Sunday, August 23, 2020

পহেলা বৈশাখ নয়, মুসলিমরা উদযাপন করবে ১০ ই মহররম-

 পহেলা বৈশাখ নয়, মুসলিমরা উদযাপন করবে ১০ ই মহররম-


অনেকে পহেলা বৈশাখ কিংবা পহেলা জানুয়ারী, আবার কেউ কেউ আরবী বছরের প্রথম মাস পহেলা মহররম উদযাপন করে, বছরের প্রথম দিন হিসেবে এই দিনগুলোতে ভাল খাওয়া-দাওয়া করে, নতুন জামা-কাপর পড়ে ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু বছরের প্রথম দিনকে কেন্দ্র করে এসব কিছু পালন কিংবা উদযাপন করা হচ্ছে প্রাচীন পারসিয়ান অগ্নী উপাসকদের রীতি ও কালচার। এজন্য ইসলামে বছরের প্রথম দিন উদযাপন করার বিধান নেই।


ইসলামে বছরের প্রথম মাসকে জাকজমকের সাথে উদযাপন করবার জন্য বলা হয়েছে। তবে সেটা পহেলা তারিখ নয়, আরবী বছরের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখ। ১০ ই মহররমে উত্তম খাওয়া-দাওয়া করা, ভালভাবে গোসল করা, নতুন জামা-কাপড় পড়া, গরীব ইয়াতীমদের মাথায় হাত রাখা, তাদের খাওয়ানো, রোযাদারকে ইফতার করানো, সাজগোজ করা, চোখে সুরমা দেয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা ইত্যাদি বিষয়গুলোকে ইসলাম উৎসাহিত করেছে এবং উপরোক্ত কর্মকাণ্ডগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে ১০ ই মহররমকে উদযাপন করার ব্যাপক ফযীলত (উপকারিতা) কুরআন-হাদীসে বর্ণিত রয়েছে। এই ১০ ই মহররমেই কিন্তু পৃথিবী সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এই ১০ই মহররমেই ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে। আরো অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে ১০ই মহররমে। ইহুদীরাও ১০ই মহররম পালন করে থাকে। কারণ এই ১০ই মহররমেই হযরত মুসা আলাইহিস সালাম ফেরাউনের অত্যাচার থেকে নীলনদ পার হয়ে নিজ উম্মতকে মুক্ত করেছিলেন। আপনারা চাইলে আমি রেফারেন্সসহ এ বিষয়ে পোস্টও করতে পারি।


কিন্তু আফসোস মুসলমানদের জন্য! তারা তাদের নিজস্ব চমৎকার কালচার ভুলে গেছে, নিজ কালচারের সাথে অনভ্যস্ত হয়ে গেছে। বিপরীতে মুসলিমরা গ্রহণ করেছে অমুসলিমদের পরিবার ও সমাজ বিধ্বংশী নোংড়া কালচারকে। ব্রিটিশদের ২০০ বছরের অপশাসন-শোষণ ও মুসলিমদের উপর তাদের সাংস্কৃতিক আগ্রাশনের ফলে মুসলিমরা নিজেদের অস্তীত্বকে ভুলে গেছে। এবং ব্রিটিশ কর্তৃক তৈরি কথিত কিছু ওলামাদের মাধ্যমে ফতওয়া বানিয়েছে যে, ইসলামে বিশেষ ব্যক্তিদের কোনো দিবস পালন বেদাত, দুই ঈদ বাদে অন্য কোনো ঈদ নাই, ইসলামে কোনো আনুষ্ঠানিকতা নাই, জাকজমক কোনো অনুষ্ঠান নাই ইত্যাদি ইত্যাদি। ইসলামে সব কিছুই না কি বেদাত!! 


এসব ওলামাদের মাধ্যমে এসব ফতওয়া দিয়ে ব্রিটিশরা ইসলামী তাহজীব-তামাদ্দুনকে (ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি) শেষ করে দিয়ে মুসলিমদের অনুভূতিকে ভোতা করে দিয়েছে, অন্যদিকে ব্রিটিশদের অপসংস্কৃতিকে মুসলিমদের রন্দ্রে রন্দ্রে ঢুকিয়ে দিয়েছে। 


