জেনে নিন, কোন ব্যক্তির কারণে দ্বীন ইসলাম ধ্বংস হয়?
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সময় যেমন কাফির, মুশরিক ও মুনাফিকরা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার ক্ষতি করেছিল, কিয়ামত পর্যন্ত এ ধরনের কিছু মুনাফিক, কাফির মুশরিক থাকবে যারা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার ক্ষতি করার ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করেই চলবে। নাঊযূবিল্লাহ!
তবে কারা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার বেশি ক্ষতি করবে, সে সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে এসেছে,
وعن حضرت زياد بن جدير رضي الله تعالـى عنه ، قال : قالحضرت عمر رضي الله تعالـى عنه : هل تدري ما يهدم الإسلام ؟ قلت : لا ، قال : يهدمه زلة العالم ، وجدال المنافق بالكتاب ، وحكم الأئمة المضلين
অর্থ: হযরত যিয়াদ ইবনে হুদাইর রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত ফারুক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আপনি কি জানেন? কোন জিনিস সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনাকে ক্ষতি করে? আমি বললাম, না। তখন তিনি বললেন, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার ক্ষতি করে, আলিমের পদস্খলন অর্থাৎ উলামায়ে সূ বা দুনিয়াদার আলিম, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার বিষয়ে মুনাফিকদের তর্ক-বিতর্ক এবং পথভ্রষ্ট গোমরাহ শাসকদের গুমরাহীমূলক আদেশ-নিষেধ। সুনানে দারেমী, শরহুস্সুুন্নাহ, মিরকাতুল মাফাতীহ)
حَدَّثَنَا كَثِيرُ بن عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ:إِنِّي أَخَافُ عَلَى أُمَّتِي مِنْ بَعْدِي مِنْ أَعْمَالٍ ثَلاثَةٍقَالُوا: مَا هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: زَلَّةُ الْعَالِمِ، أَوْ حُكْمٌ جَائِرٌ، أَوْ هَوًى مُتَّبَعٌ.
অর্থ: হযরত কাছীর ইবনে আব্দুল্লাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার পিতা থেকে, অতঃপর উনার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে শুনেছি, তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি আমার পরে আমার উম্মতদের মাঝে তিনটি আমলের ব্যাপারে আশঙ্কা করছি। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সেগুলো কি? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আলিমের পদস্খলন অর্থাৎ উলামায়ে সূ বা দুনিয়াদার আলিম, অত্যাচারী শাসকদের গুমরাহীমূলক আদেশ-নিষেধ, প্রবৃত্তির অনুসরণ অর্থাৎ নফসানিয়ত। (আল মু’জামুল কাবীর(
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
إياكم و زلة العالم و جدال المنافق
অর্থ: তোমরা আলিমের পদস্খলন অর্থাৎ উলামায়ে সূ বা দুনিয়াদার আলিম এবং মুনাফিকদের তর্ক-বিতর্ক থেকে দূরে থাক। )মুস্তাদরাকে হাকেম)
উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের আলোকে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে যে, আলিমের পদস্খলন, অত্যাচারী শাসক, পথভ্রষ্ট শাসক/বিচারক/সরকার ও মুনাফিক এদের কারণেই সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কেননা এরা মনগড়া সকল কাজ-কর্ম করে থাকে। এদের কার্যকলাপ থেকে দূরে থাকতে হবে এবং ৯৮ ভাগ মুসলমানের এ দেশ থেকে তাদেরকে মিটিয়ে দেয়ার জন্য সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নূরুদ্দারাযাত মুবারকে এসে বাইয়াত মুবারক হয়ে যিকির-ফিকির করে রুহানী কুওয়াত হাছিল করা ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে এ ব্যাপারে ছহীহ বুঝ দান করুন। আমীন!

No comments:
Post a Comment