মসজিদে কাতার ফাঁক করার শর্তারোপ করায় আইনী নোটিশ
মসজিদে জামায়াতে নামাজ পড়ার সময় কথিত সামাজিক দুরত্বের অজুহাতে কাতারে ফাঁক ফাঁক করে দাঁড়ানোর শর্তারোপ করার দায়ে চট্টগ্রাম চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ কমপ্লেক্স সভাপতিকে আইনী নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
গতকাল ইয়াওমুল খামীস (বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল) মুসলিম রাইটস ফাউন্ডেশনের সিনিয়র সহ-সাধারন সম্পাদক মুহম্মদ আরিফুর রহমান এই নোটিশ প্রেরণ করেছেন।
এ বিষয়ে নোটিশে বলা হয়, মসজিদের ৫ ওয়াক্ত ও জুমুয়ার নামাযে মুসল্লির অংশগ্রহণ সীমিত করাসহ কাতারে নামাজে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরুত্ব নিশ্চত করতে শর্তারোপ করা হয়েছে। যা শরীয়তসম্মত নয় এবং কুরআন-হাদীসের খিলাপ হয়েছে।
নোটিশে বিভিন্ন প্রমাণাদি উপস্থাপন করে বলা হয়, যেহেতু কাতার সংক্রান্ত বিষয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কিছু পবিত্র নির্দেশনা আছে, যেমন- তোমাদের কাতারগুলো সোজা করে নাও আর পরস্পর মিলে দাঁড়াও। [বুখারী শরীফ, হাদীস শরীফ নং ৭১৯]
নোটিশে এরকম আরও উদ্ধৃতি উল্লেখপূর্বক বলা হয়, এটা স্পষ্ট যে, জামায়াতের কাতারের ক্ষেত্রে তিন ফুট দূরত্ব কিংবা এক কাতার বাদ রেখে আরেক কাতারে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগ পবিত্র হাদীস শরীফ কিংবা শরীয়তের নির্দেশনায় নেই। পবিত্র ইসলামী শরীয়াতে অসুস্থ ব্যক্তিকে মসজিদে না আসার সুযোগ দিয়েছে, কিন্তু কারো অসুস্থতার অজুহাতে জামায়াতের কাতারে ফাঁক রাখা কিংবা এক কাতার বাদ দেয়ার কোনো সুযোগ পবিত্র শরীয়তে নেই।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, সাংবিধানিকভাবে যেহেতু বাংলাদেশের রাষ্ট্রদ্বীন ইসলাম, সুতরাং ইসলামী আক্বীদাসমূহ রাষ্ট্র দ্বারা সুরক্ষিত। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে মুসলিমদের নিজ দ্বীন পালনের অধিকারও রয়েছে। জামায়াতে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে কাতারে ফাঁক না রেখে দাঁড়ানোর দ্বীনি অধিকার বাংলাদেশের সকল মুসলিমের রয়েছে। অথচ আপনি বাংলাদেশের মুসলিমদেরকে তাদের সাংবিধানিক অধিকার পালনে বাধা সৃষ্টি করেছেন। আপনার কর্তৃক জারিকৃত সিদ্ধান্তসমূহের কারণে সাধারণ মুসুল্লি মসজিদে গিয়ে শরীয়তসম্মতভাবে জামায়াতে নামাজ আদায়ে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং এভাবে তার সংবিধানস্বীকৃত অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। যেহেতু মসজিদে দ্বীনদার মুসলমানগণ দ্বীনি শিক্ষা অর্জনসহ দ্বীনি অনুষঙ্গ পালন করবে সেহেতু আপনি উক্ত মসজিদের একজন দায়িত্বশীল হিসেবে দ্বীনদার মুসলমানগণের দ্বীনি রীতিনীতি পবিত্র কুরআন শরীফ হাদীস শরীফ মোতাবেক করার সুযোগ করে দিবেন- এটাই কাম্য। কারণ হাদীছ শরিফে রয়েছে, “প্রত্যেকেই রক্ষক, তার রক্ষিত বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে”।
নোটিশে পাওয়ার অনতিবিলম্বে মসজিদে ৫ ওয়াক্ত ও জুমুয়ার নামাযে সকল শরীয়ত বিরোধী শর্তসমূহ প্রত্যাহার এবং শরীয়তসম্মতভাবে মুসলমানগণের দ্বীনি রীতিনীতি পালনে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