সাইকোলজি বলে- মানুষের মগজ খালি থাকে না। যেহেতু এখন মুসলিমদের সব কিছুকেই কথিত কিছু ওলামা বেদাত ফতওয়া দিয়ে দূরে ঠেলে দিয়েছে সেহেতু মুসলিমদের খালি মগজ অমুসলিমদের কালচারকে গ্রহণ করেছে। এবং এই যে অমুসলিমদের কালচার মুসলিমদের মধ্যে ঢুকছে এটা কেউ থামাতে পারবে না, যদি না এর বিপরীতে ইসলামী বিশেষ বিশেষ দিবস ও অনুষ্ঠানগুলো সাধারণ মুসলিমদের নিকট পৌঁছানো না যায়। কারণ মানুষ সংস্কৃতি ও আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া বাঁচতে পারে না।


আজ ১৪৪২ হিজরির মহররমের ৩ তারিখ। ১০ তারিখ উদযাপনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া উচিত।

পবিত্র আশুরা শরীফ পালনের মধ্যে মুসলমানদের যাবতীয় কল্যাণ নিহিত।

 পবিত্র আশুরা শরীফ পালনের মধ্যে মুসলমানদের যাবতীয় কল্যাণ নিহিত।

__________________________________________

পবিত্র আশুরা যিনি খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে বান্দাদের প্রতি অফুরন্ত দয়া ও ইহসান উনার নিদর্শন। কারণ পবিত্র আশুরা বান্দার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুক্তি দানের উছিলা। মানুষ মাত্রেই সবসময়ই রুজী- রোজগার নিয়ে পেরেশানীতে থাকে। আর এই পবিত্র আশুরা শরীফ মানুষকে রুজি-রোজগার বিষয়ে মুক্তি দিয়ে দেয়।

হাদীস শরীফ মুবারকে বর্ণিত রয়েছে, পবিত্র আশুরা শরীফের দিন কেউ যদি তার পরিবারের জন্য ভাল খাবারের ব্যবস্থা করে তাহলে আল্লাহ পাক ঐ ব্যক্তিকে সারা বছর ভাল খাওয়ার ব্যবস্থা করবেন। সুবহানাল্লাহ। কেউ কেউ মনে করে থাকে ইংরেজি বা বাংলা নববর্ষের দিন ভাল খেলে সারা বছর খাওয়া যাবে - এটা কুফরী আকীদা, ঈমান নষ্ট হওয়ার কারণ। মুসলমানদের জন্য নওরোজ পালন করা জায়েজ নেই। এরপর অসুখ-বিসুখ অসুস্থতা নিয়ে মানুষের পেরেশানী লেগেই থাকে। এ প্রসঙ্গেও পবিত্র আশুরা শরীফ উনার মধ্যে নাযাত রয়েছে। হাদীস শরীফ মুবারকে বর্ণিত রয়েছে, পবিত্র আশুরা শরীফের দিন কেউ যদি গোসল করে তাহলে পরবর্তী এক বছর ঐ ব্যক্তির মৃত্যুরোগ ব্যতিত কোন কঠিন অসুখ বিসুখ হবেনা। সুবহানাল্লাহ্।

মানুষ অতীতের গোনাহখতা নিয়ে হতাশার মধ্যে থাকতে পারে। এই ব্যাপারে হাদীস শরীফে উল্লেখ রয়েছে, যে ব্যক্তি পবিত্র মুর্হরম মাস উনাকে তথা উনার মধ্যস্থিত পবিত্র আশূরা শরীফ উনাকে সম্মান করবে, আল্লাহ পাক তিনি তাকে জান্নাত দ্বারা সম্মানিত করবেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করবেন, সুবহানাল্লাহ। মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রোজাদারকে (পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দুটি রোজা রাখতে হয়) পুর্ববর্তী এক বছরের গোনাহ মাফ করে দেন এবং ষাট বৎসর রাতে ইবাদত বন্দেগী ও দিনে রোজা রাখার ফজিলত দান করেন।

অতএব দেখা যাচ্ছে যে, পবিত্র আশুরা শরীফ মানুষের অত্যাবশ্যক বিষয়গুলোর সুষ্ঠু ফয়সালা ও নাজাতের উছিলা স্বরূপ। মহান আল্লাহ্ পাক তিনি যেন যামানার ইমাম, ইমামে আ‘যম, গাউছুল আ‘যম মামদুহ্ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার উছিলায় সবাইকে পবিত্র আশুরা শরীফ উনার যথাযথ আদব রক্ষা ও তাযীম-তাকরীম করার তৌফিক দান করেন।

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...