Wednesday, March 10, 2021

মিরাজ শরীফের শিক্ষা: পাঁচ ওয়াক্ত নামায উনার কোন ওয়াক্ত কোন নবী আলাইহিস সালাম সর্বপ্রথম আদায় করেছিলেন এবং কারণ

 মিরাজ শরীফের শিক্ষা: পাঁচ ওয়াক্ত নামায উনার কোন ওয়াক্ত কোন নবী আলাইহিস সালাম সর্বপ্রথম আদায় করেছিলেন এবং কারণ



১. আবুল বাশার সাইয়্যিদুনা হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে রাতের অন্ধকারে দুনিয়ায় প্রেরণ করা হয়। রাতের অন্ধকার দেখে তিনি উম্মতকে তা’লীম দেয়ার জন্য তাক্বওয়া আবলম্বন করেন। পরে যখন অন্ধকার দূরিভূত হয়ে গেল, তিনি খুশিতে উম্মতকে তা’লীম দেয়ার জন্যই দুই রাকাত নামায পড়েছিলেন। তাই উম্মতে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের উপর ফজরের দুই রাকাত নামায ফরয করা হয়েছে। এই নামায কবরের অন্ধকার দূরীভূত করতে সক্ষম।


২. সর্বপ্রথম সাইয়্যিদুনা হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম সম্মানিত যোহর নামায উনার চার রাকাত নামায আদায় করেছিলেন। হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম যখন পুত্র ইসমাইল আলাইহিস সালাম কে কোরবানি করার জন্য উদ্যত হলেন অত:পর জবেহ হলো আল্লাহ প্রেরিত দুম্বা। এজন্য শুকরিয়া আদায় স্বরুপ তিনি চার রাকাত নামায পড়েছিলেন। আল্লাহ পাক পছন্দ করে যোহরের ওয়াক্তে চার রাকাত নামায উম্মতে হাবীবূ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের জন্য ফরয করে দেন। 


৩. সম্মানিত আছরের নামায সর্বপ্রথম সাইয়্যিদুনা হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম পড়েছিলেন। তিনি মাছের পেট থেকে পুনরায় উম্মতের নাযাতের জন্য যমীনে তাশরীফ মুবারক নিয়েছিলেন আসরের সময়। তাই তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য চার রাকাত নামায আদায় করেছিলেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের জন্য এই চার রাকাত নামায আমাদের জন্য ফরয করে দিয়েছেন। যাতে এই নামাজের কল্যাণে উম্মতে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা সকল অন্ধকার ও যুলমাত থেকে বাচতে পারে। 


৪. সাইয়্যিদুনা হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম সর্বপ্রথম সম্মানিত মাগরীব উনার নামায পড়েছিলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম উনার দেয়া জামা মুবারক যখন সাইয়্যিদুনা হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম উনার চোখে মুখে সুঘ্রাণ নিয়েছিলেন, তৎক্ষণাৎ উনার দৃষ্টি শক্তি ফিরে পান এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম উনাকে জীবিত ও ইসলাম উনার উপর কায়িম পান। এই তিন অবস্থার কৃতজ্ঞতা স্বরুপ তিনি তিন রাকাত নামায পড়েছিলেন। যা মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের জন্য ফরয করেছেন। 


৫. হযরত মুসা আলাইহিস সালাম নীলনদ অতিক্রম করে ফেরাউন থেকে মুক্তি পাবার পর কৃতজ্ঞতা স্বরূপ চার রাকাত নামায পড়েন। 


অপর দিকে বিতরের তিন রাকাত নামায নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সিদরাতুল মুনতাহায় গিয়ে প্রথম পড়েন। তাই উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য তা ওয়াজিব হয়ে গেছে। (তুহফাতুল মু’মিনীন)


