নিশ্চিত পরাধীনতার পথে ধাবমান বাংলাদেশ
(পর্ব-১)
প্রিয় পাঠক! লেখাটি একটি ধারাবাহিক যা ১০টি পর্বে সমাপ্ত হবে ইনশাআল্লাহ।
প্রথমে মনে রাখতে হবে যে একটি যুদ্ধ যখন ঘটে তখন দেশের সমস্ত প্রান্তে একই ভাবে, একই ফর্মেশনে, একই কৌশলে ঘটে না। বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন কৌশলে যুদ্ধ করে শত্রুভূমিকে কব্জা করা হয়।
অজগর সাপ যখন কোন শিকার ধরে, প্রথমে মাথা থেকে তাকে খেতে শুরু করে। মাথাটা খেতে পারলে বাকী শরীর সম্মোহিতের মত স্বয়ংক্রিয় ভাবেই তার পেটে ধীরে ধীরে প্রবেশ করে। ভারত নামের অজগর সাপটি বাংলাদেশের মাথা কিন্তু তার মুখে ঢুকিয়ে ফেলেছে, এখন গোটা বাংলাদেশকে গিলে ফেলা সময়ের ব্যাপার মাত্র।
অতি সংক্ষেপে আমি বিষয়টি প্রমাণ করবো এবং সেই সাথে কি করতে হবে তার দিক নির্দেশনাও পর্যায়ক্রমে দেওয়ার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।
প্রমাণসমূহ :
১. ভারতের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় জাতির সাথে চরম বেইমানী করে ভোটহীন নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা দখল।
২. ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনীর সহায়তায় পরিকল্পিত ভাবে ৫৭ জন নিরস্ত্র সেনা কর্মকর্তা হত্যা।
৩. বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গেলে প্রধানমন্ত্রী মোদীতো নয়ই, কোন দপ্তরবিহীন মন্ত্রী কিংবা সচিব পর্যায়ের ব্যক্তি পর্যন্ত বিমান বন্দরে অভ্যর্থনা করতে আসে না। আসে সেকশন অফিসার পর্যায়ের কোন মহিলা কর্মকর্তা। বাংলাদেশের জন্য এটি চরম অপমান।
৪. পরিকল্পিত ভাবে সীমান্তে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশী মুসলমান শহীদ করা হচ্ছে। বাংলাদেশের (অ)নির্বাচিত প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশ, পত্র পত্রিকায় যাতে সেই খবরগুলো ছাপা না হয়।
৫. র্যাব সদস্যদেরকে সূক্ষ্ম পরিকল্পনার মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে পরবর্তীতে ধরে নিয়ে যাওয়া এবং সব শেষে জামাকাপড় খুলে বেধড়ক পিটুনি, কানে ধরে উঠ-বস এবং সকল প্রকার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করার পর ছেড়ে দেয়া। বাংলাদেশের প্রবল ক্ষমতাধর প্রধানমন্ত্রী কিন্তু টুঁ শব্দও করেন না।
৬. সীমান্ত হত্যা ও র্যাব সদস্যদেরকে নির্যাতন, সবই করা হয় এক বিশেষ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে তা হচ্ছে, বাংলাদেশীদের দেশপ্রেমের চেতনা ও জাতীয়তাবোধের যে শক্তি তাকে পর্যায়ক্রমে শেষ করে দেয়া।
একটি দেশকে পরাধীন করতে হলে সর্বপ্রথম কাজটি হচ্ছে সেই দেশের জনগনের স্বাধীনতার চেতনাকে গুড়িয়ে দেয়া, সকলের অন্তরে ভীতির সৃষ্টি করা, যা ভারত বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় অত্যন্ত দক্ষতার সাথে করে যাচ্ছে।
৭. এয়ারর্পোট করার বাহানায় ভারত কুমিল্লা জিলার সীমান্ত থেকে প্রায় ১৫০ একর জমি দখল করে নেয়। এটা ছিল বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের উপর প্রকাশ্য চপেটাঘাত।
