Wednesday, October 6, 2021

রাজারবাগ দরবারকে মিডিয়ায় কেন মামলাবাজ সিন্ডিকেট হিসেবে দেখানো হচ্ছে ।

  রাজারবাগ দরবারকে মিডিয়ায় কেন মামলাবাজ সিন্ডিকেট হিসেবে দেখানো হচ্ছে ।



এখন যে রাষ্ট্র ব্যবস্থা চলমান রয়েছে এর পূর্ব ছিল কলোনী বা উপনিবেশ। ব্রিটিশরা উপনিবেশবাদ চাপিয়ে দিয়েছিল। বিশ্ব রাজনীতি থেকে ব্রিটিশদের পতনের পর আমেরিকানরা কলোনি ভেঙ্গে রাষ্ট্র ব্যবস্থা চাপিয়ে দিয়েছে। রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে সেন্ট্রালি নিয়ন্ত্রন করবার জন্য তারা তৈরি করেছে জাতিসংঘ। 


যেহেতু রাষ্ট্র ব্যবস্থা আমেরিকানদের তৈরি করা (ডেমোক্রেটদের পলিসিতে) সেহেতু তারা রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে কীভাবে নিয়ন্ত্রন করতে হয় সেটা খুব ভালভাবে জানে ও বোঝে। ভোট ও গণতন্ত্র কেন্দ্রীক ক্ষমতার আদান-প্রদান রাষ্ট্র ব্যবস্থার অন্যতম অনুষঙ্গ। রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গগুলোকে নিয়ন্ত্রন করার জন্য আমেরিকানরা আইন ব্যবস্থা প্রনয়ণ করেছে তাদের মত করেই। আমেরিকা এক দেশ বাংলাদেশ আরেক দেশ হলেও বাংলাদেশের আইন ব্যবস্থা আমেরিকান আক্বিদা-বিশ্বাস ও কালচারের পক্ষে। এজন্য আপনি আমেরিকান বিশ্বাস ও কালচারের বিরোধিতা করলে আইন লঙ্ঘনকারী হয়ে যাবেন। ফলে আপনাকে মামলা দিয়ে আটকে দেয়া হবে, যুলুম করা হবে। 


উদাহরণস্বরূপ, ‘বাল্যবিয়ে করা, চুরি করার শাস্তি হাত কাটা, জেনা ব্যভিচারের শরয়ী শাস্তি দোররা মারা, পর্দা করতে বাধ্য করা’ এসব আপনি বাস্তবায়ন করলে আপনি আইন লঙ্ঘনকারী হয়ে যাবেন, আপনাকে পানিশমেন্ট দেয়া হবে। 

অর্থাৎ বিলিফ ও কালচার আমেরিকানদের (ডেমোক্রেটদের) কিন্তু তাদের বিলিফ ও কালচার তাদের তৈরি করা রাষ্ট্র ব্যবস্থার মাধ্যমে হাজার হাজার মাইল দূরের দেশ বাঙ্গালীদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এটা সব রাষ্টের ক্ষেত্রে প্রায় একই রকম। 


এর মানে দাঁড়ালো রাষ্ট্র পরিচালনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্ট ‘আইন ব্যবস্থা’কে দখল করে বসে আছে আমেরিকানরা। আপনি যতই লাফালাফি করেন না কেন আইন ব্যবস্থার উপর দখল না নেয়া পর্যন্ত রাষ্ট্র ব্যবস্থার উপর প্রভাব খাটাতে পারবেন না। আপনাকে দমানোর জন্য ওরা ইউএন এর কথিত শান্তি বাহিনী রেডি করে রেখেছে। রাষ্ট্রের আইন লঙ্ঘন হলে (আমেরিকানদের মতাদর্শগুলো টিকিয়ে রাখার আইন) ইউএন দিয়ে ওরা আপনার উপর প্রেসার কিয়েট করবে, নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে, বিভিন্ন ইন্টারন্যাশনাল এনজিও দিয়ে বিবৃতি দেয়া হবে, হস্তক্ষেপ করা হবে, প্রয়োজনে মিলিটারি পাঠানো হবে।


