মুসলমানরা তাদের সন্তাদের কি শেখাচ্ছে ! আসলে কি শেখানো উচিত?
খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা সকলে আল্লাহওয়ালা-আল্লাহওয়ালী হয়ে যাও”। এই সম্মানিত আয়াত শরীফ অনুসারে প্রত্যেক পুরুষ-মহিলা, ছেলে-মেয়ে, ছোট-বড় সকলের জন্যেই আল্লাহওয়ালা-আল্লাহওয়ালী হওয়াটা ফরয। সম্মানিত ইসলামী শরীয়তে একটি শিশু বোঝার বয়সে উপনীত হলেই তাকে দ্বীনী তালিম দেয়ার কথা বলা হয়েছে। কেননা শৈশবকালীন দ্বীনী তালিম একটি শিশুর জন্য আল্লাহওয়ালা-আল্লাহওয়ালী হওয়ার ক্ষেত্রে পাথেয় হিসেবে কাজ করে। সেই হিসেবে প্রত্যেক পিতা-মাতারই উচিত একটি শিশু জন্মগ্রহণ করলেই তাকে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার আলোকে গড়ে তোলা।
কিন্তু আজসুসের বিষয়, এখন পিতা-মাতারা সন্তান জন্মগ্রহণ করলে তাকে শেখায়, বাবা! বড় হয়ে তোমাকে ডাক্তার হতে হবে, ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে, জজ-ব্যরিষ্টার, মন্ত্রী-মিনিস্টার হতে হবে। কিন্তু একজন পিতা-মাতাকেও বলতে শোনা যায় না, বাবা! বড় হয়ে তোমাকে জগৎবিখ্যাত ওলীআল্লাহ হতে হবে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জীবনী মুবারক উনার উপর গবেষক হতে হবে, সম্মানিত কুরআন শরীফ, সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনাদের গবেষক হতে হবে, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার বোল-বালা, প্রচারে নিবেদিতপ্রাণ হতে হবে।
এখন অনেকেই প্রশ্ন করবেন, তাহলে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, জজ-ব্যারিষ্টার হওয়া কি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার সাথে সাংঘর্ষিক। তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, চিকিৎসা করানো খাছ সুন্নত-সুতরাং ডাক্তার লাগবে, বাড়ি-ঘর রাস্তা-ঘাট নির্মাণ করতে হবে সেজন্য ইঞ্জিনিয়ার দরকার, কাফির-মুশরিক মুনাফিকগুলি যদি আইনকে অপব্যবহার করে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার বিরুদ্ধে ব্যবহার করে সেটাকে আইনের মাধ্যমে প্রতিহত করতে জজ-ব্যারিষ্টার প্রয়োজন। অর্থাৎ সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনাকে বোল-বালা করতে যা যা প্রয়োজন তা সবই শিখতে হবে-জানতে হবে। তবে সর্বাগ্রে যে বিষয়টা প্রয়োজন সেটা হচ্ছে তাকে প্রথমেই আল্লাহওয়ালা-আল্লাহওয়ালী হওয়ার তালিম দিতে হবে। এরপর ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, জজ-ব্যারিষ্টার যাই হোক তাতে কোন সমস্যা নেই, বরং কিছু লোককে সেটা হতেই হবে। তবে সমস্যাটা হচ্ছে, এখন মুসলমানদের আক্বীদা নষ্ট হয়ে গেছে। তারা মনে করে ছেলে-মেয়েকে সম্মানিত ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করলে তারা খাওয়া-পরা পাবে না। নাউযুবিল্লাহ!
