Monday, December 20, 2021

রাজারবাগ শরীফ উনার পরিচিতি -২

 রাজারবাগ শরীফ উনার পরিচিতি -২



মুবারক পূর্বপূরুষ উনাদের পরিচিতি :

আমাদের এ অঞ্চলে পবিত্র দ্বীন ইসলাম প্রচারের জন্য এসেছেন হযরত ওরাছাতুল আম্বিয়াগণ অর্থাৎ ওলীআল্লাহগণ উনারা। উনারাই এ অঞ্চল যথা: বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে পবিত্র দ্বীন ইসলাম প্রচার করেছেন, পথহারা মানুষদেরকে ঈমান দান করেছেন। এমনি এক মহান ওলীআল্লাহ ছিলেন খাজা গরীবে নাওয়াজ হযরত মুঈনুদ্দীন চিশতি রহমতুল্লাহি আলাইহি; যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাইবিয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কর্তৃক স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে ভাতবর্ষের আজমীর শরীফে হেদায়েতের বার্তা নিয়ে আগমন করেন। তিনি সমরখন্দ, লাহোর, মুলতান হয়ে দিল্লী পৌঁছেন। পরবর্তীতে দিল্লী থেকে আজমীর শরীফ পৌঁছে পবিত্র দ্বীন ইসলাম প্রচার শুরু করেন। কিছু সঙ্গী-সাথী ছাড়া কোনো সৈন্য-সামন্ত উনার ছিল না। আজমীর শরীফের যালিম হিন্দু শাসক পৃথ্বীরাজ চৌহান কিছুতেই গরীবে নাওয়াজ হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে সহ্য করতে পারলো না। হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট পৃথ্বীরাজের প্রধান যাদুকর ও বিশাল সৈন্য বাহিনী তুলার মতো উড়ে গেল। পরবর্তীতে পৃথ্বীরাজ নিজে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে হযরত শিহাবউদ্দিন মুহম্মদ ঘোরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার হাতে প্রাণ দেয়। পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সাম্য ও মাধুর্যে মুগ্ধ হয়ে প্রায় ১ কোটি বিধর্মী হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার হাতে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে দীক্ষিত হয় । মহান আল্লাহ পাক উনার এই মহান ওলীআল্লাহ বেশ কিছু সঙ্গী-সাথী ও অনুসারীদের নিয়ে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম প্রচারের জন্য ভারতবর্ষে এসেছিলেন। উনার সঙ্গীদের মধ্যে উনার এক অন্তরঙ্গ সঙ্গী ছিলেন ঐ যামানার খাছ লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ আবু বকর মুজাদ্দিদি রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি আজমীর শরীফে পবিত্র দ্বীন ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে অবস্থান করেন এবং সেখানে পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। আজমীর শরীফে উনার মাজার শরীফ রয়েছে। উনারই অধস্তন বুযুর্গ আওলাদ হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ আলাউদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ সালাউদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা ১১ হিজরী শতকের শেষার্ধে হিদায়াতের মহান ব্রত নিয়ে চট্টগ্রাম আসেন।

পাঠক, নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, সে কালে প্রধানতঃ পানিপথেই হিদায়াতের উদ্দেশ্যে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অনেক ওলীআল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বাংলাদেশে আসতেন। এজন্য চট্টগ্রামকে আজো ওলীআল্লাহগণের আগমনের কেন্দ্রবিন্দু (বা প্রধান পথ) মানা হয়ে থাকে। এই চট্টগ্রাম থেকেই উনারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তেন। আজ বাংলাদেশের সব অঞ্চলে মুক্তার মতো ছড়িয়ে আছেন বহু ওলী-আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের পবিত্র রওযা মুবারক। এই ধারাবাহিকতায় হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ আলাউদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ সালাউদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা চট্টগ্রাম পৌঁছেন। কিছুদিন চট্টগ্রাম অবস্থানের পর উনারা দুই ভাই হিদায়াতের উদ্দেশ্যে উভয়ই না’গঞ্জের (নূরানীগঞ্জ) সোনারগাঁও আসেন। এই সোনারগাঁয়ে অসংখ্য হযরত ওলীআল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি এসেছিলেন; এর নিদর্শন এলাকায় ভুরিভুরি পাওয়া যায়। হযরত সাইয়্যিদ সালাউদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এই সোনারগাঁও এলাকায় হিদায়াতের কাজে ব্যস্ত থাকেন এবং সেখানেই বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।

