয়ালে لا اله এবং الا الله অথবা الله এই যিকির করতে হয়। প্রত্যেক জিনিসের জাহির-বাতিন রয়েছে পাছ-আনফাস যিকিরেরও জাহির-বাতিন রয়েছে।

শ্বাস ফেলার সময় لا اله এবং শ্বাস টানার সময় الا الله খেয়ালে থাকতে হয়।

অথবা শ্বাস ফেলার সময় الله এবং শ্বাস টানার সময় الله অথবা শ্বাস টানার সময় الله শ্বাস ফেলার সময় ه খেয়াল করতে হবে।


আমরা জানি, পানি ছাড়া মানুষ অনেক সময় বাঁচলেও অক্সিজেন ছাড়া মানুষ বাঁচে না। শ্বাসের সাথে আমরা যে অক্সিজেন টানি তা শরীরের শেষ সীমান্তে রক্ত প্রবাহের সাথে পৌঁছে দেয়, আর প্রশ্বাসের সাথে দৈহ থেকে পরিত্যক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড বের করে শরীরের বাইরে ফেলে দেয়। মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন গ্রহণ যেমন জরুরী- কার্বন ডাই-অক্সবাইড ত্যাগ করাও জরুরী। অক্সিজেন গ্রহণ ও কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করার কঠিন কাজটি করে মূলত ফুসফুস ও হৃদপি- এবং এর মাধ্যম রক্ত। কোনো ব্যক্তির চারিত্রিক ত্রুটি দেখলে সবাই রক্তকে দোষারোপ করে। জাহিরীভাবে রক্ত শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে পরিশুদ্ধ হয়ে থাকে। আধ্যাত্মিকভাবে পাছ-আনফাস উনার ক্রিয়া একটু বিশ্লেষণ করা যাক। 


মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে, মানুষ পাপ করলে ক্বলবে একটি কালো দাগ পড়ে। পাপ করতে করতে ক্বলবে কালো দাগের প্রলেপ পড়ে যায় অর্থাৎ ক্বলব বাতিনীভাবে নষ্ট হয়ে যায়। যেহেতু রক্ত সঞ্চালণের মূল যন্ত্রই ক্বলব। নষ্ট ক্বলব রূহানীভাবে রক্তকে কলুষিত করে ফেলে। এজন্যই মানুষ ‘রক্তের দোষ’ শব্দটি ব্যবহার করে থাকে। ‘লা ইলাহা’ খেয়াল করে শ্বাস ত্যাগ করলে রক্তের কণিকায় পাপের লিখন থাকে তা দূর হয়। কুফরী, শিরকী ও পাপ দূর হয়। আবার ‘ইল্লাল্লাহু’ খেয়ালে শ্বাস টানলে মহান আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক শক্তিতে রক্ত কণিকা আরো শুদ্ধ হয়। এভাবে রক্তের কণিকাগুলো যিকিরের সাথে পাপ মুক্ত হতে থাকে এবং ক্বলবের কালো দাগগুলোও মিটিয়ে ফেলে। সুতরাং সার্বক্ষণিক পাছ-আনফাস যিকির চললে ক্বলবে বা রক্ত কণিকায় পাপ-পঙ্কিলতা জমে না। সালিক আত্মশুদ্ধি লাভ করে। পাস-আনফাস যিকিরটি প্রাথমিক এবং ক্বলব পরিষ্কারের একটি অন্যতম যিকির।

রাজারবাগ দরবার শরীফ উনার সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি সালিককে এই পাছ-আনফাস যিকির দিয়ে থাকেন। সুবহানাল্লাহ!

আসুন একজন কামিল শায়েখ উনার নিকট বাইয়্যাত হয়ে ছবক গ্রহন করে খালিছ আল্লাহ ওয়ালা, আল্লাহ ওয়ালী হওয়ার জন্যে কোশেশ করি। তেমনি একজন কামিল শায়েখ হচ্ছেন ঢাকা রাজারবাগ দরবার শরীফের মহা সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। আমিন!


sm40.com I sunnat.info

Friday, December 23, 2022

দস্তরখানা বিছিয়ে খাবার খাওয়া সুন্নত। দস্তরখানার রং খয়েরী হওয়াও সুন্নত।

 দস্তরখানা বিছিয়ে খাবার খাওয়া সুন্নত। দস্তরখানার রং খয়েরী হওয়াও সুন্নত।

=======================

 সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু তিনি চামড়ার দস্তরখানা মুবারক বিছিয়ে খাবার খেয়েছেন। তাছাড়া দস্তরখানা বিছিয়ে খাবার খেলে অপচয়ের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তাতে রয়েছে অনেক ফাযায়িল-ফযীলত, বুযুর্গী ও সম্মান। শারীরিক ও মানসিক অফুরন্ত কল্যাণ ও উপকার।




সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দস্তরখানায় খাবার খাওয়ার ব্যাপারে বিভিন্নভাবে তারগীব বা উৎসাহ দিয়েছেন।




পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে-




عَنْ حَضْرَتْ جَابِرٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ الشَّيْطَانَ يَـحْضُرُ أَحَدَكُمْ عِنْدَ كُلِّ شَىْءٍ مِنْ شَأْنِهٖ حَتَّى يَـحْضُرَهٗ عِنْدَ طَعَامِهٖ فَإِذَا سَقَطَتْ مِنْ أَحَدِكُمُ اللُّقْمَةُ فَلْيُمِطْ مَا كَانَ بِهَا مِنْ أَذًى ثُمَّ لْيَأْكُلْهَا وَلَا يَدَعْهَا لِلشَّيْطَانِ فَإِذَا فَرَغَ فَلْيَلْعَقْ أَصَابِعَهٗ فَإِنَّهٗ لَايَدْرِي فِي أَىِّ طَعَامِهٖ تَكُوْنُ الْبَرَكَةُ ‏.‏