৮. বর্তমান বাংলাদেশ সরকার অবৈধ ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে গত ১০ বৎসরে স্কুল, কলেজ এবং ইউনিভারসিটি গুলোতে ব্যাপক হারে মুসলমান মেয়েরা হিন্দু শিক্ষক কর্তৃক ধর্ষিতা হয়। শাস্তি তো অনেক পরের কথা অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিচারই হয়নি।
৯. প্রশাসনকে ব্যাপক ভাবে হিন্দুআয়ন করা হয়েছে, দেশের ২% হিন্দু এখন প্রশাসনের ৮০% গুরুত্বপূর্ন পদ দখল করে আছে।
১০. গত ১০ বছরে ছাত্রলীগের জন্য এই চাঁদাবাজী মানবাধিকারে পরিনত হয়েছে। শোভন/রাব্বানীর ঘটনা ছিলো সাজানো, মূল কারনটা হচ্ছে ছাত্রলীগের সর্বোচ্চ আসনে হিন্দু নিয়োগ দিতে হবে, তাই শোভন/রাব্বানীকে একটি বাহানা দেখিয়ে বিতাড়িত করে ইসকন সন্ত্রাসী লেখক ভট্টাচার্য্কে লীগের নেতৃত্বে নিয়ে আসা। লেখক শুধু ইসকনের সন্ত্রাসী নয়, তাকে ঢাকা ইউনিভারসিটিতে খোলা ময়দানে ৩ ফুট লম্বা রামদা নিয়ে শোডাউন করতে ফেসবুকে দেখা যায়। রেফারেন্স- http://bit.ly/2Qrkof8
সে মুসলমান ছাত্র/ছাত্রীদেরকে যারপর নাই নির্যাতন করেছে, তারপর ও সে আজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক।
১১. প্রশাসন, গোয়েন্দা বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর ক্ষমতা হিন্দুদেরকে হস্তান্তর করার পর, ছাত্রলীগ এ করা হলো লেখক ভট্টাচার্য্ এর ক্ষমতায়ন।
১২. শেখ হাসিনা ছাত্র লীগকে বানিয়েছে – কুত্তালীগ, আর যুবলীগকে বানিয়েছে – জানোয়ার লীগ হিসাবে। চাঁদাবাজী, জুয়া, খুন, ধর্ষণ এদের জন্য কোন অপরাধ নয়। যে যত বেশী সন্ত্রাসী কর্মকান্ড প্রদর্শন করতে পারবে, তার পদবী তত উপরে।
১৩. বুয়েটের মত প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা যদি ছাত্রলীগ (কুত্তালীগ) হওয়ার কারণে দলগত ভাবে ঠান্ডা মাথায় নিজ ভাইকে হত্যা করতে পারে, সে ক্ষেত্রে অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কুত্তালীগ এর ছাত্ররা কোন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে?
১৪. বাংলাদেশী মুসলমানদের ধর্মীয় চেতনাকে ভোঁতা করে দেয়ার জন্য কিছুদিন পরপরই বাংলাদেশী হিন্দুরা ধর্ম ইসলামকে চরম ভাবে আঘাত করে ফেসবুকে পোষ্ট দেয়। হাসিনা সরকার তখন ন্যাক্কারজনক ভাবে মিথ্যা বিবৃতি সহ দৌড় ঝাঁপ শুরু করে তাকে জনরোষ থেকে রক্ষা করার জন্য। শেখ হায়েনার কাছে সকল ক্ষমতার মালিক মহান আল্লাহ পাক নন, মোদীই সকল ক্ষমতার উৎস, নাউজুবিল্লাহ।
বাংলাদেশ যে পরাধীনতার দিকে ধাবমান তা এখন জেগে নয়, ঘুমিয়ে থেকেও বোঝা যায়। মূল বিষয় হচ্ছে এহেন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মানুষের কি করণীয়?
কি ভাবে গোমূত্র খাওয়া অজগর ভারত ও তার সেবাদাস আওয়ামী লীগ সরকার থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে?
আলোচনা শুরু হবে দ্বিতীয় পর্ব থেকে!

No comments:
Post a Comment