অর্থাৎ দেশ ভিন্ন, জনগণ ভিন্ন হলেও আইন অনুযায়ী ভাল-মন্দের মাপকাঠি আমেরিকান তথা ডেমোক্রেটদের বিশ্বাস ও কালচার। এখন ডেমোক্রেটদের বিশ্বাস ও কালচারের বিরোধিতা করা মানে আইনের বিরোধিতা করা যেটা আইনানুযায়ী অপরাধ।


যাই হোক, বলছিলাম- রাজারবাগ দরবার শরীফকে মিডিয়া কেন মামলাবাজ সিন্ডিকেট বা পীর সিন্ডিকেট হিসেবে দেখাচ্ছে সেটার কিছু কারণ আমি খুঁজে বের করেছি। 


রাজারবাগ দরবার শরীফ নিয়ে স্টাডি করতে গিয়ে দেখলাম তাদের একটা গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হচ্ছে- "আইনী কাযক্রম।" অর্থাৎ প্রচলিত ব্রিটিশ আমেরিকানদের আইন দিয়েই ওদেরকে মাইর দেয়া। 

★ শাহবাগী নাস্তিকদের জেলে ঢুকানো, 

★ দেশান্তরিত করা, 

★ রাষ্ট্রধর্ম বহাল রাখতে কোর্টে উকিল নিয়োগ,

★ ইসলামবিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে তাদের ইসলাম বিদ্বেষী কথা ও লেখালেখির কারণে মামলা দেয়া, 

★ উকিল নোটিশ পাঠানো রাজারবাগ দরবারের অন্যতম একটা কাজ। এছাড়া মিডিয়ায় ইসলাম বিদ্বেষ ও অশ্লীল ছবি-দৃশ্যায়ন ঠেকাতে বিভিন্ন পত্রপত্রিকার বিরুদ্ধে মামলা করা ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী বাধা দেয়ার মত উক্ত দরবারের অনেকগুলো কাজের নজীর আমি পেয়েছি যেটা অন্যান্য ইসলামপন্থী সংগঠনে দেখা যায় না। 


হামলা বা ভাংচূরের পরিবর্তে রাজারবাগ দরবার ব্রিটিশ-আমেরিকানদের তৈরি করা আইন দিয়ে তাদের ইসলাম বিরোধী কাজসমূহকে বাধা দেয়ার কারণেই 

★ বাংলা ট্রিবিউন, 

★ ইত্তেফাক, 

★ দেশ রূপান্তর

★ এনটিভিসহ বিভিন্ন মিডিয়া রাজারবাগ দরবারকে মামলাবাজ সিন্ডিকেট বলে ট্যাগ দিচ্ছে। 

আমার এ্যানালাইসিস এটাই বলছে। এজন্যই আমি আমার পাঠকদেরকে বলে থাকি যে, আমি পুলিশ ও সাংবাদিকদের সব কথা বা প্রতিবেদন বিশ্বাস করি না। নিজে নিজে কিছু জিনিস যাচাই করে নিতে হয়।


বলা বাহূল্য, সংবিধান অনুযায়ী- আইনের আশ্রয় নেয়া প্রতিটি নাগরিকে মৌলিক অধিকার। সেক্ষেত্রে মামলা করাও প্রতিটি নাগরিকের অধিকার। রাজারবাগ দরবার সেটিই করছে। কোনো বেআইনী কাজ করছে না। 


আপনারা দেখে থাকবেন- ইসলাম বিদ্বেষীদের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে আন্দোলন করার কারণে অনেক আলেম-ওলামার বিরুদ্ধে শত শত মামলা রয়েছে। এমনকি শুধু বাল্য বিয়ে করার কারণে প্রতি বছর শত শত কিশোর কিশোরী ও তাদের বাবা-মাকে জেলে পাঠানো হচ্ছে। এসবের বেশিরভাগই ডেমোক্রেটদের প্ররোচনায় হয়ে থাকে। এখন এই যে শতশত মামলা করা হলো এজন্য কিন্তু ডেমোক্রেটদের কখনও কেউ মামলাবাজ সিন্ডিকেট বলেনি, মামলা করার দায়ে তাদের উপর কোনো রেসট্রিকশনও দেয়া হয়নি। তাহলে রাজারবাগ দরবারকে কেন মামলাবাজ সিন্ডিকেট বলা হচ্ছে?? এর পেছনে উদ্দেশ্যই বা কি!! 


