Monday, January 3, 2022

রাজারবাগ শরীফ উনার পরিচিতি-৬

 রাজারবাগ শরীফ উনার পরিচিতি-৬



সুন্নতী মসজিদ ও মাদরাসা উনার মূল বুনিয়াদী অবকাঠামো ও তার পূর্ণ বিবরণী :


আলহামদুলিল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মুবারক নির্দেশ এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক দিক নির্দেশনায় রাজারবাগ শরীফে সুন্নতী জামে মসজিদ উনার নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে যায়। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অক্লান্ত ও অবর্ণনীয় ত্যাগ ও পরিশ্রমে সর্বপ্রকার সুন্নতী নির্মাণ সামগ্রী সংগ্রহ করা হয়। যথাক্রমে যশোর ও ফরিদপুর এবং ঢাকা রূপগঞ্জের কালীগঞ্জ থেকে খেজুর গাছ, খেজুরের পাতা, কান্ড ও ছাল। আমাদের দেশের অধিকাংশ খেজুর গাছই রস সংগৃহীত কাটা গাছ। আর ঐ কাটা গাছ দিয়ে স্তম্ভ, কাঠ, রুয়া ইত্যাদি তৈরী করা সম্ভব নয়। পূর্ণাঙ্গ ভাল গাছের দরকার। তাই অনেক খোঁজাখুঁজি ও ব্যয়বহুল অবস্থায় দূর দুরান্ত থেকে ট্রাকযোগে ও নৌপথে সমস্ত সুন্নতী সামগ্রী সংগ্রহ করে পবিত্র দরবার শরীফ-এ আনা হয়। চাল বাঁধাই এর জন্যে বেত আনতে হয় সিলেট থেকে। দেয়াল নির্মাণের জন্য লালমাটি সংগ্রহ করা হয় ঢাকা কদমতলা রাজারবাগ থেকে। পাথর আনা হয় নূরানীগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) থেকে।

বিজ্ঞ বিজ্ঞ মিস্ত্রী যোগাড় করে ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪০৬ হিজরী/ ২৮ সাদিস-১৩৫৩ শামসী সন/ ১৯৮৬ ঈসায়ী সনে পবিত্র সুন্নতী জামে মসজিদ তৈরীর কাজ শুরু হয়। সুন্নতী জামে মসজিদের বারান্দা, হুজরা শরীফ ও সুফ্ফাখানাসহ দৈর্ঘ্য ৫০ ফুট এবং প্রস্থ হচ্ছে ৩০ ফুট। মূল মসজিদ হচ্ছে দৈর্ঘ্যে ৩০ ফুট এবং প্রস্থ হচ্ছে ২০ ফুট। মসজিদের চাল বা ছাদ ছিল ৯ ইঞ্চি পুরো খেজুর পাতার ছাউনি। চালের ফ্রেম ছিল ২/২ ইঞ্চি রুয়া। আড়া ছিল তাল ও খেজুর গাছের। আর ৬ খানা স্তম্ভ ছিল খেজুর গাছের। দেয়াল নির্মাণে লাল মাটির কঙ্কর (ছোট পাথর) বিছিয়ে দেয়া হয়। মসজিদের ভেতরে স্তম্ভে মাটির চেরাগ ব্যবহার করা হয়, যা সংগ্রহ করা হয়েছিল ঢাকার ঠাটারী বাজার ও টঙ্গি থেকে। উক্ত চেরাগে বাতি জ্বালানোর জন্যে পবিত্র সুন্নত মুবারক অনুসরণে সরিষার তেল ও যয়তুন তেল ব্যবহার করা হয়। সুবহানাল্লাহ! সুন্নতী মসজিদের বিছানা ছিল পবিত্র সুন্নত মুবারক অনুসরণে খেজুর পাতার চাটাই দিয়ে। সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র জায়নামাযও ছিল খেজুর পাতার তৈরী। আর মিম্বর শরীফ তৈরী করা হয়েছিল চট্টগাম, কক্সবাজার থেকে ঝাউগাছ এনে তিন থাক বিশিষ্ট সুন্নতী মাপে। খেজুর গাছের পবিত্র সুন্নতী মাপে লাঠি মুবারকও তৈরী করা হয়। গরম কালে তাল পাতার পাখা ব্যবহার করা হতো। সুবহানাল্লাহ! (চলবে)