Rajarbag Shareef Official

#rajarbagofficial

#Lailatul_Miraj 

#Shabe_Miraj

খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পেতে হলে যা করণীয়

 বান্দা-বান্দি, জিন-ইনসান, পুরুষ-মহিলা, ছেলে-মেয়ে সকলের জন্য যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে সন্তুষ্ট করা ফরয, উনার আদেশ-নিষেধ মুবারক পালন করা ফরয। উনার প্রতি ঈমান আনা, আক্বীদা বিশুদ্ধ রাখা, হুসনে জন বা সুধারণা পোষণ করা ফরয। এ সকল বিষয় পালন করলে প্রতিদান স্বরূপ তারা সম্মানিত জান্নাত লাভ করবে এবং সম্মানিত জান্নাত উনার নিয়ামতসসূহ লাভ করবে আর সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত মুবারক হিসেবে সেখানে মহান আল্লাহ পাক উনার দীদার মুবারক ও সন্তুষ্টি মুবারকও লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ!


বলার অপেক্ষা রাখে না, মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পেতে হলে উনার যিনি মহাসম্মানিত হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সন্তুষ্ট করতে হবে, মুহব্বত করতে হবে এবং উনাকে ইত্তিবা বা অনুসরণ মুবারক করতে হবে। এ মর্মে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللَّـهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّـهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ ۗ وَاللَّـهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

অর্থ: (আমার মহাসম্মানিত হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনি বলে দিন, তোমরা যদি মহান আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত করে থাক তাহলে তোমরা আমার ইত্তিবা বা অনুসরণ করো, তবেই মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে মুহব্বত করবেন, তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিবেন। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (পবিত্র সুরা আলে ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩১)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- 

احبونى لحب الله واحبوا اهل بيتى لحبى 

অর্থ: মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত মুবারক পেতে হলে তোমরা আমাকে মুহব্বত করো। আর আমার মুহব্বত মুবারক পেতে হলে তোমরা আমার সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করো। (তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ)


প্রতিভাত হচ্ছে যে, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত মুবারক ও সন্তুষ্টি মুবারক পেতে হলে উনার মহাসম্মানিত হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ঈমান মুবারক আনতে হবে, আক্বীদা বিশুদ্ধ রাখতে হবে, হুসনে জন বা সুধারণা মুবারক পোষণ করতে হবে, উনাকে মুহব্বত মুবারক করতে হবে, উনাকে ইত্তিবা বা অনুসরণ মুবারক করতে হবে, এক কথায় উনাকে সন্তুষ্ট করতে হবে। পাশাপাশি উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত ও সন্তুষ্ট মুবারক করতে হবে। কেননা উনাদেরকে মুহব্বত ও সন্তুষ্ট করা ব্যতীত মহাসম্মানিত হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাক্বীক্বী মুহব্বত ও সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করা কখননোই সম্ভব


হবে না।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

 পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-


 

عَنْ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يُؤْمِنُ اَحَدُكُمْ حَتّٰـى اَكُوْنَ اَحَبَّ اِلَيْهِ مِنْ وَّالِدِهٖ وَوَلَدِهٖ وَالنَّاسِ اَجْمَعِيْنَ وَفِىْ رِوَايَةٍ اُخْرٰى مِنْ مَّالِهٖ وَنَفْسِهٖ 

অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না তোমরা তোমাদের পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি এবং সমস্ত মানুষ থেকে আমাকে সবচেয়ে বেশি মুহব্বত না করবে।” সুবহানাল্লাহ! 


অপর বর্ণনায় রয়েছে, নিজের ধন-সম্পদ এবং নিজের জীবনের চেয়েও বেশি মুহব্বত না করবে। সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মুসনাদে আহমদ, মিশকাত শরীফ ইত্যাদি)


এই সম্মানিত হাদীছ শরীফখানাই হচ্ছেন ‘সম্মানিত উম্মুল হাদীছ শরীফ’। সুবহানাল্লাহ!