এর কারণ হচ্ছে- রাজারবাগ দরবার আইন দিয়ে ইসলাম ও দেশ বিরোধী মহলগুলোকে দমন করা কিছুটা হলেও শিখে ফেলেছে। গত পোস্টে আমি বলেছিলাম যে, ব্রিটিশ-আমেরিকান তথা ডেমোক্রেটরা কিন্তু রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে সরকারকে দিয়ে তাদের কাজটা করিয়ে নেয়। কিন্তু ইসলামিস্টরা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করা এখনও শিখতে পারেনি। রাজারবাগ দরবার এদিক দিয়ে অন্যান্য ইসলামিস্টদের থেকে অনেক স্মার্ট। তারা আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে সরকারকে দিয়েই ইসলাম বিরোধদেরকে পানিশমেন্ট করছে। 


এজন্য রাজারবাগ দরবার যাতে ইসলাম বিরোধিদের দমন করতে কোর্টের দ্বারস্থ হতে না পারে, আইন ব্যবস্থাকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য ইসলাম বিদ্বেষী মিডিয়াগুলো পাহাড়ের উপজাতিদের ধরে এনে দেখাচ্ছে যে, রাজারবাগ দরবার নাকি উপজাতিদের জমি দখল করেছে, ভূয়া মামলা দিয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি। এবং এই কারণেই হাইকোর্টের উপর ভর করে তারা রাজারবাগ দরবারের উপর প্রেসার ক্রিয়েট করার চেষ্টা করছে।

এবার জেনে নিন মহাসম্মানিত রাজারবাগ দরবার শরীফের বিরুদ্ধে রিটকারী এ্যাডভোকেট শিশির মনিরের পারিবারিক পরিচয় কি ?

 " শোনেন, শোনেন দেশবাসী, 

শোনেন মন দিয়া।"

এবার আমি বলে যাবো - " শ্যামারচর- পেরুয়া গণহত্যার " কাহিনী,

ঠিক রাখিয়ো মন।

এবার জেনে নিন মহাসম্মানিত রাজারবাগ দরবার শরীফের বিরুদ্ধে রিটকারী এ্যাডভোকেট শিশির মনিরের পারিবারিক পরিচয় কি ?



গত ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ তারিখে মহাসম্মানিত রাজারবাগ দরবার শরীফের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করে আইনজীবি শিশির মনির। শিশির মনির এক সময় জামায়াতের ছাত্র সংগঠন শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি ছিলো এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্যে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষের আইনজীবি সে। তবে তার পারিবারিক পরিচয় জানাও খুব গুরুত্বপূর্ণ।


বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় যে কয়টি বড় গণহত্যা সংগঠিত হয়, তার মধ্যে অন্যতম গণহত্যার নাম শ্যামারচর-পেরুয়া গণহত্যা। শ্যামারচর ও পেরুয়া হচ্ছে সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার দুটি গ্রামের নাম। ১৯৭১ সালের ৪ঠা ডিসেম্বর প্রায় ৩শ’ রাজাকারের একটি বাহিনী শ্যামারচর ও পেরুয়াসহ আশেপাশের ১০-১২টি গ্রামে নির্মম গণহত্যা চালায়। এ সময় তারা শত শত নিরীহ মানুষকে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করে, অনেক নারীকে সম্ভ্রমহরণ করে। ইতিহাসের পাতায় এ গণহত্যাটি শ্যামারচর-পেরুয়া গণহত্যা নামে পরিচিত। ঐ গণহত্যার নেতৃত্ব দিয়েছিলো সত্তরের প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিম লীগের পরাজিত প্রার্থী আব্দুল খালেক ওরফে দালাল খালেক। তার সাথে ছিলো তার ভাই মুকিত মনির, সন্তান জোবায়ের মনির ও প্রদীপ মনির।

শ্যামারচর-পেরুয়া গণহত্যার নেতা দালাল খালেক হচ্ছে এ্যাডভোকেট শিশির মনিরের আপন চাচা এবং রাজাকার মুকিত মনির হচ্ছে এ্যাডভোকেট শিশির মনির বাবা এবং রাজাকার জোবায়ের মনির ও রাজাকার প্রদীপ মনির হচ্ছে শিশির মনিরের চাচাতো ভাই।

