Tuesday, October 13, 2020

নিশ্চিত পরাধীনতার পথে ধাবমান বাংলাদেশ (পর্ব-২)

 নিশ্চিত পরাধীনতার পথে ধাবমান বাংলাদেশ


(পর্ব-২)



প্রিয় পাঠক! লেখাটি একটি ধারাবাহিক যা ১০টি পর্বে সমাপ্ত হবে ইনশাআল্লাহ। 

মানুষ যখন অপরাধ ও পাপের দ্বারা নিজের কর্তব্যকে ভুলে থাকে তখন ভোগবাদের স্বপ্নিল জগতে নিজেকে ভাসিয়ে দিতে মোটেই কুন্ঠাবোধ করেনা।


পাপাচার ও মদের বিস্ময়কর কার্যকারিতা হলো, এগুলো মানুষের আত্মসংযমকে নিঃশেষ করে দেয়। অমুসলমানেরা শত শত বছর পূর্বে মুসলমানদের বিভ্রান্ত করতে যে স্বপ্নময় পাপাচার দ্বারা আকৃষ্ট করতো, তার কৌশল, মাধ্যম এবং ধরণের পরিবর্তন হলেও সেই প্রক্রিয়া কিন্তু আজ অবধি অব্যাহত রয়েছে। 


আজ বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রায় সকল সামরিক / বেসামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, রাতের আঁধারে মদ ও পরনারী ভোগে লিপ্ত। দেশ জুড়ে সুপরিচিত ঘুষখোর এবং ৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর ভাই আজিজকে মোদীর নির্দেশে দেয়া হয়েছে সেনা প্রধানের দায়িত্ব। যদি জাতি সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয় এই আজিজই সম্ভবত হবে স্বাধীন বাংলাদেশের সর্বশেষ সেনাপ্রধান।


বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ এর অবস্থান আরো শক্তিশালী করতে ১৫৬ টি লীগ এর পর আরো ২টি লীগ প্রতিষ্ঠা করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে: একটি হচ্ছে ’ধর্ষণকারী লীগ’। কমবয়সী মেয়েতে আসক্ত আওয়ামী লীগ এর সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এই ধর্ষণকারী লীগ এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এই বয়সে কার্যক্ষমতার অভাব থাকলেও অভিজ্ঞতার অভাব হবেনা।


প্রস্তাবিত দ্বিতীয় লীগটি হচ্ছে 'ক্যাসিনো লীগ'। এরা সরকারী লাইসেন্স নিয়ে ক্যাসিনো চালাবে। দেশের মানুষকে ধোঁকা দেয়ার জন্য মাঝে মধ্যে সরকার ধরপাকড়ের নাটক করবে, আবার দিনের শেষে রাতের আঁধারে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে। তবে ওরা উপরের কাকে কত টাকা মাসোহারা দেবে তা গোপন রাখা হবে। 


প্রসঙ্গ বদলে এবার একটু অন্যদিকে তাকানো যাক। ভারত তাদের তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতার নামে দেশের মুসলমানদের উপর চালাচ্ছে চরম নিপীড়ন, নির্যাতন, আর বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতার নামে চলছে কঠিন হিন্দু চোষণ আর সন্ত্রাসী হিন্দুদের পদলেহন। 


বাংলাদেশের শিশু/কিশোরদের বই থেকে ইসলামিক চেতনা মুছে সেখানে অধিকাংশ হিন্দু এবং নাস্তিকদের গল্প/প্রবন্ধ আর কবিতা পড়ানো হচ্ছে। গত ১০ বৎসরে স্বঘোষিত নাস্তিক শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের এই সর্বনাশটি করেছে। 


আর বর্তমান শিক্ষাপ্রতি মন্ত্রী নওফেল তো সরাসরি চরম ইসলাম বিদ্বেষী ও উগ্র হিন্দুসন্ত্রাসী ইসকন সদস্য হিসাবে নিজেকে দাবী করে। 


বর্তমান বাংলাদেশের সরকারের মাধ্যমে অবধারিত পরাধীনতার অন্যান্য লক্ষণগুলো হচ্ছে:


১. বর্তমান সরকার ৪০ জন মৃত্যুদণ্ডের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীদেরকে প্রেসিডেন্টের ক্ষমার মাধ্যমে রাতের আঁধারে বিদেশে পাঠিয়েছে। এর ভিতরে এক জন হচ্ছে বর্তমান সেনাপ্রধান আজিজ জেনারেলের আপন ভাই শীর্ষ সন্ত্রাসী যোসেফ। 


হায় সেলুকাস, কি বিচিত্র এই বাংলাদেশ। ৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ভাই সেনাপ্রধান! 