কাজেই কেউ যদি ঈমানদার হতে চায়, তাহলে তাকে অবশ্যই অবশ্যই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে তার পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, পারা প্রতিবেশী, সন্তান-সন্ততি, বাবা-মা, ধন-সম্পদ; এমনকি নিজের জীবনের চেয়েও বেশি মুহব্বত করতে হবে। সুবহানাল্লাহ! অন্যথায় সে কস্মিনকালেও ঈমানদার হতে পারবে না।

@rajarbagofficial

#rajarbagofficial

ইখলাছসহ সুন্নত মুতাবিক মিরাজ শরীফ পালন করলে মহান আল্লাহ পাক তিনি খুশি হন

 ইখলাছসহ সুন্নত মুতাবিক মিরাজ শরীফ পালন করলে মহান আল্লাহ পাক তিনি খুশি হন



হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সরাসরি নামায পড়তে দেখেছেন, দেখে দেখে উনারা শিখেছেন। উনারা তাবেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদেরকে শিখিয়েছেন। অনেক বিষয় আছে যা কিতাব থেকে বুঝা যায় না। চোখে দেখে শিখতে হয়। কীভাবে রুকু করেছেন, কীভাবে সিজদাহ করেছেন এগুলো শুধু কিতাবে লিখে দিলে হবে না। ডাক্তাররা শুধু বই দেখে ডাক্তার হতে পারেন না, এজন্য অভিজ্ঞ ডাক্তারের অধীনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। বিজ্ঞানীরা অনেক কিছু আবিষ্কার করেন। শুধু বিজ্ঞানের বই পড়ে এসব করা সম্ভব নয়। দ্বীনের ক্ষেত্রেও তদ্রুপ।


বাস্তবিক বিষয় হলো, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেভাবে রুকু করেছেন, যেভাবে সিজদাহ করেছেন, আমাকেও সেভাবে করার জন্য কোশেষ করতে হবে। অনেকে বলতে চান, তাহলে তো আমাদের নামায কিছুই হয় না। আমরা কি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মতো নামায শিখতে পারব? যে ব্যক্তি টাইপিস্ট নয় তাকে টাইপ করতে দিলে পারবে না, কিন্তু যার আগে থেকে প্র্যাকটিস করা আছে সে তো অনায়াসে পারে। আপনি নামায পড়েন, ইমাম ছাহিব যখন আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে যান, তখন আপনি কি কখনো রুকুতে না গিয়ে সিজদা দিয়েছেন? এ ক্ষেত্রে আপনার ভুল হয় না। কারণ নিয়মিত করেন। 


ইমাম ছাহিব প্রথমে আল্লাহু আকবার বললে পেছনের সবাই আল্লাহু আকবার বলে হাত বাঁধেন, কেউ রুকুতে যান না। আর রুকুর জন্য আল্লাহু আকবার বললে কেউ সিজদায় যান না, সিজদার থেকে আল্লাহু আকবার বলে কেউ দাঁড়ান না, আবার আরেক সিজদায় যান, শেষ সিজদার পর আল্লাহু আকবার বললে সবাই দাঁড়িয়ে যান। এখানে মুছল্লিদের ভুল হয় না। কেন? 


নিয়মিত করতে করতে আল্লাহু আকবার বললেই মনে আসে এখন আল্লাহু আকবার তাকবিরে তাহরিমার জন্য, এটা রুকুর জন্য, এটা সিজদার জন্য, এটা প্রথম সিজদার থেকে মাথা ওঠানোর জন্য, এটা দ্বিতীয় সিজদার থেকে মাথা ওঠানোর জন্য। ঠিক তদ্রুপ যখন মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত মুবারক সমূহ আপনি নিয়মিত করবেন তখন আপনার জন্য সহজ হয়ে যাবে। অচেনা পথ লম্বা মনে হয়, চেনা পথ লম্বা মনে হয় না। আমরা বুঝতে পারলাম যে, প্রতিটি আমল সুন্নত মুতাবিক ও ছহীহ হতে হবে। ওষুধ খারাপ হলে যেমন রিঅ্যাকশন হয় তেমনি সুন্নতী তর্জ তরীক্বা ছাড়া আমল হলে রিঅ্যাকশন হয়। ইবাদত যদি সুন্নত মুতাবিক হয় তাহলে অন্তরে ইখলাস পয়দা হবে। ইখলাস হলো রুহে আমল। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন,


وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاء وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ


অর্থ: আপনাদেরকে এছাড়া কোন নির্দেশ করা হয়নি যে, আপনারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত করবেন, নামায কায়িম করবেন এবং যাকাত দেবেন। এটাই সঠিক দ্বীন। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আল বাইয়্যিনাত শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ০৫)


মহান আল্লাহ পাক উনার এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বত ও মা’রিফাতের নূর মুবারকের দ্বারা পরিপূর্ণ করে ইখলাছসহ সুন্নতী তর্জ তরীক্বা মুতাবিক ইবাদত করার তাওফীক্ব নছীব করুন। 

আমীন!