২০১৬ সালে এই রাজারকার পরিবারের বিরুদ্ধে ৭১ সালে গণহত্যার দায়ে মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাদের বিচারকাজ চলমান আছে। তবে এ্যাডভোকেট শিশির মনিরের বাবা রাজাকার মুকিত মনির ও চাচা রাজাকার প্রদীপ মনির বিদেশে পলাতক আছে।

দুনিয়াবী হায়াতে জিন্দেগীর প্রত্যেকটা মুহূর্ত তো অবশ্যই এমনকি পরকালে গিয়েও হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য খুশী মুবারক প্রকাশ করতে থাকতে হবে।

 দুনিয়াবী হায়াতে জিন্দেগীর প্রত্যেকটা মুহূর্ত তো অবশ্যই এমনকি পরকালে গিয়েও হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য খুশী মুবারক প্রকাশ করতে থাকতে হবে।


=========================================


উম্মতদের কতক্ষণ বা কতদিন পর্যন্ত হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন অর্থাৎ সর্বশ্রেষ্ট ঈদ পালন তথা খুশী মুবারক প্রকাশ করতে হবে।


এই বিষয়ে অনেকে মনে করে থাকে হুযূর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য শুধূমাত্র ১২ রবিউল আউয়াল শরীফ একদিন খুশী প্রকাশ করলেই হবে। প্রকৃত বিষয় হচ্ছে তাদের এই ধারণা ভুল। নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার জন্য খুশী মুবারক তথা ঈদ পালন করা শুধুমাত্র ১২ রবিউল আউয়াল শরীফ একদিনের সাথে সংশ্লিষ্ট না। একজন উম্মতের জন্য এই খুশী প্রতিটা সেকেন্ড এর খুশী। আর এই খুশী মুবারক অনন্তকাল ব্যাপী প্রকাশ করতে হবে। এটাই মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ মুবারক। যে আদেশ মুবারক হাক্বীক্বীভাবে পালন করেছেন সাহাবা ই কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ।


এই বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক বলেন-

” وتعزروه وتوقروه وتسبحوه بكرة واصيلا

“অর্থাৎ তোমরা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারক করো, তা’যীম-তাকরীম মুবারক অর্থাৎ সম্মান মুবারক করো, উনার ছানা-ছিফত মুবারক অর্থাৎ প্রশংসা মুবারক করো সকাল-সন্ধ্যা অর্থাৎ সদা-সর্বদা”

(পবিত্র সূরা ফাতহ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৯) সুবহানাল্লাহ।


সুতরাং প্রমাণিত হল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাওয়ার কারনে খুশী প্রকাশ শুধুমাত্র ১২ রবিউল আউয়াল শরীফ একদিন করলেই হবে না এবং এই ঈদ তথা খুশী প্রকাশ একদিনের সাথে সংশ্লিষ্টও না। এই খুশী প্রতিটা সেকেন্ড এর খুশী। আর এই খুশী মুবারক অনন্তকাল ব্যাপী প্রকাশ করতে হবে। যা করতে হবে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার সুন্নত মুবারক এর পরিপূর্ণ অনুসরণ অনুকরণ, উনার খিদমত মুবারক, সম্মান তথা তা’যীম- তাকরীম মুবারক, ছানা-ছিফত তথা প্রসংশা মুবারক এর মাধ্যম দিয়ে।


#12shareef 

#Saiyidul_Aayaad_Shareef 

#সাইয়্যিদুল_আইয়াদ_শরীফ

এক পাহাড় লাল স্বর্ণ!! কেউ কি কোন দিন চোখে দেখেছেন? সেই এক পাহাড় লাল স্বর্ণ খরচ করার ফযীলত কিভাবে পাবেন?

 এক পাহাড় লাল স্বর্ণ!! 

কেউ কি কোন দিন চোখে দেখেছেন? সেই এক পাহাড় লাল স্বর্ণ খরচ করার ফযীলত কিভাবে পাবেন? 



সেই বিষয়টি আপনাদের জানা আছে কি?