অথচ মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “মহান আল্লাহ পাক উনার উপর কারোও কোন হক্ব নেই, তবে মহান আল্লাহ পাক উনার হক্ব হচ্ছেন মুমিন বান্দা-বান্দী উনাদের সাহায্য করা”।
এছাড়া হাদীছে কুদসী শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করা হয়েছে, “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- হে আমার বান্দা! আমার ইবাদতের জন্য কিছু সময় নির্ধারণ করে নাও, তাহলে আমি তোমার অন্তরকে বেনিয়াজ (অমুখাপেক্ষী) করে দিবো। তোমার হাতকে রিযিক দ্বারা পরিপূর্ণ করে দিবো।
এরপর আরো ইরশাদ মুবারক করা হয়েছে, হে আমার বান্দা! আমার ইবাদত-বন্দেগী থেকে বিমুখ হয়ো না। যদি বিমুখ হও, তাহলে তোমার অন্তর অপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়বে। তোমার হাত অভাব-অনটনে পরিপূর্ণ হবে”।
তাই প্রত্যেক পুরুষ-মহিলা সকলেরই উচিত নিজেরা আল্লাহওয়ালা-আল্লাহওয়ালী হওয়ার সাথে সাথে সন্তানদেরকে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার তালিম দেয়া। সেই তালিম যেন একজন মুসলমান শিশু সহজেই লাভ করতে পারে সেই বিষয়টি জগৎবিখ্যাত ওলীআল্লাহ হযরত শেখ সাদী রহমতুল্লহি আলাইহি তিনি অল্প কথায় বুঝিয়ে দিয়েছেন, ‘যখন তোমাদের সন্তান জন্মগ্রহণ করে তখন তাকে কোন বুযূর্গ ওলীআল্লাহ উনার দরবার শরীফে পৌঁছে দাও, তাহলে সে যদি বড় ওলীআল্লাহ নাও হতে পারে অন্ততপক্ষে গোমরাহ হবে না’।
আর কেউ যদি সত্যিই ওলীআল্লাহ হতে পারে, তাহলে তার জন্য কুদরতী রিযিকের সর্বোত্তম ফায়সালা হবে। দ্বীনী কিতাবাদীতে এ বিষয়ক অজস্র ওয়াকেয়া আমরা দেখতে পাই। মেছালস্বরূপ উল্লেখ করা যায়, হযরত হাবীব আজমী রহমতুল্লহি আলাইহি উনার কথা।
তিনি জীবনের কোন এক পর্যায়ে সুদের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি নিয়ত করলেন, সুদের সাথে আর সংশ্লিষ্ট থাকবেন না। সেজন্য তিনি যাদের সাথে সুদী কারবার করতেন, তাদের থেকে তো সুদ নিলেনই না বরং আসলটাও ছেড়ে দিলেন। এছাড়া উনার থেকে যারা পাওনা ছিলো সেটা পরিশোধ করতে করতে উনার এবং পরিবারের পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই বাকি থাকলো না। এরপর তিনি ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীকত হযরত ইমাম হাসান বছরী রহমতুল্লহি আলাইহি উনার কাছে বাইয়াত হয়ে যিকির-ফিকির, মুরাকারা-মুশাহাদায় মশগুল হয়ে গেলেন। পরবর্তীতে আর উনি তেমন কোন কাজই করেননি। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পর পর উনার জন্য খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক তিনি কুদরতী রিযিক পাঠাতেন। সেটা খেয়েই তিনি বাকি জীবন অতিবাহিত করেছেন।
লেখা বাহুল্য, খাঞ্চাসহ খাদ্য নাযিলের ঘটনা সম্মানিত কুরআন শরীফ এবং সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে সরাসরি বর্ণিত রয়েছে। এছাড়া কিতাবাদীতে এ বিষয়ে বহু ওয়াকেয়া উল্লেখ রয়েছে। খাঞ্চাসহ শুধু খাদ্যই কেন, টাকা-পয়সাও নাযিল হতে পারে। তাহলে অনর্থক দুনিয়ার পিছনে ছুটে ইহকাল-পরকাল দু’কালই হারানো সমঝদারের কাজ হতে পারে না। তাই কেউ যদি প্রখ্যাত ওলীআলাহ হযরত শেখ সাদী রহমতুল্লহি আলাইহি উনার কালোত্তীর্ণ ক্বওল শরীফ উনার উপর আমল করতে চায় তাহলে তাদের উচিত তাদের সন্তানদের বর্তমান যামানার সুমহান ওলিআল্লাহ সাইয়্যিদুনা রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার ছোহবতে পাঠানো।
মূলত মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নিকট বাইয়াত হয়ে যিকির-ফিকির করে ছোহবত এখতিয়ার করার মাধ্যম দিয়ে ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ হাছিল করা ব্যতীত বর্তমান যামানায় কারো পক্ষেই আল্লাহওয়ালা-আল্লাহওয়ালী হওয়া যেমন সম্ভব নয় তেমনি কুদরতী রিযিক প্রাপ্তিও সম্ভব নয়। খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে বিষয়টি হাক্কীকীভাবে উপলদ্ধি করার তাওফিক দান করুন। আমীন!

No comments:
Post a Comment