Saturday, August 8, 2020

জাহান্নামের ভয়াবহ আযাবের কথা কি ভুলে গেছেন?

 জাহান্নামের ভয়াবহ আযাবের কথা কি ভুলে গেছেন?

^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^


নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত মি’রাজ শরীফ উনার রাতে জাহান্নাম পরিদর্শনকালে জাহান্নামীদের এক দলকে দেখতে পেলেন তাদের মুখ রক্তে পরিপূর্ণ, তারা কঠিন আযাবে পতিত এবং কঠিন আযাবে আবদ্ধ। এরা হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার নামে মিথ্যা কসমকারী এবং আযাবকে হালকা ধারণাকারী। তারপর অপর এক দলকে দেখতে পেলেন তারা আগুন খাচ্ছে, রক্ত পান করছে এবং আফসুস ও অনুতাপে নিজ দাঁত দ্বারা দেহের চামড়া কাটছে। এরা ঐসব লোক যারা অন্যায়ভাবে ইয়াতীমের মাল ভক্ষণ করেছে। তারপর অপর একটি দলের দিকে দৃষ্টিপাত করলেন, তাদের মুখ আগুনে পোড়া, তাদের নাক থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে এবং তারা জিঞ্জির দ্বারা ও ত্বত্তকে আবদ্ধ। এরা হচ্ছে সুদখোর। তারপর অপর এক দলের দিকে দৃষ্টিপাত করলেন তারা লোহার আঁকড়ায় আটকে আছে, তাদের লজ্জাস্থান থেকে পূঁজ বের হচ্ছে আর তারা কঠিন আযাবে ভুগছে। এরা হচ্ছে ব্যভিচারী। তারপর অপর এক দলকে দেখতে পেলেন, তাদেরকে সাপ ও বিচ্ছু দংশন করছে। এরা হচ্ছে শরাবখোর।

মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট আমরা দোয়া করি তিনি যেন আমাদের প্রতি খাছ রহমত নাযিল করেন, আমরা যেন সমস্ত প্রকার শরীয়তবিরোধী হারাম-নাজায়িয কাজ থেকে বিরত থেকে হাক্বীক্বী মুসলমান হয়ে ইন্তিকাল করতে পারি। আমীন।

রুমাল ব্যবহার করা খাছ সুন্নত।

 রুমাল ব্যবহার করা খাছ সুন্নত।

=======================


وَضْعُ شَيْئِ الزَّائِدِ عَلَى الرَّأسِ فَوْقَ الْعِمَامَةِ

অর্থ:- মাথার পাগড়ীর উপর অতিরিক্ত একটি রুমাল পরিধান করা। (বুখারী শরীফ ২/৮৬৪)

রুমাল পরিধান করা খাছ সুন্নত। পাগড়ীর উপর হোক অথবা পাগড়ী ছাড়া শুধু টুপির উপর হোক। টুপি ও পাগড়ীর ন্যায় রুমাল ব্যবহার করাও সুন্নত। সুতরাং রুমাল মাথায় দিয়ে চলাচল করলে মেয়েদের মতো ঘোমটা দিয়ে চলাচল করে এসব কথা সম্পূর্ণ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের খিলাফ। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি মিথ্যা তোহমত দেয়া এবং উনার খাছ সুন্নত আমলের প্রতি ইহানত করার শামিল যা সম্পূর্ণরূপে কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। 

আক্বাইদের কিতাবে আছে-

اِهَانَةُ السُّنَّةِ كُفْرٌ

অর্থ:- সুন্নত উনার ইহানত করা কুফরী।

আর এ ধরনের কুফরী কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে সবাইকে। অন্যথায় ঈমান আমল নষ্ট হয়ে কুফরী অবস্থায় মারা যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। 

মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে সমস্ত প্রকার কুফরী শেরেকী থেকে হিফাযত করুন। আমীন!