২. ৭১ সালে এই আওয়ামীলীগ নেতারাই পূর্ব পাকিস্তানের ব্যাংক সমূহ লুট করে ৯মাস কোলকাতার বেশ্যাপাড়া আর মদের দোকান গুলোকে জমজমাট করে রাখে। এবার তারা ১০ বৎসরের অধিক ক্ষমতায় তাই তারা পুরো দেশটাকেই বেশ্যাপাড়া আর ধর্ষণ পাড়ায় রূপান্তর করেছে। ব্যাখ্যা করা নিষ্প্রয়োজন! আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন সবই, প্রতিদিনই। 


৩. যে দল টি দেশ স্বাধীন করেছে বলে দাবী করে, তারা আজ পর্যন্ত ভারতের অন্যায় আচরণের বিরূদ্ধে একটি বারের জন্য ও শক্ত ভাষায় প্রতিবাদ করেনি। 


যে যুবসমাজ বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছে, সেই যুবসমাজ তাদের মাতৃভূমিকে অন্ধের মত পরাধীনতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে হীন ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থে। 


যে কারনেই হোক মুসলমানদের মধ্যে দুটো দল যখন যুদ্ধের জন্য মুখোমুখি হয়, তখন কাফেররা সেই দলকেই সহযোগিতা করে যারা বিজয়ী হলে ইসলামের সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হবে। 


ইতিহাস স্বাক্ষী এ ক্ষেত্রে কাফেররা কখনই কোন ভুল করেনি। সেই সুদান, লিবিয়া থেকে সিরিয়া পর্যন্ত ইসলাম ধ্বংসের একই ধারা। 


যে মুসলিম দেশের সরকার ইসলামের যত বেশী ক্ষতি করবে, কাফিররা তাকে ক্ষমতায় রাখার জন্য তত বেশী সহযোগিতা করবে। 


চরম হিন্দুত্ববাদী ও উগ্র ইসলাম বিদ্বেষী ভারত কর্তৃক বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারকে সহযোগিতার মূল কারণটি হচ্ছে এটাই, তারা মুসলিমদের সবচেয়ে বেশী ক্ষতি করতে সক্ষম হবে।  


নিশ্চিত থাকুন ভারতীয় আগ্রাসনের বিপরীতে বাংলাদেশের বর্তমান সেনাবাহিনী প্রধান যুদ্ধক্ষেত্রে না গিয়ে, সেনানিবাসে বসেই তার সেনাবাহিনীকে আত্মসমর্পণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।


 তবে মনে রাখতে হবে, ভারতীয় সেনাবাহিনী এবার বাংলাদেশে প্রবেশ করলে কে ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগ আর কে যে ছাত্রদল তা তারা যাচাই করবে না। তাদের কাছে কিন্তু সবাই মুসলমান! 


দখলদার কাফির সেনাদলের হাজার বছরের ইতিহাস অনুযায়ী মুসলমান মা/বোনদের সাথে যে আচরণ তার করেছে, ঠিক তাই করবে এখানেও।


প্রিয় পাঠক! আপনাদের জানা আছে বসনিয়ায় মুসলিম গণহত্যার ইতিহাস! শুধুমাত্র বসনিয়াতেই লক্ষাধিক মুসলমান মা/বোন ধর্ষিতা হয়েছিল তাদের প্রতিবেশী কাফিরদের দ্বারা, যাদেরকে তারা ভাই বন্ধুদের মতো মনে করতো। 


আপনাদের নিশ্চিত মনে আছে গুজরাটের গণহত্যার কথা! প্রতিবেশী হিন্দুদের দ্বারা খুন ও ধর্ষিতা হয়েছিল হাজার হাজার মুসলমান যাদেরকে ওই মুসলমানরা তাদের ভাই বন্ধু বলে মনে করতো। 


আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে সদ্য ঘটে যাওয়া দিল্লীর মুসলিমদের গণহত্যার কথা! সেখানেও মুসলিমদের বিশ্বস্ত হিন্দুদের দ্বারাই মুসলিমরা খুন ও ধর্ষিতা হয়েছে। 


তাই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিন এবং বাংলাদেশকে ভারতীয় কাফিরদের নিকট হস্তান্তর করা থেকে বিরত থাকুন। 


বুয়েট এর ছাত্র আবরারের শাহাদাতের মধ্য দিয়ে যে স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ শুরু হয়েছে, শ্যামলী ট্রান্সপোর্ট এর চলাচল বাংলাদেশের মাটিতে বন্ধ করার মাধ্যমে সেই যুদ্ধ আপনারা চলমান রাখুন। ঈমানী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হোন।


আর যদি নিজেকে কেয়ামতের ময়দানে বেঈমান হিসাবে উপস্থাপন করতে চান তাহলে ঘুমিয়ে থাকুন!

No comments:

Post a Comment

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...