Tuesday, March 15, 2022

হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার ক্বওল শরীফ-এর মাঝেই পবিত্র পবিত্র শবে বরাত উনার হাক্বীক্বত উপলব্ধি সহজে সম্ভব

 হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার ক্বওল শরীফ-এর

মাঝেই পবিত্র পবিত্র শবে বরাত উনার হাক্বীক্বত উপলব্ধি সহজে সম্ভব


 

বর্তমান যামানার তাজদীদী মুখপত্র দৈনিক আল ইহসান-এ আসন্ন শবে বরাত উপলক্ষে প্রকাশিত ব্যানার হেডিং, যা আমাকে পবিত্র শবে বরাত উনার গুরুত্ব ও তাৎপর্যের পূর্ণ অনুভূতি দান করে। ব্যানার হেডিংয়ে হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার ক্বওল শরীফ-এ বলা হয়, কুরআন শরীফ-এ বর্ণিত লাইলাতুম মুবারাকা ও হাদীছ শরীফ এ বর্ণিত ‘লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান’ যা মশহুর ‘শবে বরাত’ হিসেবে। শবে বরাত মুসলমানগণের জন্য মাগফিরাত, তওবা, দোয়া কবুল ও রিযিকের ফায়সালার রাত।

কাজেই এ বরকতময় বরাত-এর রাতে ইয়াক্বীনের সাথে যত দোয়াই করা হোক না কেন অবশ্যই মহান আল্লাহ পাক সে দোয়া কবুল করবেন। মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “দোয়া তিনভাবে কবুল হয়ে থাকে। ১. বান্দা যা চায়- আল্লাহ পাক তিনি তাকে সরাসরি সেটা দিয়ে দেন। তখন বান্দা সহজেই বুঝতে পারে যে তার দোয়া কবুল হয়েছে। ২. বান্দা যেটা চেয়ে থাকে আল্লাহ পাক সরাসরি সেটা দেন না বরং বান্দার জন্য তার চেয়েও যেটা বেকী জরুরী সেটা দিয়ে থাকেন। যার কারণে বান্দা বুঝতে পারে না যে তার দোয়া কবুল হলো অথবা হলো না। ৩. মহান আল্লাহ পাক তার দোয়ার বদৌলতে দুনিয়াতে কোনো বদলা দেন না বরং পরকালের জন্য জমা করে রাখেন। তাই দেখা যাবে যে, কিয়ামতের দিন অনেক বান্দা তাদের অসংখ্য পাপ ও বদি দেখে পেরেশান হয়ে যাবে। তারা নিজেদেরকে জাহান্নামী ধারণা করবে, তখন আল্লাহ পাক এ অব¯’া দেখে তাদেরকে বলবেন, তোমরা চিন্তিত হয়ো না, তোমরা অমুক ¯’ানে যাও সেখানে তোমাদের জন্য পাহাড় পাহাড় নেকী জমা করে রাখা হয়েছে। সত্যিই তারা সেখানে যাবে, গিয়ে দেখবে পাহাড় পাহাড় নেকী। তখন তারা বলবে হে বারে ইলাহী! এত নেকী কোথা থেকে আসলো আমরা তো এতো নেক কাজ করিনি। তখন আল্লাহ পাক বলবেন, হ্যাঁ, তোমরা এত নেক কাজ করিনি সত্য কথাই তবে তোমরা দুনিয়াতে আমার নিকট অনেক দোয়া করেছিলে, তার বদলা দুনিয়াতে না দিয়ে পরকালের জন্য জমা করে রেখেছিলাম এখন তোমরা সেটা নিয়ে তোমাদের নেকীর পাল্লায় তুলে দাও তখন বান্দা ও বান্দীরা সেই নেকীগুলো নিয়ে নেকীর পাল্লায় তুলে দিবে ফলে তাদের নেকীর পাল্লা ভারী হয়ে যাবে এবং বদীর পাল্লা হালকা হয়ে যাবে। অথচ কিছুক্ষণ পূর্বে তারা ছিলে জাহান্নামী এখন তাদের জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে। (সবুহনাল্লাহ) তখন বান্দা ও বান্দীরা খুকী হয়ে যাবে এবং তারা বুঝতে পারবে যে, তাদের দোয়া কবুল হয়েছিল। সুবহানাল্লাহ!

