Tuesday, November 10, 2020

সত্যিকার আলিম বা ওলীআল্লাহ উনার পরিচয়।

 সত্যিকার আলিম বা ওলীআল্লাহ উনার পরিচয়।



পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “নিশ্চয়ই বান্দাদের মধ্য থেকে কেবল আলিমগণই মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করেন।”

পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় উল্লেখ রয়েছে, যার ভিতরে যতোবেশি আল্লাহভীতি থাকবে তিনি ততবড় আলিম।” (পবিত্র সূরা ফাতির শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৮)

অন্যত্র ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “সাবধান! জেনে রাখ, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার যারা ওলী উনাদের কোনোরূপ ভয় ও চিন্তা নেই। উনাদের পরিচয় হচ্ছে, উনারা পরিপূর্ণ ঈমানদার এবং পরিপূর্ণ তাক্বওয়া অবলম্বনকারী।” (পবিত্র সূরা ইউনূস শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৬২)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে, “আলিম হচ্ছেন ওই ব্যক্তি যিনি ইলম অনুযায়ী আমল করেন।” (মিশকাত শরীফ)

প্রতিভাত হলো, যার ঈমান-আক্বীদা পরিশুদ্ধ, যার ভিতরে আল্লাহভীতি রয়েছে, যিনি তাক্বওয়া অবলম্বন করেন, যিনি পবিত্র সুন্নত উনার পরিপূর্ণ অনুসরণ করেন, পবিত্র ইলম অনুযায়ী আমল করেন অর্থাৎ যিনি পবিত্র শরীয়ত তথা পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদেরকে মেনে পরিপূর্ণরূপে চলেন তিনি হচ্ছেন সত্যিকার আলিম বা ওলীআল্লাহ। উনারই আদেশ-নিষেধ মানতে হবে এবং উনারই আনুগত্য বা অনুসরণ করতে হবে। যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মহান আল্লাহ পাক উনাকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এবং উলিল-আমর উনাদেরকে অনুসরণ করো।” (পবিত্র সূরা মায়িদাহ শরীফ)

আলোচ্য পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে উলিল-আমর বলতে সত্যিকার আলিম বা ওলীআল্লাহ উনাদেরকেই বুঝানো হয়েছে।

আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “উনার কথাই শ্রবণ করো, মানো এবং উনাকেই অনুসরণ করো, যদিও তিনি হাবশী কৃতদাস হোন না কেন।”

কাজেই উপরে আলিম বা ওলীআল্লাহ উনার পরিচয় সম্পর্কে যে বর্ণনা উল্লেখ করা হলো এমন আলিম বা ওলীআল্লাহ উনাকে চিনে উনাকে অনুসরণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, যিনি সত্যিকার আলিম বা ওলীআল্লাহ হবেন তিনি কখনোই হারাম, শরীয়ত ও সুন্নতবিরোধী কোনো কাজ করতে পারেন না।

কাজেই যদি দেখা যায়, আলিম বা ওলীআল্লাহ পরিচয়ধারী কোনো ব্যক্তি বেগানা মহিলার সাথে দেখা করছে, ছবি তুলছে, পেপার পত্রিকায় উনার চবি আসছে, টিভিতে প্রোগ্রাম করছে, সমর্থন দিচ্ছে তাহলে বুঝতে হবে সে প্রকৃত আলিম বা ওলীআল্লাহ নয়। কাজেই ফাছিককে অনুসরণ করা জায়িয নেই।

তাযকিয়াহ বা ইছলাহ ছাড়া কোনো বান্দার পক্ষে কামিয়াবী হাছিল করা সম্ভব নয়।

 তাযকিয়াহ বা ইছলাহ ছাড়া কোনো বান্দার পক্ষে কামিয়াবী হাছিল করা সম্ভব নয়।



মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমি আমার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বান্দাদের প্রতি ইহসান করে ও ইহসান করার জন্য পাঠিয়েছি। তিনি বান্দাদেরকে কিতাব শিক্ষা দিবেন, হিকমত শিক্ষা দিবেন, পবিত্র আয়াত শরীফসমূহ তিলাওয়াত করে শুনাবেন এবং তাযকিয়াহ বা ইছলাহ করবেন।”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, তাযকিয়াহ বা হাক্বীক্বী ইছলাহ ছাড়া কোনো বান্দার পক্ষে কামিয়াবী হাছিল করা সম্ভব নয়। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের উভয়ের সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করা সম্ভব নয়। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক অন্যত্র ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা সকলেই সাবধান হয়ে যাও। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার যিকিরের দ্বারা ক্বলব ইতমিনান হয় বা ইছলাহ হাছিল করে।” 

এ প্রসঙ্গে বুখারী শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, “মানুষের শরীরে এক টুকরা গোশত রয়েছে যা সংশোধিত বা ইছলাহ হলে সমস্ত শরীর ইছলাহ হয়ে যায়, আর তা বরবাদ হলে সমস্ত শরীর বরবাদ হয়ে যায়। তা হচ্ছে ক্বলব।” 

আর ক্বলব সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, “প্রত্যেক বস্তু পরিষ্কার করার যন্ত্র রয়েছে। আর ক্বলব পরিষ্কার করার যন্ত্র হচ্ছে ক্বল্বী যিকির।” 

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির থেকে গাফিল হয় তার জন্য একটা শয়তান নির্দিষ্ট হয়ে তার সঙ্গী হয়ে যায়। সে শয়তান তাকে গুমরাহ করতে থাকে। আর সে ধারণা করে, সে হিদায়েত লাভ করছে।” 

এর ব্যাখ্যায় পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, “শয়তান মানুষের ক্বলবের উপর বসে। যখন সে যিকির করে তখন সে পালিয়ে যায়। আর যখন সে গাফিল হয় তখন শয়তান ওয়াসওয়াসা দেয়।”

কাজেই হাক্বীক্বী ইছলাহ বা তাযকিয়াহ হাছিল করতে হলে ইলমে তাছাউফ হাছিল করতে হবে। আর এই ইলমে তাছাউফ হাছিল করতে হলে একজন কামিল মুর্শিদ বা শায়খ উনার নিকট বাইয়াত গ্রহণ করে ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করতে হবে এবং সবক নিয়ে ক্বলবী যিকির করতে হবে। 

এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তি হিদায়েত চায় সে হিদায়েত পায়। আর যে গুমরাহীর মধ্যে দৃঢ় থাকে সে ওলীয়ে মুর্শিদ উনার ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করতে পারে না।”

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...