আর হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ আলাউদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সোনারগাঁওয়ে কিছু দিন অবস্থান করার পর সোনারগাঁওয়ের অদূরে যে স্থানে উনার হিদায়াতের কেন্দ্র গড়ে তুললেন তার বর্তমান নাম “প্রভাকরদী”। এই প্রভাকরদীতে রয়েছে একটি মাজার শরীফ কমপ্লেক্স, যেখানে রয়েছেন বর্তমান যামানার মহান মুজাদ্দিদ, ইমামুল উমাম, হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত পূর্বপুরুষগণ উনারা। এই ‘সাইয়্যিদ বাড়ি’তে আজো রয়েছে সুমহান ঐতিহ্য ও ইযযত মুবারকের ছাপ।

এখানে একটি কথা বলে রাখা প্রয়োজন; তা হলো- হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম এবং হযরত ওলীআল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা সকলেই সম্ভ্রান্ত পূর্বপুরুষগণ উনাদের মাধ্যমে পৃথিবীতে তাশরীফ এনেছেন। এর সামান্য ব্যতিক্রম কেউ খুঁজে পাবে না।

হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ আলাউদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বুযুর্গ আওলাদ হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ মালাউদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্মানিত বুযুর্গ আওলাদ হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ এলাহি বখ্স রহমতুল্লাহি আলাইহি। উনার সম্মানিত বুযুর্গ আওলাদ হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ ওয়ালী বখ্স রহমতুল্লাহি আলাইহি। উনার সম্মানিত বুযুর্গ আওলাদ হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলেছুর রহমান রহমতুল্লাহি আলাইহি।

কুতুবুয যামান, আরিফ বিল্লাহ, লিছানুল হক, ফখরুল আউলিয়া, হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলেছুর রহমান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ১৩২৫ হিজরী (১৯০৮ ঈসায়ী) সালে ‘সাইয়্যিদ বাড়ি’র পুণ্যভূমিতে তাশরীফ আনেন। পিতা-মাতা উভয়ে ছিলেন যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি। সিলসিলা পরম্পরায় তিনি ছিলেন পিতা-মাতার দিক থেকে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনাদের সাথে সম্পৃক্ত। সুতরাং উনি ছিলেন আওলাদে রসূল।

এই মহান ওলীআল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হলেন আমাদের প্রাণাধিক প্রিয়, যামানার লক্ষ্যস্থল ওলী, মুজাদ্দিদে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল মুজাদ্দিদে যামান, ইমামুল উমাম, হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম। উনার বুযুর্গ পূর্বপুরুষগণ উনাদের সম্পর্কে সামান্যই উল্লেখ করা হলো। প্রভাকরদী সাইয়্যিদ বাড়ির মুবারক মাজার শরীফ কমপ্লেক্স উনার নামফলকে সম্মানিত পূর্বপুরুষগণ উনাদের নাম মুবারকসমূহ উল্লেখ রয়েছে।


Writer: Abm Ruhul Hassan

সাংবাদিকতার আড়ালে চাঁদাবাজি; অতঃপর ব্যর্থ হয়ে রাজারবাগ দরবার শরীফের বিরুদ্ধে লেখালেখি।

 সাংবাদিকতার আড়ালে চাঁদাবাজি; অতঃপর ব্যর্থ হয়ে রাজারবাগ দরবার শরীফের বিরুদ্ধে লেখালেখি।