হায়দারী মুবারক খিলাফত এবং প্রাসঙ্গিক পর্যালোচনা।

 হায়দারী মুবারক খিলাফত এবং প্রাসঙ্গিক পর্যালোচনা।

======================================


আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের সকলের ঐকমত্যে- আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র দ্বীন ইসলাম এবং সম্মানিত হযরত খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে চতুর্থতম সম্মানিত খলীফা। পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার ইতিহাসে উনার মুবারক খিলাফতকাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়কাল। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মুবারক শানে অপবাদ লেপনে সচেষ্ট এবং ইসলামবিদ্বেষী তথাকথিত ঐতিহাসিক মহল খিলাফতবিরোধী তাদের মনোভাবকে চিত্রিত করতে তারা এই সময়কে বেছে নিয়েছে; যা তাদের লিখিত ইতিহাসে সুস্পষ্ট।

একথা দিবালোকের ন্যায় সত্য যে, ৩৫ হিজরী সনের পবিত্র হজ্জ সম্পাদিত হওয়ার কয়েক দিন পরেই পবিত্র ১৮ই যিলহজ্জ শরীফে মহাসম্মানিত মদীনা শরীফে আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে মুনাফিকরা অন্যায়ভাবে শহীদ করে। এই জঘন্য কাজে সংশ্লিষ্ট মুনাফিকরা নিজেদেরকে বিচারের আওতামুক্ত রাখতে পুরো মদীনা শরীফ জুড়ে গণহারে কয়েক দিনব্যাপী নৈরাজ্য সৃষ্টি করে রাখে। অন্য কথায়, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদকারীদেরকে যেন গ্রেফতার করা না যায়, সেজন্য মুনাফিকরা তাদের কর্তৃক সৃষ্ট বিশৃঙ্খলাকে আরো ত্বরাম্বিত করে। বলা হয়, মুনাফিকদের পরিচালিত বিশৃঙ্খলার দরুন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র রওযা শরীফ স্থাপন করা কয়েকদিন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি।

ইতিহাসের এই নাজুক পরিস্থিতিতে মুসলিম মিল্লাতকে সমূহ ফিতনা হতে রক্ষার জন্য সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ত্রাণকর্তাস্বরূপ আভির্ভূত হন। সম্মানিত হাদীছ শরীফ অনুযায়ী বিশিষ্ট হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মুবারক অনুরোধে তিনি বাইয়াত গ্রহণ করেন। যা মূলত মুসলমানদের প্রতি উনার বিশেষ দয়া ইহসান।

কায়িনাত জুড়ে রহমত-বরকতেপূর্ণ মুবারক স্থানসমূহের মধ্যে পবিত্র মদীনা শরীফ সর্বশীর্ষে। সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুনাফিকরা পবিত্র মদীনা শরীফ উনার ইজ্জত-হুরমত বিনষ্টের অপচেষ্টা চালিয়েছে। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা অতীব প্রয়োজন। সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত খিলাফত উনার মুবারক দায়িত্ব গ্রহণ করতঃ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক ইজাযত নিয়ে রাজধানী পবিত্র মদীনা শরীফ হতে কুফায় স্থানান্তর করেন। কিন্তু এ বিষয়টি ইসলামবিদ্বেষীদের মনপুত হয়নি।

ইসলামবিদ্বেষী তথাকথিত ঐতিহাসিকরা বলে যে, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র মদীনা শরীফ হতে রাজধানী স্থানান্তরিত করে পবিত্র মদীনা শরীফ উনার গুরুত্ব তাৎপর্য বিনষ্ট করেছেন। নাউযুবিল্লাহ! তারা সঠিক ইতিহাসকে বিকৃত করতে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র মদীনা শরীফ হতে রাজধানী সরিয়ে নেয়ায় পবিত্র মদীনা শরীফ উনার গুরুত্ব কোনোভাবেই হ্রাস পায়নি। বরং পবিত্র মদীনা শরীফ উনার নিরাপত্তা আরো সুসংহত হয়েছে। ইসলামবিরোধীদের ষড়যন্ত্রের বাঁকা চোখ পবিত্র মদীনা শরীফ হতে ঘুরিয়ে দেয়া হয়েছে।

সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি নতুন রাজধানীতে তাশরীফ মুবারক রেখে শুরুতেই সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার শাহাদাত মুবারকের সাথে জড়িতদেরকে গ্রেফতার করতে তদন্ত শুরু করেন। কুচক্রী মুনাফিকরা দেখলো যে- এখন তারা ধরা পড়ে যাবে। কাজেই যেকোনো মূল্যে এই কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে হবে। তাই তারা নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করলো।

উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি সেই বছর পবিত্র হজ্জ মুবারক করার জন্য পবিত্র মক্কা শরীফে গমন করেছিলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার মুবারক শাহাদাতে তিনি অত্যন্ত কষ্ট পান। তিনি যখন পবিত্র মক্কা শরীফ হতে পবিত্র মদীনা শরীফ উনার পথ ধরলেন, তখন মুনাফিকরা উনার চতুষ্পাশে জমা হতে শুরু করলো। উনার মুবারক খিদমতে যত সব মিথ্যা প্রোপাগান্ডা শুরু করলো। তারা বললো, আপনি উম্মুল মু’মিনীন। আপনি সকলের মাতা। আপনি সকলের অভিভাবক। আপনি সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার শাহাদাত মুবারক উনার বিচার অবশ্যই চেয়ে থাকেন। কিন্তু নতুন খলীফা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বিচার করতে চান না। বরং তিনি আসামীদেরকে প্রশ্রয় দেন। নাউযুবিল্লাহ! তাদের এসব মিথ্যা অপবাদ শুনে উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি সম্মানিত খলীফা উনার সাথে আলোচনা করার ইচ্ছা মুবারক পোষণ করেন। তাই তিনি কুফা অভিমুখে রওনা হন। মুনাফিকরা দেখলো- যদি উনারা দু’জন আলোচনায় একত্রিত হন, তাহলে তাদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়ে যাবে। তাই তারা আলোচনার পরিবর্তে যুদ্ধ বাঁধানোর অপচেষ্টা শুরু করলো।

মুনাফিকরা সম্মানিত খলীফা উনার বিরুদ্ধে লোক জমানো শুরু করলো। অপরদিকে খলীফা উনার নিকট সংবাদ পৌঁছানো হলো যে, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি আপনার বিরুদ্ধে বিশাল বাহিনী নিয়ে এগিয়ে আসছেন। সংবাদ শুনে তিনি আশ্চর্যবোধ করলেন। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তিনি অগ্রসর হলেন। বসরার নিকটবর্তী এক স্থানে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার শিবির দেখা গেল। বিধায় অপরদিকে তিনিও শিবির স্থাপন করালেন। উনারা দু’জনই আলোচনায় একত্রিত হতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু মুনাফিকরা বারবারই তা বাধাগ্রস্ত করলো। এভাবে দিন গিয়ে রাত এলো। গভীর রাতে দু’শিবিরের সকলেই ঘুমন্ত। কিন্তু মুনাফিকরা সজাগ। তারা দু’দলে বিভক্ত হয়ে অন্ধকারে দু’শিবিরে হামলা চালায়। শুরু হয়ে যায় হৈ হুল্লোড়, চিৎকার চেঁচামেচি। সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে বলা হলো যে, হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার লোকেরা হামলা চালিয়েছে। আবার উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে বলা হলো যে, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার লোকেরা হামলা চালিয়েছে। শুরু হয়ে গেল ঘোরতর যুদ্ধ। কিন্তু উনারা দু’জনই এজন্য আফসুস করলেন। যুদ্ধ বন্ধের জন্য কৌশল অবলম্বন করতে লাগলেন।

সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি যুদ্ধ বন্ধের জন্য বারবার কৌশল অবলম্বন করেন। আর মুনাফিকরা যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করতে অপচেষ্টা চালায়। পরিশেষে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে বহনকারী উটের পা কেটে দিয়ে উনার হাওদা মুবারক সরিয়ে নিলে যুদ্ধ থেমে যায়। অত্যধিক তা’যীম তাকরীমের সহিত উনাকে পবিত্র মদীনা শরীফে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এ যুদ্ধকে ইতিহাসে জঙ্গে জামাল হিসেবে অভিহিত করা হয়।