==================================


স্বয়ং খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র শান-মান মুবারক বুলন্দ থেকে বুলন্দতম করেছেন, যেমন- মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ

অর্থ: হে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনার মহাসম্মানিত আলোচনা মুবারক, মহাসম্মানিত শান-মান মুবারক বুলন্দ থেকে বুলন্দতম করেছি। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা আলাম নাশরাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৪)

এরই ধারাবাহিকতায় মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

قَالَ النَّبِـىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ عَظَّمَ مَوْلِدِىْ وَهُوَ لَيْلَةُ اثْنَـىْ عَشَرَ مِنْ رَّبِيْع الْاَوَّلِ بِاتِّـخَاذِهٖ فِيْهَا طَعَامًا كُنْتُ لَهٗ شَفِيْعًا يَّوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَنْ اَنْفَقَ دِرْهَـمًا فِـىْ مَوْلِدِىْ اِكْرَامًا فَكَاَنَّـمَا اَنْفَقَ جَبَلًا مِّنْ ذَهَبٍ اَحْمَرَ فِـى الْيَتَامٰى فِـىْ سَبِيْلِ اللهِ

অর্থ: সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি খাদ্য খাওয়ানের মাধ্যমে আমার বিলাদত শরীফ ১২ই রবী‘উল আউওয়াল শরীফ রাত (ও দিবস) উনাকে সম্মান করবেন, আমি ক্বিয়ামতের দিন তার জন্য শাফায়াতকারী হবো। সুবহানাল্লাহ! আর যে ব্যক্তি আমার মহাসম্মানিত বিলাদত শরীফ উনার সম্মানার্থে এক দিরহাম খরচ করবেন, সে ব্যক্তি ইয়াতীমদেরকে খ¦ালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় এক পাহাড় পরিমান লাল স্বর্ণ দান করার ফযীলত লাভ করবেন। সুবহানাল্লাহ! (নে’মতে কুবরা উর্দূ ১১ পৃষ্ঠা)

মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ عَظَّمَ مَوْلِدِىْ كُنْتُ شَفِيْعًا لَّهٗ يَّوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَنْ اَنْفَقَ دِرْهَـمًا فِـىْ مَوْلِدِىْ فَكَاَنَّـمَا اَنْفَقَ جَبَلًا مِّنْ ذَهَبٍ فِـىْ سَبِيْلِ اللهِ تَعَالـٰى

অর্থ: সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি আমার মহাসম্মানিত বিলাদত শরীফ (ঈদে মীলাদে হাবীবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উনাকে সম্মান করবেন, ক্বিয়ামতের দিন আমি তার জন্য শাফায়াতকারী হবো। সুবহানাল্লাহ! আর যে ব্যক্তি আমার মহাসম্মানিত বিলাদত শরীফ পালন উপলক্ষে এক দিরহাম খরচ করবেন, সে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় এক পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ দান করার ফযীলত লাভ করবেন। সুবহানাল্লাহ! (নাফহাতুল আম্বরিয়া ৮ পৃষ্ঠা, মাদারিজুস সউদ ১৫ পৃ., তালহীনুছ ছাননাজ ৫ পৃষ্ঠা)

খ¦ালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে উপরোক্ত জ্ঞানগর্ভ আলোচনা মুবারক অনুধাবন করে তদানুযায়ী আমল করার হাক্বীক্বী তাওফীক দান করুন। আমীন।

সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করা অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উপলক্ষে, উনার সুমহান সম্মানার্থে, উনার জন্য “ফাল ইয়াফরাহু” বা খুশি তথা ঈদ পালন করা ফরজ যা মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ মুবারক।

 সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করা অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উপলক্ষে, উনার সুমহান সম্মানার্থে, উনার জন্য “ফাল ইয়াফরাহু” বা খুশি তথা ঈদ পালন করা ফরজ যা মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ মুবারক।


=================================================

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান বেলাদত শরীফ উনার সম্মানার্থে, উনার জন্য ‘ফালইয়াফরাহু’ বা খুশি মুবারক প্রকাশ করাটা ফরজ যা মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ মুবারক


যেমন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য “ফাল ইয়াফরাহু” বা খুশি মুবারক প্রকাশ করার বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,


