ইখলাছসহ সুন্নত মুতাবিক মিরাজ শরীফ পালন করলে মহান আল্লাহ পাক তিনি খুশি হন
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সরাসরি নামায পড়তে দেখেছেন, দেখে দেখে উনারা শিখেছেন। উনারা তাবেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদেরকে শিখিয়েছেন। অনেক বিষয় আছে যা কিতাব থেকে বুঝা যায় না। চোখে দেখে শিখতে হয়। কীভাবে রুকু করেছেন, কীভাবে সিজদাহ করেছেন এগুলো শুধু কিতাবে লিখে দিলে হবে না। ডাক্তাররা শুধু বই দেখে ডাক্তার হতে পারেন না, এজন্য অভিজ্ঞ ডাক্তারের অধীনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। বিজ্ঞানীরা অনেক কিছু আবিষ্কার করেন। শুধু বিজ্ঞানের বই পড়ে এসব করা সম্ভব নয়। দ্বীনের ক্ষেত্রেও তদ্রুপ।
বাস্তবিক বিষয় হলো, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেভাবে রুকু করেছেন, যেভাবে সিজদাহ করেছেন, আমাকেও সেভাবে করার জন্য কোশেষ করতে হবে। অনেকে বলতে চান, তাহলে তো আমাদের নামায কিছুই হয় না। আমরা কি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মতো নামায শিখতে পারব? যে ব্যক্তি টাইপিস্ট নয় তাকে টাইপ করতে দিলে পারবে না, কিন্তু যার আগে থেকে প্র্যাকটিস করা আছে সে তো অনায়াসে পারে। আপনি নামায পড়েন, ইমাম ছাহিব যখন আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে যান, তখন আপনি কি কখনো রুকুতে না গিয়ে সিজদা দিয়েছেন? এ ক্ষেত্রে আপনার ভুল হয় না। কারণ নিয়মিত করেন।
ইমাম ছাহিব প্রথমে আল্লাহু আকবার বললে পেছনের সবাই আল্লাহু আকবার বলে হাত বাঁধেন, কেউ রুকুতে যান না। আর রুকুর জন্য আল্লাহু আকবার বললে কেউ সিজদায় যান না, সিজদার থেকে আল্লাহু আকবার বলে কেউ দাঁড়ান না, আবার আরেক সিজদায় যান, শেষ সিজদার পর আল্লাহু আকবার বললে সবাই দাঁড়িয়ে যান। এখানে মুছল্লিদের ভুল হয় না। কেন?
নিয়মিত করতে করতে আল্লাহু আকবার বললেই মনে আসে এখন আল্লাহু আকবার তাকবিরে তাহরিমার জন্য, এটা রুকুর জন্য, এটা সিজদার জন্য, এটা প্রথম সিজদার থেকে মাথা ওঠানোর জন্য, এটা দ্বিতীয় সিজদার থেকে মাথা ওঠানোর জন্য। ঠিক তদ্রুপ যখন মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত মুবারক সমূহ আপনি নিয়মিত করবেন তখন আপনার জন্য সহজ হয়ে যাবে। অচেনা পথ লম্বা মনে হয়, চেনা পথ লম্বা মনে হয় না। আমরা বুঝতে পারলাম যে, প্রতিটি আমল সুন্নত মুতাবিক ও ছহীহ হতে হবে। ওষুধ খারাপ হলে যেমন রিঅ্যাকশন হয় তেমনি সুন্নতী তর্জ তরীক্বা ছাড়া আমল হলে রিঅ্যাকশন হয়। ইবাদত যদি সুন্নত মুতাবিক হয় তাহলে অন্তরে ইখলাস পয়দা হবে। ইখলাস হলো রুহে আমল। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন,
وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاء وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ
অর্থ: আপনাদেরকে এছাড়া কোন নির্দেশ করা হয়নি যে, আপনারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত করবেন, নামায কায়িম করবেন এবং যাকাত দেবেন। এটাই সঠিক দ্বীন। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আল বাইয়্যিনাত শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ০৫)
মহান আল্লাহ পাক উনার এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বত ও মা’রিফাতের নূর মুবারকের দ্বারা পরিপূর্ণ করে ইখলাছসহ সুন্নতী তর্জ তরীক্বা মুতাবিক ইবাদত করার তাওফীক্ব নছীব করুন।
আমীন!
Rajarbag Shareef Official
#rajarbagofficial/
#Lailatul_Miraj
#Shabe_Miraj

No comments:
Post a Comment