মুনাফিকরা জঙ্গে জামালের মাধ্যমে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার শাহাদাত মুবারক উনার বিচার বিঘিœত করার পাশাপাশি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাদেরকেও শহীদ করার ষড়যন্ত্র করেছিল। কিন্তু তাদের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হয়নি। তাই মুনাফিকরা ষড়যন্ত্রে আরো মরিয়া হয়ে উঠে।

খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার মুবারক খিলাফতকাল হতে হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সিরিয়ার গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মুনাফিকরা তাদের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের জন্য এবার সিরিয়ায় একত্রিত হতে থাকে। সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি আলোচনার জন্য এগিয়ে যান। অপরদিকে হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনিও আলোচনার জন্য এগিয়ে আসেন। উনারা দু’জনই ফোরাত নদীর তীরে অবস্থান মুবারক গ্রহণ করেন। জঙ্গে জামালের অনুকরণে মুনাফিকরা আবারো যুদ্ধ বাঁধায়। মুনাফিকরা সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার লোকদের উপর রাতের আঁধারে হামলা চালিয়ে বলে যে, হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার লোকেরা হামলা করেছে। অনুরূপভাবে হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার লোকদের উপর হামলা চালিয়ে মুনাফিকরা বলে যে, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার লোকেরা হামলা চালিয়েছে। আবারো শুরু হয় ঘোরতর যুদ্ধ। এ যুদ্ধে ৭০ হাজার মুসলমান শহীদ হন। ইতিহাসে তা সিফফিনের যুদ্ধ হিসেবে খ্যাত।

সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার বিদ্বেষী তথাকথিত ঐতিহাসিকরা জঙ্গে জামাল ও জঙ্গে সিফফীনকে কেন্দ্র করে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার বিরোধী মনোভাবকে কাগজে অঙ্কনের বেশ অপচেষ্টা চালিয়েছে। বাজারে প্রাপ্ত অধিকাংশ ইতিহাস বইতে একই কথা। উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম এবং হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের মুবারক শানের বিরোধী বক্তব্যে সেগুলো ভরপুর। অধিকাংশ ক্ষেত্রে উনাদেরকে দোষারোপ করা হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ! উনাদের সমালোচনা করা হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!

মূলত, উনারা হচ্ছেন ঈমান। উনাদের মুহব্বত ঈমানের মূল। উনাদের ইতায়াত আমলের মূল। উনাদের রেযামন্দি মুবারক নাজাতের মূল। উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা কুফরী এবং জাহান্নামী হওয়ার কারণ। সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে অন্যায়ভাবে শহীদ করার সাথে মুনাফিকরা যেরূপ সংশ্লিষ্ট, তদ্রƒপ জঙ্গে জামাল ও জঙ্গে সিফফীনের ঘটনাতেও তারা জড়িত এবং এককভাবে তারাই দায়ী। আর এটাই আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের সহীহ আক্বীদা। এর ব্যতিক্রম আক্বীদা পোষণ করা সুস্পষ্ট গুমরাহী।

সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার খিলাফত মুবারককে কেন্দ্র করে কয়েকটি বাতিল ফিরক্বার উদ্ভব ঘটেছে। উনার মুবারক শানে অতি বাড়াবাড়ি করে শিয়া বা রাফিযী সম্প্রদায় তৈরি হয়েছে। এ ফিরক্বার লোকেরা বাহ্যিকভাবে উনার প্রতি অত্যধিক মুহব্বত দেখিয়ে সূক্ষ্মভাবে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনাকে অবমাননা করে। তাদের মতে, খিলাফতের জন্য কেবল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনিই উপযুক্ত। প্রথম তিনজন খলীফা নন। বরং উনারা জোরপূর্বক শাসন ক্ষমতা দখল করে রেখেছিলেন। নাউযুবিল্লাহ! তাদের এ বক্তব্য সুস্পষ্টভাবে পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের বিরোধী হওয়ায় তা বাতিল ও পরিত্যাজ্য। তারাও বাতিল। আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত উনাদের সহীহ ফতওয়া অনুযায়ী- শিয়া বা রাফিযী সম্প্রদায় কাফির।

