Friday, August 7, 2020

সম্মানিত সুন্নত পালনের মধ্যেই রয়েছে সুস্থতাসহ সকল কামিয়াবি

সম্মানিত সুন্নত মুবারক পালন করা সম্মানিত ফরয মুবারক।

সুন্নতী খাবার কদু
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
مَنْ تَمَسَّكَ بِسُنَّتِي عِنْدَ فَسَادِ أُمَّتِي فَلَهُ أَجْرُ مِائَةِ شَهِيدٍ
অর্থ:- “যিনি আমার উম্মতের ফিতনা-ফাসাদের যুগে কোন একটা সুন্নত মুবারককে আঁকড়িয়ে ধরে রাখবেন, উনাকে একশত শহীদের ছাওয়াব প্রদান করা হবে।” কেমন একশত শহীদের সওয়াব? হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বদর-উহুদ জিহাদে শহীদ হয়ে যে রকম মর্যাদা হাছিল করেছেন ঠিক সেই রকম মর্যাদা হাছিল করবেন এই আখিরী যামানায় একটা সুন্নত আদায় করলেই। এক হাজার হিজরী শতকের পরবর্তী সময়কে আখেরী যামানা বলা হয়েছে।
 বর্তমান সময়ে বিভিন্ন ধরনের খাবার পাওয়া যায় এবং অনেকেই তা খেয়ে থাকেন। কিন্তু খাছ সুন্নতী খাবার কি তা আমাদের অনেকেরই জানার বাইরে। আর এ সুন্নতি খাবারের বিষয়গুলো আমাদেরকে জানাচ্ছেন এবং চালু করছেন মহান মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! তাই এ পর্বে আমরা খাছ সুন্নতি খাবার সম্পর্কে আলোচনা করব। ইনশাআল্লাহ!
 কদু খাওয়া খাছ সুন্নত :
কদু খাওয়া যে খাছ সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত তা নিম্নোক্ত হাদীছ শরীফ দ্বারা সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হয়। যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে-
أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ إِنَّ خَيَّاطًا دَعَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِطَعَامٍ صَنَعَهُ قَالَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ فَذَهَبْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى ذَلِكَ الطَّعَامِ فَقَرَّبَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خُبْزًا وَمَرَقًا فِيهِ دُبَّاءٌ وَقَدِيدٌ فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَتَبَّعُ الدُّبَّاءَ مِنْ حَوَالَيِ الْقَصْعَةِ قَالَ فَلَمْ أَزَلْ أُحِبُّ الدُّبَّاءَ مِنْ يَوْمِئِذٍ "
অর্থ : “হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত যে, জনৈক দর্জি ছাহাবী কিছু খাবার প্রস্তুত করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দাওয়াত করলেন। আমিও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে গেলাম। তিনি যবের রুটি আর কিছু শুরুয়া যাতে কদু ও শুকনা গোশত ছিল পরিবেশন করলেন। আমি দেখলাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পেয়ালার চতুর্দিক থেকে বেছে বেছে কদু খাচ্ছেন। সে দিনের পর থেকে আমিও কদু খাওয়া পছন্দ করতে লাগলাম।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ) 
 শুধু তাই নয়, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে বলেন যে, “তরকারীর সাথে অধিক পরিমানে কদু রান্না করুন। কারণ এতে বিষন্ন মনে শক্তি আসে। কদু বুদ্ধি তীক্ষè করে ও মস্তিস্ককে শক্তিশালী করে।” সুবহানাল্লাহ!
 কদুর প্রতি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এমনিতর পছন্দের কারণে আক্বাইদের কিতাবে এসেছে কেউ যদি বলে, “আমি কদু পছন্দ করিনা তাহলে সে কুফরী করলো। কারণ তার এ মতটা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মত মুবারক উনার খিলাফ।” নাউযুবিল্লাহ! (কাজীখান, শেফা, যাদুল মা’আদ, আখলাকুন্নবী, বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)
 অতএব, সুস্পষ্ট ও অকাট্যভাবেই প্রমাণিত হলো যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং নিজেই কদুকে খুব পছন্দ করতেন। অর্থাৎ কদু খাওয়া খাছ সুন্নত উনার অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!
 তাহলে দেখা যাচ্ছে, কেউ যদি খাছ সুন্নতী খাবার খান তাহলে কমপক্ষে ৪টি সুন্নত তথা ১. কদু খাওয়া ২. সাথে গোশত থাকা ৩. সুরুয়া থাকা ৪. কদু মিশ্রিত তরকারী একসাথে খাওয়ার কারণে (১০০ গুনণ ৪) = ৪০০ শহীদের সওয়াব হাছিল হচ্ছে। সুবহানাল্লাহ! এখন যদি আমরা সমস্ত খাবার সুন্নত মুতাবিক খাই তাহলে দিনে শত-সহ¯্র ফযীলত বা নিয়ামত লাভ করতে পারবো। সুবহানাল্লাহ!