অর্থ: বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের প্রতিটি কাজে উপস্থিত থাকে। এমন কি যখন খাবার খাও তখনও সে শরীক হয়। কাজেই, যদি কখনো তোমাদের কোন খাদ্যকণা পরে যায়, আর তাতে ধুলাবালি লাগে, তারা যেন তা ভালভাবে ধুয়ে নেয় এবং খেয়ে ফেলে। শয়তানের জন্য তা না রেখে দেয়। খাওয়া শেষ হলে আঙ্গুলগুলো চেটে খায়। কেননা, সে জানেনা কোন খাদ্যে বরকত রয়েছে। (বুখারী শরীফ, রিয়াদুস সলেহীন, মুসলিম শরীফ)




ইমাম নববী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন, পরে যাওয়া খাদ্যকণা পরিষ্কার করে খাবে। আর পরিষ্কার করে খাওয়ার যদি উপায় না থাকে তাহলে পশু-পাখিদেরকে খাওয়াবে। খাবার কখনো নষ্ট বা অপচয় করবে না।




গোনাহ খতা ক্ষমা হয়




পবিত্র হাদীছ শরীফে আরো বর্ণিত আছে-




عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ اُمِّ حَرَامٍ الْاَنْصَارِىْ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَتَبَّعً مَا يَسْقُطُ مِنَ السُّفْرَةِ غُفِرَ لَهٗ.




অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে হারাম আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ননা করেন। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি দস্তরখানে পরে যাওয়া খাবার উঠিয়ে খাবে মহান আল্লাহ পাক তিনি তার সকল গুণাহখতা ক্ষমা করে দিবেন। সুবহানাল্লাহ! (আল জামিউস সগীর-২/৫৮৭, মাজমাউয যাওয়ায়িদণ্ড৫/৩৪, কাশফুল আসতার-৩/৩৩৪, হিলইয়াতুল আউলিয়া-৫/২৪৬)




#90days mahfil

Sm40.com

Sunnat.info

Sunday, May 8, 2022

উশর কি? পবিত্র ইসলামে উনার গুরুত্ব

 উশর কি? পবিত্র ইসলামে উনার গুরুত্ব



কৃষিজাত পণ্য, ফল ও ফসলের যাকাতকে ইসলামী পরিভাষায় উশর বলে। উশর প্রদান করা যাকাত-এর মতোই ফরয। ইমামে আ’যম হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার মতে যদি বিনা পরিশ্রমে প্রাকৃতিক উপায়ে কোন কৃষিজাত পণ্য, ফল ও ফসল উৎপাদিত হয় তবে ঐ ঊৎপাদিত কৃষিজাত পণ্য, ফল ও ফসল এর দশ ভাগের এক ভাগ উশর হিসেবে দিতে হবে। আর যদি পরিশ্রম করে কোন কৃষিজাত পণ্য, ফল ও ফসল ফলানো হয়, তবে নিছফে উশর অর্থাৎ বিশ ভাগের এক ভাগ দিতে হবে। উশর আদায় না করে নিজে সে ফসল ভোগ করা হারাম হবে, গুনাহ হবে। উশর দিতেই হবে। যাকাত প্রদান করলে যেমন মাল সম্পদ বৃদ্ধি পায় এবং পবিত্রতা হাসিল হয়। আর যাকাত প্রদান না করলে সম্পদ ধ্বংস এবং ঐ ব্যক্তি জাহান্নামী হয়। একইভাবে ফল ও ফসলের যাকাত আদায় না করাও ধ্বংসের কারণ। মহান আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে সম্মানিত শরীয়ত উনার এই বিধান পালন করার তাওফীক দান করুন। আমিন।

Sunday, April 10, 2022

সুদভিত্তিক অর্থনীতিই দারিদ্র্যতার মূল কারণ

 সুদভিত্তিক অর্থনীতিই দারিদ্র্যতার মূল কারণ



সম্মানিত কুরআন শরীফ ও সম্মানিত হাদীছ শরীফ অনুযায়ী সুদ হচ্ছে হারাম। হারাম থেকে কখনো হালাল বা ভালো কিছু বের হয় না। হারাম থেকে হারামই বের হয়। পাত্রে আছে যা, ঢালিলে পড়িবে তা। পাত্রে ময়লা রেখে ঢাললে মধু পড়বে- এরূপ চিন্তা করা যেমন বোকামি; তেমনি দারিদ্র্য নিরসনে যাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু না করে সুদভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকা- পরিচালনা করাটাও বোকামি। কারণ মহান আল্লাহ পাক তিনি যে বিষয়টাকে হারাম করেছেন, ঐ বিষয়ের মধ্যে কোনোদিন ভালো কোনো কিছু আশা করা যায় না।


 দেশে বর্তমানে অধিকাংশ ঋণ হলো সুদভিত্তিক। যার কারণে মানুষ দারিদ্র্যসীমা পেরোতে পারছে না। বরং আরো দারিদ্র্য তাদেরকে গ্রাস করছে। কেননা সুদের পারিভাষিক অর্থ হলো- যুলুম ও শোষণ। তাই দারিদ্র্য থেকে বাঁচতে হলে যাকাতভিত্তিক অর্থনীতির কোনো বিকল্প নেই। এই বিষয়টি আমাদের দেশের মুসলমান সরকারকেও বুঝতে হবে এবং অতিশীঘ্রই যাকাতভিত্তিক অর্থনীতি আমাদের বাংলাদেশে জারি করতে হবে।

সূত্র: দৈনিক আল ইহসান

Rajarbag Shareef Official

Friday, April 1, 2022

বর্তমান বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনী কে যেই সম্পদের হিসাব আজ থেকে ১৪০০ বছর পূর্বে স্বয়ং আখেরী নবীজি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি নিজেই উল্লেখ করে দিয়েছেন।

 বর্তমান বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনী কে যেই সম্পদের হিসাব 

আজ থেকে ১৪০০ বছর পূর্বে স্বয়ং আখেরী নবীজি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি নিজেই উল্লেখ করে দিয়েছেন।


 

সুবহানা সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম!


পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মাঝে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

عن حضرت أبي سعيد الخدرى رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يخرج رجل من أهل بيتى عند انقطاع من الزمان وظهور من الفتن رجل يقال له السفاح فيكون اعطاؤه المال حثيا

অর্থ: হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি ইরশাদ মুবারক করেন, যামানার ক্রান্তিলগ্নে, যামানার শেষের দিকে যখন ফিৎনা-ফাসাদ চরমভাবে প্রকাশ পাবে অর্থাৎ বেপর্দা-বেহায়া, অত্যাচার-অবিচার, যুলুম-নির্যাতন, বেইনসাফে পুরো পৃথিবী ভরে যাবে, কোথাও ইনসাফের লেশমাত্র অবশিষ্ট থাকবে না, তখন আমার মহাসম্মানিত এবং মহাপবিত্র হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্য থেকে আমার একজন আখাছছুল খাছ আওলাদ, একজন মহান খলীফা উনি দুনিয়ার যমীনে তাশরীফ মুবারক নিবেন। উনি এমন একজন মহান ব্যক্তিত্ব, উনি এমন একজন মহান খলীফা উনাকে আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম বলা হবে। 

অর্থাৎ উনি সমস্ত বাতিলী শক্তি, কাফির-মুশরিক, ইহুদী-নাছারা,হিন্দু-বৌদ্ধ,খ্রিস্টান, মজুসী, মুনাফিক,নাস্তিক ও উলামায়ে ছূ সবাইকে পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে, সমস্ত ফিতনা-ফাসাদ, যুলুম-নির্যাতন, অত্যাচার-অবিচার, বেইনসাফকে মিটিয়ে দিয়ে দুনিয়ার যমীনে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবেন।

আর উনি উনার দু’হাত মুবারক ভরে অঢেল, বেহিসাব ধন-সম্পদ বিলিয়ে দিবেন

"সুবহানা সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম!


(দালায়িলুন নুবুওওয়াহ লিল বাইহাক্বী ৬ষ্ঠ জিলদ ৫১৪ পৃষ্ঠা, খাছায়িছুল কুবরা লিস সুয়ূত্বী ২য় জিলদ ২০৩ পৃষ্ঠা, আস সুনানুল ওয়ারিদা ফিল ফিতান, আবু নাঈম, আল ফিতান, বিদায়া-নিহায়া ৬ষ্ঠ জিলদ ২৪৮ পৃষ্ঠা ইত্যাদি)


নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন,

يكون فى امتى خليفة يحثى المال حثيا ولا يعده عددا.

অর্থ: আমার উম্মতের মাঝে একজন মহান খলীফা উনি দুনিয়ার যমীনে তাশরীফ মুবারক নিবেন। উনি উনার দু’হাত মুবারক ভরে অঢেল, বেহিসাব ধন-সম্পদ বিলিয়ে দিবেন কোনো গণনা করবেন না

"সুবহানা সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম!

(দালায়িলুন নুবুওওয়াহ লিল বাইহাক্বী ৬ষ্ঠ জিলদ ৩৩০ পৃষ্ঠা, দায়লামী শরীফ ৫ম জিলদ ৫১০ পৃষ্ঠা, মুসনাদে আহমদ ১০ম জিলদ ১৫ এবং ১৯০ পৃষ্ঠা ইত্যাদি)


হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

واما السفاح فهو يسفح المال

অর্থঃ আর যিনি মহান খলীফা হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম হবেন উনি অঢেল, বেহিসাব ধন-সম্পদ বিলিয়ে দিবেন

"সুবহানাল্লাহ"

(জামিউল আহাদীছ ৭/৪২০, ১৭/২৫৭, বাইহাক্বী ও আবূ নাঈম-এর বরাতে সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১০/৯২)


রাজারবাগ শরীফ উনার মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি দু'হাত মুবারক দিয়ে অঢেল,অগণিত ধন,সম্পদ অকাতরে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের রেযামন্দী,সন্তুষ্টি মুবারকের জন্য বিলিয়ে দিচ্ছেন।

প্রতিদিন মাহফিলে শত,শত,হাজার,হাজার মানুষকে বিশেষ খাবার মুবারক দান করতেছেন, কয়েকদিন পরপর চিন্তা ফিকিরের উর্ধ্বে ১২+ আইটেমের বিশেষ খাবার মুবারক কায়িনাতবাসীকে হাদিয়া করতেছেন। যেই খাবার অতীতে,বর্তমানে এমনকি ভবিষ্যতে কোনো রাজা-বাদশাহ মানুষকে খাওয়ানো তো দূরের কথা নিজেরাও খেতে পায়নি এবং খেতে পাবেনা কেউই। এছাড়া প্রতি আরবী মাস উনার ১২তারিখে শতশত পশু নবীজি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান সম্মানার্থে উনি আক্বীকা মুবারক দিচ্ছেন, প্রতি কুরবানীতে হাজার,হাজার পশু কুরবানী দিচ্ছেন, পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ ১২ই রবিউল আউওয়াল শরীফে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পশু প্রিয় নবীজি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য আক্বীকা মুবারক দিচ্ছেন ,বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে শত শত,হাজার হাজার মসজিদ-মাদরাসা নির্মাণ করতেছেন, শত শত গাড়ি দিয়ে সবার মাঝে সুন্নত মুবারক ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিচ্ছেন, কোটি কোটি কোটি কোটি কিতাবাদি মানুষের ঈমান-আক্বীদা হিফাযতের জন্য ফ্রী বিতরণ করতেছেন। সারাদিন,সারারাত,বছরের পর বছর,যুগের পর যুগ,এমনকি সারাজীবন লিখেও উনার ধন,সম্পদ অকাতরে বিলানোর কথা লিখে শেষ করতে পারবেনা কায়িনাতের কেউই।


ওরে বেকুবের দল, ওরে গণ্ডমূর্খের দল, ওরে নিচু পরিবার থেকে উঠে আসা অমানুষের দল তোরা নাকি রাজারবাগ দরবার শরীফ উনার মহাসম্মানিত এবং মহাপবিত্র মুর্শিদ ক্বিবলা সুলত্বানুন নাছীর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পত্তির হিসাব চাস,রিট করস সম্পদের হিসাব চেয়ে

"নাউযুবিল্লাহ"

নে উনার সম্পদের হিসাব! চোখ খুলে দেখ হাদীছ শরীফ। সরাসরি পেয়ে যাবি উনার সব সম্পত্তির আরো পূঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব।

তুই কি জানোসনা রাজারবাগ দরবার শরীফ উনার মহান মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনি কে?