আমার অতি পরিচিত এক সাংবাদিকের সাথে দেখা। সেই সাংবাদিক একটি জাতীয় দৈনিকের পাশাপাশি একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার কলামিস্ট। আমার সাথে অনেকক্ষণ কথাবার্তা বলে সেই সাংবাদিক বললো এবার তাহলে যাই। আমি বললাম এখন কোথায় যাবেন? সাংবাদিক বললো এক ব্যাংক ম্যানেজারের কাছে যাব। আমি বললাম ব্যাংক ম্যানেজারের কাছে আপনার কি কাজ? সাংবাদিক তার ব্যাগ থেকে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা বের করে দেখালো। দেখলাম সেই পত্রিকার মধ্যে ব্যাংক ম্যানেজারের বিরুদ্ধে অনেক কিছু লেখা। তারপর সেই সাংবাদিক বললো পত্রিকার এই লেখাটি দেখিয়ে ব্যাংক ম্যানেজারের থেকে টাকা আদায় করবো। আর বলবো যদি নিয়মিত টাকা না দেন তাহলে আপনার বিরুদ্ধে আরো অনেক কিছু লেখালেখি করবো। আমি বললাম তারপর কোথায় যাবেন? সাংবাদিক বললো একটি থানার ওসির সাথে দেখা করবো। থানার ওসিকে পত্রিকা দেখিয়ে বলবো যদি টাকা না দেন তাহলে ব্যাংক ম্যানেজারের মতো আপনার বিরুদ্ধেও লেখালেখি করবো। এভাবে ওসির থেকেও টাকা আদায় করবো। আমি সাংবাদিককে জিজ্ঞেস করলাম এভাবে রিপোর্ট লিখে কত লোক থেকে টাকা আদায় করেছেন। সাংবাদিক স্বীকার করলো এভাবে মিথ্যা রিপোর্ট লিখে ভয় দেখিয়ে সরকারি-বেসরকারি অনেক লোক থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করেছে। তারপর সাংবাদিক বললো, আমরা সাংবাদিকতা করে আর কত টাকা বেতন পাই? আমরা যে এতো টাকা আয় করি সেটা মিথ্যা রিপোর্ট লিখে মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করে আয় করি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ঢাকা রাজারবাগ দরবার শরীফ উনার সম্মানিত হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি পৈত্রিকভাবে বিশাল জায়গা সম্পত্তির মালিক। পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীস শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে যে, মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় মাল সম্পদ, টাকা খরচ করলে মহান আল্লাহ পাক তিনি মাল সম্পদকে বহু গুনে বৃদ্ধি করে দেন। ঢাকা রাজারবাগ দরবার শরীফ উনার সম্মানিত হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি সারাদেশে অসংখ্য মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা সহ বহু দ্বীনি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। আর এই দ্বীনি প্রতিষ্ঠান গুলিতে তিনি প্রতিনিয়ত অনেক টাকা খরচ করে যাচ্ছেন।

রাজারবাগ দরবার শরীফ উনার সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মাল সম্পদকে মহান আল্লাহ পাক তিনি বৃদ্ধি করে দিচ্ছেন। সুবহানাল্লাহ! আর উনার এই মাল সম্পদের দিকে কু-দৃষ্টি পড়েছে সাংবাদিক নামধারী চাঁদাবাজ চক্রের। প্রথমে তারা রাজারবাগ দরবার শরীফ থেকে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। রাজারবাগ দরবার শরীফ উনার পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয় আমাদের কোন কথা, কাজ, আমলকে সম্মানিত শরীয়ত উনার বিপরীত প্রমাণ করতে পারলে হাজার কোটি টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। কিন্তু প্রবাদ আছে চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী। রাজারবাগ দরবার শরীফ উনার শরীয়ত সম্মত আহবান সাংবাদিক নামধারী চাঁদাবাজ চক্রের পছন্দ হয়নি। তাদের প্রয়োজন মোটা অংকের চাঁদা। সাংবাদিক নামধারী চাঁদাবাজ চক্র চাঁদা না পেয়ে প্রচন্ড ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলো। তারপর রাজারবাগ দরবার শরীফ সম্পর্কে যতসব মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট কাহিনী তাদের পত্রিকায় লিখতে শুরু করলো। উদ্দেশ্য রাজারবাগ দরবার শরীফ থেকে মোটা অংকের চাঁদা আদায়। কিন্ত রাজারবাগ দরবার শরীফ উনার পক্ষ থেকে নির্ভীক, সুস্পষ্ট ঘোষণা, আমরা একটি পয়সাও চাঁদা দিবো না। আমাদের কোন কথা, কাজ, আমলকে সম্মানিত শরীয়ত উনার বিপরীত প্রমান করতে পারলে হাজার কোটি টাকা পুরস্কার। আর তাই সাংবাদিকতার আড়ালে চলছে চাঁদাবাজি।

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...