কাজেই পবিত্র শবে বরাতে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট সব চাইতে হবে, বেকী বেকী চাইতে হবে। ইয়াক্বীনের সাথে চাইলে মহান আল্লাহ পাক তিনি অবশ্যই দিয়ে দিবেন। তাই প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব-কর্তব্য হ”েছ অত্যন্ত জওক্ব-শওক্ব, মুহব্বত ও ইখলাছের সাথে আসন্ন শবে বরাত পালন করা।


------------------


পবিত্র শবই বরাতের রজনীতে মুসলমানরা যেন ইতমিনানের সাথে সারারাত ঈবাদত বন্দেগী করতে পারে এবং কোন ভাবেই যেন সময় নষ্ট না হয় এজন্য রাজধানী ঢাকাস্থ রাজারবাগ শরীফে শবই বরাত উপলক্ষে আয়োজিত হয়েছে তরতীব অনুসারে সারা রাত সকল ধরনের ইবাদত করার সুব্যবস্থা।

(১) পবিত্র ইশার নামাজ জামায়াতে আদায় ও সুন্নত আদায়। 

(২) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দুরুদ ও সালাম অর্থাৎ পবিত্র মিলাদ শরীফ পাঠ করা হবে। 

(৩) প্রায় ঘন্টাব্যাপী বিশেষ মুনজাত। যে মুনাজাতে সারা বিশ্বের নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য দুয়া করা হবে। মুসলমানদের যত নেক চাওয়া আছে সব কিছুর জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে দোয়া করা হবে।

(৪) সুন্নতি ছলাতুত তসবিহ নামাজ পড়া হবে

(৫) শবই বরাত উনার পবিত্র নফল নামাজ আদায়

(৬)শ্রেষ্ঠ নফল ঈবাদত পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করা হবে

(৭) পবিত্র সুন্নত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা হবে, 

(৮) পবিত্র ওয়াজিব বিতর নামাজ আদায় করা হবে

(৯) আবারও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দুরুদ ও সালাম অর্থাৎ পবিত্র মিলাদ শরীফ পাঠ করা হবে। 

(১০) শেষ রাতে আখেরী মোনাজাত হবে। 

(১১) শাহী তাবারুকের মাধ্যমে বিনাখরচে সেহেরী করা যাবে।

 (১২) ফজরের নামাজ আদায় করা হবে।


তরতীবমত ও সুশৃঙ্খলভাবে ঈবাদত বন্দেগী ও মুনজাত শরীফ পরিচালনা করবেন ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার সম্মানিত শায়েখ হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ। 


সময় : ১৫ই শাবান শরীফ রাত, আগামী ১৮ই মার্চ শুক্রবার রাত, (ইশার নামাজ থেকে শুরু)

স্থান : সুন্নতি জামে মসজিদ, ঢাকা রাজারবাগ শরীফ (মালিবাগ মোড় সংলঙ্গ পুলিশ লাইনস ৩ নম্বর গেটের বিপরীত পার্শ্বে)

অনলাইনে লাইভ সংযুক্ত থাকুন : al-hikmah.net, 

মাহফিলের সেহেরীর তাবারুকে শরীক থাকতে : ডাচ বাংলা: 017187407422, বিকাশ: 01718740742

মুসলিম স্থাপত্যর নিদর্শন বিশ্ব ঐতিহ্যের শোভা ‘মুহম্মদ পাশা সেতু

 মুসলিম স্থাপত্যর নিদর্শন বিশ্ব ঐতিহ্যের শোভা

‘মুহম্মদ পাশা সেতু’


 

মুহম্মদ পাশা সকোলভিচ সেতুটি ওসমানি সাম্রাজ্যের স্থাপত্য ও নির্মাণশিল্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্যপূর্ণ নিদর্শন। ইউরোপের মুসলমান-প্রধান দেশ বসনিয়া-হার্জেগোভিনার দ্রিনা নদীর উপরে সেতুটি অবস্থিত। ১৫৭৭ সালে উসামানীয় সালতানের সুলতান মুহম্মদ পাশা সোকোলোভিচের আদেশে সেতুটি নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। 