তুই কি জানোসনা উনার মহাসম্মানিত মাক্বাম মুবারক কত উচ্চে?

মনে রাখ আওলাদে রসূল,আখাছছুল খাছ আহলু বাইত উনি। উনার শান মুবারকে কোনো খিলাফ আল্লাহ পাক বরদাশ করেননা, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বরদাশ করেননা। উনার শান,মান,মর্যাদা মুবারক নিয়ে বিন্দুমাত্র চূ-চেরা করবি তো ইহকালও শেষ পরকালও শেষ।


মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন কায়িনাতের সবাইকে রাজারবাগ দরবার শরীফ উনার মহাসম্মানিত এবং মহাপবিত্র মুর্শিদ ক্বিবলা সুলত্বানুন নাছীর আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান,মান মুবারক হাক্বীকিভাবে বোঝার,উপলব্ধি করার এবং উনার মহাসম্মানিত নুরূদ দারাজাহ মুবারকে আসার এবং আবাদুল আবাদ উনার সুমহান দারাজাহ পাকে ইস্তিকামত থাকার তাওফীক দান করুন

"আমীন"

"আমীন"

"আমীন"

Thursday, March 31, 2022

পহেলা এপ্রিল তথা এপ্রিল ফুল প্রসঙ্গ: মুসলমানগণের এক মর্মান্তিক ইতিহাস।

 পহেলা এপ্রিল তথা এপ্রিল ফুল প্রসঙ্গ: মুসলমানগণের এক মর্মান্তিক ইতিহাস।



এপ্রিল ফুল’ বাক্যটা মূলত ইংরেজি। অর্থ এপ্রিলের বোকা। এপ্রিল ফুল ইতিহাসের এক হৃদয় বিদারক ঘটনা। প্রতি বছর পহেলা এপ্রিল এলেই একে অপরকে বোকা বানানো এবং নিজেকে চালাক প্রতিপন্ন করার জন্য এক শ্রেণীর লোকদের বিশেষভাবে তৎপর হয়ে উঠতে দেখা যায়। বলাবাহুল্য যে, তারা অপরকে বোকা বানিয়ে নিজেরা আনন্দ উপভোগ করে থাকে। কিন্তু দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় হচ্ছে এই যে, সরলপ্রাণ মুসলমানগণ ধোঁকা ও প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন। কিন্তু দুঃখ ও আফসুসের বিষয় আজ মুসলিম জাতির এক শ্রেণীর লোকেরা সে ইতিহাস ভুলে গিয়ে ১লা এপ্রিলের কুফরী অনুষ্ঠানে স্বাচ্ছন্দ্যে অংশ গ্রহণ করছে এবং প্রচুর কৌতুক ও রসিকতা উপভোগ করছে। নাঊযুবিল্লাহ!

৭১১ ঈসায়ী সনে উমাইয়া শাসনামলে বীর মুজাহিদ তারিক বিন জিয়াদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মুসলিম নৌবহর ভূমধ্যসাগরে ভাসিয়ে দিয়ে ঘোষণা দিয়ে ছিলেন যে, হে মুসলিম বাহিনী! আপনাদের সামনে শত্রুসেনা এবং পিছনে ভূমধ্যসাগরের উত্তাল তরঙ্গমালা, আপনারা কি ভূমধ্যসাগরে ডুবে নিজেদের জীবনকে বিপন্ন করতে চান? নাকি অত্যাচারী স্পেনীয় যালিম শাসক রডরিকের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জিহাদ করে ইসলাম উনার বিজয় নিশান স্পেনের বুকে উড়াতে চান। যদি তাই হয়, তাহলে সামনে অগ্রসর হোন। এই রক্তস্তব্ধ বক্তব্যের পর মুসলমানগণ মহান প্রজ্ঞাময় মহান আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক স্মরণ করে যালিম রডরিকের রণসম্ভারে সুসজ্জিত বিশাল বাহিনীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ছিলেন এবং স্পেন জয় করেছিলেন। গড়ে উঠেছিলো গ্রানাডা ও কর্ডোভায় প্রায় ৮০০ বছরের আলোড়ন সৃষ্টিকারী সভ্যতা। কিন্তু মুসলিম শাসকরা যখন পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনার কথা একেবারে ভুলে গিয়ে জন-সাধারণের সুখ-শান্তির মূলে পদাঘাত করে ভোগ বিলাসে মত্ত হয়, তখন তারা হারিয়ে ফেলে পবিত্র ইসলামী চেতনা। তাদের এই দুর্বলতার সুযোগে খ্রিস্টান সন্ত্রাসী ও যালিমরা চারিদিকে মুসলিম শাসকদের বিরুদ্ধে সংগঠিত হতে থাকে এবং ঘোষণা করে যে পিরোনিজ পর্বতমালা অতিক্রমকারী দুর্ধর্ষ মুসলিম বাহিনীকে যদি হটানো না যায়, তাহলে আগামী দিনগুলোতে ইউরোপের সমস্ত গীর্জা থেকে মুসলমানগণের আজান ধ্বনি শোনা যাবে। এই হীনউদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য পর্তুগীজ রাণী ইসাবেলা পার্শ্ববর্তী রাজ্যের খ্রিস্টান রাজা ফার্ডিন্যান্ডের সাথে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হয় এবং উভয়ে নেতৃত্ব দেয় খ্রিস্টান যৌথ বাহিনীর। একের পর এক স্পেনের অধিকাংশ এলাকা খ্রিস্টানদের দখলে চলে যায়। মুসলিম বাহিনী তখন উপায়ন্তর না পেয়ে আশ্রয় নেয় রাজধানী গ্রানাডায়। অবশেষে ফার্ডিন্যান্ড বাহিনীও গ্রানাডার দ্বার প্রান্তে এসে পৌঁছে যায়। মুসলিম বাহিনী তখন ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। এ সময় ফার্ডিন্যান্ড ঘোষণা করে যে, “মুসলমানগণ যদি শহরের প্রবেশ দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়ে এবং নিরস্ত্র অবস্থায় মসজিদে অবস্থান করে, তবে তাদেরকে বিনা রক্তপাতে মুক্ত করা হবে।” অসহায় মুসলমানগণ মহান আল্লাহ পাক উনার উপর ভরসা করার কথা ভুলে গিয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে যুদ্ধ বন্ধ করে দেয় এবং তাদের কথা অনুযায়ী মসজিদে আশ্রয় নেয়। কিন্তু কুখ্যাত প্রতারক ফার্ডিন্যান্ড মসজিদের চারপার্শ্বে আগুন লাগিয়ে নৃশংসভাবে লক্ষ লক্ষ নিরপরাধ মুসলমানদেরকে শহীদ করার মাধ্যমে বিশ্বাসঘাতকতার পরিচয় দেয় এবং মুসলিমদের রক্তে রঞ্জিত করে গ্রানাডার রাজপথ এবং জীবিতদেরকে জোরপূর্বক খ্রিস্টান বানায়। যে দিন এসব নির্মম নৃশংসতা কর্মকা- করে ছিলো, সে দিন ছিল “১লা এপ্রিল ১৪৯২ সাল”। ফার্ডিন্যান্ড সেদিন আনন্দে আত্মহারা হয়ে বলে ছিল- “হায় মুসলমান! এপ্রিল ফুল, তোমরা এপ্রিলের বোকা।” স্পেনীয়দের দ্বারা মুসলমানদেরকে বোকা হিসেবে ঘোষণা দেয়ার এই নিষ্ঠুর বিশ্বাসঘাতকতা বা শঠতাকে স্মরণীয় রাখার জন্য খ্রিস্টানজগৎ প্রতিবছর ১লা এপ্রিল পালন করে থাকে রসিকতার সাথে, যা মুসলমানদের জন্য বড় বেদনাদায়ক।