Rajarbag Shareef Official

#rajarbagofficial/

#Lailatul_Miraj 

#Shabe_Miraj

পবিত্র মিরাজ শরীফ সংক্ষিপ্ত বর্ণনা

 (মি’রাজ) معراج ইহা عرج (উরূজ) শব্দ হতে গঠিত। উপরে উঠার সিঁড়ি বা সোপানকে পবিত্র মি’রাজ শরীফ বলা হয়। পবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার ঘটনাকে اسراء(ইসরা) শব্দ মুবারক দ্বারাও উল্লেখ করা হয়। اسراء (ইসরা) অর্থ রাত্রিকালীন ছফর বা ভ্রমণ। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلاً مِّنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ آيَاتِنَا إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ 

অর্থ: তিনি সেই মহান আল্লাহ পাক যিনি উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে রাত্রের সামান্য সময়ে পবিত্র মসজিদুল হারাম শরীফ থেকে পবিত্র মসজিদুল আকসা শরীফ পর্যন্ত ভ্রমণ করিয়েছেন। উনার চতুর্ষ্পাশকে আমি বরকতময় করেছি। আমার সুমহান নিদর্শনসমূহ দেখানোর জন্য, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা। (পবিত্র সূরা বানী ইসরাইল শরীফ)

পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র মসজিদুল হারাম শরীফ থেকে পবিত্র মসজিদুল আকসা শরীফ অর্থাৎ পবিত্র বাইতুল মুকাদ্দাস শরীফ পর্যন্ত রাত্রিকালীন পরিভ্রমণের ঘটনাটি ‘পবিত্র ইসরা’ শব্দ মুবারক দ্বারা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া বহুসংখ্যক মুফাসসির উনাদের মতে মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র ও মুবারক বাণী-

لقد راى من ايت ربه الكبرى

অর্থ: নিশ্চয়ই তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার নিদর্শনসমূহ অবলোকন করেছেন। (পবিত্র সূরা নজম শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৮)

এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার দ্বারাও ঊর্ধ্বালোকে গমন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার মুবারক দীদার শরীফ লাভ ও অদৃশ্য জগতের অন্যান্য নিদর্শনসমূহ অবলোকন ও পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে ইঙ্গিত করা হয়েছে। সমস্ত উলামায়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের ঐকমত্য আক্বীদা হচ্ছে- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নবুওওয়াত মুবারক প্রকাশের পর মক্কী জীবন মুবারক উনার শেষ দিকে একই রাত্রে উনার ইসরা ও মি’রাজ শরীফ উভয়টি সংঘটিত হয়েছে। পবিত্র রজব মাসের সাতাইশ তারিখের রাতেই পবিত্র মি’রাজ শরীফ সংঘটিত হয়েছে। এই অভিমতটিই সকলের কাছে বহুল প্রসিদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র মি’রাজ শরীফ জাগ্রত অবস্থায় সশরীর মুবারকেই হয়েছে। এবং তিনি পবিত্র বোরাক নামক একটি বাহন মুবারকে আরোহণ করে পবিত্র মক্কা শরীফ হতে পবিত্র বাইতুল মুাকাদ্দাস শরীফ গমন করেছেন এবং সেখানে সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের ইমাম হিসেবে নামায পড়িয়ে সশরীর মুবারকে ঊর্ধ্বালোকে গমন করেছেন।

অতএব পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের স্পষ্ট দলীল দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, সম্মানিত মি’রাজ শরীফ সশরীর মুবারকে জাগ্রত অবস্থায় হয়েছে। সুবহানাল্লা


হ!

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...