মুসলমানদের সম্মানিত শরীয়ত পালনের বয়স কবে হবে?
খলিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে পরিপূর্ণভাবে দাখিল হও”। অর্থাৎ মাথার তালু থেকে পায়ের তলা, হায়াত থেকে মউত অর্থাৎ সর্বাবস্থায় সম্মানিত শরীয়ত উনার হুকুম-আহকাম পালন করতে হবে তথা সম্মানিত সুন্নত অনুসরণ করতে হবে। মুসলমানদের এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।
এখন অনেক মুসলমানকে দাঁড়ি রাখার কথা, সুন্নতি পোশাক পরার কথা জিজ্ঞাসা করলে উত্তর দেয়; ভাই! এখনো সময় হয়নি, যখন বয়স হবে অর্থাৎ যখন দাঁড়ি-চুল পাকবে তখন দাঁড়ি রাখবে, সুন্নতি পোশাক পড়বে তথা সম্মানিত শরীয়ত উনার হুকুম-আহকাম অনুসরণ করা শুরু করবে।
এখন কথা হলো, দাঁড়ি রাখা বা সুন্নতি পোশাক পরার বিষয়ে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত কোন বয়স নির্ধারণ করেছেন কিনা। সম্মানিত ইসলামী শরীয়তে একটি শিশু ৭ বছর বয়সে উপনীত হলে তাকে দ্বীনী তালিম-তালকীন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে এবং ১০ বছর হলে শাসন করার কথা বলা হয়েছে। তাদের কথার প্রেক্ষিতে আরো বলতে হয়, তাদের কি মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে চুক্তি হয়েছে (নাউযুবিল্লাহ!) তারা এত বছর বা এত বয়স পর্যন্ত দুনিয়াতে থাকবেই। কতলোকই তো অল্প বয়সে চলে যায়। অর্থাৎ একজন মানুষ যেমন অনেক বছর দুনিয়াতে থাকতে পারে তেমনি যে কোন মুহূর্তে কোন কারণ ছাড়াই ইন্তেকাল করতে পারে। তাহলে তারা কিভাবে দাবী করতে পারে অমুক বয়সে উপনীত হলে দাঁড়ি রাখবে কিংবা সম্মানিত শরীয়ত অনুসরণ করা শুরু করবে। তাহলে এই অমুক বয়স পর্যন্ত সে কাকে অনুসরণ করবে? সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, “যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখবে সে তাদেরই অন্তর্ভূক্ত হবে।” অর্থাৎ যে যাকে অনুসরণ করবে সে তাদেরই দলভূক্ত হবে। মনে রাখতে হবে, সম্মানিত সুন্নত উনার বিপরীত হচ্ছে বিদয়াত। অর্থাৎ একটি সুন্নত ছেড়ে দেওয়া মানেই একটি বিদয়াত তথা হারামকে অনুসরণ করা। মুসলমানদের জন্য আফসুস, মুসলমানদের সুন্নতি পোশাক পড়তে লজ্জা লাগে, কিন্তু কাফির মুশরিকদের পোশাক পড়তে লজ্জা লাগে না; দাঁড়ি রাখতে লজ্জা লাগে, কিন্তু দাঁড়ি চাঁছতে লজ্জা লাগে না; সম্মানিত শরীয়ত অনুসরণ করতে লজ্জা লাগে কিন্তু কাফির-মুশরিকদের অনুসরণ করতে লজ্জা লাগে না। অর্থাৎ কাফির-মুশরিকদের অনুসরণ করতে বয়স লাগে না, কিন্তু সম্মানিত শরীয়ত অনুসরণ করতে বয়স লাগে। নাউযুবিল্লাহ!
এখন কেউ যদি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার কোন হুকুম-আহকাম যথাযথভাবে পালন করতে না পারে সে জন্য তওবা-ইস্তেগফার করতে হবে, খ¦লিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাদের অপারগতা ক্ষমা করে দিয়ে সম্মানিত শরীয়ত পূঙ্খানুপুঙ্খভাবে-সূক্ষাতিসূক্ষভাবে অনুসরণ করার তাওফিক দান করেন সেজন্য দোয়া-আরজু জানাতে হবে। কিন্তু মনগড়া মত পেশ করা কোন অবস্থাতেই শুদ্ধ হবে না। এই মনগড়া মত পেশ করার একটাই কারণ মুসলমানরা এখন দ্বীনী জজবা হারিয়ে ফেলেছে। এর জন্য কাফির-মুশরিকদের পাশাপাশি উলামায়ে ‘সূ’রাও সমানভাবে দায়ী। কারণ উলামায়ে ‘সূ’রাই-এত সুন্নত লাগে না, এত পর্দা লাগে না প্রভৃতি শরীয়ত বিরোধী ফতওয়া দিয়ে মুসলমানদের দ্বীনী জজবা নষ্ট করে দিয়েছে। শুধুমাত্র এবং কেবলমাত্র যামানার সুমহান ইমাম ও মুজতাহিদ, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত কুরআন শরীফ, সম্মানিত হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ এবং সম্মানিত কিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে ফতওয়া দিয়ে থাকেন। যার কারণে উনার ছোহবতে যারা আসা-যাওয়া করেন উনাদের মধ্যেই কেবলমাত্র দ্বীনী জজবা অটুট রয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই উলামায়ে ‘সূ’দের বদ-তাছির থেকে মুক্ত থাকতে চাইলে সকল মুসলমানকে অবশ্যই ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক ছোহবতে আসতে হবে। সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নিকট বাইয়াত হয়ে ছবক নিয়ে যিকির-ফিকির করার মাধ্যম দিয়ে ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ হাসিল করে অন্তরকে ইছলাহ করতে হবে। যে যতটুকু নিজেকে ইছলাহ করতে পারবে তার পক্ষে ঠিক ততটুকু সম্মানিত শরীয়ত পালনের জজবা পয়দা হবে এবং কাফির-মুশরিকদের অনুসরণ থেকে নিজেকে বিরত রাখার পাশাপাশি উলামায়ে ‘সূ’ তথা ধর্মব্যবসায়ীদের বদ-তাছির অর্থাৎ গোমরাহীমূলক ফতওয়া থেকে মুক্ত থাকতে পারবে।

No comments:
Post a Comment