ইতিহাসের হৃদয়বিদারক ঘটনা সম্পর্কে অজ্ঞ না হলে এপ্রিল ফুল কোনো মুসলিমকে আনন্দ দান করতে পারে না। এখন আমরা কি পহেলা এপ্রিলে হাসি-আনন্দের সাথে “এপ্রিল ফুল ডে” উদযাপন করব, নাকি ইউরোপের বুকে অসহায় মুসলিম নারী-পুরুষ, শিশুদের নৃশংস শাহাদাতের ঘটনা স্মরণে দুঃখ অনুভব করব, মুসলিম ভাই-বোনেরা ভেবে দেখবেন কি? 

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পবিত্র ইসলামী দৃষ্টিকোণে সবচেয়ে ঘৃণিত হচ্ছে হাসি-মসকরাচ্ছলে মিথ্যা বলা। অনেকে ধারণা করে যে, হাসি-রসিকতায় মিথ্যা বলা বৈধ। নাঊযুবিল্লাহ! আর এ থেকেই বিশ্ব ধোঁকা দিবস বা এপ্রিল ফুলের জন্ম। এটা কুফরী আক্বীদা, পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে এর কোনো ভিত্তি নেই। রসিকতা কিংবা স্বাভাবিক সর্বাবস্থায় মিথ্যা হারাম। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমি খুশি করি ঠিক, তবে সত্য ব্যতীত কখনো বলি না।” (তাবরানী শরীফ- ১২/৩৯১) 

হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা উনারা একদা বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহু! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি তো আমাদের সঙ্গে খুশি করেন। তিনি বললেন, আমি সত্য ভিন্ন কিছু বলি না। (তিরমিযী শরীফ)

পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে, ‘এপ্রিল ফুল ডে’ উদযাপন তথা একে অন্যকে বোকা বানিয়ে, মিথ্যা বলে আনন্দ লাভ করার প্রচেষ্টা পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার শিক্ষা ও আদর্শের পরিপন্থী অর্থাৎ কাট্টা কুফরী। সুতরাং এ থেকে আমাদের বেঁচে থাকার চেষ্টা করতে হবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের তাওফীক দান করুন।আমীন!

Friday, March 25, 2022

বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমানদের অবদান (ইলম অর্জন ও প্রচার প্রসার)

 বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমানদের অবদান

(ইলম অর্জন ও প্রচার প্রসার)



হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি

 ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র পদক্ষেপ মুবারক:


ইলম অর্জন তথা শিক্ষার প্রতি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীস শরীফ থেকে শিক্ষার অনুপ্রেরণা পেয়ে মুসলিম উম্মাহ জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চায় এবং শিক্ষা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নয়ন ও বিস্তারে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। 


শিক্ষা বিস্তার ও উন্নয়নের জন্য যে সব বাস্তব, কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় তাহলো-


১. নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে সমস্ত কায়িনাতের জন্য মুয়াল্লিম হিসেবে প্রেরণ করেছেন আর তাই্ দ্বীনি মুয়াল্লিম ব্যক্তির হাশর-নশর আমার সাথে হবে। (ইবনে মাজাহ শরীফ) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইলম অর্জনকে অত্যাধিক গুরুত্ব মুবারক দিতেন। আদেশ এবং নির্দেশনা মুবারক প্রদান করতেন। উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি উনার মহাসম্মানিত জিন্দেগী মুবারকে সবাইকে ইলম অর্জনের জন্য তাগিদ মুবারক দিয়ে গেছেন। উম্মুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত হুজরা শরীফ মুবারক ছিলেন ইলম উনার খনি মুবারক। সুবহানাল্লাহ!


