হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার ক্বওল শরীফ-এর
মাঝেই পবিত্র পবিত্র শবে বরাত উনার হাক্বীক্বত উপলব্ধি সহজে সম্ভব
বর্তমান যামানার তাজদীদী মুখপত্র দৈনিক আল ইহসান-এ আসন্ন শবে বরাত উপলক্ষে প্রকাশিত ব্যানার হেডিং, যা আমাকে পবিত্র শবে বরাত উনার গুরুত্ব ও তাৎপর্যের পূর্ণ অনুভূতি দান করে। ব্যানার হেডিংয়ে হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার ক্বওল শরীফ-এ বলা হয়, কুরআন শরীফ-এ বর্ণিত লাইলাতুম মুবারাকা ও হাদীছ শরীফ এ বর্ণিত ‘লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান’ যা মশহুর ‘শবে বরাত’ হিসেবে। শবে বরাত মুসলমানগণের জন্য মাগফিরাত, তওবা, দোয়া কবুল ও রিযিকের ফায়সালার রাত।
কাজেই এ বরকতময় বরাত-এর রাতে ইয়াক্বীনের সাথে যত দোয়াই করা হোক না কেন অবশ্যই মহান আল্লাহ পাক সে দোয়া কবুল করবেন। মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “দোয়া তিনভাবে কবুল হয়ে থাকে। ১. বান্দা যা চায়- আল্লাহ পাক তিনি তাকে সরাসরি সেটা দিয়ে দেন। তখন বান্দা সহজেই বুঝতে পারে যে তার দোয়া কবুল হয়েছে। ২. বান্দা যেটা চেয়ে থাকে আল্লাহ পাক সরাসরি সেটা দেন না বরং বান্দার জন্য তার চেয়েও যেটা বেকী জরুরী সেটা দিয়ে থাকেন। যার কারণে বান্দা বুঝতে পারে না যে তার দোয়া কবুল হলো অথবা হলো না। ৩. মহান আল্লাহ পাক তার দোয়ার বদৌলতে দুনিয়াতে কোনো বদলা দেন না বরং পরকালের জন্য জমা করে রাখেন। তাই দেখা যাবে যে, কিয়ামতের দিন অনেক বান্দা তাদের অসংখ্য পাপ ও বদি দেখে পেরেশান হয়ে যাবে। তারা নিজেদেরকে জাহান্নামী ধারণা করবে, তখন আল্লাহ পাক এ অব¯’া দেখে তাদেরকে বলবেন, তোমরা চিন্তিত হয়ো না, তোমরা অমুক ¯’ানে যাও সেখানে তোমাদের জন্য পাহাড় পাহাড় নেকী জমা করে রাখা হয়েছে। সত্যিই তারা সেখানে যাবে, গিয়ে দেখবে পাহাড় পাহাড় নেকী। তখন তারা বলবে হে বারে ইলাহী! এত নেকী কোথা থেকে আসলো আমরা তো এতো নেক কাজ করিনি। তখন আল্লাহ পাক বলবেন, হ্যাঁ, তোমরা এত নেক কাজ করিনি সত্য কথাই তবে তোমরা দুনিয়াতে আমার নিকট অনেক দোয়া করেছিলে, তার বদলা দুনিয়াতে না দিয়ে পরকালের জন্য জমা করে রেখেছিলাম এখন তোমরা সেটা নিয়ে তোমাদের নেকীর পাল্লায় তুলে দাও তখন বান্দা ও বান্দীরা সেই নেকীগুলো নিয়ে নেকীর পাল্লায় তুলে দিবে ফলে তাদের নেকীর পাল্লা ভারী হয়ে যাবে এবং বদীর পাল্লা হালকা হয়ে যাবে। অথচ কিছুক্ষণ পূর্বে তারা ছিলে জাহান্নামী এখন তাদের জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে। (সবুহনাল্লাহ) তখন বান্দা ও বান্দীরা খুকী হয়ে যাবে এবং তারা বুঝতে পারবে যে, তাদের দোয়া কবুল হয়েছিল। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই পবিত্র শবে বরাতে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট সব চাইতে হবে, বেকী বেকী চাইতে হবে। ইয়াক্বীনের সাথে চাইলে মহান আল্লাহ পাক তিনি অবশ্যই দিয়ে দিবেন। তাই প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব-কর্তব্য হ”েছ অত্যন্ত জওক্ব-শওক্ব, মুহব্বত ও ইখলাছের সাথে আসন্ন শবে বরাত পালন করা।
------------------
পবিত্র শবই বরাতের রজনীতে মুসলমানরা যেন ইতমিনানের সাথে সারারাত ঈবাদত বন্দেগী করতে পারে এবং কোন ভাবেই যেন সময় নষ্ট না হয় এজন্য রাজধানী ঢাকাস্থ রাজারবাগ শরীফে শবই বরাত উপলক্ষে আয়োজিত হয়েছে তরতীব অনুসারে সারা রাত সকল ধরনের ইবাদত করার সুব্যবস্থা।
(১) পবিত্র ইশার নামাজ জামায়াতে আদায় ও সুন্নত আদায়।
(২) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দুরুদ ও সালাম অর্থাৎ পবিত্র মিলাদ শরীফ পাঠ করা হবে।
(৩) প্রায় ঘন্টাব্যাপী বিশেষ মুনজাত। যে মুনাজাতে সারা বিশ্বের নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য দুয়া করা হবে। মুসলমানদের যত নেক চাওয়া আছে সব কিছুর জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে দোয়া করা হবে।
(৪) সুন্নতি ছলাতুত তসবিহ নামাজ পড়া হবে
(৫) শবই বরাত উনার পবিত্র নফল নামাজ আদায়
(৬)শ্রেষ্ঠ নফল ঈবাদত পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করা হবে
(৭) পবিত্র সুন্নত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা হবে,
(৮) পবিত্র ওয়াজিব বিতর নামাজ আদায় করা হবে
(৯) আবারও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দুরুদ ও সালাম অর্থাৎ পবিত্র মিলাদ শরীফ পাঠ করা হবে।
(১০) শেষ রাতে আখেরী মোনাজাত হবে।
(১১) শাহী তাবারুকের মাধ্যমে বিনাখরচে সেহেরী করা যাবে।
(১২) ফজরের নামাজ আদায় করা হবে।
তরতীবমত ও সুশৃঙ্খলভাবে ঈবাদত বন্দেগী ও মুনজাত শরীফ পরিচালনা করবেন ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার সম্মানিত শায়েখ হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ।
সময় : ১৫ই শাবান শরীফ রাত, আগামী ১৮ই মার্চ শুক্রবার রাত, (ইশার নামাজ থেকে শুরু)
স্থান : সুন্নতি জামে মসজিদ, ঢাকা রাজারবাগ শরীফ (মালিবাগ মোড় সংলঙ্গ পুলিশ লাইনস ৩ নম্বর গেটের বিপরীত পার্শ্বে)
অনলাইনে লাইভ সংযুক্ত থাকুন : al-hikmah.net,
মাহফিলের সেহেরীর তাবারুকে শরীক থাকতে : ডাচ বাংলা: 017187407422, বিকাশ: 01718740742