يَا اَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُمْ مَّوْعِظَةٌ مّن رَّبّكُمْ وَشِفَاءٌ لّمَا فِي الصُّدُوْرِ وَهُدًى وَرَحْـمَةٌ لّلْمُؤْمِنِيْنَ ◌ قُلْ بِفَضْلِ اللهِ وَبِرَحْـمَتِهه فَبِذٰلِكَ فَلْيَفْرَحُوْا هُوَ خَيْرٌ مّـمَّا يَـجْمَعُوْنَ


অর্থ : “হে মানবজাতি! অবশ্যই মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে তোমাদের মধ্যে তাশরীফ মুবারক এনেছেন মহান নছীহত মুবারক দানকারী, তোমাদের অন্তরের সকল ব্যাধিসমূহ শিফা মুবারক দানকারী, কুল-কায়িনাতের মহান হিদায়েত মুবারক দানকারী ও খাছভাবে ঈমানদারদের জন্য, আমভাবে সমস্ত কায়িনাতের জন্য মহান রহমত মুবারক দানকারী (নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি উম্মাহকে বলে দিন, মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত ফদ্বল বা অনুগ্রহ মুবারক ও সম্মানিত রহমত মুবারক ( হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উনার জন্য তারা যেনো সম্মানিত ঈদ উদযাপন তথা খুশি মুবারক প্রকাশ করে। এই খুশি মুবারক প্রকাশ বা ঈদ করাটা সেসব কিছু থেকে উত্তম, যা তারা দুনিয়া-আখিরাতের জন্য সঞ্চয় করে।” (পবিত্র সূরা ইঊনুস শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৭-৫৮)

উল্লিখিত আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য খুশি মুবারক প্রকাশ করতে আদেশ মুবারক করেছেন


এই বিষয়ে ঊছুলে ফিক্বাহ উনার সমস্ত কিতাবেই উল্লেখ আছে যে, الامر للوجوب

অর্থাৎ আদেশসূচক বাক্য দ্বারা সাধারণত ফরয-ওয়জিব সাব্যস্ত হয়ে থাকে।

যেমন উছুলুশ শাশী কিতাবের ‘কিতাবুল্লাহ’ অধ্যায়ের ‘আমর’ পরিচ্ছেদে বর্ণিত আছে,

والصحيح من المذهب ان موجبه الوجوب


অর্থ: “ আমাদের হানাফী মাযহাবের বিশুদ্ধ মত হলো- নিশ্চয় কুরআন শরীফ- এর আমর বা নিদর্শনগুলো পালন করা ফরজ বা ওয়াজিব।

যেমন পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

اقيموا الصلوة

অর্থাৎ “তোমরা নামায আদায় করো।”

পবিত্র কুরআন শরীফ উনার এ নির্দেশসূচক বাক্য দ্বারাই পবিত্র নামায ফরয সাব্যস্ত হয়েছে।

অনুরূপ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

واعفوا للحى

অর্থাৎ “তোমরা (পুরুষরা) দাড়ি লম্বা করো।”

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার এ নির্দেশসূচক বাক্য দ্বারাই কমপক্ষে এক মুষ্ঠি পরিমাণ দাড়ি রাখা ফরয সাব্যস্ত হয়েছে।


আবার অনেকে তাদের অজ্ঞতার কারণে বলতে চান যে এখানে রহমত বলতে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বুঝানো হয়নি! নাউঝুবিল্লাহ

এই বিষয়ে তাফসীরে রুহূল মায়ানী ৬ খন্ড ১৪১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে,


اخرج ابو الشيخ عن حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنهما ان الفضل العلم و الرحمة محمد صلى الله عليه و سلم


অর্থ: হযরত আবুশ শায়খ রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত “নিশ্চয় ‘ফদ্বল’ দ্বারা উদ্দেশ্য ইলম, আর রহমত দ্বারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম।”


ইমাম ইবনে জাওযি রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেনঃ

أن فضل الله: العلم، ورحمته: محمد صلى الله عليه وسلم، رواه الضحاك عن ابن عباس.

