Saturday, July 17, 2021

কুরবানীকৃত পশুর গোশত বণ্টনের বিধান

 কুরবানীকৃত পশুর গোশত বণ্টনের বিধান



কুরবানীকৃত পশুর গোশত বণ্টন প্রসঙ্গে কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে- 


يَسْتَحِبُّ التَّصَرُّفُ ثُلُثٌ لِنَفْسِهِ ثُلُثٌ هَدِيَّةٌ ثُلُثٌ لِلْفُقَرَاءِ وَالْـمَسَاكِيْنَ وَاِنْ كَانَتْ وَصِيَّةٌ يَتَصَدَّقُ بِـجَمِيْعِهَا.


অর্থ : “পবিত্র কুরবানী উনার গোশত বণ্টন করার মুস্তাহাব নিয়ম হচ্ছে- এক তৃতীয়াংশ নিজের জন্য রাখবে, এক তৃতীয়াংশ আত্মীয়-স্বজন পাড়া-প্রতিবেশীর জন্য হাদিয়া স্বরূপ দিবে আর এক তৃতীয়াংশ গরীব-মিসকীনের জন্য দান স্বরূপ দিবে। আর যদি কুরবানীকৃত পশুটি ওছিয়তকৃত হয়ে থাকে তাহলে সম্পূর্ণটাই গরীব-মিসকীনকে দান করে দিতে হবে।” (ফিক্বাহর কিতাবসমূহ)


অর্থাৎ কুরবানীদাতার জন্য কুরবানীকৃত পশুর 


গোশ্ত কাউকে দেয়া বা না দেয়া তার ইখতিয়ারের অন্তর্ভুক্ত। সে ইচ্ছা করলে সম্পূর্ণটাই দান করে দিতে পারে, আবার ইচ্ছা করলে সম্পূর্ণটাই রেখে খেতে পারে। এতে কুরবানী উনার কোন ত্রুটি হবে না। তবে একটা বিষয় অবশ্যই লক্ষ্যণীয় তা হলো- কুরবানীদাতা যদি এমন কোন পশু কুরবানী করে থাকে যার গোশত- ১০/১২ কেজি বা তার চেয়ে কম হয় অথবা শরীকে কুরবানী দিয়েছে, সেখান থেকে সে ১০/১২ কেজি গোশত বা তার চেয়ে কম পেয়েছে। অথচ তার বাড়ীতে স্ত্রী-পুত্র, সন্তান-সন্ততি ইত্যাদি মিলে তার অধীনে প্রায় ২০/২৫ জন রয়েছে। যাদের ভরণ-পোষণ করার দায়িত্ব তার।


কুরবানীদাতার জন্য আত্মীয় স্বজনকে পবিত্র কুরবানীর গোশত হাদিয়া স্বরূপ দেয়া বা গরীব মিসকীনকে দান করা ফরয, ওয়াজিব বা সুন্নতে মুয়াক্কাদা কোনটাই নয় বরং এমতবস্থায় উক্ত কুরবানীদাতার জন্য ফরয হবে তার অধীনস্থ লোকদেরকে পবিত্র ঈদ উনার দিনে খাওয়ার ব্যবস্থা করা। তাই কুরবানীদাতা যদি যে গোশত পেয়েছে তার এক তৃতীয়াংশ রেখে বাকী সব বণ্টন করে দেয় তাহলে দেখা যাবে তার ঘরে মাত্র প্রায় ৪ কেজি বা তার চেয়ে কম গোশত থাকবে। যা দিয়ে সে তার অধীনস্থ লোকদেরকে পবিত্র ঈদ উনার তিন দিনের প্রথম দিনই তৃপ্তিসহকারে খাওয়াতে পারবেনা। এখন তার জন্য উত্তম হবে এবং ফযীলতের কারণ হবে গোশত বণ্টন করে না দিয়ে সবটাই রেখে অধীনস্থ লোকদের তৃপ্তিসহকারে খাওয়ানো।


হ্যাঁ, এরপরও কথা থেকে যায় সেটা হলো- যদি কুরবানীদাতা ও তার অধীনস্থ সকলেই মহান আল্লাহ্ পাক উনার সন্তুষ্টির জন্যে এক তৃতীয়াংশ রেখে বাকী গোশত অথবা সম্পূর্ণ গোশত মহান আল্লাহ্ পাক উনার রাস্তায় দান করে দেয় তাহলে অবশ্যই সেটা আরো উত্তম, আরো ফযীলতের কারণ।


উল্লেখ্য, ফরয, ওয়াজিব, সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ্ ও মুস্তাহাব সুন্নত, তরতীব মত আমল করাই সবচাইতে ফযীলতপূর্ণ ও মর্যাদার কারণ।