Writer: Abm Ruhul Hassan

রাজারবাগ শরীফ উনার পরিচিতি-৭

 রাজারবাগ শরীফ উনার পরিচিতি-৭



সুন্নতী মাসজিদ প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে দুই মহান ওলীআল্লাহ উনাদের প্রতি মহান নির্দেশ মুবারক:


পাঠক, আলোচনার সুবিধার্থে আমাদের জানা প্রয়োজন- রাজারবাগ শরীফ উনার মহান মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম, যিনি ১৫ শতকের সম্মানিত মুজাদ্দিদ আলাইহিস সালাম। উনার সম্মানিত পিতা, মহান আল্লাহ পাক উনার মহান ওলী, আওলাদে রসূল, বিশিষ্ট বুযুর্গ, কুতুবুজ্জামান হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলিছুর রহমান আলাইহিস সালাম উনাকে সম্বোধন করা হয় ‘হযরত দাদা হুযূর কিবলা আলাইহিস সালাম’ হিসেবে। আর উনার সম্মানিত শায়েখ শাহ ছুফী হযরত মাওলানা মুহম্মদ ওয়াজিউল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি, যিনি অবস্থান করতেন ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে। উনি যাত্রাবাড়ীর পীর ছাহেব ক্বিবলা (শায়েখ ক্বিবলা) হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। সম্মানিত শায়েখ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একদিন যাত্রাবাড়ী থেকে রাজারবাগ শরীফ এসে দেখা করেন ১৫ শতকের সম্মানিত মুজাদ্দিদ, আওলাদে রসূল, ইমামুল উমাম, সাইয়্যিদুনা হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত পিতা এবং বিশিষ্ট বুযুর্গ হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সাথে। যাত্রাবাড়ীস্থ সম্মানিত শায়েখ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি রাজারবাগ শরীফ-এ সুন্নতী মসজিদ প্রতিষ্ঠা নিয়ে একটি মুবারক স্বপ্ন দেখেন। তিনি স্বপ্নে দেখেন- রাজারবাগ শরীফ-এ সুন্নতী মসজিদ প্রতিষ্ঠার জন্য জায়গা দেয়ার বিষয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি তিনি হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে পবিত্রতম আদেশ মুবারক প্রদান করেন আর তাই তিনি তা অবহিত করতে চলে আসেন। সুবহানাল্লাহ! উনার পাক জবান মুবারক থেকে মসজিদ প্রতিষ্ঠা বিষয়ে স্বপ্ন মুবারকের কথা শুনে আওলাদুর রাসূল সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি খুবই খুশি হলেন এবং অত্যন্ত খুশি মনে হাসতে থাকেন। এবার তিনি বললেন- “মাওলানা ছাহেব! আপনি আমার মুবারক বুযুর্গ আওলাদ উনার সম্মানিত শায়েখ ক্বিবলা। আর আমি উনার সম্মানিত পিতা। আপনি শুনুন, সরাসরি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং আমাকেও হুবহু উক্ত আদেশ মুবারক প্রদান করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! সুন্নতী মসজিদ প্রতিষ্ঠার পটভূমির ইতিহাস এখানে এ কারণেই তুলে ধরা হলো যে- রাজারবাগ শরীফ উনার মধ্যে অবস্থিত মসজিদ উনাকে কেন “সুন্নতী মসজিদ” বলা হয় তার নেপথ্য কারণ মানুষের জানা প্রয়োজন। আর এই মসজিদ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস রাজারবাগ শরীফ উনার পরিচিতির সাথে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে। 

উল্লেখ্য, খেজুর গাছের খুঁটি, খেজুর পাতার চালা এবং মাটির তৈরি সুন্নতী মসজিদ এখন সময়ের প্রয়োজনে সংস্কার করে অনেক বড় আকারে তৈরি করা হয়েছে এবং কাজ এখনো চলছে। (চলবে)  


Writer: Abm Ruhul Hassan

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...