অর্থঃ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্নিত “ অনুগ্রহ বলতে কুরআন শরীফ, রহমত বলতে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেই বুঝানো হয়েছে। [যা’আদ আল মাসীর ৪:৪০]


ইমাম আবু হাইয়ান আল আন্দালুসি রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন “

الفضل العلم والرحمة محمد صلى الله عليه وسلم

অর্থঃ অনুগ্রহ মানে জ্ঞান, রহমত বলতে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেই বুঝানো হয়েছে।( তাফসীর আল বাহর আল মুহীতঃ ৫/ ১৭১)


ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ুতী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেনঃ

وأخرج أبو الشيخ عن ابن عباس رضي الله عنهما في الآية قال: فضل الله العلم، ورحمته محمد صلى الله عليه وسلم، قال الله تعالى { وما أرسلناك إلا رحمة للعالمين } [الأنبياء: ১০৭].

আবু শেখ রহমতুল্লাহি আলাইহি ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্নিত “ অনুগ্রহ বলতে কুরআন শরীফ, রহমত বলতে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেই বুঝানো হয়েছে । আল্লাহ পাক বলেন” নিশ্চয় আমি আপনাকে সারা আলমের জন্য রহমত স্বরুপ পাঠিয়েছি ” পবিত্র সুরা আম্বিয়া ১০৭। [দূর আল মানসুর ৪:৩৩০]


এই বিষয়ে পবিত্র হাদীস শরীফ উনার মধ্যে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন,

وعن أبي أمامة قال : قال النبي صلى الله عليه وسلم إن الله تعالى بعثني رحمة للعالمين

অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পাক আমাকে তামাম আলমের জন্য রহমত হিসেবে পাঠিয়েছেন (তাবরানী শরীফ, মিশকাত ৩৬৫৪, মিরকাত শরীফ, দালায়েলুন নবুওয়াত লি আবু নুয়াইম ১)


সুতরাং স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হল উপরোক্ত আয়াত শরীফে ‘রহমত’ বলতে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বুঝানো হয়েছে। এবং উনার জন্য “ফাল ইয়াফরাহু” বা খুশি মুবারক প্রকাশ করা ফরয।

পবিত্র কুরআন শরীফ উনার এই আদেশ মুবারক পালনার্থে যামানার ইমাম, মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ লক্ষ্যস্থল, মুজাদ্দিদে আ’যম, হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম রাজারবাগ শরীফ উনার মাজে জারী করেছেন অনন্তকাল ব্যাপী সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল।


হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি এমন একজন ওলীআল্লাহ যিনি সকাল-সন্ধ্যা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি মুবারক তালাশ করে থাকেন। তাই দুনিয়ার সমস্ত মুসলমানদের উচিত হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার সংসর্গে আসা এবং দায়িমীভাবে ‘ফালইয়াফরাহু’ বা খুশি মুবারক প্রকাশ করার জন্য রাজারবাগ শরীফে আসা।

কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন –


وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُم بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ ۖ وَلَا تَعْدُ عَيْنَاكَ عَنْهُمْ تُرِيدُ زِينَةَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ۖ وَلَا تُطِعْ مَنْ أَغْفَلْنَا قَلْبَهُ عَن ذِكْرِنَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ وَكَانَ أَمْرُهُ فُرُطًا.


অর্থ : “আপনি নিজেকে উনাদের সংসর্গে আবদ্ধ রাখুন যাঁরা সকাল ও সন্ধ্যায় উনাদের পালনকর্তাকে উনার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে ডেকে থাকেন (যিকির করেন) এবং আপনি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য্যে মোহগ্রস্থ হয়ে উনাদের থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিবেন না। ঐ ব্যক্তিকে অনুসরণ করবেন না, যার অন্তর আমার যিকির থেকে গাফিল করে দিয়েছি, যে নিজের কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কার্যকলাপ হচ্ছে সম্মানিত শরীয়ত উনার খেলাফ বা বিপরীত।” (পবিত্র সূরা কাহাফ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২৮)


#12shareef 

#Saiyidul_Aayaad_Shareef 

#সাইয়্যিদুল_আইয়াদ_শরীফ

সুন্নতী তরতীবে বাইয়াত গ্রহণকারী ঈমানদাররাই সম্মানিত জান্নাত উনার অধিকারী

 সুন্নতী তরতীবে বাইয়াত গ্রহণকারী ঈমানদাররাই সম্মানিত জান্নাত উনার অধিকারী


==================================


পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَىٰ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُم بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ ۚ