এদিকে সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার খিলাফত মুবারকের বিরোধিতা করে খারিজী সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটে। এরা উনার খিলাফত মুবারক মেনে নেয়নি। এরাই উনাকে শহীদ করে। এরাও বাতিল ফিরক্বার অন্তর্ভুক্ত। সম্মানিত শরীয়ত অনুযায়ী এরাও কাফির।

মূল কথা হচ্ছে, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার খিলাফত মুবারক মুসলিম উম্মাহর ঈমান, আমল এবং আক্বীদার সাথে সম্পৃক্ত ও সংশ্লিষ্ট। সর্বক্ষেত্রে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা পোষণ করতে হবে। ভিন্ন আক্বীদা পোষণ করলে ঈমানদার থাকা যাবে না। 

মহান আল্লাহ পাক তিনি মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক উসীলায় সকলকে ছহীহ সমঝ এবং হুসনে যন দান করুন। আমীন।

পবিত্র কুরবানী উনার মূল বিষয়ই হচ্ছে তাক্বওয়া বা খুলূছিয়াত। সুবহানাল্লাহ!

 মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট পবিত্র কুরবানী উনার পশুর গোশত, রক্ত পৌঁছে না; বরং তোমাদের তাক্বওয়া পৌঁছে থাকে।’ সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র কুরবানী উনার মূল বিষয়ই হচ্ছে তাক্বওয়া বা খুলূছিয়াত। সুবহানাল্লাহ! যারা তাক্বওয়া বা খুলূছিয়াতের সাথে পবিত্র কুরবানী করেছেন, উনারাই মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি-রেযামন্দি মুবারক হাছিল করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

অতএব, সকলের জন্যই ফরয হচ্ছে- একজন হক্কানী-রব্বানী মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত গ্রহণ করে সবক্ব আদায় করার সাথে সাথে ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করার মাধ্যমে ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ হাছিল করে ইখলাছ বা তাক্বওয়া হাছিল করা। কেননা হক্কানী-রব্বানী শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত গ্রহণ করা ব্যতীত ইছলাহ বা তাক্বওয়া হাছিল করা কস্মিনকালেও সম্ভব নয়।

::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::

- ক্বওল শরীফ: সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম

::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::


যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইউস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যূল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদে রসূল, মাওলানা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘পবিত্র সূরা কাওছার শরীফ” উনার মধ্যে সামর্থ্যবান বান্দা-বান্দীকে উনার সন্তুষ্টি মুবারক অর্জনের লক্ষ্যে পবিত্র কুরবানী করার জন্য সরাসরি নির্দেশ মুবারক প্রদান করেছেন। যেমন- মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আপনার মহান রব তায়ালা উনার (সন্তুষ্টি মুবারকের) জন্য পবিত্র নামায আদায় করুন এবং পবিত্র কুরবানী করুন।” আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা খুশি মনে ইখলাছ বা আন্তরিকতার সাথে পবিত্র কুরবানী করো।” মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, “মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট পবিত্র কুরবানী উনার পশুর গোশত, রক্ত পৌঁছে না, বরং তোমাদের তাক্বওয়া পৌঁছে থাকে।” সুবহানাল্লাহ!


মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘পবিত্র সূরা বাইয়্যিনাহ শরীফ’ উনার ৫ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “তাদেরকে (ঈমানদারদেরকে) শুধু এ নির্দেশ মুবারকই দেয়া হয়েছে যে, তারা যেন খালিছভাবে অর্থাৎ ইখলাছ মুবারক উনার সাথে মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত করে।” আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি ওই সমস্ত আমল কবুল করবেন না; যা ইখলাছ মুবারক উনার সাথে মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক উনার জন্য করা হয় না।” পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদের আকৃতি বা ধন-সম্পদের প্রতি লক্ষ্য করেন না, বরং তিনি তোমাদের নিয়ত ও অন্তরের (ইখলাছের) দিকে লক্ষ্য করেন।”


মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা পশুর কোনো কিছুই গ্রহণ করেন না। উনারা দেখেন- কে উনাদের সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের জন্য উনাদের নির্দেশ মুবারক মুতাবিক পবিত্র কুরবানী করলো। আর কে গাইরুল্লাহর জন্য নিজের খেয়াল-খুশি মতো পবিত্র কুরবানী করলো। 


মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, তাক্বওয়া বা ইখলাছ ব্যতীত পাহাড়সম আমলও কোনো উপকারে আসবে না। তাই তাক্বওয়া বা ইখলাছ অর্জন করা ফরয। অতএব, সকলের জন্যই ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে, হক্কানী-রব্বানী মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত গ্রহণ করে সবক্ব আদায় করার সাথে সাথে ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করার মাধ্যমে ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ হাছিল করে ইখলাছ বা তাক্বওয়া মুবারক হাছিল করা। কারণ হক্কানী-রব্বানী শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত গ্রহণ করা ব্যতীত ইখলাছ বা তাক্বওয়া হাছিল করা কস্মিনকালেও সম্ভব নয়।


মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মূল কথা হলো- যারা তাক্বওয়া বা খুলূছিয়াতের সাথে পবিত্র কুরবানী করেছেন তারাই মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের রেযামন্দি মুবারক হাছিল করেছেন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট অধিক সম্মানিত, যে ব্যক্তি অধিক মুত্তাক্বী।” অর্থাৎ যিনি পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনার অধিক অনুসরণকারী। সুবহানাল্লাহ!

-০-

জামায়াতের কাতারে ফাঁক বন্ধ করুন, সকল রোগ-শোক থেকে নিরাপদ থাকুন।

 জামায়াতের কাতারে ফাঁক বন্ধ করুন, সকল রোগ-শোক থেকে নিরাপদ থাকুন।

_________________________________________


মুসলমান দ্বীন ইসলাম মানে এবং মানবে। পবিত্র কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা শরীফ ও ক্বিয়াস শরীফ মানে এবং মানবে। শরীয়তের এই সীমার বাইরে কোন ডাক্তারি ফরমুলা, কোন বৈজ্ঞানিক থিওরি বা কোন প্রকা- আকৃতির ব্যক্তি বা মানুষকে দ্বীন ইসলাম স্বীকার করে না এবং কোন মুসলমানও সেটা মানতে পারে না।

পবিত্র ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছোঁয়াচে বলতে কোন রোগ নেই। তাই যে যেই ফরমুলাই দিকনা কেন, মুসলমান কখনোই সেটা বিশ্বাস করে না এবং মানতে পারে না।

তাই কোন ডাক্তার বা বিজ্ঞানী বা কোন নামধারী মাওলানা-মুফতীরা যদি হাজারবারও বলে- করোনা ছোঁয়াচে রোগ, তাই মসজিদে যাবেন না, কম যাবেন নাউযুবিল্লাহ! গেলেও ফাঁক ফাঁক করে দাঁড়াবেন, নাউযুবিল্লাহ! এলকোহলযুক্ত স্যানিটারাইজ দিয়ে হাত ধুবেন, নাউযুবিল্লাহ! -কস্মিনকালেও একজন মুসলমান-একজন ঈমানদার এসব শরীয়তবিরোধী ও কুফরী কথা বিশ্বাস করতে পারে না এবং মানতে পারে না।

বরং একজন ঈমানদারের বিশ্বাস হলো- পবিত্র মসজিদ মহান আল্লাহপাক উনার রহমত, বরকত হাছিলের জায়গা। মসজিদে গিয়ে জামায়াতের সাথে নামায আদায় করলে অনেকবেশি রহমত, বরকত অর্জন করা যায়। আর এই রহমত-বরকতই হলো একজন মানুষের সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদ থাকার একমাত্র উছিলা। তাই সকলের উচিত- কোন ডাক্তার বা ধর্মব্যবসায়ীদের কথা না শুনে মহান আল্লাহপাক উনার মুহব্বতে বেশি বেশি মসজিদে যাওয়া, জামায়াতের সাথে ৫ ওয়াক্ত নামায আদায় করা, বেশি বেশি কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করা, মীলাদ শরীফ পাঠ করা। এগুলোই সকল রোগ-শোক, বালা-মুছীবত থেকে সুস্থ, সুন্দর, নিরাপদ থাকার একমাত্র উপায়। সুবহানাল্লাহ!

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...