পবিত্র মক্কা শরীফ উনার অত্যন্ত নিরিবিলি স্থানে অবস্থিত হযরত আরকাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বাড়ি মুবারকে প্রতিষ্ঠা করা হয় সম্মানিত দারুল আরকাম শরীফ। যা ইলম অর্জনের একটি আলোকবর্তিকা ছিলেন। এখানে হযরত ছাহাবায়ে ক্বিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা একত্রিত হয়ে সম্মানিত ইলম মুবারক গ্রহণ করতেন, চর্চা মুবারক করতেন, নির্দেশনা মুবারক প্রদান করতেন। সুবহানাল্লাহ!


যারা প্রাথমিকভাবে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করতেন উনারা দারুল আকরাম শরীফেই পবিত্র ইলম মুবারক অর্জন করতেন। নতুন কোন গোত্রের লোক দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করলে তাদের শিক্ষা দানের জন্য হযরত ছাহাবায়ে ক্বিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের প্রেরণ করা হতো। এভাবে গোত্রে গোত্রে হযরত ছাহাবায়ে ক্বিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের তত্ত্বাবধানে শিক্ষায়তন গড়ে উঠতে থাকে। 


মহাসম্মানিত হিজরত মুবারক উনার পর পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মহাপবিত্র মসজিদে নববী শরীফ ইলম উনার এক মহাকেন্দ্র হিসেবে রূপ লাভ করেন। মসজিদে নববী শরীফ উনার প্রাঙ্গণে ‘আল সুফফা’ নামে একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ও গড়ে তোলা হয়। বিভিন্ন অঞ্চলের বহু মানুষ এখানে ইলম অর্জনের জন্য আসতেন। অনেক ছাহাবায়ে ক্বিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা আল সুফফা উনার আজীবন আবাসিক ত্বলীব এবং মুয়াল্লিম উনাদের ভূমিকায় ছিলেন। আল সুফফা উনার ব্যয় বহন করা হতো পবিত্র বাইতুল মাল শরীফ থেকে। কূফা, বসরা, সিরিয়া, মিসর, রোম, পারস্য প্রভৃতি স্থান থেকে আগত শিক্ষার্থীরা পবিত্র মদীনা শরীফে এসে ভীড় জমাতেন।


এক কথায়, সভ্যতার মূলত সৃষ্টিই হয়েছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অপরিসীম দয়া ইহসান মুবারকে। তিনি নিরক্ষরতা দূরীকরণ ও শিক্ষা বিস্তারে এত গুরুত্ব দিতেন যে, পবিত্র বদরের জিহাদে শিক্ষিত যুদ্ধ বন্দীদের মুক্তিপণ নির্ধারণ করেছিলেনÑ কয়েকজন মুসলমানকে শিক্ষা প্রদানের করার মাধ্যমে।


হযরত খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস 


সালাম উনাদের পদক্ষেপ:


শিক্ষা বিস্তার ও উন্নয়নে হযরত খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনারা অতুলনীয় ভূমিকা পালন করেন। আমিরুল মুমিনীন হযরত ফারূকে আযম আলাইহিস সালাম উনার অসামান্য পরামর্শ মুবারকে পবিত্র কুরআন শরীফ উনাকে গ্রন্থাকারে একত্রে সংকলনের মহান দায়িত্ব পালন করেছিলেন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি। হযরত ছাহাবায়ে ক্বিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাও উক্ত পবিত্র কাজে অংশগ্রহণ মুবারক করেছিলেন। পরবর্তীতে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি পঠনরীতিতে পবিত্র কুরআন শরীফ সংকলন মুবারক করেন। হযরত খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের যুগে রাষ্ট্রীয়ভাবে দ্বীন ইসলাম প্রচারের সাথে সাথে শিক্ষা বিস্তারের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। কোথাও সেনাবাহিনী প্রেরণের সময় সেনাপ্রধান নিয়োগ করা হত- শিক্ষিত অভিজ্ঞ নিষ্ঠাবান ব্যক্তিকে। উনারা বিজিত অঞ্চলে শিক্ষা দানে ব্যাপৃত হতেন। হযরত ফারূকে আযম আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত খিলাফত উনার বিভিন্ন অঞ্চলে জনসাধারণকে শিক্ষিত করে গড়ে তোলার জন্য শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। শিক্ষা দানের জন্য উপযুক্ত উস্তাদ নিয়োগ করতেন এবং বাইতুল মাল থেকে উনাদের বেতন-ভাতা দিতেন। বাস্তুহারা অনগ্রসর বেদুইনদের জন্য হযরত ফারূকে আযম আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ অধ্যয়নে গাফিলতিতে শাস্তির ব্যবস্থা পর্যন্ত ছিলো। সুবহানাল্লাহ!


সূত্র: দৈনিক আল-ইহসান

Rajarbag Shareef Official

Thursday, March 24, 2022

বাংলাদেশে দ্বীন ইসলাম উনার আগমনের ইতিহাস

 বাংলাদেশে দ্বীন ইসলাম উনার আগমনের ইতিহাস



মালিক ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজির বাংলা বিজয়ের পর থেকেই মূলত এ অঞ্চলে মুসলিম শাসনের ভিত্তি মজবুত হয়েছিলো। তার মাধ্যমে বাংলা বিজয়ের পর থেকে ক্রমাগত অব্যাহত গতিতে ভারতের পশ্চিমাঞ্চল, আফগানিস্তান, ইরান, আরব ও তুরস্ক থেকে অসংখ্য মুসলমান বাংলায় আগমন করতে থাকেন। অধিকাংশই এসেছিলেন সৈনিক হিসাবে, অবশিষ্টাংশ ব্যবসা-বাণিজ্য, দ্বীন ইসলাম প্রচার উনার উদ্দেশ্যে। এভাবে বাংলায় মুসলমানদের সংখ্যা খুব দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকলো।