মুসলমানদের খুশি প্রকাশ করার জন্য রয়েছে ১৭৭/১৭৮টি ঈদের দিন।

 মুসলমানদের খুশি প্রকাশ করার জন্য রয়েছে ১৭৭/১৭৮টি ঈদের দিন।

====================================


‘ঈদ’ শব্দের অনেক অর্থ আছে। তবে বহুল প্রচলিত অর্থ হচ্ছে খুশি প্রকাশ করা। মুসলমানদের খুশি প্রকাশ করার জন্য রয়েছে ১৭৭/১৭৮টি ঈদের দিন। আপনারা অবাক হলেন নাকি? মুসলমানগণ এতো ঈদের খবর রাখে না। এটা তাদের অজ্ঞতা। 

ঈদ বললেই মন চলে যায় রোযার ঈদ অর্থাৎ পবিত্র ঈদুল ফিতর ও পবিত্র কুরবানী উনার ঈদ অর্থাৎ পবিত্র ঈদুল আদ্বহা শরীফ উনার দিকে। এই দুই ঈদ ছাড়া অন্য সব ঈদের খবর কে রাখে? এমনকি সকল ঈদের শ্রেষ্ঠ ঈদ- সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদু ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদু ঈদে আকবার ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খবর নেই অধিকাংশ মুসলমান নামধারীদের নিকট। মুসলমানগণের যদি একটি ঈদ পালনের নির্দেশ থাকতো, তাহলে শ্রেষ্ঠ ঈদ- ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করতো। হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ অর্থাৎ আগমনের দিন উৎসব পালন করাই ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সৃষ্টি না করলে মহান আল্লাহ পাক তিনি কিছুই সৃষ্টি করতেন না। উনার উপর মহান আল্লাহ পাক ও হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা সার্বক্ষণিক ছলাত ও সালাম পাঠান। উনার উপর দুরূদ শরীফ পাঠ না করলে বান্দার কোনো আমলই মহান আল্লাহ পাক উনার দরবার মুবারকে গৃহীত হবে না। উনার পবিত্র নালাইন শরীফ বা স্যান্ডেল মুবারক উনার স্পর্শে আরশে মুয়াল্লা ধন্য হয়, উনার বিলাদত শরীফ-এ যারা গাফিল বেখেয়াল তারা উম্মতের নামের অযোগ্য। এরপর মুসলমানদের জন্য রয়েছে জুম্মার দিন, শুক্রবার। হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ অর্থাৎ আগমন দিন সোমবার শরীফ। পবিত্র ৯ই যিলহজ্জ শরীফ, পবিত্র আরাফা শরীফ উনার দিন, পবিত্র ঈদুল ফিতর ও পবিত্র ঈদুল আযহা শরীফ নিয়ে সর্বমোট ১৭৭/১৭৮ দিন ঈদ। তবে সকল ঈদ উদযাপনের নিয়ম এক নয়। এর মধ্যে আছে সাপ্তাহিক ঈদের দিন, বার্ষিক ঈদের দিন ইত্যাদি। তবে সকল ঈদের সেরা ঈদ, সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদু ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদু ঈদে আকবার পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