অর্থ: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি ঈমানদারদের থেকে তাদের মাল ও জান খরিদ করে নিয়েছেন সম্মানিত জান্নাত উনার বিনিময়ে। (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১১১)

অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মনোনীত প্রতিনিধি হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের মাধ্যমে উম্মতের যাবতীয় বিষয় সম্পাদ করিয়ে থাকেন। তদ্রƒপ সম্মানিত জান্নাতের বিনিময়ে মু’মিনদের জান-মাল খরিদ করার বিষয়টিও ঈমানের বাইয়াতের উপর নির্ধারণ করে দিয়েছেন। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে, মহাসম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে যে বাইয়াত করিয়েছেন সেখানে সম্মানিত জান্নাত লাভের বিষয়টি স্পষ্ট উল্লেখ আছে। যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে মহাসম্মানিত হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

اُبَايِعُكُمْ عَلٰى اَنْ تَـمْنَعُوْنِـيْ مِـمَّا تَـمْنَعُوْنَ بِه نِسَائَكُمْ وَاَبْنَائَكُمْ: وَلَكُمُ الْجَنَّةُ

অর্থ: আমি এই শর্তে আপনাদেরকে বাইয়াত করছি যে, আপনারা আমার গোলামীর আঞ্জাম দিবেন যেরূপ আপনাদের আহলিয়া এবং সন্তানদের নিরাপত্তা দিয়ে থাকেন (বরং তার চেয়ে বেশি দিতে হবে) । তাহলেই আপনাদের জন্য জান্নাত অবধারিত।”

আর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বাইয়াতকালে যেসব শর্ত উল্লেখ করেছেন তাহলো-

اِنَّا بَايَعْنَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى السَّمْعِ وَالطَّاعَةِ فى النِّشَاطِ والْكَسَلِ، والنَّفَقَةِ فِى الْعُسْرِ وَالْيُسْرِ، وَعَلٰى الاَمْرِ بِالْـمَعْرُوْفِ والْنَهْىِ عَنِ الْـمُنْكَرِ، وَعَلٰى أن نَقُوْلَ فِى اللهِ لَا تَـاْخُذُنَا فِيْهِ لَوْمَةُ لَائِمٍ.

অর্থ: নিশ্চয়ই আমরা এই শর্তে বাইয়াত গ্রহণ করছি যে, “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রত্যেকটি আদেশ-নিষেধ অবশ্যই শুনব এবং অবশ্যই মানব ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক এবং প্রতিটি নেক কাজে আর্থিকভাবে শরীক থাকবো- স্বচ্ছল হই বা অস্বচ্ছল হই। আর প্রতিটি সৎকাজে আদেশ করব অর্থাৎ প্রতিটি সুন্নত মুবারক পালন ও প্রচার করবো এবং অসৎ কাজে অর্থাৎ সুন্নত মুবারক উনার খিলাফ বিদয়াত-বেশরা’, শিরক, কুফর, হারাম, কাজে নিষেধ করবো। আমরা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টির জন্য এ কাজগুলি করব। এ কাজগুলি করতে গিয়ে আমরা কোন নিন্দাকারীর নিন্দাকে পরওয়া করবো না।

স্মরণীয় যে, মহাসম্মানিত হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বাইয়াত করানোর অনুরূপ তরতীবে বর্তমানে যিনি বাইয়াত করাচ্ছেন তিনি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আওলাদ, হাক্বীক্বী ক্বায়িম-মাক্বাম, স্থলাভিষিক্ত প্রতিনিধি এবং আখাছ্ছুল খাছ আহলে বাইতে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!

কাজেই বলার অপেক্ষা রাখে না, উনার নিকট যারা বাইয়াত হবেন পুরুষ-মহিলা, জিন-ইনসান উনাদের জন্যও সম্মানিত জান্নাত উনার সুসংবাদ রয়েছে। বিষয়টি জানানো বা পৌঁছানোর দায়িত্ব আমাদের আর বিশ্বাস ও মানার বিষয়টি যার যার উনাদের উপর।


#12shareef

#Saiyidul_Aayaad_Shareef

#সাইয়্যিদুল_আইয়াদ_শরীফ

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...