বখতিয়ার খিলজি তিনি ছিলেন তুর্কিস্তানের খালজ বংশের। তাই তার বংশ পরিচয়ের জন্য তার নামের শেষে খালজী বা খিলজী শব্দ যুক্ত করা হয়। তার পূর্ব পুরুষদের আবাসভূমি ছিল সীস্তানের পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত গরমশিরে। বখতিয়ার খিলজী যুবক বয়সে নিজ জন্মভূমি ত্যাগ করে গজনী অতঃপর ভারতের বাদাউনে আগমন করেন। প্রথমাবস্থায় গজনী ও দিল্লীর সামরিক বাহিনীতে অনেক চেষ্টার পরও তিনি নিয়োগ পাননি।


 কিন্তু উনার মধ্যে যে অসীম সাহসিকতা ও দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনার যোগ্যতা ছিল তা বুঝতে পেরে বাদাউনের সিপাহসালার উনাকে সেনাবাহিনীতে নিযুক্ত করেন। এখান থেকেই মূলত উনার সৈনিক জীবনের সূচনা হয়। তরাইনের যুদ্ধের পর উনার চাচা মুহম্মদ ই মাহমুদ নাগাওরীর শাসনকর্তা আলী নাগাওরীর নিকট থেকে কষমন্ডী অধিকার লাভ করেন। উনার মৃত্যুর পর তা বখতিয়ার খিলজী তিনি লাভ করেন। কিছুকাল পর তিনি অযোধ্যার মালিক মুয়াজ্জম হিসামউদ্দীনের নিকট গমন করেন। এ সময় তিনি অশ্ব ও অস্ত্রশস্ত্রাদি সংগ্রহ করেছিলেন বলে মালিক হিসামউদ্দীন তাকে দুটি গ্রাম প্রদান করেছিলেন। এই গ্রামগুলো থেকেই পরবর্তীতে তিনি বিহারের দিকে অগ্রসর হয়ে বিভিন্ন জায়গায় থাকা অত্যাচারী জমিদারদের পরাজিত করে প্রচুর মালে গণিমত হাছিল করেন। সেই অস্ত্র দিয়ে তিনি অত্যন্ত সুকৌশলী একটি সেনাবাহিনী গড়ে তোলেন। উনার বীরত্বের খ্যাতিও খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ঘোর, গজনী, খোরাসান প্রভৃতি অঞ্চলে বার বার বিদ্রোহ, যুদ্ধবিগ্রহ থাকার কারণে সে সময় বহুসংখ্যক অধিবাসী দেশত্যাগ করে হিন্দুস্তানে আগমন করেন। বখতিয়ার খিলজি উনার সুখ্যাতি শ্রবণ করে তারা দলে দলে উনার সেনাবাহিনীতে যোগদান করতে থাকেন। ফলে প্রবল প্রতাপশালী হয়ে ওঠেন ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজী। 

সূত্র: দৈনিক আল-ইহসান

Rajarbag Shareef Official

(অসমাপ্ত)

ফিঙ্গার প্রিন্ট পদ্ধতির জনক মুসলমানরাই অথচ আজ মুসলমানরাই সেই শরীয়তসম্মত পদ্ধতির সুবিধা লাভ থেকে বঞ্চিত।

 ফিঙ্গার প্রিন্ট পদ্ধতির জনক মুসলমানরাই অথচ আজ মুসলমানরাই সেই শরীয়তসম্মত পদ্ধতির সুবিধা লাভ থেকে বঞ্চিত।


 


সম্পূর্ন শরীয়তসম্মত ফিঙ্গারপ্রিন্ট পদ্ধতি আবিষ্কারের কথা আজ কতজন মুসলমানই বা জানেন? জানবে কি ভাবে, অপরাধী শনাক্তকরণে ফিঙ্গারপ্রিন্ট তথা আঙুলের ছাপের আবিষ্কারক খুলনার কাজী সৈয়দ মুহম্মদ আজিজুল হকের সেই আবিষ্কার চুরি করে নিয়েছিল সন্ত্রাসী ব্রিটিশদের কর্মকর্তা অ্যাডওয়ার্ড হেনরি। মুসলমান বিজ্ঞানীদের আবিষ্কৃীত অনেক কিছুর মতো অ্যাডওয়ার্ড হেনরি, সৈয়দ মুহম্মদ আজিজুল হকের সেই কৃতিত্ব, সেই আবিষ্কার নিজের নামেই চালিয়ে দেয় যা পরবর্তীতে ‘হেনরি সিস্টেম’ বা ‘হেনরি পদ্ধতি’ নামে পরিচিতি লাভ করে। কিন্তু সেই চুরির ঘটনা বেশী দিন গোপন থাকেনি, ইতিহাস গোপন রাখেনি ১০০ বছর পর হলেও ইতিহাসের সেই সত্য, ইতিহাসের সেই তথ্য প্রকাশিত হয়ে পড়েছে।

পাঠক লক্ষ্য করুন, হালযামানায় মুসলিম বিশ্বসহ বাংলাদেশেও পড়া-লেখা করতে ছবি লাগে, চাকরি-ব্যবসা করতে ছবি লাগে, বিদেশ যেতে পাসপোর্টে ছবি, জায়গা-জমি বিক্রীতে ছবি, অপরাধী শনাক্তকরণে ছবি লাগে, যা শরীয়তে সম্পূর্ন হারাম। অথচ ফিঙ্গারপ্রিন্ট তথা আঙুলের ছাপের পদ্ধতি অপরাধী শনাক্তকরণে আজ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত-স্বীকৃত এবং ইসলামী শরীয়রতসম্মত না হলেও ইহুদি-নাছারা, কাফির-মুশরিকদের চক্রান্তে আজও মুসলিম বিশ্বে হারাম ছবির ব্যবহার অপরিহার্য তথা বাধ্যতা মূলক করে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। (নাউযুবিল্লাহ) অথচ ইউরোপ-আমেরিকায় ঠিকই হারাম ছবির পরিবর্তে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে ফিঙ্গারপ্রিন্টকে। মুসলমানদের উদ্ভাবিত শরীয়তসম্মত পদ্ধতি মুসলমানরা ব্যবহার করতে পারবে না আর তা কাফিররা নির্বিঘেœ ব্যবহার করে যাবে এমন হীনমন্যতাবোধ মুসলমানদের মাঝে কতকাল চলতে থাকবে-সেটাই চিন্তার বিষয়।

