বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে লকডাউন বাড়ানোর পক্ষে বলায় আইনী নোটিশ:
-----------------
আতংক সৃষ্টিকারী বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে লকডাউন আরও বাড়ানোর পক্ষে বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে কোভিড বিষয়ক টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য ডা. তরিকুল ইসলামকে সতর্ক করে আইনী নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
গতকাল ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার, ৫ জুলাই) দৈনিক আল ইহসান ও মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকার সম্পাদক আল্লামা মুহম্মদ মাহবুব আলমের পক্ষ থেকে এই নোটিশ পাঠানো হয়।
নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি সম্বন্ধে তার এ ধরণের বক্তব্য বাস্তবতাবর্জিত, অবৈজ্ঞানিক ও বিভ্রান্তিকর। লকডাউন/শাটডাউন করোনার মৃত্যুহার থামাতে পারে- এমন মন্তব্যের কোনো প্রমাণিত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। কারণ সারা বিশ্বে যেসব দেশে করোনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে (মিলিয়ন জনসংখ্যা মৃত্যুহার), তার প্রথম ১০টিতেই লকডাউন হয়েছে। অপরদিকে লকডাউন না হয়েও সুইডেন ২৫তম অবস্থানে আছে।
আবার অনেক দেশে লকডাউন তথা জনগণের চলাচল ও সমাগম থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পর আক্রান্তের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। এ ব্যাপারে গত ২২ মে ২০২০ তারিখে ব্রিটিশ দৈনিক "দি সান" পত্রিকায় বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
রসায়ন বিজ্ঞানী ও স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির প্রফেসর মাইকেল লেভিট আরো প্রায় একমাস আগেই বলেছে, বিশ্বব্যাপী জারিকৃত লকডাউন ‘বিশাল ভুল’ ছিল। এতে সমাজের বড় ক্ষতির পাশাপাশি কোনো ধরনের হার্ড ইমিউনিটি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
আনহার্ড ডটকমে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে প্রফেসর লেভিট মন্তব্য করে বলেছে, চীন করোনার হুমকি কীভাবে মোকাবিলা করেছে তা যদি বিশ্ব ভালোভাবে খেয়াল করত, তবে সরকারগুলো ভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিত। বিশেষ করে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করত না।
সারা বিশ্বে অত্যান্ত সমাদৃত মেডিক্যাল জার্নাল ল্যানসেটে প্রকাশিত গবেষণায় গবেষকরা বলেছে, করোনা মোকাবেলায় লকডাউন দেয়ার সিদ্ধান্ত ছিল সবচেয়ে বড় ভুল।
এছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এক আলোচনায় বলেন, বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে ২৫০০ মানুষের মৃত্যু হয়। তিনি বলেন যে, এর মধ্যে ৬৫ ভাগ বিভিন্ন অসংক্রামক ব্যধিতে মারা যান। ২৪ ভাগ মানুষ মারা যান বার্ধক্যজনিত কারণে। এই মৃত্যু স্বাভাবিক মৃত্যু। করোনার কারণে এই মৃত্যুর হার বাড়েনি বরং বাংলাদেশে যে স্বাভাবিক মৃত্যু আছে সেটাই বজায় রয়েছে। তিনি আরো বলেন, যে কোন মৃত্যুই করোনাজনিত মৃত্যু এই ভ্রান্ত ধারণা ঠিক নয়। এটি একটি ভ্রান্ত ধারণা। বাংলাদেশে যে স্বাভাবিক মৃত্যুর হার ছিল তার কোন পরিবর্তন এখন পর্যন্ত হয়নি।
এই প্রেক্ষিতে নোটিশে বলা হয়, লকডাউন বৃদ্ধি নিয়ে তার মন্তব্যসমূহের কারণে জনমনে অহেতুক আতংক সৃষ্টি হতে পারে এবং সাধারণ মানুষ ব্যাপকভাবে বিভ্রান্তির শিকার হতে পারেন। করোনা পরিস্থিতিতে গুজব কিংবা অতিরঞ্জিত তথ্য প্রকাশ না করার জন্য সরকারের তরফ থেকে বারবার আহবান জানানো হয়েছে। এই অবস্থায় তার মতামত দেশের পরিস্থিতিকে অহেতুক ঘোলাটে করে ফেলতে পারে। যাহা বাংলাদেশে প্রচলিত আইনে একটি অপরাধ বটে।
এমতাবস্থায় এই নোটিশ পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে পবিত্র কুরবানীর পশুর হাট কমানো নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
★ সুত্র: দৈনিক আল ইহসান (al ihsan.net)