বিভিন্ন ঈদ পালনের তরবীব- নিয়ম আলাদা। যেমন পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আদ্বহা শুরু হয় ফযর নামাযের পর ঈদের নামাযের মাধ্যমে। পবিত্র ঈদুল ফিতরে নামায আদায় করে আত্মীয়-স্বজনদের সাথে খুশি বণ্টন করা, উন্নত খাবার পরিবেশন ও দেখা সাক্ষাৎ ইত্যাদি। আর পবিত্র ঈদুল আদ্বহা পালন হয় ভিন্নরূপে। মাঠে পবিত ঈদের নামায আদায় করে সাধ্যানুযায়ী পবিত্র পশু কুরবানী করা ইত্যাদি। শুক্রবার ঈদ উদযাপন করা হয় ভিন্নভাবে। যোহরের ওয়াক্তে সুন্দর পরিষ্কার পোশাকে মসজিদে উপস্থিত হয়ে একত্রিত হয়ে খুতবা শুনতে হয়, তারপর যোহরের পরিবর্তে দুই রাকাত ফরয নামায আদায় করতে হয়। জুমুয়ার নামায ফরয এবং খুতবা ফরয-ওয়াজিব আর পবিত্র ঈদুল ফিতর ও পবিত্র ঈদুল আদ্বহা উনার দুই রাকাত নামায ওয়াজিব এবং খুতবা পাঠ সুন্নত। এভাবে বিভিন্ন ঈদের দিনের তারতীব আলাদা। পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপনের তারতীব আলাদা। এই দিন মীলাদ শরীফ পাঠ করা হবে। ওয়াজ মাহফিল ও দোয়া মাহফিল হবে ইস্তিগফার করে মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে দোয়া করতে হবে। নতুন পোশাক পরিধান করে আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের সাথে নিয়ে উন্নত মানের খাবার খেতে হবে। মিষ্টি বিতরণ করা হবে ইত্যাদি ইত্যাদি নানাভাবে শুধুই আনন্দের বন্যা বহাতে হবে।

কিন্তু পরিতাপের বিষয়, আজ মুসলমানগণ না বুঝে বলে, মুসলমানদের শুধু দুই ঈদ রয়েছে। মহান আল্লাহ পাক-এর দেয়া ঈদকে অস্বীকার করলে তাদের স্থান হবে জাহান্নাম। তাই তো প্রাণের আঁকা, ওলীদের ওলী, মুজাদ্দিদগণের মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি সকল ঈদের সেরা ঈদ পালনের জন্য মুসলমানদের উৎসাহিত করছেন। বিশেষ করে আনন্দ উৎসবের মাধ্যমে সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদু ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদু ঈদে আকবার পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের নির্দেশ স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন।

১৪৩৪ হিজরী সনের ১২ রবীউল আউয়াল শরীফ পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে রাজারবাগ দরবার শরীফ-এ ৫৬ দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। প্রত্যেক জিনিসের দুটি দিক থাকে যথা জাহির ও বাতিন। আমরা জাহিরীভাবে ঈদ উদযাপন করি দিনের বেলায়। ঈদের রাত্রিগুলো কিন্তু বরকতময়। ঈদের রাতে বিশেষভাবে বান্দার দোয়া মহান আল্লাহ পাক তিনি কবুল করে থাকেন। এর চেয়ে আনন্দের বিষয় কী হতে পারে? সুতরাং মুসলমানদের ঈদের রাত্রিগুলো ইবাদত-বন্দেগী করে কাটাতে হবে।

ঈদ নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে সকল ভুল ধারণা দূর হয়ে যাক। ঈদ মুসলমানদের জীবন আনন্দে ভরে দিক এবং সফল হোক হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার ঈদের তাজদীদ। ধ্বংস হোক সকল ফিতনা। যিনি রহমাতুল্লিল আলামীন উনার রহমত থেকে বঞ্চিত করায় ইহুদী, নাছারা ও মুশরিকদের সকল ষড়যন্ত্র নিপাত যাক। ইহুদী-নাছারাদের গোলাম উলামায়ে ছূ’ ধ্বংস হোক। ইসলাম ধর্ম ফিরে পাক তার গৌরবোজ্জ্বল দিন। জান্নাত হোক মুসলমানদের আসল ঠিকানা।

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...