Wednesday, March 23, 2022

রোমের শাসকের বিরুদ্ধে হযরত আব্দুল্লাহ বিন হুযায়ফা সহমী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ঈমানদীপ্ত ইতিহাস

 রোমের শাসকের বিরুদ্ধে হযরত আব্দুল্লাহ বিন হুযায়ফা সহমী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ঈমানদীপ্ত ইতিহাস



দ্বীন ইসলাম উনার দ্বিতীয় খলীফা, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আযম আলাইহিস সালাম তিনি রোম শাসকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে মুসলিম বাহিনী প্রেরণ করেন। সেই বাহিনীতে শামিল ছিলেন হযরত আব্দুল্লাহ বিন হুযায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। এক পর্যায়ে তিনি রোমকদের হাতে বন্দী হলেন। তখন তাঁকে নিয়ে যাওয়া হলো রোম শাসকের সম্মুখে। হযরত আব্দুল্লাহ বিন হুযায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার জবান মুবারকে দ্বীন ইসলাম উনার সুমহান শান মুবারক এবং কথাবার্তা শুনে রোম শাসক পাল্টা উনাকে খ্রিস্টান হওয়া এবং রোম সরকারের একজন শরীক হওয়ার লোভনীয় প্রস্তাব দিল।


তখন হযরত আব্দুল্লাহ বিন হুযায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু রোম শাসকের উদ্দেশ্যে বলে উঠলেন- ‘যদি তুমি আমাকে তোমার পুরো রাজত্ব এবং সারা আরব জাহানও দান করো আর তার পরিবর্তে এক পলকের জন্যও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদর্শ মুবারক থেকে ফিরে থাকতে বলো, তাতেও আমি কক্ষনোই রাজী হবো না।’ সুন্নতে নববী উনার প্রতি উনার এমন দৃঢ়তা দর্শনে রোম শাসক তখন উনাকে কতল করার হুমকি দিল। হযরত আব্দুল্লাহ বিন হুযায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এতে বিন্দুমাত্র ভয় না পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই জবাব দিলেন- সেটা তোমার ইখতিয়ার। তখন রোম শাসক উনাকে শূলে চড়ানোর নির্দেশ দিল। সাথে সাথে তীর নিক্ষেপকারী জল্লাদকে শাসক গোপনে বলে দিল যাতে তীরগুলো উনার হাতে পায়ে তথা শরীর মুবারকের একেবারে নিকট দিয়ে ঘেষে যায় কিন্তু তবুও যাতে শরীর মুবারকে বিদ্ধ না হয়। তার ফাঁকে ফাঁকে উনাকে খ্রিস্টান হবার জন্য যাতে চাপ দেয়া হয়। এ অবস্থায়ও যখন হযরত আব্দুল্লাহ বিন হুযায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সম্রাটের প্রস্তাব অস্বীকার করতেছিলেন তখন উনাকে শূল থেকে নামিয়ে আনার নির্দেশ দেয়া হল। অতঃপর উনার সম্মুখে একটি ডেগ এনে তাতে খুব ভালভাবে পানি ফুটানো হলো। তারপর দু’জন মুসলিম মুজাহিদ বন্দী উনাদের হাজির করে একজনকে উনারই সম্মুখে সেই ফুটানো পানির ডেগে নিক্ষেপ করা হলো। (নাঊযুবিল্লাহ) তিনি শহীদ হয়ে গেলেন।


 এমন মর্মান্তিক হৃদয় বিদারক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেই হযরত আব্দুল্লাহ বিন হুযায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে খ্রিস্টান হওয়ার জন্য চাপ দেয়া হচ্ছিল। কিন্তু তিনি পূর্বের চেয়ে আরো বেশি দৃঢ়তার সাথে তা অস্বীকার করছিলেন। নিরূপায় হয়ে শাসক তখন হযরত আব্দুল্লাহ বিন হুযায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে সেই ফুটন্ত ডেগে নিক্ষেপ করতে নির্দেশ দিল। যখন উনাকে ধরে ডেগের কাছে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তখন তিনি অঝোর নয়নে কাঁদছিলেন। এ দৃশ্য দেখে রোম শাসক মনে করলো তিনি বোধহয় জীবন ভয়ে ভীত হয়ে কাঁদা শুরু করেছেন। তাই রোম শাসক উনাকে ফুটন্ত পানির ডেগের কাছ থেকে ফিরিয়ে এনে জিজ্ঞেস করলো- নিশ্চয়ই তুমি এবারে খ্রিস্টান হতে মনোস্থির করেছ? হযরত আব্দুল্লাহ বিন হুযায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সাথে সাথে তার কথা প্রত্যাখান করলেন। রোম শাসক তখন জিজ্ঞাসা করলো- তাহলে তুমি কাঁদছিলেই বা কেন? জবাবে হযরত আব্দুল্লাহ বিন হুযায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন- আমি তো শুধু এজন্যই কাঁদছিলাম যে আমার তো এই একটি মাত্র প্রাণ, যা ফুটন্ত পানির ডেকে ফেলে দিলে হয়তোবা নিঃশেষ হয়ে যাবে। কিন্তু আমার প্রতি পশমে পশমে যদি একেকটি প্রাণ থাকতো তবে প্রত্যেকটি প্রাণকেই আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মত-পথ আদর্শ মুবারকে ইস্তিক্বামত রাখতে একে একে তোমার এই ফুটন্ত পানির ডেকে ঢেলে দিতে পারতাম। এমনটি না পারার বেদনাই আমার কাঁদার একমাত্র কারণ। (সুবহানাল্লাহ)

 (অসমাপ্ত)

সূত্র: দৈনিক আল-ইহসান

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...