কুরবানীদাতা যদি এমন হয় যার স্ত্রী, পুত্র, সন্তান-সন্ততি ইত্যাদি যাদের ভরণ-পোষণ তার যিম্মাদারিতে রয়েছে তাদের সংখ্যা ৮/১০ জন। আর কুরবানীদাতা একাই দুই তিনটা গরু কুরবানী করল যা থেকে সে গোশত পেল প্রায় ৮/১০ মণ বা তার চেয়ে বেশী। এখন এ থেকে এক তৃতীয়াংশ গোশত রাখলেও তার অধীনস্থ লোকদের পক্ষে অনেকদিন ধরে খেয়েও শেষ করা সম্ভব হবে না। তাই এ কুরবানীদাতা যদি দুই তৃতীয়াংশের পরিবর্তে নয় দশমাংশ অর্থাৎ দশ ভাগের নয় ভাগই দান করে দেয় তাতেও কোন অসুবিধা নেই।


উল্লেখ্য যে, কোন কোন গ্রামে-গঞ্জে বা মহল্লায় দেখা যায়, সেখানে যত পশু কুরবানী করা হয় প্রত্যেক কুরবানীদাতার কুরবানীকৃত পশুর এক তৃতীয়াংশ গোশত এক স্থানে জমা করে উক্ত এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ জমাকৃত গোশতগুলোকে এলাকার গরীব মিসকীন ও ধনী অর্থাৎ যারা কুরবানী করেছে আর যারা কুরবানী করেনি তাদের প্রত্যেককেই সমহারে বণ্টন করে দেয়।


এই ধরনের বণ্টনের কারণে গরীব মিসকীনের হক নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ জমাকৃত গোশতগুলোকে এলাকার গরীব মিসকীন ও ধনী নির্বিশেষে সকলের মাঝেই বণ্টন করছে।


উল্লেখ্য, এলাকাবাসী যদি গরীব-মিসকীনকে বণ্টন করে দেয়ার জন্যই এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে গোশত দিয়ে থাকে তাহলে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব ও কর্তব্য হবে শুধুমাত্র গরীব-মিসকিনদের মধ্যেই উক্ত গোশ্ত বণ্টন করে দেয়া। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ যদি বিপরীত কাজ করে তাহলে তারাই গরীব-মিসকীনের হক নষ্টকারী হিসাবে সাব্যস্ত হবে এবং এর জন্য তাদেরকে কঠিন জবাবদিহি করতে হবে। আর তারাই দায়ী থাকবে।


এছাড়াও এতে কুরবানীদাতারও হক্ব নষ্টের সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা কুরবানীদাতাদের মধ্যে যারা এক তৃতীয়াংশ গোশত দিয়ে দিলে তারা তাদের পরিবারবর্গ বা অধীনস্থদেরকেই পবিত্র ঈদ উনার দিন তৃপ্তিসহকারে খাওয়াতে পারবেনা এমন ব্যক্তির নিকট থেকেও গোশত সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাই এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ যদি প্রকৃতপক্ষেই গরীব-মিসকিনদের উপকার করতে চায় তাহলে তাদের উচিত হবে এলাকার ঐ সমস্ত কুরবানীদাতাদের নিকট থেকে এক তৃতীয়াংশ গোশত সংগ্রহ করা যারা এক তৃতীয়াংশ গোশত দেয়ার পরও তাদের পরিবার বা অধীনস্থদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ গোশত থেকে যায়, অথবা যারা স্বেচ্ছায় দান করে। যাদের নিকট পর্যাপ্ত পরিমাণে গোশত নেই অর্থাৎ যারা এক তৃতীয়াংশ গোশ্ত দিয়ে দিলে তারা তাদের পরিবারবর্গ বা অধীনস্থদেরকেই পবিত্র ঈদ উনার দিন তৃপ্তিসহকারে খাওয়াতে পারবেনা এমন ব্যক্তির নিকট থেকে জবরদস্তি করে গোশত সংগ্রহ করলে ছওয়াবের পরিবর্তে কঠিন গুণাহ হবে।


আর বণ্টনের ক্ষেত্রে ওই সমস্ত লোকদেরকে গোশত দিতে হবে যারা কুরবানী দেয়নি অথবা যদি কুরবানী দিয়েও থাকে তথাপিও তারা চাহিদা মুতাবিক গোশত পায়নি। কুরবানী দেয়ার কারণে যাদের নিকট পর্যাপ্ত পরিমাণে গোশত রয়েছে তাদেরকে মিসকীনের অংশ থেকে গোশত দেয়া কখনই নেকীর কাজ হবে না। (মিরকাত, বাহরুর রায়িক, আলমগীরী, শামী)

#qurbani

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...