তুরস্কের ওসমানি সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি ছিলো এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের প্রায় পঁয়ত্রিশটি দেশে। ফলে সাম্রাজ্যের আওতাধীন দেশগুলোতে বিভিন্ন স্থাপত্য-কীর্তি ও নির্মাণশিল্প গড়ে তোলেন সালতানাতের সুলতানরা।

এই স্থাপত্যটি তুর্কি স্মারক স্থাপত্য এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর এক অনন্য নিদর্শন। 


উসমানীয় সালতানের অন্যন্য স্থাপত্যকর্মগুলো পৃথিবীতে শোভা-সুন্দরের প্রতীক হয়ে আছে। সেগুলোরই অন্যতম একটি মুহম্মদ পাশা সকোলভিচ সেতু। দ্রিনা নদীর ওপর স্থাপিত সেতুটি বর্তমানে বিশ্ব সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছে।


সেতুটির দৈর্ঘ্য ১৭৯.৫০ মিটার। আর সেতুর সড়কপথের প্রস্থ চার মিটার। বিশ্ববিখ্যাত কীর্তিমান উসমানীয় সালতানাতের স্থপতি মিমার সিনান পাশা এই সেতুটির নির্মাতা। তিনি ছিলেন ওসমানি স্থাপত্য-কর্মের এক কিংবদন্তী। বিখ্যাত এ সেতুটি মিমার সিনানের মহৎ শিল্পকর্মের অগ্রগতি বাড়িয়েছে। তিনি এতে পাথর ও চুন-সুরকির অনবদ্য মিশেলে তৈরি করেছেন ভিন্ন মাত্রার সৌন্দর্য। সেতুতে খোদাইকৃত ও নিপুণ কুশলতায় মোড়ানো ১১টি খিলান রয়েছে।


দীর্ঘ জীবনে মিমার সিনান পাশা নির্মাণ করেছেন অবিস্মরণীয় সব মুসলিম স্থাপনা। বলা হয়ে থাকে, তুর্কী স্থাপত্যের রেনেসাঁর মূল কারিগর ছিলেন মিমার সিনান পাশা। তিনি কেবল একজন কঠোর অধ্যবসায়ী নির্মাতা ও অসামান্য প্রতিভাধর স্থপতি ছিলেন না; তিনি ছিলেন একজন দ্বীন অনুগত সূফী মুসলিম, যিনি উনার গোটা জীবনব্যাপী দ্বীনি ইসলামী স্থাপনার গৌরব বৃদ্ধির কাজে নিয়োজিত ছিলেন।


সেতুর খিলানগুলো দেখতে ধনুকাকৃতির। দুই খিলানের মাঝের দূরত্ব (স্প্যান) ১১ থেকে ১৫ মিটার। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সেতুর তিনটি খিলান এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পাঁচটি খিলান ধসে যায়। পরবর্তীতে অবশ্য খিলানগুলো পুনর্নিমাণ করা হয়। অন্যদিকে কয়েক বছর আগে ‘দ্য টার্কিশ কো-অপারেশন অ্যান্ড কোর্ডিনেশন ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি’ (TIKA) সেতুটি পুননির্মাণের জন্য ৩.৫ মিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ দেয়।

 

১৯৯২ খৃস্টাব্দে বসনিয়ায় যুদ্ধ চলাকালে বসনিয়ার গনহত্যার সময় অসংখ্য মুসলমানকে নিষ্ঠুরভাবে শহীদ করা হয়। এ সেতু ক্রসেডদের সেই বর্বরতার সাক্ষী হয়ে আছে।


ঐতিহাসিক ও বিখ্যাত এ সেতুর নির্মাণকাজ শেষে সেতুর নামকরণ করা হয় ওসমানি সা¤্রাজ্যের সুলতান সকোল্লু মুহম্মদ পাশার নামানুসারে। তিনি সুলতান প্রথম সোলায়মান ও সুলতান দ্বিতীয় সেলিমের অধীনে সাম্রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।


সূত্র: দৈনিক আল-ইহসান (16-03-2022)


Rajarbag Shareef Official

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...